বাংলাদেশের চারু ও কারুকলা শিক্ষার ইতিহাস (দ্বিতীয় অধ্যায়)

চারু ও কারুকলা - ষষ্ঠ শ্রেণি | NCTB BOOK

2.9k

এ অধ্যায় পড়া শেষ করলে আমরা-

  • বাংলাদেশে চারু ও কারুকলা শিক্ষার ইতিহাস বর্ণনা করতে পারব।
  • বাংলাদেশের শিল্পকলায় পথিকৃৎ শিল্পীদের নাম উল্লেখ করতে পারব।
  • চারু ও কারুকলা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা ব্যাখ্যা করতে পারব।
  • বাংলাদেশের শিশু ও কিশোরদের ছবি আঁকার গল্প বর্ণনা করতে পারব।
Content added By

# বহুনির্বাচনী প্রশ্ন

উদ্দীপকটি পড় এবং প্রশ্নের উত্তর দাও

জনাব নাসিরউদ্দিন ষষ্ঠ শ্রেণির চারু ও কারুকলা বিষয়টি পড়াতে গিয়ে ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্যে বললেন, প্রতিষ্ঠার পর কচি-কাঁচার মেলা শিশুদের সংস্কৃতি চর্চা, শিল্পকলা চর্চা ইত্যাদিকে যথেস্ট গুরুত্ব দিয়ে নানা রকমের কর্মসূচি গ্রহণ করে। শিশুদের বিভিন্ন বিষয়ে বই পড়া, গান গাওয়া, নাটক করা। ছবি আঁকা, বিতর্ক করা ও খেলাধুলায় 'আগ্রহী করে তোলে।

শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনকে বাংলাদেশের মানুষ সবাই ভালোভাবে জানে এবং চেনে। বাংলাদেশে ছবি আঁকা ও শিল্পকলা চর্চায় তাঁর অবদান অনেক। ছবি আঁকা ও শিল্পকর্ম করা হলো একটা সুন্দর ও ভালো কাজ। সমাজকে সুন্দর করার জন্য, মানুষ সুন্দরভাবে বাঁচার জন্য, আনন্দে থাকার জন্য ছবি আঁকা একটি প্রয়োজনীয় কাজ। এই কথাটা তিনি এদেশের মানুষকে ভালোভাবে বোঝাতে পেরেছিলেন। আজ যে এ দেশে ছবি আঁকা হচ্ছে, ভাস্কর্য হচ্ছে, পোস্টার হচ্ছে, পোশাক-পরিচ্ছদে নকশা হচ্ছে, টেলিভিশনে, সিনেমায়, বই-পুস্তকে, খবরের কাগজে, বিভিন্ন জিনিসপত্রের মোড়কে, বাক্সে ছবি আঁকা ও নকশার প্রয়োজন হচ্ছে। এসব দরকারের কথা, শিল্পকর্মের কথা, জয়নুল আবেদিন ও তাঁর অন্য শিল্পী বন্ধুরা অনেক দিন ধরে ছবি এঁকে, ছবি আঁকার স্কুল, কলেজ প্রতিষ্ঠা করে মানুষকে বুঝাতে পেরেছিলেন।

তাঁর বন্ধুরা হলেন কামরুল হাসান, আনোয়ারুল হক, সফিউদ্দিন আহমেদ, শফিকুল আমিন, খাজা শফিক আহমদ ও হাবিবুর রহমান। আর এঁরাই হলেন বাংলাদেশের প্রথম দিকের চিত্রশিল্পী। যাঁদের আমরা বলি পথিকৃৎ শিল্পী, এঁরাই সর্বপ্রথম ছবি আঁকার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন। ১৯৪৮ সালের ১৫ই নভেম্বরে পূর্ব-পাকিস্তান গভর্নমেন্ট আর্ট ইনস্টিটিউট যাত্রা শুরু করে। পরবর্তীকালে গত ঘাট বছরে তিনবার নাম, স্থান ও পরিধি পরিবর্তন হয়। বর্তমানে সেই প্রতিষ্ঠানটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ নামে শাহবাগে অবস্থিত। এই প্রতিষ্ঠান থেকে বাংলাদেশের চারু ও কারুকলা শিক্ষার সূচনা হয়। পরবর্তীতে আরও অনেকগুলো শিল্প শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছে।

