সুশাসন হলো সেই অবস্থা যেখানে শাসনের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা আছে, ন্যায়বিচার ও ন্যায়পরায়ণতা প্রতিষ্ঠিত হয়েছে এবং সম্পদ ও সেবা বিতরণের ফলে দরিদ্রতম ও দরিদ্র নাগরিকেরা মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করার সুযোগ লাভ করেছে।
আইনের শাসন বলতে বোঝায় আইনের প্রাধান্য স্বীকার করা এবং আইন অনুযায়ী শাসন করা। এটি সুশাসন প্রতিষ্ঠার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য। সুশাসনের অন্যতম দাবি হলো একটি স্বচ্ছ আইনি কাঠামো থাকবে এবং এটি প্রত্যেকের জন্য সমভাবে প্রযোজ্য হবে। আইনের শাসন নাগরিকদের অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় ভূমিকা রাখে। এর দ্বারাই সাম্য, স্বাধীনতা ও মৌলিক অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
উদ্দীপকে রাফির বাবা পৌরনীতি ও সুশাসন বিষয়টি বেছে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন যার বিষয়বস্তু ব্যাপক ও বিস্তৃত। পৌরনীতি মূলত নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান। নাগরিকের সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবন পৌরনীতির মুখ্য আলোচ্য বিষয়। এর সংজ্ঞাসমূহ বিশ্লেষণ করলে একটি বিষয় স্পষ্ট হয়ে ওঠে- নাগরিকের জীবন ও কার্যাবলি যতদূর বিস্তৃত, পৌরনীতির আলোচনার পরিধিও ততদূর প্রসারিত। উদ্দীপকে দেখা যায়, রাফির বাবা রাফিকে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তির সময় এমন একটি বিষয় বেছে নিতে বললেন যা তার সন্তানকে সুনাগরিকের গুণাবলি অর্জন, নাগরিক অধিকার ভোগ ও কর্তব্য পালনের জন্য নাগরিকতা সংশ্লিষ্ট জ্ঞান প্রদান করবে। বিবরণের ভিত্তিতে বলা যায়, এ বিষয়টি হলো পৌরনীতি। এর বিষয়বস্তু অনেক ব্যাপক ও বিস্তৃত। নাগরিকতা ও নাগরিকের সমাজজীবন, নাগরিকেরঅধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ সম্পর্কে পর্যালোচনা, নাগরিক জীবনের সাথে জড়িত মৌলিক সামাজিক প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আলোচনা, নাগরিকতার সাথে স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের পর্যালোচনা, সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় বিমূর্ত বিষয় সংক্রান্ত আলোচনা, সমাজজীবনের বিভিন্ন দিক ও সমসাময়িক বিষয়াদি ইত্যাদি নিয়ে পৌরনীতি আলোচনা করে থাকে।
তাই বলা যায়, নাগরিকতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল ধারণাই পৌরনীতির বিষয়বস্তুর অন্তর্গত।
উদ্দীপকের দুটি বিষয়- পৌরনীতি ও সুশাসন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের
মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বিদ্যমান। 