বুদ্ধি হলো ব্যক্তির- সেই ক্ষমতা যা দ্বারা সে বাস্তব জগৎ সম্বন্ধে অবগত হতে পারে, বিভিন্ন ঘটনার সমন্বয় সাধন করতে পারে এবং সমস্যাজনিত পরিস্থিতিতে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম হয়।
'ওয়েকস্সার বেলেভিউ বুদ্ধি অভীক্ষা' বুদ্ধি অভীক্ষার পরবর্তী সংস্করণ WAIS নামে পরিচিত।
বুদ্ধি পরিমাপের ক্ষেত্রে ওয়েকস্সার বুদ্ধি অভীক্ষাটি সাধারণত ব্যক্তিভিত্তিক, অভীক্ষা হিসেবেই কাজ করে। এটি মূলত বয়স্ক লোকদের বুদ্ধি পরিমাপের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়। মনোবিজ্ঞানী ডেভিড় ওয়েকল্লার ১৯৩৯ সালে বয়স্কদের বুদ্ধি পরিমাপের জন্য একটি অভীক্ষা তৈরি করেন। তার নাম অনুসারে এর নামকরণ করা হয় 'ওয়েক্সলার বেলেভিউ বুদ্ধি অভীক্ষা'। এ অভীক্ষাকে পরবর্তী সময়ে আরও উন্নত করা হয়। এরূপ একটি সংস্করণ হলো 'ওয়েক্সলার বয়স্ক বুদ্ধি অভীক্ষা' (Wechsler Adult Intelligence Scale বা WAIS)। এ সংস্করণটি ১৯৫৫ সালে প্রকাশিত হয়। এর মাধ্যমে ১৬ থেকে ৭৪ বছর বয়স পর্যন্ত ব্যক্তির বুদ্ধি পরিমাপ করা যায়।
উদ্দীপকের রনির ওপর যে অভীক্ষাটি প্রয়োগ করা হয়েছিল, সেটি ছিল ওয়েক্সলারের সর্বশেষ সংশোধিত বুদ্ধি অভীক্ষার ভাষাগত উপ-অভীক্ষা। ভাষাগত উপ-অভীক্ষাগুলো ব্যাখ্যা করা হলো-
তথ্য : এখানে সাধারণ তথ্য সম্পর্কে মোট ৩৩টি প্রশ্ন রয়েছে। এগুলো সহজ থেকে কঠিন ক্রমে সাজানো। প্রতিটি শুদ্ধ উত্তরের জন্য এক (১) এবং ভুল উত্তরের জন্য শূন্য (০) নম্বর দেওয়া হয়। পরপর ৭টি প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে উত্তর নেওয়া সম্পন্ন করা হয়।
বোধ ক্ষমতা : এখানে ১৮টি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়। পরীক্ষার্থী বিস্তারিত উত্তর দিয়ে থাকে। উত্তরের ভিত্তিতে ০, ১ বা ২ নম্বর প্রদান করা হয়।
গণিত : এখানে ১৫টি গাণিতিক সমস্যা থাকে, কাগজ কলমের সাহায্য না নিয়ে মুখে মুখে সমস্যার সমাধান দিতে হয়।
সাদৃশ্যঃ এখানে মোট ১৪টি প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা হয়। যেমন, তুলা ও কয়লার মধ্যে সাদৃশ্য কী? শুদ্ধতার মাত্রানুযায়ী ০, ১ বা ২ নম্বর দেওয়া হয়।
শব্দ ভান্ডার : এ উপ-অভীক্ষায় মোট ৩৭টি শব্দ সহজ থেকে কঠিন ক্রমে সাজানো আছে। পরীক্ষার্থীকে শব্দের অর্থ বলতে বলা হয়। শব্দটি কতটুকু বুঝতে পেরেছে তার ভিত্তিতে ০, ১ বা ২ নম্বর করে দেওয়া হয়।
সংখ্যা স্মৃতি : সংখ্যার সাতটি সারি সামনের দিকে এবং সাতটি সারি পশ্চাৎ দিকে পুনরাবৃত্তি করতে হয়। প্রতি সংখ্যা সারিতে সম্পূর্ণ শুদ্ধ, আংশিক শুদ্ধ বা সম্পূর্ণ ভুল উত্তরের জন্য ০, ১ অথবা ২ নম্বর দেওয়া হয়।
উদ্দীপকে রনি রবিনকে চিকিৎসার জন্য মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপকের কাছে নিয়ে যেতে চাইল।