বাংলাদেশের শিশু-কিশোররা আজ অনেকেই ছবি আঁকছে। শিক্ষিত পরিবারে বাবা-মা মনে করছেন, ছবি আঁকা শিশুদের জন্য একটি ভালো কাজ, সুন্দর কাজ, তাই তারা শিশুদের নিয়ে যাচ্ছেন ছবি আঁকার স্কুলে, চিত্রপ্রদর্শনীতে ও নানারকম প্রতিযোগিতায়। রং, তুলি, কাগজ জোগাড় করে শিশুদের হাতে তুলে দিচ্ছেন।

বাংলাদেশের শিশু-কিশোররা অন্যান্য দেশে বিশেষ করে, জাপান, চীন, ভারত, সিংগাপুর, কোরিয়া, রাশিয়া, জার্মানি, বৃটেনসহ আরও অনেক দেশে হাজার হাজার শিশু-কিশোরদের প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে অনেক পুরস্কার পাচ্ছে। এভাবে তারা বাংলাদেশের জন্য সুনাম অর্জন করছে।

কাজ:

১. ৫-৬ দলে বিভক্ত করে প্রতি দল ছবি আঁকার বিভিন্ন ক্ষেত্রগুলো চিহ্নিত কর। দেখা যাক কোন দল সবচেয়ে বেশি ক্ষেত্রের নাম উল্লেখ করতে পার।
২. শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন যাঁদেরকে নিয়ে প্রথম আর্ট স্কুল তৈরি করেছিলেন তাঁদের নাম লেখো।

Content added By

বাংলাদেশে শিশু-কিশোরদের জন্য ছবি আঁকা প্রথম সংগঠিতভাবে শুরু করে শিশু-কিশোর সংগঠন, 'খেলাঘর' ও 'কচি-কাঁচার' মেলা। ১৯৫৬ সালে খেলাঘর বাংলা একাডেমিতে ছোটদের জন্য বেশ বড়সড় এক চিত্রপ্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছিল। অনেক শিশু-কিশোর নিজেদের আঁকা ছবি দিয়ে সেই প্রদর্শনীতে অংশগ্রহণ করেছিল। এ দেশে সেই প্রদর্শনীটি ছিল শিশুদের আঁকা ছবির প্রথম প্রদর্শনী। এরপর কচি-কাঁচার মেলা ১৯৫৮ সালে একটি প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু করে ছোটদের ছবি আঁকার স্কুল। নাম দেয় 'শিল্পবিতান'।

কচি-কাঁচার মেলা সে সময় শিশুদের সংস্কৃতিচর্চা, শিল্পকলা চর্চা ইত্যাদিকে যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়ে নানারকম কর্মসূচি গ্রহণ করে। স্কুল-কলেজে লেখাপড়ার সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের বিভিন্ন বিষয়ে বই পড়া, গান গাওয়া, নাটক করা, ছবি আঁকা, বিতর্ক করা ও খেলাধুলায় আগ্রহী করে তোলার জন্য বিভিন্নরকম কর্মসূচি গ্রহণ করে।
শিল্পী হাশেম খান তখন কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার সক্রিয় সদস্য (সাথীভাই)। ছোটদের ছবি আঁকার বিষয়টি নিয়ে অনেকদিন ধরে ভাবছিলেন কী করে সংগঠনের মাধ্যমে উপযুক্ত ও যথাযথভাবে ছবি আঁকায় শিশুদের আগ্রহ বাড়িয়ে দেওয়া যায়। তার পরিকল্পনা অনুযায়ী অভিভাবকরা শিশুদের সঙ্গে নিয়ে ছুটির দিন বিকেলে কচি-কাঁচার মেলায় চলে আসতেন।
কচি-কাঁচার মেলার একটি ঘরে একসঙ্গে বসে গল্প করতে করতে শিশুদের আঁকতে বলতেন। শিশুদের জন্য অনেক কাগজ, রং, তুলি আগেই তৈরি থাকত। শিশুরা এত রং, কাগজ দেখে আনন্দে কাগজের ওপর হুমড়ি খেয়ে পড়ত। ধীরে ধীরে একসঙ্গে বসে গল্প, হাসি ও খেলার মতো করে ইচ্ছেমতো রংতুলি নিয়ে আঁকিবুকি করতে করতে এক একটি ছবি এঁকে ফেলত। নিজেরাই নিজেদের আঁকা দেখে খুশিতে বাগ বাগ। অভিভাবকরাও তাদের শিশুদের কল্পনাশক্তি দেখে যেমন অবাক হতেন, তেমনি খুশিও হতেন। এভাবেই গড়ে ওঠে শিশুদের ছবি আঁকার খেলাঘর শিল্পবিতান। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, পটুয়া কামরুল হাসান, শিল্পী সফিউদ্দিন আহমেদ, শফিকুল আমিন প্রমুখ চিত্রশিল্পী কচি-কাঁচার মেলার এই উদ্যোগকে প্রশংসা করেন। শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন ও শফিকুল আমিন পরবর্তীকালে কচি-কাঁচার মেলা ও শিল্পবিতানের সঙ্গে যুক্ত হয়ে শিশুদের ছবি আঁকা ও অন্যান্য সংস্কৃতি চর্চায় উৎসাহ যোগান।

