বাংলাদেশ সরকারের আয়ের উৎস প্রধানত দুইটি।
যখন কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সরকারের প্রত্যাশিত আয় এবং সম্ভাব্য ব্যয়ের পরিমাণ সমান হয় তখন তাকে সুষম বাজেট বলে।
সুষম বাজেটে আয়ের সাথে সঙ্গতি রেখে ব্যয় করা হয় বলে দেশে মুদ্রাস্ফীতি বা দ্রব্যের দাম দ্রুত বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম থাকে। ফলে দেশে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকে। সুতরাং সুষম বাজেটের মূল উদ্দেশ্য হলো আয় বুঝে ব্যয় করা।
উদ্দীপকে, রহমান সাহেব যে কর দেন তা আয়কর এবং তার বন্ধুর দেওয়া কর হলো আমদানি শুল্ক।
আয়কর হলো কোনো ব্যক্তির বা প্রতিষ্ঠানের আয়ের ওপর ধার্যকৃত কর।
এটি বাংলাদেশ সরকারের আয়ের অন্যতম একটি উৎস। যাদের বার্ষিক আয় ২,৫০,০০০ টাকা (পুরুষদের ক্ষেত্রে), ৩,০০,০০০ টাকা (মহিলাদের ক্ষেত্রে), ৩,৭৫,০০০ টাকা (প্রতিবন্ধীদের ক্ষেত্রে) এবং ৪,২৫,০০০ টাকা (মুক্তিযোদ্ধার ক্ষেত্রে)-এর অধিক তাদের আয়ের ওপর এ কর ধার্য করা - হয়। অন্যদিকে, দেশে আমদানিকৃত দ্রব্য ও সেবার ওপর ধার্যকৃত কর হলো আমদানি শুল্ক। এই উৎস থেকে বাংলাদেশ সরকার প্রচুর পরিমাণ অর্থ । উপার্জন করে বলে এটি কর রাজস্বের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। উভয় করই -, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সুতরাং বলা যায়, রহমান সাহেব ও তার বন্ধুর নিকট থেকে সরকার যে অর্থ পায় তা যথাক্রমে আয়কর ও আমদানি শুল্ক।
উদ্দীপকের রহমান সাহেব মনে করেন, অনুন্নয়ন খাতের সরকারি ব্যয় হ্রাস করে উন্নয়নমূলক খাতের ব্যয় বৃদ্ধি দ্বারা দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ঘটানো সম্ভব। তার মতামতটি মূল্যায়ন করা হলো-
দেশ ও দেশের জনগণের কল্যাণে সরকারকে প্রতিবছর বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করতে হয়। আধুনিককালে সরকারের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড যথেষ্ট বৃদ্ধি পাওয়ায় সরকারি ব্যয়ের পরিধি অনেক বেড়েছে। তবে দেশের দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য অর্থনৈতিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারি ব্যয়ের খাতগুলো নিরূপণ করে অনুৎপাদনশীল খাতের ব্যয় হ্রাস করতে হবে। কেননা দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে হলে সরকারি ব্যয়ের অধিকাংশই উন্নয়ন বাজেটে ব্যয় করতে হবে।
সাম্প্রতিককালে শিক্ষাখাত সরকারের উন্নয়ন খাতের ব্যয়ের একটি অন্যতম - প্রধান খাতে পরিণত হয়েছে। শিক্ষার মাধ্যমে মানবসম্পদের উন্নয়ন ঘটিয়ে ■ দক্ষ জনশক্তি সরবরাহে সহায়তা করে বলে সরকার এ খাতে প্রচুর অর্থ ব্যয় এ করে। কেননা দেশে শিক্ষার প্রসার ও উন্নয়ন ঘটলে দক্ষ মানবসম্পদ - বেরিয়ে আসবে এবং তারা উন্নয়নমূলক কাজে অধিক অবদান রাখবে। আবার, রাস্তাঘাট, সেতু, বিদ্যুৎ, পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়
ঘটলে দেশের প্রতিটি খাতের উৎপাদন বৃদ্ধি পাবে। এতে দেশে শিল্প- কারখানা স্থাপন সহজ হবে, কাঁচামাল ও পরিবহন ব্যয় কমবে। ফলে উৎপাদন খরচ কম হওয়ার কারণে উৎপাদিত পণ্যের দামও হ্রাস পাবে। সুতরাং উপরিউক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় উন্নয়ন খাতে ব্যয় বৃদ্ধি পেলে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটবে।
Related Question
View Allভূমির মালিকানা অধিকার ভোগের জন্য ভূমির মালিক সরকারকে যে খাজনা দেয় তাকে ভূমি রাজস্ব বলে।
সম্পূরক শুল্ক হলো একটি পরোক্ষ কর। বিশেষ অবস্থায় এটি ধার্য করা হয়।
অনেক সময় কিছু দ্রব্যসামগ্রীর ওপর আমদানি শুল্ক বা আবগারি শুল্ক বা ভ্যাট আরোপ করেও পর্যাপ্ত রাজস্ব সংগ্রহ করা যায় না। তখন এসব কর ও শুল্কের ওপর অতিরিক্ত কর আরোপ করা হয়। এটি সম্পূরক শুল্ক হিসেবে পরিচিত। যেমন- সিরামিক টাইলসের ওপর আরোপিত শুল্ক। সম্পূরক শুল্ক বাংলাদেশ সরকারের আয়ের একটি অন্যতম উৎস।
