রাকিব দীর্ঘদিন যাবৎ জ্বরে আক্রান্ত, তার প্রতি ২-৩ দিন পরপর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসে। ইদানিং তার দেহে মারাত্মক রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

Updated: 1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে বর্ণিত রাকিবের প্রতি ২-৩ দিন পরপর কাঁপুনি দিয়ে জ্বর আসা এবং রক্তশূন্যতা সৃষ্টির লক্ষণগুলো ম্যালেরিয়া রোগের সংকেত দেয়। রাকিবের দেহে মারাত্মক রক্তশূন্যতা (Anemia) সৃষ্টির জন্য ম্যালেরিয়া জীবাণু (Plasmodium)-এর জীবনচক্রের মানবদেহে সম্পন্ন এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি (Erythrocytic Schizogony) ধাপটি দায়ী।

এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি হলো মানবদেহের লোহিত রক্তকণিকায় (RBC) ম্যালেরিয়া পরজীবীর অসংযৌন প্রজনন প্রক্রিয়া। যকৃৎ থেকে মুক্ত হওয়া ট্রফোজয়েট বা মেরোজয়েট লোহিত রক্তকণিকাকে আক্রমণ করে এর ভেতরে অবস্থান নেয়। সেখানে এটি খাদ্য গ্রহণ করে আকারে বড় হয় এবং পর্যায়ক্রমে ট্রফোজয়েট → সিগনেট রিং → অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট → সাইজন্ট → রোজেট ধাপে রূপান্তরিত হয়। চূড়ান্ত পর্যায়ে সাইজন্ট বিদীর্ণ হয়ে নতুন মেরোজয়েট ও হিমোজয়েন নামক বিষাক্ত পদার্থ রক্তের প্লাজমা বা রক্তরসে ছড়িয়ে পড়ে।

উদ্দীপকের রাকিবের দেহে প্রতি ৪৮-৭২ ঘণ্টা পর পর এই চক্রটি পুনরাবৃত্ত হওয়ার ফলে প্রতিবার অসংখ্য লোহিত রক্তকণিকা ধ্বংস প্রাপ্ত হচ্ছে। নতুন লোহিত রক্তকণিকা তৈরির হারের চেয়ে ধ্বংসের হার বেশি হওয়ায় রাকিবের দেহে তীব্র রক্তশূন্যতা সৃষ্টি হয়েছে। নিচে এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি ধাপটির চিহ্নিত চিত্র রূপরেখা তুলে ধরা হলো:

চিত্র: এরিথ্রোসাইটিক সাইজোগনি (Erythrocytic Schizogony) চক্র

        
  • ১. ট্রফোজয়েট (Trophozoite): মেরোজয়েট লোহিত রক্তকণিকায় প্রবেশ করে গোলাকার ট্রফোজয়েটে পরিণত হয়।
  •     
  • ২. সিগনেট রিং (Signet Ring): ট্রফোজয়েটের কেন্দ্রে গহ্বর সৃষ্টি হওয়ায় নিউক্লিয়াসটি একপাশে সরে যায় এবং দেখতে আংটির মতো দেখায়।
  •     
  • ৩. অ্যামিবয়েড ট্রফোজয়েট (Amoeboid Trophozoite): ক্ষণপদ সৃষ্টির মাধ্যমে জীবাণুটি অসংযত আকার ধারণ করে এবং হিমোগ্লোবিন হজম করে হিমোজয়েন দানা তৈরি করে।
  •     
  • ৪. সাইজন্ট (Schizont): নিউক্লিয়াসটি বারবার বিভক্ত হয়ে ১২-২৪টি অপত্য নিউক্লিয়াস গঠন করে।
  •     
  • ৫. রোজেট (Rosette): সাইটোপ্লাজম বিভাজিত হয়ে নিউক্লিয়াসগুলোকে ঘিরে ফেলে এবং গোলাপ ফুলের পাপড়ির মতো সাজায়।
  •     
  • ৬. লোহিত রক্তকণিকা বিদীর্ণ হওয়া: কণিকাসহ প্রাচীর ফেটে গিয়ে মেরোজয়েটগুলো রক্তরসে মুক্ত হয় এবং লোহিত রক্তকণিকাটি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে যায়।
Satt AI
Satt AI
3 weeks ago
71

অণুজীবঃ খালি চোখে দেখা যায় না, শুধু অণুবীক্ষণযন্ত্রে দেখা যায়, এমন জীবকে অণুজীব (Microbes) বলা হয়। জীববিজ্ঞানের যে শাখায় অণুজীব সম্পর্কে আলোচনা করা হয়, সে শাখাকে অণুজীবতত্ত্ব বা মাইক্রোবায়োলজি (Microbiology) বলা হয়ে থাকে। ভাইরাস, ব্যাকটেরিয়া, মাইক্রোপ্লাজমা, রিকেটসিয়া ও অ্যাকটিনোমাইসিটিস প্রভৃতি অণুজীবের অন্তর্ভুক্ত।