কাজ: শিশুদের ছবি আঁকার স্কুল শিল্পবিতান কীভাবে গড়ে উঠেছিল, সে সম্পর্কে ৫ লাইন লেখো।
Content added By

কিছু দিনের মধ্যে শিল্পবিতানের মাধ্যমে শিশু-কিশোরদের ছবি আঁকার বেশ সাড়া পড়ে যায়। কচি-কাঁচার মেলা শিল্পবিতানের শিশুদের ও সারা দেশের শিশু-কিশোরদের আঁকা ছবি নিয়ে প্রতিবছর নিয়মিত চিত্রপ্রদর্শনী ও আনন্দ মেলার আয়োজন করে। ১৯৫৯, ১৯৬০, ১৯৬১ সালে ঢাকায় প্রেসক্লাবের মাঠে এই আনন্দ মেলা শিশুদের মাঝে বিপুল সাড়া জাগায়। এই আনন্দ মেলা ও চিত্রপ্রদর্শনীর মাধ্যমে শিশুদের ছবি আঁকা বিষয়টি সারা দেশে গ্রামে-গঞ্জে, এমন কী পাহাড়ি দুর্গম এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়ে। হাজার কয়েক ছবি আসত সারা দেশ থেকে। আদিবাসী ছেলেমেয়েরা ও গ্রামের ছেলেমেয়েরা বেশ সুন্দর ছবি এঁকে পাঠাত।

১৯৫৮ সালের ৫ অক্টোবর দিনটি ছিল কচি-কাঁচার মেলা প্রতিষ্ঠার দিন। ঢাকা শহরের উৎসাহী শিশু- কিশোরদের আঁকা বেশ কিছু ছবি ও কারুকাজ সংগ্রহ করা হলো। দৈনিক 'ইত্তেফাক' অফিসের নিচতলায় দুটি কামরায় ছিল কচি-কাঁচার মেলার অফিস ও লাইব্রেরি কাকলি পাঠাগার। শিশুদের সংগ্রহ করা ছবি ও কারুকাজের প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করা হলো এই কচি-কাঁচার মেলার দুই কামরায়। উদ্বোধন করলেন পটুয়া কামরুল হাসান। এভাবে শিল্পবিতানের অর্থাৎ ছোটদের ছবি আঁকার প্রাতিষ্ঠানিক স্কুল বা কেন্দ্রের যাত্রা শুরু হলো।
তাই বলা যায়, দুটি ঘটনার মাধ্যমে তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান তথা বাংলাদেশের শিশুদের চিত্রকলা চর্চার প্রাতিষ্ঠানিক সূচনা হয়। একটি ১৯৫৬ সালের খেলাঘর আয়োজিত শিশু চিত্রকলা প্রদর্শনী এবং অন্যটি ১৯৫৮ সালে শিল্পবিতানের কার্যক্রম শুরুর মধ্য দিয়ে।

Content added By

শাহবাগে অবস্থিত গভর্নমেন্ট আর্ট ইনস্টিটিউটে ছবি আঁকা শুরু হওয়ার প্রায় বছর দশেক পর ১৯৬০ সালের দিকে বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্যও সেখানে ছবি আঁকার ব্যবস্থা করলেন শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন। কচি-কাঁচার মেলার শিল্পবিতানের আদলেই। তৎকালীন শিশুকল্যাণ পরিষদ এই ছবি আঁকার স্কুলটি পরিচালনা করতেন। ছোটদের ছবি আঁকায় উৎসাহ দেয়া ও শেখার বিষয়ে দেখভাল করতেন শিল্পী শফিকুল আমিন, শিল্পী আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুল বাসেত। জয়নুল আবেদিন ছিলেন উপদেষ্টা। স্কুলের নাম ছিল শামসুন্নাহার শিশু কলাভবন। এখানে এসে শিশুরা মনের আনন্দে ছবি আঁকত। স্কুলটি এখনো শিশুদের জন্য ছবি আঁকার সুযোগ করে দিচ্ছে। তবে স্কুলের নাম পাল্টে হয়েছে জয়নুল শিশু কলাভবন। চারুকলা অনুষদের শিক্ষকরা এটি দেখাশোনা করেন।