ইসরাতের দেওয়া অতিরিক্ত অর্থ ছিল মূল্য সংযোজন কর বা VAT, যা সরকারের কর রাজস্বের একটি উৎস।
উৎপাদনের বিভিন্ন স্তরে যে মূল্য সংযোজিত হয়, তার ওপর একটি নির্দিষ্ট হারে যে কর আরোপ করা হয় তাকে ভ্যাট বা মূল্য সংযোজন কর বলে।
এটি একটি পরোক্ষ কর। দেশীয় ও আমদানিকৃত পণ্য সামগ্রী ও সেবাকর্মের উৎপাদন থেকে ভোগ পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে নির্দিষ্ট হারে (১৫%) এ কর ধার্য করা হয়। সাধারণত ফার্মের মোট বিক্রয়মূল্য থেকে বিভিন্ন উপকরণের ক্রয়মূল্য বাদ দিলে যা অবশিষ্ট থাকে তার সাথে ভ্যাটের হার দিয়ে গুণ করলে মূল্য সংযোজন কর পাওয়া যায়। অর্থাৎ, মূল্য সংযোজন কর = (মোট উৎপাদন মূল্য মোট উপকরণ মূল্য) VAT হার। VAT আরোপের মাধ্যমে সরকার বিপুল পরিমাণ কর রাজস্ব আদায় করে থাকে যা ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ থাকে না।
উদ্দীপকে লক্ষ করা যায়, ইসরাত পণ্যের প্রকৃত মূল্যের সাথে অতিরিক্ত কিছু অর্থ প্রদান করে, যা ছিল ভ্যাট। এটি তার কৃত পণ্যের ক্রয়মূল্যের ওপর নির্দিষ্ট পরিমাণে ধার্য করা হয়েছে, যা সে চাইলেও ফাঁকি দিতে পারবে না। অর্থাৎ উক্ত অর্থ প্রদানে সে আইনগতভাবে বাধ্য। তাই বলা যায়, ইসরাতের প্রদত্ত অতিরিক্ত অর্থ হলো মূল্য সংযোজন কর বা VAT, যা সরকারের কর রাজস্বের একটি অন্যতম উৎস।
রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের লভ্যাংশ হলো কর বহির্ভূত রাজস্বের একটি উৎস এবং মূল্য সংযোজন কর হলো কর রাজস্বের উৎস। তবে উভয় উৎসই সরকারি আয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
সরকার নিজস্ব মালিকানাধীন বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠান (যেমন- ব্যাংক, বিমা কোম্পানি এবং অ-আর্থিক প্রতিষ্ঠান প্রভৃতি) থেকে বছর শেষে বিপুল পরিমাণ লভ্যাংশ ও মুনাফা পেয়ে থাকে, যা অ-কর রাজস্বের অন্তর্ভুক্ত। লভ্যাংশ ও মুনাফা থেকে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বাংলাদেশ সরকারের আয় হলো ২,২৪১ কোটি টাকা, যার একটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আসে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পের লভ্যাংশ থেকে।
অন্যদিকে, মূল্য সংযোজন কর বা ভ্যাট হচ্ছে কর রাজস্বের প্রধান উৎস। উৎপাদন ক্ষেত্রে কাঁচামাল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত দ্রব্য উৎপাদন করা পর্যন্ত বিভিন্ন স্তরে যে মূল্য যুক্ত হয়, তাকে মূল্য সংযোজন কর বলে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে এ উৎস থেকে বাংলাদেশ সরকারের আয় হয়েছে ১,০৪,৫৫৪ কোটি টাকা। বর্তমানে প্রায় দেশি-বিদেশি ৩০টি খাতের ওপর ভ্যাট আরোপ করা হয়েছে।
বাংলাদেশ সরকার জনকল্যাণ, প্রশাসন পরিচালনা ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য বিপুল পরিমাণ অর্থ ব্যয় করে। এ ব্যয় নির্বাহের জন্য সরকারকে প্রচুর অর্থ আয় করতে হয়। কাজেই বলা যায়, রাষ্ট্রায়াত্ত শিল্পের লভ্যাংশ এবং মূল্য সংযোজন কর অর্থ সংগ্রহের দুটি আলাদা উৎস হলেও উভয়ই বাংলাদেশ সরকারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ উৎস।
একটি নির্দিষ্ট সময়ে (সাধারণত এক বছরে) সরকারের সম্ভাব্য আয় ও ব্যয়ের বিস্তারিত হিসাবের বিবরণীকে বাজেট বলে।
অর্থনীতির যে শাখা সরকারের আয়, ব্যয় ও ঋণ-সংক্রান্ত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে তাকে সরকারি অর্থব্যবস্থা বলে।
সরকার কোন কোন উৎস থেকে কীভাবে এবং কোন নীতিতে অর্থ সংগ্রহ করে সে অর্থ কীভাবে বরাদ্দ করা হবে তা সরকারি অর্থব্যবস্থায় আলোচনা করা হয়। সরকারি আয়-ব্যয়ের মধ্যে সমন্বয় সাধনের সমস্যা ছাড়াও সরকারের আয়-ব্যয় নীতি ও কার্যক্রম কীভাবে অর্থনীতির বিভিন্ন খাতকে প্রভাবিত করে তা সরকারি অর্থব্যবস্থায় বিশ্লেষণ করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!