'পৌরনীতি ও সুশাসন' এবং 'রাষ্ট্রবিজ্ঞান' সামাজিক বিজ্ঞানের একই শাখার দুটি অংশ। একটি নাগরিক ও নাগরিকতা এবং অন্যটি রাষ্ট্র ও রাষ্ট্রীয় সংগঠন নিয়ে আলোচনা করে। তাই পৌরনীতি ও সুশাসনের সাথে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। উদ্দীপকের রাফিকে তার বাবা পৌরনীতি বিষয় বেছে নিতে বললেন। কিন্তু রাফি বলল, এ বিষয়ে অনার্স পড়ার সুযোগ নেই। পরবর্তীতে তার বাবার ধারণা থেকে রাফি নিশ্চিত হলো যে, বাংলাদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে এ বিষয়ের সাথে ঘনিষ্ঠ একটি বিষয় অনার্স পড়ার সুযোগ আছে। এ বিষয়টি হলো রাষ্ট্রবিজ্ঞান। ব্যুৎপত্তিগত দিক থেকেই উক্ত বিষয় দুটি পরস্পর ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কযুক্ত এবং প্রায় অভিন্ন। পৌরনীতি ও সুশাসন নাগরিকতা বিষয়ক এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞান রাষ্ট্র সম্পর্কিত বিজ্ঞান। প্রকৃতপক্ষে নাগরিক ও রাষ্ট্র অখণ্ড ধারণা। তাই এ বিষয় দুটি ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত। এদের বিষয়বস্তুর রূপগত সাদৃশ্যও রয়েছে। সাধারণ কিছু বিষয় উভয় শাস্ত্রই আলোচনা করে থাকে। উভয়ই নাগরিক, নাগরিকভা, নাগরিক অধিকার ও কর্তব্য, রাষ্ট্র, সরকার, সংবিধান, আইন, স্বাধীনতা, সাম্য, জাতি, জাতীয়তাবাদ ইত্যাদি বিষয় বিশদভাবে বিশ্লেষণ করে। পৌরনীতি ও সুশাসন এবং রাষ্ট্রবিজ্ঞানের মধ্যকার ব্যাপক সাদৃশ্যের জন্যই অনেকে পৌরনীতি ও সুশাসনকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অংশ বলে আখ্যায়িত করে থাকেন। তাই বলা যায় যে, এ দুটি বিষয়ের মধ্যে সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর।
Related Question
View Allপৌরনীতির ইংরেজি প্রতিশব্দ Civics |
নাগরিকের উত্তম জীবন প্রতিষ্ঠা করাই পৌরনীতির লক্ষ্য। এ লক্ষ্য অর্জনে পৌরনীতি নাগরিকতার বিভিন্ন দিক সম্পর্কে বিশদভাবে আলোচনা করে। যেমন- নাগরিকতা লাভের উপায়, সুনাগরিকের গুণাবলি, নাগরিকের অধিকার ও কর্তব্য, নাগরিকের অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যৎ এবং নাগরিকের স্থানীয়, জাতীয় ও আন্তর্জাতিক নানা দিক। এককথায় পৌরনীতির মূল বিষয়বস্তু যেহেতু নাগরিকতাকেন্দ্রিক সেহেতু পৌরনীতিকে নাগরিকতা বিষয়ক বিজ্ঞান বলা হয়
তাহসিন এ বছর একাদশ শ্রেণিতে মানবিক বিভাগে পড়াশুনা করছে। তাহসিনকে তার বাবা 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি পাঠের পরামর্শ দিলেন। পাঠ্য বিষয় হিসেবে পৌরনীতি ও সুশাসন গ্রহণের বা পাঠের ফলে তাহসিন যে ধরনের সুফল লাভ করবে, তা নিচে উল্লেখ করা হলো-
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিন তার অধিকার ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতনতা লাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের মাধ্যমে তাহসিন সুনাগরিকের গুণাবলি সম্পর্কে অবগত হবে। যা তার গুণাবলি বিকাশে সহায়ক হবে।
- পৌরনীতি ও সুশাসন পাঠের ফলে তাহসিনের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন হবে এবং মনের সংকীর্ণতা দূর হবে। তার বুদ্ধিমত্তা ও বিচক্ষণতা বিকশিত হবে। যা একজন রাষ্ট্রবিজ্ঞানীর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন স্থানীয়, জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে জানতে পারবে। সে রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে সুসংহত ও সুসংবদ্ধ করে গড়ে তোলার জ্ঞানলাভ করবে।
- এ বিষয় পাঠের ফলে তাহসিন রাষ্ট্র পরিচালনাসংক্রান্ত জ্ঞান লাভ করবে।
- রাষ্ট্রব্যবস্থা বিকাশের বিভিন্ন পর্যায় সম্পর্কে তাহসিন জ্ঞান অর্জন করতে পারবে।