এই জয়নুল শিশু কলাভবনে ঢাকা শহরের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অনেক শিশু এসে ছবি আঁকে সেই প্রথম থেকেই। শিশুদের আনন্দে ছবি আঁকার আবহ তৈরি করতে এই স্কুলটিরও অবদান অনেক। এখানকার শিশুদের আঁকা ছবি দেশে-বিদেশে অনেক সুনাম কুড়িয়েছে।

Content added By

এরপর ধীরে ধীরে বিভিন্ন সংগঠন এবং স্কুলগুলোতে শিশুদের ছবি আঁকা নিয়মিতভাবে হতে থাকে। বর্তমানে শিশু চিত্রকলা বিষয়টি বাংলাদেশের সংস্কৃতি চর্চার একটি বিশেষ বিষয়। সেই সময় কেন্দ্রীয় কচি- কাঁচার মেলার পরিচালক রোকনুজ্জামান খান। তিনি শিশু চিত্রকলাকে শিশুদের প্রতিভা বিকাশে ও সুনাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম বিবেচনা করে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন। শিল্পী হাশেম খানের চিন্তা, অভিনব ও আনন্দদায়ক পদ্ধতির কারণে শিশুরা ছবি আঁকায় দারুণ মজা পেত। অল্পদিনের মধ্যেই নিজের সন্তানকে ছবি আঁকা চর্চা করতে বাবা-মা ও অভিভাবকরাও উৎসাহী হয়ে ওঠেন। হাশেম খান ও রোকনুজ্জামান খানের চেষ্টায় নানারকম প্রদর্শনী ও প্রতিযোগিতার মাধ্যমেই শিশু চিত্রকলার প্রিয়তা ছড়িয়ে পড়ে সারা দেশে। তাই বলা যায়, শিল্পী হাশেম খান, রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই এই দুজনের দীর্ঘদিনের চেষ্টায় বাংলাদেশে শিশু চিত্রকলা বিষয়টি সংস্কৃতি চর্চার একটি স্বাভাবিক বিষয় হিসেবে প্রতিষ্ঠা পায়। অবশ্য তাঁরা শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের পরামর্শ ও প্রেরণা সব সময় পেয়ে এসেছিলেন।

কাজ: 'জয়নুল শিশু কলাভবন' কোথায় অবস্থিত? এ প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তোমার খাতায় ৮ লাইন লেখো।
Content added By

বহুনির্বাচনি প্রশ্ন

১। বাংলাদেশের শিল্পকলা চর্চার পথিকৃৎ শিল্পী হিসেবে কার অবদান বেশি ছিল?
ক. ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ্
খ. সত্যজিৎ রায়
গ. শহীদুল্লা কায়সার
ঘ. শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন

২। শিল্পবিতান কীসের স্কুল ছিল?
ক. লেখাপড়া
খ. খেলাধুলা
গ. ছবি আঁকা
ঘ. গানবাজনা

৩। 'কচি-কাঁচার মেলা' সংগঠন কাদের জন্য কাজ করে?
ক. বুদ্ধিজীবী
খ. শ্রমজীবী
গ. শিশু-কিশোর
ঘ. বয়স্ক

৪। কেন্দ্রীয় কচি-কাঁচার মেলার প্রতিষ্ঠাতা কে ছিলেন?
ক. সত্যজিৎ রায়
খ. শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন
গ. রোকনুজ্জামান খান দাদাভাই
ঘ. শহীদুল্লা কায়সার

সংক্ষিপ্ত উত্তর প্রশ্ন

১। চারুকলা ইনস্টিটিউট কীভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল সংক্ষেপে লেখো।
২। চারু ও কারুকলা শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা বর্ণনা করো।
৩। বাংলাদেশের পথিকৃৎ ৫জন শিল্পীর নাম লেখো।

Content added By
Promotion

Are you sure to start over?

Loading...