Related Question

View All
উত্তরঃ

ভাইরাসের নিউক্লিক এসিডকে ঘিরে অবস্থিত প্রোটিন আবরণটির নামই ক্যাপসিড।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
96
উত্তরঃ

যে প্রক্রিয়ায় ফায ভাইরাস পোষক ব্যাকটেরিয়া কোষে প্রবেশ করে সংখ্যাবৃদ্ধি সম্পন্ন করে ও অপত্য ভাইরাসগুলো পোষক দেহের বিদারণ বা লাইসিস (lysis) ঘটিয়ে নির্গত হয় তাকে লাইটিক চক্র বলে। E.coli নামক ব্যাকটেরিয়ায় T₂ ফায লাইটিক চক্রের মাধ্যমে সংখ্যাবৃদ্ধি সম্পন্ন করে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
142
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত ১ম ধরনের দ্বিসূত্রক DNA বিশিষ্ট অণুজীবটি হলো T2ব্যাকটেরিওফায ভাইরাস। নিচে এর গঠনের চিহ্নিত চিত্র অঙ্কন করা হলো-

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
97
উত্তরঃ

উদ্দীপকে উল্লিখিত শেষোক্ত ধরনের আদিকোষী অণুজীবটি হলো ব্যাকটেরিয়া। নিচে ব্যাকটেরিয়ার উপকারিতা বিশ্লেষণ করা হলো-

১. ব্যাকটেরিয়া হতে গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিবায়োটিক ওষুধ তৈরি করা হয়।
যেমন- সাবটিলিন, পলিমক্সিন ইত্যাদি।
২. ব্যাকটেরিয়া হতে কলেরা, টাইফয়েড, যক্ষ্মা প্রভৃতি রোগের প্রতিষেধক প্রস্তুত করা হয়। ডি.পি.টি. (ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি, ধনুষ্টংকার) রোগের প্রতিষেধকও ব্যাকটেরিয়া হতে প্রস্তুত হয়।
৩. উদ্ভিদ ও প্রাণীর যাবতীয় মৃতদেহ, বর্জ্য পদার্থ ও অন্যান্য জঞ্জাল পচন প্রক্রিয়ায় ব্যাকটেরিয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৪. চা, কফি, তামাক প্রভৃতি প্রক্রিয়াজাতকরণে ব্যাকটেরিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৫. চামড়া হতে লোম ছাড়ানোর ব্যাপারে ব্যাকটেরিয়ার ভূমিকা-অপরিসীম।
৬. দুধ হতে মাখন, দই, পনির প্রভৃতি তৈরি করতে হলে ব্যাকটেরিয়ার কার্যকারিতার প্রয়োজন।

৭. ব্যাকটেরিয়ার পাচন ক্রিয়ার ফলেই পাটের আঁশগুলো পৃথক হয়ে থাকে এবং আমরা পাটের আঁশ পেয়ে থাকি।
৮. ভিনেগার, ল্যাকটিক এসিড, অ্যাসিটোন প্রভৃতি রাসায়নিক দ্রব্য প্রস্তুতের জন্য শিল্প ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়া ব্যবহার করা হয়।
৯. জৈব বর্জ্য পদার্থকে দ্রুত রূপান্তরিত করে ব্যাকটেরিয়া পয়ঃপ্রণালিকে সুষ্ঠু ও চালু রাখে।
১০. মাটির উর্বরতা বৃদ্ধিতে ব্যাকটেরিয়ার অবদান অনেক। মাটির জৈব পদার্থ সঞ্চয়ে ব্যাকটেরিয়ার প্রত্যক্ষ ভূমিকা রয়েছে।
১১. জিন প্রকৌশলে Bacteria গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
97
উত্তরঃ

Clostridium botulinum নামক ব্যাকটেরিয়া খাদ্যে Botulin নামক বিষাক্ত পদার্থ সৃষ্টি করে। এর বিষক্রিয়ায় মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। এরূপ বিষক্রিয়াকে বটুলিজম বলে।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
103
উত্তরঃ

ভাইরাস হলো নিউক্লিক অ্যাসিড ও প্রোটিন দিয়ে গঠিত অতি আণুবীক্ষণিক বস্তু যা জীবদেহের ভিতরে সক্রিয় থাকে এবং জীবদেহের বাইরে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় বিরাজ করে। জীবদেহ কোষীয় হলেও ভাইরাস অকোষীয়। এদের সাইটোপ্লাজম, কোষঝিল্লি, কোষপ্রাচীর, রাইবোসোম, মাইটোকন্ড্রিয়া এসব নেই। তাই ভাইরাসকে অকোষীয় বস্তু বলা হয়।

Md Durjoy islam
Md Durjoy islam
3 months ago
94
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews