সব সুন্দরই সরাসরি প্রয়োজনের বাইরে অবস্থান করে।
সুন্দরের নিয়ম জানতে হবে না। কারণ সুন্দর যে নিয়মে সুন্দর হয়, তা সরাসরি প্রকাশিত হয় না। আবার নিয়ম না জানলেও সুন্দরকে চেনা যায়।
নিয়ম জেনে তারপর সুন্দরকে জানতে গেলে সুন্দরের তাৎপর্য উপলব্ধি করা যায় না; বরং সুন্দর দেখতে দেখতেই এক সময় সুন্দরের নিয়ম উপলব্ধিতে ধরা পড়ে। যেমন শিল্পকলা বা ফুল ফোটার নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। কিন্তু এ নিয়ম প্রকাশিত হয় না। শুধু সুন্দরের সাথে মিশে একটা নান্দনিক বন্ধন তৈরি করে। এ কারণেই সুন্দরের নিয়ম জানতে হবে না।
উদ্দীপকে 'শিল্পকলার নানা দিক' প্রবন্ধের ভাস্কর্যের বর্ণনার বিষয়টিকে নির্দেশ করে।
ভাস্কর্য হলো এক ধরনের শিল্পকলা। শিল্পীরা পাথর, কাঠ, মাটি প্রভৃতি দিয়ে ভাস্কর্য নির্মাণ করেন। যাঁরা ভাস্কর্য নির্মাণ করেন তাঁদের বলা হয় ভাস্কর। বাংলাদেশে বিভিন্ন আকৃতির ও বহু ধরনের ভাস্কর্য দেখতে পাওয়া যায়।
'শিল্পকলার নানা দিক' প্রবন্ধে লেখক এই ভাস্কর্য শিল্পের পরিচয় সংক্ষেপে বর্ণনা করেছেন। নরম মাটি দিয়ে কোনোকিছুর রূপ দেওয়া বা শক্ত পাথর কেটে কোনো গড়ন বানানোকে বলা হয় ভাস্কর্য। আবার বিশেষ এক ধরনের ছাঁচ বানিয়ে গলিত ধাতু ঢেলে গড়ন বানানোও ভাস্কর্যের অন্তর্ভুক্ত। আমাদের দেশে এককালে পোড়ামাটির ভাস্কর্য, খুব প্রসিদ্ধ ছিল। উদ্দীপকের 'অপরাজেয় বাংলা' একটি ভাস্কর্য যা আলোচ্য প্রবন্ধের এই বর্ণনাকেই নির্দেশ করে। 'অপরাজেয় বাংলা' ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত এক বিশালাকার ভাস্কর্য। এই ভাস্কর্যটি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশের নারী-পুরুষের সম্মিলিত অংশগ্রহণের স্মারক। তাই আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকে 'শিল্পকলার নানা দিক' প্রবন্ধের ভাস্কর্যের বর্ণনার বিষয়টিকে নির্দেশ করে।
"উদ্দীপকে উল্লিখিত দিকটিই 'শিল্পকলার নানা দিক' প্রবন্ধের একমাত্র দিক নয়"- মন্তব্যটি যথার্থ।
শিল্পকলা নানা ধরনের উপকরণের সমন্বিত একটি বিষয়। ভাস্কর্যও এক বিশেষ ধরনের শিল্পকলা, যা নিজ নির্মাণশৈলীতেই স্বাতন্ত্র্যমণ্ডিত। বাংলাদেশে অনেক ভাস্কর্য দেখতে পাওয়া যায়। সেগুলোর নির্মাণের পশ্চাতে আছে কোনো বিশেষ অর্জন বা ঘটনা। এ ছাড়াও শিল্পকলার রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিক।
'শিল্পকলার নানা দিক' প্রবন্ধে সুন্দরের ধারণা ব্যক্ত করতে গিয়ে ভাস্কর্যের প্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে। ভাস্কর্য এক ধরনের শিল্পকলা, যার মধ্য দিয়ে প্রকাশ ঘটে সুন্দরের। প্রকৃতি বা জীবজগতের নানা বিষয়কে মাটি, কাঠ বা পাথরের সাহায্যে শিল্পীরা এই ভাস্কর্যে রূপ দেয়। উদ্দীপকেও আমরা এই ভাস্কর্য শিল্পকলার পরিচয় পাই'। বাংলাদেশের একটি সুবিখ্যাত ভাস্কর্য 'অপরাজেয় বাংলা', যা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অবস্থিত। শিল্পীমন, সৌন্দর্যবোধের পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের তাৎপর্যময় ইতিহাসও এ ভাস্কর্যের মধ্য দিয়ে প্রকাশমান।
উদ্দীপকে ভাস্কর্যের বর্ণনা এবং এর তাৎপর্যই প্রধান আলোচিত বিষয়। কিন্তু 'শিল্পকলার নানা দিক' প্রবন্ধে ভাস্কর্যের বর্ণনা এসেছে সুন্দরের ধারণা ব্যক্ত করার প্রসঙ্গে। ভাস্কর্য শিল্পকলার একটি উপকরণ, যার মধ্য দিয়ে সুন্দরের প্রকাশ ঘটে। এ ছাড়াও প্রবন্ধে আরও অনেক বিষয়ের প্রকাশ ঘটেছে। যেমন- সৌন্দর্যের গুরুত্ব, প্রয়োজন ও অপ্রয়োজনের কথা, নন্দতত্ত্বের কথা, শিল্পকলার গুরুত্ব ইত্যাদি। তাই বলা যায় যে, উদ্দীপকে উল্লিখিত দিকটিই 'শিল্পকলার নানা দিক' প্রবন্ধের একমাত্র দিক নয়।
Related Question
