উত্তরঃ
সার্ভিস প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ভিত্তিতে নেটওয়ার্ক মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে: ক্লায়েন্ট-সার্ভার (Client-Server) নেটওয়ার্ক এবং পিয়ার-টু-পিয়ার (Peer-to-Peer) নেটওয়ার্ক। ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্কে একটি বা একাধিক শক্তিশালী কম্পিউটার সার্ভার হিসেবে কাজ করে, যা অন্যান্য ক্লায়েন্ট কম্পিউটারগুলোকে সেবা প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ করে। অপরদিকে, পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্কে প্রতিটি কম্পিউটার সমান ক্ষমতা সম্পন্ন হয় এবং প্রত্যেকেই একে অপরের সাথে সরাসরি সম্পদ ও সেবা আদান-প্রদান করতে পারে, যেখানে কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভার থাকে না।
উদ্দীপকের রহিমের শাখা অফিসের নেটওয়ার্কে ১০টি কম্পিউটার একটি সার্ভার কম্পিউটারের মাধ্যমে যুক্ত। এটি একটি ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক। এখানে সার্ভারটি কেন্দ্রীয়ভাবে ১০টি কম্পিউটারের তথ্য সংরক্ষণ, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সেবা নিয়ন্ত্রণ করছে। একইভাবে, তাঁর মূল অফিসে ৫০টি কম্পিউটার ৫টি সার্ভার কম্পিউটারের মাধ্যমে যুক্ত। এটিও একটি ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক, তবে এটি অপেক্ষাকৃত বড় পরিসরের। এখানে একাধিক সার্ভার থাকার কারণে প্রতিটি সার্ভার নির্দিষ্ট কাজের জন্য (যেমন- ফাইল সার্ভার, প্রিন্ট সার্ভার) ব্যবহৃত হতে পারে, যা নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা ও লোড ব্যবস্থাপনার জন্য সুবিধাজনক। উভয় ক্ষেত্রেই একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিদ্যমান, যা ক্লায়েন্ট-সার্ভার মডেলের মূল বৈশিষ্ট্য।
সার্ভিস প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ভিত্তিতে ক্লায়েন্ট-সার্ভার এবং পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্কের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্কে কেন্দ্রীয়ভাবে ডেটা সংরক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও সফটওয়্যার আপডেটের মতো কাজগুলো পরিচালনা করা সহজ। এতে নেটওয়ার্কের কর্মদক্ষতা (Performance) সাধারণত উচ্চ হয় এবং এটি অধিক সংখ্যক ব্যবহারকারীকে সেবা দিতে সক্ষম। এর প্রধান অসুবিধা হলো স্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেশি এবং একটি সার্ভার নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্কে খরচ কম, স্থাপন করা সহজ এবং প্রতিটি কম্পিউটার স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। কিন্তু এতে ডেটা নিরাপত্তা দুর্বল হয়, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ থাকে না এবং নেটওয়ার্ক যত বড় হয়, ব্যবস্থাপনা তত জটিল হয়ে পড়ে। ছোট আকারের নেটওয়ার্কের জন্য এটি উপযোগী হলেও বড় বা কর্পোরেট পরিবেশে এর কার্যকারিতা সীমিত।
রহিমের উভয় অফিসের নেটওয়ার্কের ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, তিনি ক্লায়েন্ট-সার্ভার মডেল ব্যবহার করেছেন। শাখা অফিসের ১০টি কম্পিউটারের জন্য একটি সার্ভার এবং মূল অফিসের ৫০টি কম্পিউটারের জন্য ৫টি সার্ভার থাকা এই কাঠামোরই নির্দেশক। এই মডেল ব্যবহারের ফলে রহিমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডেটা নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য ব্যবস্থাপনা ও সহজে সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে মূল অফিসের মতো বৃহৎ পরিসরে যেখানে ৫০টি কম্পিউটার রয়েছে, সেখানে পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্ক কার্যকর হতো না; বরং ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্কই উচ্চতর দক্ষতা, নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করে।