- তাহসিন বিভিন্ন রাজনৈতিক তত্ত্ব ও মতবাদ সম্পর্কে জ্ঞান অর্জন করবে। খ। তাকে একজন বিজ্ঞ রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে সহায়তা করবে।
- অতএব বলা যায়, রাষ্ট্রবিজ্ঞানী হতে ইচ্ছুক তাহসিনের জন্য 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি নির্বাচন সঠিক হয়েছে। এ বিষয়টি তাহসিনের জ্ঞানের পরিধি আরও বিস্তৃত করবে।
উদ্দীপকে বলা হয়েছে, আধুনিককালে 'পৌরনীতি ও সুশাসন' বিষয়টি রাষ্ট্রের নাগরিক ও নাগরিকতা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থার স্বরূপ ও কার্যাদি সম্পর্কিত বিজ্ঞান।
পৌরনীতির উৎপত্তির ইতিহাস অনেক পুরনো। প্রাচীন গ্রিসের নগররাষ্ট্র কেন্দ্রিক ব্যবস্থা থেকে এ শাস্ত্রের উদ্ভব। সেই সময়ে পৌরনীতির ক্ষেত্র ছিল মূলত নগররাষ্ট্রে বসবাসকারী নাগরিক সম্পর্কিত আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু বর্তমানে নাগরিকতার ধরন, বিস্তার ও মাত্রা ব্যাপকভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। নাগরিক অধিকার, কর্তব্য, সুনাগরিকতা এবং এর সাথে সংশ্লিষ্ট সকল বিষয় নিয়ে পৌরনীতি আলোচনা করে। নাগরিকের সামাজিক ও রাজনৈতিক দিকের সাথে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রতিষ্ঠান যেমন- ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ইত্যাদির গঠন, কার্যাবলি ও ভূমিকা পৌরনীতি ও সুশাসন আলোচনা করে। জাতীয় গৌরবময় ইতিহাস, আন্দোলন ও ব্যক্তিত্ব সম্পর্কেও জ্ঞানদান করে পৌরনীতি। বর্তমান কালের বৈশ্বিক বিস্তৃত নাগরিকতার সাথে সম্পর্কযুক্ত প্রতিষ্ঠান যেমন- জাতিসংঘ, কমনওয়েলথ, FIFAইত্যাদির গঠন ও কার্যাবলি নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে থাকে। একই সাথে অতীতে নাগরিক জীবন কেমন ছিল, রাষ্ট্রের দায়-দায়িত্ব কেমন ছিল, নাগরিকগণ কেমন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করত তার স্বরূপ নিয়েও পৌরনীতি আলোচনা করে। অতীতের তুলনায় বর্তমানে এর প্রকৃতি কেমন এবং ভবিষ্যতে তা কেমন হতে পারে, তারও দিকনির্দেশনা পৌরনীতি হতে পাওয়া যায়। অতীতের শাসনব্যবস্থা, সংবিধান, শাসক শ্রেণি ইত্যাদির মধ্যে কোনটি সবচেয়ে ভালো ছিল যা ভবিষ্যতে গ্রহণ করা যেতে পারে পৌরনীতির আলোচনায় তা পাওয়া যায়। পরিশেষে বলা যায়, উদ্দীপকে আধুনিককালের পৌরনীতি বিষয়ে যে ধারণা উপস্থাপন করা হয়েছে তা যথাযথ ও যৌক্তিক।
কযে শাসন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ, আইনের শাসন, অবাধ তথ্যপ্রবাহ, জনগণকে উন্নত সেবা প্রদান, কর্তৃপক্ষের দায়বদ্ধতা ও সাম্য বিরাজ করে, তাই সুশাসন।
সুশাসন হলো আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জনগণের অংশগ্রহণমূলক ও জবাবদিহিমূলক শাসনব্যবস্থা। আর নীতিশাস্ত্র হলো মানুষের আচার-আচরণ মূল্যায়নের বিজ্ঞান। উভয়ের মাঝে বিষয়বস্তুগত মিল রয়েছে যেমন, তেমনি সুশাসনকে মূল্যায়ন করে নীতিশাস্ত্র। সুশাসন প্রতিষ্ঠা করতে হলে যেসব গুণাবলি ও বৈশিষ্ট্য প্রয়োজন তা নীতিশাস্ত্র পাঠের মাধ্যমেই অর্জন করা সম্ভব। আবার নীতিশাস্ত্রের একটি প্রায়োগিক দিক হলো সুশাসন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!