View Allমুস্তাফা মনোয়ার ঝিনাইদহ জেলার মনোহরপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
প্রয়োজন এবং অপ্রয়োজন মিলেই সৌন্দর্যের প্রকাশ ঘটে, মানুষের সৌন্দর্যের আশা পূর্ণ হয়।
আমরা আমাদের মনের চাহিদামাফিক জিনিসটি সুন্দর হিসেবেও পেতে চাই। সামান্য কাঁথা যেটি আমরা ব্যবহার করে থাকি, তা যদি নানা রকম নকশা তুলে নকশিকাঁথায় রূপান্তরিত করা হয় তখন এটির সৌন্দর্যের দিকেই আমরা বেশি মনোযোগী হই, প্রয়োজনের কথা মনেই থাকে না। প্রয়োজন শরীরকে তৃপ্ত করে, আর সৌন্দর্য তৃপ্ত করে আমাদের মনকে। এভাবেই প্রয়োজন আর অপ্রয়োজন মিলেই মানুষের সৌন্দর্যের আশা পূর্ণ হয়।
ক্যাম্পাসে মেহেরুন্নেসা শিল্পকলার ভাস্কর্যের দিকটি দেখছেন। চিত্রকলা, ভাস্কর্য, স্থাপত্য, সংগীত, নৃত্য, কবিতা সবকিছুর মধ্য দিয়েই সুন্দরকে প্রকাশ করা হয়। আর এই মাধ্যমগুলোই বিভিন্ন আঙ্গিকের শিল্পকলা।
উদ্দীপকে বর্ণিত মেহেরুন্নেসা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে নবীনবরণ অনুষ্ঠান শেষে বান্ধবীদের সাথে ক্যাম্পাসে ঘুরতে ঘুরতে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে 'সংশপ্তক' ভাস্কর্য দেখতে পান। 'সংশপ্তক' অর্থ নিশ্চিত মৃত্যু জেনেও যে সামনে এগিয়ে যায়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের বীরত্বের কথা স্মরণ করেই সংশপ্তক নির্মিত হয়েছে। মুস্তাফা মনোয়ার 'শিল্পকলার নানা দিক' প্রবন্ধে এ ধরনের ভাস্কর্যের কথা বলেছেন। তিনি আমাদের দেশের বিভিন্ন ধরনের ভাস্কর্যের কথা বলেছেন। যেমন- শক্ত পাথর কেটে বানানো, গলিত মেলেট দিয়ে বানানো ও পোড়া মাটির ভাস্কর্য ইত্যাদি। উদ্দীপকের মেহেরুন্নেসা তেমনই একটি ভাষ্কর্য দেখেছেন, যার নাম সংশপ্তক।
"মেহেরুন্নেসার দেখা সংশপ্তকই শিল্পকলার প্রধান দিক"-মন্তব্যটি যথার্থ।
ভাস্কর্য শিল্পকলার একটি প্রধান দিক। ভাস্কর্য একটি দেশের ইতিহাস ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধারণ করে। বর্তমানে বিভিন্ন জিনিস দিয়ে ভাস্কর্য নির্মাণ করা হচ্ছে।
'শিল্পকলার নানা দিক' প্রবন্ধে লেখক মানুষের মনের সৌন্দর্য প্রকাশ করার বিভিন্ন মাধ্যমের কথা বলেছেন। এই মাধ্যমগুলোর একটি হচ্ছে ভাস্কর্য তৈরি। এক ধরনের ছাঁচ বানিয়ে গলিত মেটাল ঢেলে গড়ন বানানো, এই ধরনের কাজকে বলে ভাস্কর্য। আমাদের দেশে পোড়ামাটির ভাস্কর্য খুব প্রসিদ্ধ ছিল। সব শিল্পকলার মূল বস্তুর সমন্বয়ে তৈরি হয় এ ভাস্কর্য। এ জন্য ভাস্কর্য এত গুরুত্বপূর্ণ। উদ্দীপকে শিল্পকলার অন্যতম প্রধান এই দিকটিরই ইঙ্গিত করা হয়েছে। মেহেরুন্নেসা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের পাবলিক লাইব্রেরির সামনে মুক্তিযুদ্ধের ভাস্কর্য 'সংশপ্তক' প্রত্যক্ষ করেন; যা 'শিল্পকলার নানাদিক' প্রবন্ধে বর্ণিত শিল্পকলার প্রতিনিধিত্ব করে।
উদ্দীপকের মেহেরুন্নেসার দেখা 'সংশপ্তক' একটি ভাস্কর্য। 'শিল্পকলার নানা দিক' রচনায় যে শিল্পের কথা গুরুত্বের সাথে প্রকাশ করেছেন লেখক। তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
'পুরাকাল' শব্দের অর্থ প্রাচীনকাল বা অনেক আগেকার সময়।
জগতের সৌন্দর্যের আনন্দ-ইতিহাস-ঐতিহ্য, দেশ ও মানুষ। সম্পর্কে জানার জন্য শিল্পকলা চর্চা সকলের পক্ষে অপরিহার্য।
ভুবনে যে আনন্দধারা প্রবাহিত হচ্ছে তাতে শিল্পকলার মূল সত্যটি প্রকাশিত। সব মানুষই জীবনের এ আনন্দকে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল। কারণ আনন্দ প্রকাশ মানুষের জীবনীশক্তির প্রবলতারই প্রকাশ। এছাড়াও দেশ ও দেশের মানুষকে জানা যায় শিল্পকলার চর্চা দেখে। এ বিবেচনায় শিল্পকলা চর্চা সকলের পক্ষে অপরিহার্য।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!