মানুষ সমাজজীবনে কোথায় পৌঁছাতে চায় তার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সে লক্ষ্য অভিমুখে যাত্রাই হলো প্রগতি।
সমাজে মহৎ ও গুণী ব্যক্তির প্রভাব বিশেষভাবে ক্রিয়াশীল থাকে। পৃথিবীর সমাজ পরিবর্তনের ইতিহাসে যুগে যুগে এসব ক্ষণজন্মা পুরুষের ভূমিকা অনস্বীকার্য।
যুগে যুগে ধর্মীয় মহাপুরুষের আগমন সমাজব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন এনেছে। এছাড়া বিভিন্ন মনীষীর চিন্তাধারা, লেখনী ও বক্তব্য দ্বারা সমাজ পরিবর্তনে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। যেমন- নেপোলিয়ান, লেনিন, মার্টিন লুথার কিং, মহাত্মা গান্ধী, বঙ্গবন্ধু প্রমুখের নাম উল্লেখযোগ্য।
রাইয়ান আদনানের কার্যক্রমের ফলাফল পাঠ্যপুস্তকের উন্নয়ন বিষয়কে নির্দেশ করছে।
উন্নয়ন শব্দের অর্থ প্রবৃদ্ধি, রূপান্তর, পরিপক্বতা প্রভৃতি। উন্নয়ন বলতে সাধারণত অনুন্নত স্তর থেকে উন্নত স্তরে উত্তরণকে বোঝায়। সাম্প্রতিককালে উন্নয়ন বলতে অনুকূল পরিবর্তন, দুর্বল থেকে সবল হওয়া, খারাপ অবস্থা থেকে অধিকতর ভালো অবস্থায় উত্তরণ ইত্যাদি বোঝায়।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, রাইয়ান আদনানের কার্যক্রমের ফলাফল হিসেবে তার নিজ জেলা কুষ্টিয়াতে ব্যাপক কর্মচাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়। কম্পিউটার রপ্তানি করে দেশ বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে। এর ফলে কুষ্টিয়া জেলায় অনুকূল পরিবর্তন এবং অপেক্ষাকৃত খারাপ অবস্থা থেকে ভালো অবস্থায় উত্তরণ ঘটেছে যা উন্নয়নের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
সুতরাং বলা যায়, উদ্দীপকের রাইয়ান আদনানের কার্যক্রমের ফলাফল উন্নয়নকে নির্দেশ করছে।
উদ্দীপকের আলোকে উক্ত বিষয় তথা উন্নয়নকে প্রগতি বলা যায় না।
উদ্দীপকে বর্ণিত রাইয়ান আদনানের কার্যক্রম উন্নয়নকে নির্দেশ করে। উন্নয়ন ও প্রগতি এক বিষয় নয়। তাই উদ্দীপকে বর্ণিত উন্নয়নকে প্রগতি বলা যায় না।
উন্নয়ন শব্দের অর্থ প্রবৃদ্ধি, রূপান্তর, পরিপক্বতা প্রভৃতি। সাম্প্রতিককালে উন্নয়ন বলতে অনুকূল পরিবর্তন, দুর্বল থেকে সবল হওয়া, খারাপ অবস্থা থেকে ভালো অবস্থায় উত্তরণ ইত্যাদি বোঝায়। অন্যদিকে প্রগতি হলো মানুষের কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন। মানুষ সমাজজীবনে কোথায় পৌঁছাতে চায় তার লক্ষ্য নির্ধারণ করে সে লক্ষ্য অভিমুখে যাত্রাই হলো প্রগতি। যাত্রাপথে প্রতিটি ধাপেই ইতিবাচক পরিবর্তনকে প্রগতি বলা হয়। তবে সব পরিবর্তনই প্রগতি নয়। কেননা সব ধরনের পরিবর্তনের জন্য আগে থেকে লক্ষ্য নির্ধারিত থাকে না এবং লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোনো পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয় না।
উদ্দীপকে বর্ণিত রাইয়ান আদনানের কার্যক্রমের ক্ষেত্রেও লক্ষ্য নির্ধারণ করে লক্ষ্য অর্জনের জন্য কোনো পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়নি। তাই এটিকে প্রগতি বলা যায় না।
পরিশেষে বলা যায়, উন্নয়ন ও প্রগতি সম্পর্কযুক্ত হলেও প্রত্যয় দুটি ভিন্ন অর্থ প্রকাশ করে।
Related Question
View Allবৈজ্ঞানিক পদ্ধতির মুখ্য উদ্দেশ্য হলো জগতের বাস্তব অবস্থা অনুসন্ধান করে প্রকৃত সত্য উদঘাটন করা।
পারিবারিক পরিবেশেই শিশুর সামাজিকীকরণের সূত্রপাত হয়।
পরিবারের মধ্যে শিশু সমাজে প্রচলিত নিয়মানুবর্তিতা, নৈতিক আদর্শ, আচার-আচরণ প্রভৃতির সাথে পরিচিত হয় এবং সেগুলোকে আয়ত্ত করে। যেসব পরিবারে বাবা-মা শিশুদের সঙ্গ দেন এবং তাদের সাথে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলেন সেসব পরিবারের ছেলে- মেয়েরা পরবর্তী সময় সহজ জীবন যাপন করতে পারে। তারা আত্মবিশ্বাসী হয়ে অন্যের সাথে সহজে সম্পর্ক গড়ে তুলতে পারে।
