Router (রাউটার) শব্দটি এসেছে Route শব্দ থেকে। রাউটার একটি বুদ্ধিমান যন্ত্র, যা হার্ডওয়্যার এবং সফটওয়্যারের সমন্বয়ে তৈরি, যা দুই বা তার বেশি একই প্রটোকলযুক্ত নেটওয়ার্কের মধ্যে ডেটা আদান প্রদান করে। একটি নেটওয়ার্ক হাব এবং সুইচ এর সমন্বয়ে তৈরি হয়। রাউটার দুটি ভিন্ন নেটওয়ার্কের মধ্যে অবস্থান করে। দুইয়ের বেশি ভিন্ন নেটওয়ার্কের মাঝেও অবস্থান করতে পারে। এটি একটি নেটওয়ার্ক থেকে পাওয়া ডেটা সবচেয়ে কম দূরত্বের পথ ব্যবহার করে অন্য নেটওয়ার্কে পাঠাতে কাজ করে। এটি উৎস কম্পিউটার থেকে গন্তব্য কম্পিউটারে ডেটা প্যাকেট পৌঁছে দেয়। যেমন- অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থিত কোনো বন্ধুকে ই-মেইলের মাধ্যমে ছবি পাঠাতে হলে ছবিটি কয়েকটি ডেটা প্যাকেটে বিভক্ত হয়ে ইন্টারনেটের মাধ্যমে বন্ধুর কম্পিউটারে পৌঁছাবে। প্রতিটি ডেটা প্যাকেটে গন্তব্যস্থলের ঠিকানা সংযুক্ত থাকে। একটি ডেটা প্যাকেট কোনো একটি রাউটারে পৌঁছালে পরবর্তী কোন পথে অগ্রসর হলে ডেটা সহজে এবং দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাবে তার পথনির্দেশ দেয় রাউটার।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা -
• কম্পিউটার নেটওয়ার্কের ধারণা ব্যাখ্যা করতে পারব;
• নেটওয়ার্ক-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন যন্ত্রপাতির কাজ ব্যাখ্যা করতে পারব।
Related Question
View Allকম্পিউটার নেটওয়ার্ক তৈরি হয় দুই বা ততোধিক কম্পিউটারকে তার, ফাইবার অপটিক ক্যাবল বা ওয়াইফাই এর মতো মাধ্যমে সংযুক্ত করে। এই সংযোগের মাধ্যমে কম্পিউটারগুলো একে অপরের সাথে সংযুক্ত থেকে তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে। নেটওয়ার্ক তৈরির জন্য প্রয়োজন হয় নেটওয়ার্ক ইন্টারফেস কার্ড, হাব, সুইচ, রাউটার এবং নেটওয়ার্ক অপারেটিং সিস্টেম।
সার্ভার হলো একটি কম্পিউটার যা নেটওয়ার্কের অন্যান্য কম্পিউটারকে বিভিন্ন ধরনের সেবা প্রদান করে। এটি নেটওয়ার্কের কেন্দ্রীয় কম্পিউটার হিসেবে কাজ করে। সার্ভার ফাইল শেয়ারিং, ই-মেইল, ওয়েব পেইজ হোস্টিং, ডেটাবেজ ম্যানেজমেন্ট এবং অন্যান্য অনেক সেবা প্রদান করতে পারে।
নেটওয়ার্কে সার্ভার থেকে সেবা গ্রহণকারী কম্পিউটারকে ক্লায়েন্ট বলা হয়। ক্লায়েন্ট সার্ভার থেকে ফাইল ডাউনলোড করতে পারে, ই-মেইল পাঠাতে পারে, ওয়েব ব্রাউজ করতে পারে এবং আরও অনেক কাজ করতে পারে। ব্যক্তিগত কম্পিউটার, ল্যাপটপ, স্মার্টফোন ইত্যাদি ক্লায়েন্টের উদাহরণ।
ই-মেইল সার্ভার হলো একটি সার্ভার, যা ইমেইল প্রেরণ, গ্রহণ ও সংরক্ষণের কাজ করে। ব্যবহারকারীরা ক্লায়েন্ট কম্পিউটার থেকে ইমেইল পাঠালে, ইমেইল সার্ভার সেটি প্রাপকের সার্ভারে পাঠিয়ে দেয়।
যে বস্তু ব্যবহার করে কম্পিউটারগুলো জুড়ে দেওয়া হয় সেটা হচ্ছে মিডিয়া। যেমন- বৈদ্যুতিক তার, কো-এক্সিয়াল তার, অপটিক্যাল ফাইবার ইত্যাদি। কোনো মিডিয়া ব্যবহার না করেও তার বিহীন (যেমন- Wi-Fi) পদ্ধতিতে কম্পিউটারকে নেটওয়ার্কে জুড়ে দেওয়া যায়।
তারযুক্ত ও তারবিহীন নেটওয়ার্কের মধ্যে পার্থক্য হলো-
| তারযুক্ত নেটওয়ার্ক | তারবিহীন নেটওয়ার্ক |
| ১. এ নেটওয়ার্কে কম্পিউটারগুলো ক্যাবল বা তারের মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। | ১. এ নেটওয়ার্কে কম্পিউটারগুলা ওয়াইফাই, ব্লুটুথ, রেডিও ওয়েভইত্যাদির মাধ্যমে সংযুক্ত থাকে। |
| ২. এটি বেশি নিরাপদ ও দ্রুতগতির হয়। | ২. এটি তুলনামূলকভাবে কম নিরাপদ হয় এবং এর গতিও কিছুটা কম হয়। |
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!