সার্ভিস প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ কাঠোমো অনুযায়ী উদ্দীপকের নেটওয়ার্কের ধরন উল্লেখপূর্বক তুলনামূলক আলোচনা কর। (উচ্চতর দক্ষতা)

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

সার্ভিস প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ভিত্তিতে নেটওয়ার্ক মূলত দুই ধরনের হয়ে থাকে: ক্লায়েন্ট-সার্ভার (Client-Server) নেটওয়ার্ক এবং পিয়ার-টু-পিয়ার (Peer-to-Peer) নেটওয়ার্ক। ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্কে একটি বা একাধিক শক্তিশালী কম্পিউটার সার্ভার হিসেবে কাজ করে, যা অন্যান্য ক্লায়েন্ট কম্পিউটারগুলোকে সেবা প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ করে। অপরদিকে, পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্কে প্রতিটি কম্পিউটার সমান ক্ষমতা সম্পন্ন হয় এবং প্রত্যেকেই একে অপরের সাথে সরাসরি সম্পদ ও সেবা আদান-প্রদান করতে পারে, যেখানে কোনো কেন্দ্রীয় সার্ভার থাকে না।

উদ্দীপকের রহিমের শাখা অফিসের নেটওয়ার্কে ১০টি কম্পিউটার একটি সার্ভার কম্পিউটারের মাধ্যমে যুক্ত। এটি একটি ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক। এখানে সার্ভারটি কেন্দ্রীয়ভাবে ১০টি কম্পিউটারের তথ্য সংরক্ষণ, নিরাপত্তা ও অন্যান্য সেবা নিয়ন্ত্রণ করছে। একইভাবে, তাঁর মূল অফিসে ৫০টি কম্পিউটার ৫টি সার্ভার কম্পিউটারের মাধ্যমে যুক্ত। এটিও একটি ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্ক, তবে এটি অপেক্ষাকৃত বড় পরিসরের। এখানে একাধিক সার্ভার থাকার কারণে প্রতিটি সার্ভার নির্দিষ্ট কাজের জন্য (যেমন- ফাইল সার্ভার, প্রিন্ট সার্ভার) ব্যবহৃত হতে পারে, যা নেটওয়ার্কের কার্যকারিতা ও লোড ব্যবস্থাপনার জন্য সুবিধাজনক। উভয় ক্ষেত্রেই একটি কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বিদ্যমান, যা ক্লায়েন্ট-সার্ভার মডেলের মূল বৈশিষ্ট্য।

সার্ভিস প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ কাঠামোর ভিত্তিতে ক্লায়েন্ট-সার্ভার এবং পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্কের মধ্যে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে। ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্কে কেন্দ্রীয়ভাবে ডেটা সংরক্ষণ, নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা ও সফটওয়্যার আপডেটের মতো কাজগুলো পরিচালনা করা সহজ। এতে নেটওয়ার্কের কর্মদক্ষতা (Performance) সাধারণত উচ্চ হয় এবং এটি অধিক সংখ্যক ব্যবহারকারীকে সেবা দিতে সক্ষম। এর প্রধান অসুবিধা হলো স্থাপনা ও রক্ষণাবেক্ষণ খরচ বেশি এবং একটি সার্ভার নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয়ে যেতে পারে। অন্যদিকে, পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্কে খরচ কম, স্থাপন করা সহজ এবং প্রতিটি কম্পিউটার স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে। কিন্তু এতে ডেটা নিরাপত্তা দুর্বল হয়, কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ থাকে না এবং নেটওয়ার্ক যত বড় হয়, ব্যবস্থাপনা তত জটিল হয়ে পড়ে। ছোট আকারের নেটওয়ার্কের জন্য এটি উপযোগী হলেও বড় বা কর্পোরেট পরিবেশে এর কার্যকারিতা সীমিত।

রহিমের উভয় অফিসের নেটওয়ার্কের ধরন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় যে, তিনি ক্লায়েন্ট-সার্ভার মডেল ব্যবহার করেছেন। শাখা অফিসের ১০টি কম্পিউটারের জন্য একটি সার্ভার এবং মূল অফিসের ৫০টি কম্পিউটারের জন্য ৫টি সার্ভার থাকা এই কাঠামোরই নির্দেশক। এই মডেল ব্যবহারের ফলে রহিমের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ডেটা নিরাপত্তা, কেন্দ্রীয়ভাবে তথ্য ব্যবস্থাপনা ও সহজে সেবা প্রদান করা সম্ভব হবে। বিশেষ করে মূল অফিসের মতো বৃহৎ পরিসরে যেখানে ৫০টি কম্পিউটার রয়েছে, সেখানে পিয়ার-টু-পিয়ার নেটওয়ার্ক কার্যকর হতো না; বরং ক্লায়েন্ট-সার্ভার নেটওয়ার্কই উচ্চতর দক্ষতা, নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তার নিশ্চয়তা প্রদান করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
99

Related Question

View All
উত্তরঃ পিকোনেট হলো একটি অ্যাড-হক নেটওয়ার্ক যা ব্লুটুথ প্রযুক্তির মাধ্যমে তৈরি হয় এবং এতে একটি মাস্টার ডিভাইস ও সর্বোচ্চ সাতটি স্লেভ ডিভাইস যুক্ত থাকতে পারে।
Satt AI
Satt AI
1 week ago
63
উত্তরঃ

মোবাইল ফোনকে সেলুলার ফোন বলার প্রধান কারণ হলো এর কার্যপ্রক্রিয়া একটি সেলুলার (Cellular) নেটওয়ার্ক কাঠামোর উপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। এই ব্যবস্থায়, একটি ভৌগোলিক এলাকাকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করা হয়, যাদের প্রতিটি 'সেল' (Cell) নামে পরিচিত এবং প্রতিটি সেলের নিজস্ব ট্রান্সমিটার-রিসিভার থাকে যাকে 'বেস স্টেশন' (Base Station) বলা হয়।

যখন একজন ব্যবহারকারী মোবাইল ফোন ব্যবহার করে এক সেল থেকে অন্য সেলে প্রবেশ করে, তখন ফোনটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেই নতুন সেলের বেস স্টেশনের সাথে সংযোগ স্থাপন করে। এই নিরবচ্ছিন্ন সংযোগ স্থাপন এবং হস্তান্তর প্রক্রিয়াকে 'হ্যান্ডঅফ' (Handoff) বলা হয়, যা তারবিহীন যোগাযোগ ব্যবস্থায় নিরবচ্ছিন্ন সেবা নিশ্চিত করে। এই "সেল" ভিত্তিক কাঠামোর কারণেই মোবাইল ফোনকে সেলুলার ফোন নামেও অভিহিত করা হয়।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
296
উত্তরঃ

উদ্দীপকে রহিমের শাখা অফিসের নেটওয়ার্ক টপোলজিটি হলো স্টার টপোলজি (Star Topology)

স্টার টপোলজি হলো এমন একটি নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা যেখানে সকল কম্পিউটার একটি কেন্দ্রীয় ডিভাইস (যেমন – সার্ভার, হাব বা সুইচ) এর সাথে সরাসরি সংযুক্ত থাকে। এই টপোলজিতে, কেন্দ্রীয় ডিভাইসটি নেটওয়ার্কের সমস্ত ডেটা প্রবাহ নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো একটি কম্পিউটার থেকে ডেটা পাঠানোর প্রয়োজন হলে তা প্রথমে কেন্দ্রীয় ডিভাইসে যায় এবং সেখান থেকে নির্দিষ্ট গন্তব্যে প্রেরিত হয়। এটি ইনস্টল করা সহজ এবং কোনো একটি নোড নষ্ট হলে পুরো নেটওয়ার্ক অচল হয় না, কেবল সেই নোডটিই অকার্যকর থাকে।

উদ্দীপকে রহিমের শাখা অফিসের ১০টি কম্পিউটার একটি মাত্র সার্ভার কম্পিউটারের মাধ্যমে যুক্ত থাকার বিষয়টি স্টার টপোলজির বৈশিষ্ট্য বহন করে। এই ব্যবস্থায় কেন্দ্রীয় সার্ভারটি হাব বা সুইচের মতো কাজ করে এবং এর সাথে শাখা অফিসের প্রতিটি কম্পিউটার সরাসরি সংযুক্ত থাকে। ফলে শাখা অফিসের মতো ছোট বা মাঝারি আকারের নেটওয়ার্কের জন্য এটি একটি কার্যকর সমাধান, যেখানে কেন্দ্রীয় সার্ভারটি সমস্ত যোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ করে এবং নেটওয়ার্ক ব্যবস্থাপনাকে সহজ করে তোলে। এই টপোলজি শাখা অফিসের কম্পিউটারগুলোর মধ্যে নির্ভরযোগ্য এবং সুসংগঠিত যোগাযোগ নিশ্চিত করে।

Satt AI
Satt AI
1 week ago
86
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews