ভাইমার প্রজাতন্ত্রের প্রথম প্রেসিডেন্টের নাম ফেডারিক এবার্ট।
ভেটো (Veto) একটি ল্যাটিন শব্দ, যার অর্থ আমি এটা মানি না। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী সদস্য রাষ্ট্রের এ ভেটো (Veto) ক্ষমতা রয়েছে। জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে বিশ্ব রাজনীতির গরুত্বপূর্ণ যেকোনো বিষয়ে আলোচনা ও প্রস্তাব গ্রহণ করার পূর্বে ব্রিটেন, আমেরিকা, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীনের সম্মতির প্রয়োজন হয়। যদি কোনো রাষ্ট্র কোনো বিষয়ের সিদ্ধান্তের ব্যাপারে ঐকমত্যে না আসতে পারে তখন ওই রাষ্ট্র এ ভেটো (Veto) ক্ষমতা প্রয়োগ করে।
উদ্দীপকের উল্লিখিত বর্ণনা আমার পাঠ্যবইয়ের জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদকে বোঝায়।
জাতিসংঘের মূল নির্বাহী ক্ষমতার অধিকারী নিরাপত্তা পরিষদ। আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষার প্রাথমিক ও প্রধান দায়িত্ব এ পরিষদের। শুরুতে ৫টি স্থায়ী ও ৬টি অস্থায়ী সদস্য সাকুল্যে ১১টি সদস্য রাষ্ট্র নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদ গঠিত হয়েছিল। ১৯৬৫ সাল থেকে ১০টি অস্থায়ী সদস্য নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের মোট সদস্য সংখ্যা হয় ১৫। এই ১৫টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ৯টি সদস্যের ঐক্যমতের ভিত্তিতে এ পরিষদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারে। তবে স্থায়ী ৫টি সদস্য রাষ্ট্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ব্রিটিন, ফ্রান্স, রাশিয়া ও চীন যেকোনো একটি দেশ ভেটো প্রয়োগ করলে কোনো প্রস্তাব গ্রহণ করা যায় না। অস্থায়ী সদস্যদেশ ২ বছরের জন্য সাধারণ পরিষদ কর্তৃক নির্বাচিত হয়।
উদ্দীপকের ঘটনাও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী রাষ্ট্রের প্রভাব প্রতিপত্তির চিত্র প্রতিফলিত হয়েছে। কারণ গ্রামের চারজন মোড়ল শান্তি কমিটির সদস্য হওয়ায় তারা গ্রামের সকল সালিশ মীমাংসায় একক ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। তারা কোনো ব্যাপারে দ্বিমত পোষণ করলে সালিশ-মীমাংসা স্থগিত হয়ে পড়ে। সুতরাং দেখা যাচ্ছে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের ৫টি স্থায়ী রাষ্ট্রে ভেটো প্রদান ক্ষমতাই উদ্দীপকের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ।
বিশ্ব শান্তি রক্ষায় উক্ত সংগঠনের অর্থাৎ জাতিসংঘের সাফল্যের পাশাপাশি ব্যর্থতাও রয়েছে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসস্তূপের মধ্যে থেকে উঠে আসা এ সংগঠনটি দীর্ঘ প্রায় সাত দশক ধরে নানা ঘাত প্রতিঘাত ও প্রতিকূলতা পাড়ি দিয়ে এখনও যে সার্থকবাবে টিকে আছে এবং বিশেষ করে দ্বিতীয় বিশ্বের দেশগুলোর আশা-আকাঙ্খার প্রতীক হয়ে আছে তা এর সাফল্যের পরিচয় বহন করে। এ সময়কালেন মধ্যে বিশ্ব একাধিকবার তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে গিয়েছিল, বিশেষ করে হাঙ্গেরি সংকট, সুয়েজ সংকট, বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়, পাক-ভারত যুদ্ধ, আবর-ইসরাইল যুদ্ধ, ইরান-ইরাক যুদ্ধ, কোরিয়া, যুদ্ধ, ইন্দোনেশিয়া, নামিরিয়া, লিবিয়ার স্বাধীনতা এছাড়া উপনিবেশ বিলোপ, গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা, পরিবেশ সংরক্ষণ, জসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ, নারীর অধিকার সংরক্ষণ, শরণার্থী সমস্যার সমাধান, মানবাধিকার ও আন্তর্জাতিক আইন এ প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘ উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে।
