অনুন্নত ও উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশসমূহের শতকরা ৫০ থেকে ৮০ ভাগ মানুষ প্রথম পর্যায়ের অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত।
শিল্প গড়ে ওঠার দুটি নিয়মকের মধ্যে অর্থনৈতিক নিয়ামক অন্যতম। অর্থনৈতিক নিয়মকের মধ্যে রয়েছে- মূলধন, শ্রমিক সরবরাহ, বাজারের সান্নিধ্য, সুষ্ঠু যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, সরকারি বিনিয়োগ নীতি ও স্থিতিশীল রাজনৈতিক অবস্থা। শিল্প গড়ে ওঠার পেছনে প্রাকৃতিক নিয়ামক ছাড়াও অর্থনৈতিক নিয়ামক গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।
উদ্দীপকের বস্তু বা পদার্থকে সম্পদ হিসেবে পরিগণিত করতে হলে তার স্বতন্ত্র কিছু গুণ বা বৈশিষ্ট্য থাকতে হবে। নিচে সম্পদের বৈশিষ্ট্য বা গুণ উল্লেখ করা হলো-
১. সম্পদের উপযোগিতা থাকতে হবে অর্থাৎ অভাব পূরণের ক্ষমতা থাকতে হবে।
২. সম্পদের কার্যকারিতা বা কাজ করার ক্ষমতা থাকতে হবে। যেমন পানিকে যখন সেচের কাজে, বিদ্যুৎ উৎপাদনে, শিল্পের কাঁচামাল হিসেবে ব্যবহার করা হয় তখনই তা সম্পদ হিসেবে গণ্য হবে।
৩. সম্পদের প্রয়োগযোগ্যতা ও গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে। অর্থাৎ একটি বস্তু থেকে অনেক কিছু তৈরি করা যায় এবং তা সবার কাছে গ্রহণযোগ্য হলে তা সম্পদ। যেমন পানি থেকে বিদ্যুৎ যা সকলের কাছে গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত। তাই পানি সম্পদ।
৪. সম্পদের চাহিদা সবার নিকট থাকতে হবে। চাহিদা থাকলেই তা সম্পদ বলে বিবেচিত হবে।
৫. সুগম্যতা অর্থাৎ সবার নিকট পৌছানো সম্পদের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য। যেমন- যদি কোনো সমুদ্রের গভীর নিচে পড়ে থাকা বস্তুকে তোলা সম্ভব না হয় অর্থাৎ মানুষের কাছে পৌছানো সম্ভব না হয় তাহলে এটি সম্পদ নয়।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের আবিষ্কৃত বস্তুটিতে উল্লেখিত বৈশিষ্ট্য বা গুণগুলো বিদ্যমান থাকলেই কেবল তা সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হবে।
শফিকের আবিষ্কৃত বস্তুটি সম্পদ হিসেবে পরিগণিত। সম্পদকে সঠিকভাবে এবং টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারলে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি লাভ করা সম্ভব।
প্রাকৃতিক সম্পদকে নবায়নযোগ্য ও অনবায়নযোগ্য দুই ভাগে ভাগ করতে পারি। এগুলোর মধ্যে অনবায়নযোগ্য সম্পদ সীমিত। যেমন-
খনিজ তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, লৌহ আকরিক প্রভৃতি। এগুলো মানবজীবনে খুবই গুরুত্বপূর্ণ এবং একটি দেশের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি দান করতে পারে। তাই এ সীমিত সম্পদকে কীভাবে বারবার ব্যবহার করা যায় সেসব প্রযুক্তির বিষয় জানতে হবে এবং অনবায়নযোগ্য সম্পদের বিপরীতে যদি নবায়নযোগ্য সম্পদ ব্যবহার করা যায় তাহলে সম্পদের অনেক ঘাটতি নিরসন হবে।
আবার টেকসই উন্নয়নের মাধ্যমে যদি একটি সম্পদের বারবার ব্যবহার করার পদ্ধতি জানা যায় এবং তা প্রয়োগ করা যায় তাহলে সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার হবে এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি লাভ করা যাবে।
সুতরাং উপযুক্ত আলোচনা থেকে বলতে পারি, আবিষ্কৃত সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহার এবং অসচেতনতভাবে সম্পদ ব্যবহার না করলে অর্থনৈতিক অবস্থার অনেক উন্নতি হবে।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!