উদ্দীপকে উল্লিখিত রবিনের বয়স ১৪/১৫ বছর। কিন্তু সে হাঁটতে পারে না এবং তার চেহারায় বোকাভাব পরিলক্ষিত হচ্ছে। এই বৈশিষ্ট্যগুলোর আলোকে তাকে একজন মধ্যম বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হিসেবে শনাক্ত করা যায়। এদের বুদ্ধ্যঙ্ক ৩৫-৪০ এবং ৫০-৫৫ এর মধ্যে হয়ে থাকে। বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদের প্রায় ১% ব্যক্তি এ ধরনের বুদ্ধি প্রতিবন্ধী। প্রশিক্ষণের মাধ্যমে এদেরকে দৈনন্দিন জীবন যাপনে স্বনির্ভর করে তোলা যায় এবং বৃত্তিমূলক প্রক্ষিণের মাধমে কিছুটা উপার্জনশীল নাগরিকে পরিণত করা যায়।
করণ শিক্ষণভিত্তিক আচরণমূলক শিক্ষণের দ্বারা বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদেরকে কিছু মৌলিক দক্ষতার ওপর প্রশিক্ষণ দেওয়া যেতে পারে। যেমন: ভাষামূলক দক্ষতা অর্জন, স্থূল অঙ্গ সঞ্চালন, সূক্ষ্ম অঙ্গ সঞ্চালন, নিজের যত্ন নিতে শিখা প্রভৃতি। বুদ্ধিভিত্তিক হস্তক্ষেপমূলক কর্মসূচির মাধ্যমে বুদ্ধি প্রতিবন্ধী শিশুকে নিজের নির্দেশমতো নিজেকে নির্দিষ্ট কাজ করতে শেখানো হয়। এ ধরনের কর্মসূচি গ্রহণের প্রচেষ্টা নিলে মধ্যম বুদ্ধি প্রতিবন্ধীরা কিছু কাজ নিজে নিজে করতে সক্ষম হয়।
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায়, রনি রবিনের মাকে বুদ্ধি প্রতিবন্ধীদেরকে নিয়ে পরিচালিত প্রশিক্ষণ সম্পর্কে তথ্য দিয়ে রবিনের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে পারে। এছাড়াও সে নিজে, রবিনের জন্য বুদ্ধিভিত্তিক হস্তক্ষেপমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করতে পারে।
Related Question
View Allমেধা হলো ব্যক্তির জ্ঞানগত মানসিক ক্রিয়াগুলোর একটি সমন্বিত বিশেষ মানসিক ক্ষমতা বা সামর্থ্য।
বংশগতসূত্রে প্রাপ্ত সম্ভাবনাকে বিকশিত করার জন্য যথোপযুক্ত পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বুদ্ধির ক্ষেত্রে পরিবেশের প্রভাব বিশেষভাবে দায়ী। অনুকূল পরিবেশ হিসেবে যদি শিশুকে বেড়ে ওঠার জন্য বাড়িতে সঠিক পরিবেশ, ভালো স্কুল এবং শিক্ষণ সুবিধা দেয়া যায়, তাহলে ফলাফলে দেখা যায় শিশুর বুদ্ধির বিকাশকে উৎসাহিত করে। এছাড়া পারিবারিক পরিবেশের আরো অনেক উপাদান যেমন- পিতামাতার শিক্ষা, পরিবারের অর্থনৈতিক ও সামাজিক মর্যাদা, পুষ্টি, বাড়ির অবস্থান ও সামাজিক পারিপার্শ্বিকতা ইত্যাদি বুদ্ধির বিকাশের সাথে জড়িত।
দৃশ্যকল্প-১ এ উল্লিখিত মানসিক ক্ষমতাটি হলো বুদ্ধি।
ডেভিড ওয়েক্সলারের মতে, “বুদ্ধি হচ্ছে ব্যক্তির এমন বহুমুখী ক্ষমতা যা দ্বারা ব্যক্তি উদ্দেশ্যমূলকভাবে কাজ করে, যুক্তিযুক্তভাবে চিন্তা করে এবং - পরিবেশের সাথে কার্যকরভাবে প্রতিক্রিয়া করে।” সুতরাং বুদ্ধি ব্যক্তির এমন ক্ষমতা যার দ্বারা সে জগতের সব বিষয় সম্পর্কে অবহিত হতে পারে, বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে সমন্বয় সাধন করতে পারে এবং সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে 'সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। বুদ্ধিকে বস্তুনিষ্ঠভাবে বিশ্লেষণ করলে যে বিষয়গুলো পাওয়া যায় তা হলো- উদ্দেশ্যের সাথে উপায়ের সামঞ্জস্যকরণ, বস্তুবিবর্জিত সাধারণ চিন্তার ক্ষমতা, নতুন পরিবেশে-মোকাবিলা করা এবং অতীত থেকে অভিজ্ঞতা অর্জন। উদ্দীপকে দৃশ্যকল্প-১ এ শ্রেষ্ঠ মানসিক ক্ষমতা বলতে বুদ্ধিকেই বোঝানো হয়েছে।