অন্যদিকে, এ সংগঠনের ব্যর্থতাও কম নয়। জন্মলগ্ন থেকেই মার্কিন সোভিয়েত স্নায়ুযুদ্ধের ফলে বহু সিদ্ধান্ত কার্যকর করা যায়নি। ১৯৯১ সালে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে একক পরাশক্তি হিসেবে আমেরিকার উত্থানের ফলে এটি একটি রাবার স্ট্যাম্প সংগঠানে পরিণত হয়েছে বলে অনেক বিশ্লেষক মনে করেন।
পরিশেষে বলা যায় বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় জাতিসংঘের যেমন সফলতা রয়েছে তেমনি ব্যর্থতাও রয়েছে। তবে ব্যথতার চেয়ে সফলতা বেশি।
Related Question
View All১৯৪৭ সালের ৫ জুন মার্কিন পররাষ্ট্র সচিব জর্জ সি. মার্শাল হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ইউরোপের অর্থনৈতিক পুনরুজ্জীবন সম্পর্কে মার্কিন নীতি ব্যাখ্যা করেন। মার্শালের এ নীতি ক্ষুধা, দারিদ্রদ্র্য, হতাশা ও বিশৃঙ্খলার বিরুদ্ধে কোনো দেশ বা মতাদর্শের বিরুদ্ধে নয়। তিনি বলেন, ইউরোপকে অর্থনৈতিক দিক থেকে স্বাবলম্বী করার জন্য মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এককভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করবে। মার্শালের এ পুনরুজ্জীবনের পরিকল্পনা বিশ্ব ইতিহাসে 'মার্শাল পরিকল্পনা' নামে অভিহিত।
উদ্দীপকে বর্ণিত সংগঠনটির সাথে আমার পাঠ্যবইয়ের যে আন্তর্জাতিক সংগঠনের সাদৃশ্য রয়েছে তা হলো জাতিসংঘ।
বিশ্ব ইতিহাসে এক দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে বিশ্বশান্তি ও নিরাপত্তার আশার আলো প্রজ্বলিত করে জাতিসংঘ জন্মলাভ করে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর বিশ্বশান্তি রক্ষা ও আন্তর্জাতিক বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির জন্য ১৯১৯ সালে লীগ অব নেশনস গঠিত হয়। কিন্তু ১৯৩৮ সালের মধ্যেই লীগের রাজনৈতিক অস্তিত্ব এক প্রকার বিলুপ্ত হয়ে যায়। একদিকে জাপান, ইতালি ও জার্মানির আক্রমণাত্মক কার্যকলাপ এবং অপরদিকে যৌথ নিরাপত্তার দায়বদ্ধতা পালনে ব্রিটেন ও ফ্রান্সের ব্যর্থতা, যুক্তরাষ্ট্রর বিচ্ছিন্ন থাকার নীতি এবং সোভিয়েত রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সংগঠন থেকে বাইরে থাকার নীতি প্রভৃতি কারণে লীগের সমাধি হয়। ১৯৩৯ সালের মধ্যে বৃহৎ শক্তিবর্গ বিভিন্ন জোট গঠন করে দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বযুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। স্বাভাবিকভাবেই এ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের অধিকতর ধ্বংসলীলা প্রত্যক্ষ করে মানুষ আরও বেশি শঙ্কিত হয়ে ওঠে এবং ভবিষ্যৎ শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য চিন্তান্বিত হয়ে পড়ে। ফলে বিশ্ববাসী একটি সুসংগঠিত ও শক্তিশালী আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে অনুভব করে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের মধ্যেই মিত্রশক্তির নেতারা একটি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান গঠনের কথা ভাবতে থাকেন। তারা ১৯৪৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইয়াল্টায় অনুষ্ঠিত শীর্ষ সম্মেলনে নিরাপত্তা পরিষদের গঠন ও তার ভোটদান পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করেন। এ আলোচনার ভিত্তিতে ১৯৪৫ সালের ২৫ এপ্রিল আমেরিকার সানফ্রান্সিসকো শহরে এক বিশ্ব সম্মেলনে জাতিসংঘের সনদ উত্থাপিত হয়। পরিশেষে ১৯৪৫ সালের ২৪ অক্টোবর ৫১টি দেশ জাতিসংঘের সনদ স্বাক্ষর করে এবং এ চার্টার স্বাক্ষরিত হওয়ার সাথে সাথে জাতিসংঘ কার্যকরী রূপ লাভ করে। উদ্দীপকে এমন ঘটনারই ইঙ্গিত রয়েছে।
বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রদানে উক্ত সংগঠনটির অর্থাৎ জাতিসংঘের ভূমিকা ছিল নীরব বা নেতিবাচক।
আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি ছাড়া কোনো রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না। এজন্য মুজিবনগর সরকার তার ঘোষণাপত্রে বঙ্গবন্ধু কর্তৃক বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণাকে স্বীকৃতি দেওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশের স্বীকৃতি আদায়ের জন্য তৎপর হয়। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের এই স্বীকৃতির দাবি অযৌক্তিক ছিল না। কেননা, একটি নতুন রাষ্ট্রের স্বীকৃতির জন্য যেসব শর্ত পূরণ করা প্রয়োজন, তার সবই বাংলাদেশ পূরণ করেছিল। তবে বাংলাদেশের স্বীকৃতি প্রসঙ্গে জাতিসংঘ কার্যকর কোনো ভূমিকা নিতে পারেনি। বাংলাদেশের জনগণকে ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর সশস্ত্র যুদ্ধে বিজয় অর্জনের মাধ্যমেই তার স্বীকৃতি আদায় করে নিতে হয়েছিল। বাংলাদেশকে স্বীকৃতি না দেওয়ার ক্ষেত্রে জাতিসংঘের সামনে যে সমস্যাটি ছিল তা - হলো এর সনদের ২/৭ ধারা। এই ধারায় কোনো রাষ্ট্রের জনগণের মানবাধিকার বা আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার ও রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার নীতির মধ্যে সীমারেখা নিয়ে দ্বন্দ্ব রয়েছে। এই দ্বন্দ্বকে কেন্দ্র করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও মুসলিম দেশগুলোর পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার প্রশ্নে বাংলাদেশের স্বীকৃতির বিরোধিতা করে। অন্যদিকে, সোভিয়েত ইউনিয়ন, ভারত, পোল্যান্ড ইত্যাদি রাষ্ট্র পাকিস্তানি বর্বরতা ও গণহত্যার প্রেক্ষিতে বাংলাদেশের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারের পক্ষে অবস্থান নেয়। কিন্তু জাতিসংঘ রাষ্ট্রীয় অখন্ডতার যুক্তির প্রশ্নে বিজয় অর্জনের পূর্ব পর্যন্ত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়নি। পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতিসংঘের ১৩৬তম সদসা হিসেবে যোগদান করে।
১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে সুয়েজ খাল জাতীয়করণ করা হয়।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৪১ সালে যখন হিটলার সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং জাপান মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পার্ল হারবার আক্রমণ করে তখন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট রুজভেল্ট এবং ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী চার্চিল আটলান্টিক মহাসাগরে যুদ্ধ জাহাজে এক গোপন বৈঠকে মিলিত হন। উভয় নেতা একটি সনদে স্বাক্ষর করেন, যা ইতিহাসে আর্টলান্টিক সনদ বা আটলান্টিক চার্টার নামে পরিচিত। যুদ্ধ সংক্রান্ত বিষয়ে বৈঠক হলেও যুদ্ধ বন্ধ এবং আন্তর্জাতিক শান্তি প্রতিষ্ঠার বিষয়টিও এতে গুরুত্ব পায়, যা পরবর্তী পর্যায়ে জাতিসংঘ প্রতিষ্ঠার ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!