উদ্দীপকের জেলার পরিবর্তনকে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় উন্নয়ন বলা হয়।
বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে আলোচিত ও গুরুত্বপূর্ণ প্রত্যয় হলো উন্নয়ন। উন্নয়ন হচ্ছে সামাজিক পরিবর্তন প্রক্রিয়া। সাধারণ অর্থে পূর্বের সময়ের তুলনায় একটি সমাজের আর্থ-সামাজিক অবস্থার অগ্রগতি হলে তাকে উন্নয়ন বলা যেতে পারে। এ অগ্রগতিমূলক পরিবর্তন হচ্ছে মানুষের সামাজিক আকাঙ্ক্ষা। এ পরিবর্তন যখন মানুষের জীবনমান, সামাজিক সম্পর্ক, শান্তি, স্থিতিশীলতা, ব্যক্তি স্বাধীনতার সম্প্রসারণ ঘটায় তখন তা সামাজিক উন্নয়ন হিসেবে বিবেচিত হয়।
উদ্দীপকের কৃষকরা মহাজনদের মাধ্যমে শোষিত হলে তারা তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় এবং সিদ্ধান্ত নেয় তারা আর তামাক চাষ করবে না। পরবর্তীতে তারা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে যোগাযোগ করে আত্মকর্মসংস্থানমূলক নানা কর্মকাণ্ড শুরু করে। ফলে কৃষকরা এখন সচ্ছল এবং অভাবমুক্ত। তাদের এই সচ্ছলতা উন্নয়নকেই নির্দেশ করে। কারণ উন্নয়ন মানেই অগ্রগতিমূলক পরিবর্তন, যা কৃষকদের বেলায় ঘটেছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কৃষকদের পরিবর্তন তথা উক্ত অঞ্চলের পরিবর্তনকে সমাজবিজ্ঞানের ভাষায় উন্নয়ন বলা যায়।
'উদ্দীপকের কৃষকদের প্রতিবাদ যেন কার্ল মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বের প্রতিচ্ছবি'- আমি এ বক্তব্যের সাথে একমত।
মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বকে সঠিকভাবে বুঝতে হলে তার বর্ণিত দাস, সামন্ত ও পুঁজিবাদী সমাজকে ব্যাখ্যা করা প্রয়োজন। মার্কসের মতে প্রতিটি সমাজই দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। তেমনিভাবে দাস সমাজও দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত। দাস এবং দাস মালিক। দাস সমাজের সবকিছু দাস মালিকের অনুকূলে থাকায় অধিকাংশ দাস বিদ্যমান সমাজব্যবস্থা মেনে নিতে রাজি হয়নি। অবশেষে কয়েকশ বছর সংগ্রামের পর তারা বিদ্যমান সমাজব্যবস্থাকে পরিবর্তন করতে সক্ষম হয়।
দাস সমাজে যারা দাস ছিল সামন্ত সমাজে তারা ভূমিদাসে পরিণত হয়। এ সমাজে ব্যক্তি দাস সমাজ থেকে একটু বেশি স্বাধীনতা পায়, তবে পুরোপুরি স্বাধীনতা পায় না। ফলশ্রুতিতে এ সমাজের বিরুদ্ধেও তারা সংগ্রাম করে। মার্কসের মতানুসারে সামন্ত সমাজের অবসানের ফলে পুঁজিবাদী সমাজের আর্বিভাব ঘটে। এই পুঁজিবাদী সমাজে এসেই সবাই তাত্ত্বিকভাবে মুক্ত হয় এবং এ পর্যায়ে সমাজব্যবস্থার অভূতপূর্ব উন্নয়ন ঘটে। যেমনটি আমরা উদ্দীপকে লক্ষ করি।
উপরের আলোচনায় এ বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে, পুঁজিবাদী সমাজে পদার্পণের জন্য ব্যক্তিকে শ্রেণি সংগ্রামের মধ্য দিয়েই আসতে হয়েছে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের কৃষকদের প্রতিবাদ কার্ল মার্কসের শ্রেণিসংগ্রাম তত্ত্বেরই প্রতিচ্ছবি।
লোকরীতি হচ্ছে সমাজের আদর্শ বা মানসম্পন্ন আচরণ যা সমাজের সদস্যদের জন্যে অবশ্য পালনীয়।
সংস্কৃতির যে অংশ অদৃশ্য তথা উপলব্ধির ওপর নির্ভরশীল তাই অবস্তুগত সংস্কৃতি ।
মানুষের চিন্তাভাবনা, শিল্প-সাহিত্য, দর্শন, ধর্ম, রাজনীতি, নীতিবোধ প্রভৃতি হচ্ছে অবস্তুগত সংস্কৃতি। অগবার্নের মতে, ধর্ম, ভাষা, সাহিত্য, বিশ্বাস, মানসিকতা, মূল্যবোধ প্রভৃতি হলো অবস্তুগত সংস্কৃতি।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!