মানুষের জীবনে বুদ্ধি একটি তাৎপর্যপূর্ণ বিষয়। বুদ্ধির কমবেশি ব্যবহার ছাড়া মানুষ বাঁচতে পারে না। যার যত বেশি বুদ্ধি থাকবে জীবনে সে তত বেশি সাফল্য লাভ করতে পারবে। তাই বলা যায়, বুদ্ধি হলো কাজ বা আচরণের একটি গুণগত উৎকর্ষের সূচক।
দৃশ্যকল্প-২ এ উল্লিখিত রীমা ও সীমার বুদ্ধি পরিমাপে প্রয়োগকৃত অভীক্ষাগুলো হলো যথাক্রমে ব্যক্তিভিত্তিক বুদ্ধি অভীক্ষা এবং দলগত বুদ্ধি অভীক্ষা।
যেসব বুদ্ধি অভীক্ষার সাহায্যে কেবল একজন ব্যক্তির বুদ্ধি পরিমাপ করা যায়, সেসব অভীক্ষাকে ব্যক্তিভিত্তিক বুদ্ধি অভীক্ষা বলে। অন্যদিকে দলগত বুদ্ধি অভীক্ষার সাহায্যে একসাথে অনেক লোকের বুদ্ধি পরিমাপ করা যায়। এজন্য দলগত বুদ্ধি অভীক্ষায় সময় কম লাগে। অন্যদিকে ব্যক্তিগত বুদ্ধি অভীক্ষায় সময় বেশি লাগে। ব্যক্তিগত 'বুদ্ধি 'অভীক্ষায় অভীক্ষার্থীর সাথে অভীক্ষকের সরাসরি যোগাযোগ থাকে এবং ফলাফল বেশি নির্ভরযোগ্য। অন্যদিকে দলগত অভীক্ষায় অভীক্ষার্থীর সাথে অভীক্ষকের সরাসরি যোগাযোগ থাকে না এবং ব্যক্তিগত অভীক্ষার তুলনায় ফলাফল কম নির্ভরযোগ্য। এ অভীক্ষায় অভীক্ষকের পরিশ্রম ব্যক্তিগত অভীক্ষার তুলনায় কম হয়।
ব্যক্তিগত বুদ্ধি অভীক্ষায় অভীক্ষার্থী কোনো সমস্যার সমাধানে ব্যর্থ হলে অভীক্ষক তাকে সহযোগিতা করতে পারেন। কিন্তু দলগত অভীক্ষায় এরূপ ক্ষেত্রে অভীক্ষার্থীকে কোনো সহযোগিতা করা সম্ভব হয় না।
দলগত বুদ্ধি অভীক্ষায় নম্বর প্রদান করা সহজ। কিন্তু ব্যক্তিগত বুদ্ধি অভীক্ষায় নম্বর প্রদান করা কঠিন। দলগত বুদ্ধি অভীক্ষায় ব্যক্তিগত অভীক্ষার তুলনায় ব্যয় কম হয়। এ অভীক্ষায় অভীক্ষককে খুব দক্ষ না হলেও চলে। কিন্তু ব্যক্তিগত অভীক্ষায় অভীক্ষককে অবশ্যই দক্ষ হতে হবে। ব্যক্তিগত বুদ্ধি অভীক্ষাসমূহের মধ্যে বহুল ব্যবহৃত অভীক্ষা হলো স্ট্যানফোর্ড-বিনে বুদ্ধি অভীক্ষা এবং ওয়েক্সলার বুদ্ধি অভীক্ষা।
অন্যদিকে দলগত বুদ্ধি অভীক্ষাসমূহের মধ্যে আর্মি আলফা অভীক্ষা এবং. আমি বিটা অভীক্ষা উল্লেখযোগ্য।
পরিশেষে বলা যায়, বুদ্ধিকে বাইরে থেকে এককভাবে বস্তু বা পদার্থের মতো পরিমাপ করা যায় না। বুদ্ধি পরিমাপ করতে সুনির্দিষ্ট পদ্ধতিতে কিছু অভীক্ষার প্রয়োজন।
'CA' এর পূর্ণরূপ হলো- Chronological Age.
বুদ্ধির ক্ষেত্রে আন্তঃব্যক্তিক পার্থক্যের কারণ বংশগত প্রভাব ও পরিবেশের প্রভাব।
প্রত্যেক ব্যক্তির বুদ্ধি এক রকম নয়। বুদ্ধির আন্তঃব্যক্তিক পার্থক্যে দু'ধরনের কারণ বা প্রভাব লক্ষ করা যায়। যথা- বংশগত প্রভাব ও 'পরিবেশের প্রভাব। পিতা-মাতা বা পূর্বপুরুষদের নিকট থেকে জন্মগতভাবে বুদ্ধির ওপর বংশগতির প্রভাব পরিলক্ষিত হয়। বুদ্ধিতে যেমন বংশগত প্রভাব পড়ে তেমনি আবার পরিবেশের প্রভাবও পরিলক্ষিত হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!