উদ্দীপকের সাহায্যে প্রাণীর মধ্যে যে আলোড়নের সৃষ্টি হয় যা তার অভিজ্ঞতা, আচরণ এবং শারীরিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রকাশ পায় তাকে আবেগ বলে।
অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য শরীরের প্রত্যেকটি উপাদানই নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকা দরকার। প্রেষিত আচরণের মাধ্যমে এই ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। তাই প্রেষিত আচরণকে ভারসাম্য সংস্থাপক বলা হয়।
আমাদের শরীরের অভ্যন্তরে যখন কোনো বিঘ্ন ঘটে বা কোনো কিছুর অভাব ঘটে তখন বিভিন্ন আচরণ বা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ভারসাম্য রক্ষা করা হয়। আমাদের শরীরে যখন পানির অভাব দেখা দেয় তখন আমরা পিপাসার্ত হই। পানি পান করে আমরা এ ভারসাম্য রক্ষা করি।
প্রতিটি প্রাণীদেহের অভ্যন্তরাণ যন্ত্রমণ্ডলীর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন। এই ভারসাম্য বিনষ্ট হলে, স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। শরীরে যখন খাদ্যের অভাব দেখা দেয় তখন আমরা খাদ্য খেয়ে ভারসাম্য বজায় রাখি। আবার তাপমাত্রা কমে গেলে শরীরে কম্পন সৃষ্টি হয় এবং দেহের তাপমাত্রা বেড়ে যায়।
রায়হানের মধ্যে জৈবিক প্রেষণা বিদ্যমান। আর প্রাণী মাত্রই একটি জৈবিক ও মৌলিক প্রেষণা হলো ক্ষুধা।
জন্মের পর থেকেই মানুষ ক্ষুধার তাড়না অনুভব করতে থাকে। ক্ষুধার শারীরবৃত্তীয় ভিত্তি সম্পর্কে জানতে হলে কয়েকটি বিষয়ভিত্তিক আলোচনা করা প্রয়োজন। যখন আমাদের পাকস্থলী শূন্য হয়ে পড়ে এবং এর পেশিগুলো সংকুচিত হতে থাকে তখন আমরা ক্ষুধার তাড়না অনুভব করি। অবশ্য পাকস্থলী কেটে বাদ দিয়েও দেখা গেছে যে প্রাণী ক্ষুধার তাড়না অনুভব করে।
ফ্রেইডম্যান এবং স্ট্রিকার (১৯৭৬) যকৃত এবং শর্করার মাত্রা ক্ষুধার জন্য দায়ী এ ধারণা নিয়ে গবেষণা করেন। তাদের গবেষণায় দেখা যায় রক্তে শর্করার মাত্রা কমে গেলে যকৃত থেকে একটি সংকেত মস্তিষ্কে যায় এবং তখন ক্ষুধা অনুভূত হয়। মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাস একটি বিশেষ অঞ্চলে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। হাইপোথ্যালামাস কোনো একটা বিশেষ অঞ্চলকে উত্তেজিত করলে প্রাণী খাবার খেতে সচেষ্ট হয়। আবার কোনো অঞ্চল প্রাণীকে খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখে।
রায়হান ও লুবনার প্রেষণা ভিন্ন। উদ্দীপকে বর্ণিত বিষয় হতে দেখা যায় রায়হানের প্রেষণা জৈবিক আর লুবনার প্রেষণা সামাজিক।
জৈবিক প্রেষণা প্রাণীর শারীরিক তাগিদ বা প্রয়োজন থেকে সৃষ্টি হয়। এ প্রেষণা জীবন ধারণের জন্য অপরিহার্য। জৈবিক প্রেষণা শরীরের ভিতরে অস্থির অবস্থা, অভাববোধ ও উত্তেজনার সৃষ্টি করে। উদ্দীপকে রায়হান পড়াশোনার ব্যস্ততার কারণে স্কুলে টিফিন খেতে পারেনি। বাসায় ফিরে সে তার মাকে তাড়াতাড়ি খাবার দিতে বলে। ক্ষুধার তাড়না রায়হানকে প্রেষিত করে আর ক্ষুধা হচ্ছে একটি মৌলিক জৈবিক প্রেষণা।
সামাজিক প্রেষণা তৈরি হয় মানুষের সমাজজীবন থেকে। সমাজজীবন থেকে শিক্ষার মাধ্যমে এ প্রেষণা অর্জন করা হয় বলে একে শিক্ষালব্ধ বা অর্জিত প্রেষণা বলা হয়ে থাকে। উদ্দীপকে লুবনা প্রতি পরীক্ষাতেই কৃতিত্বের সাথে পাশ করে। ভবিষ্যতে সে আরও ভালো ফলাফল করতে চায়। কৃতি প্রেষণা সফলতা লাভের প্রাথমিক সোপান। আর এ প্রেষণা সামাজিক প্রেষণার অন্তর্ভুক্ত। প্রতিটি মানুষ চায় প্রতিষ্ঠা লাভ করতে। সফলতা অর্জন বা প্রতিষ্ঠা লাভের ইচ্ছাই হলো কৃতি প্রেষণা। লুবনা ভবিষ্যতে আরও ভালো ফলাফল করতে চায় তার এই অভ্যন্তরীণ শক্তি তাকে কর্মসম্পাদনে তাগিদ দেয়।
পরিশেষে বলা যায়, জৈবিক প্রেষণা জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য, কিন্তু সামাজিক প্রেষণা জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য নয়, এটি মানসিক ও সামাজিক প্রয়োজনে সৃষ্টি হয়।
Related Question
View Allপ্রেষণা চক্রের প্রথম ধাপ হলো অভাববোধ।
মুখমণ্ডলের অভিব্যক্তি আবেগ প্রকাশের এক গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশক। মানুষ আবেগ তাড়িত হলে তা তার মুখমণ্ডলের অভিব্যক্তিতে প্রকাশ পায়। যেমন- কেউ আনন্দিত হলে তার মুখ উজ্জ্বল হয়, ভয় পেলে মুখমণ্ডল ফ্যাকাশে হয়ে যায়। আবার, রাগ হলে চোখ বড় ও লাল হয়ে যায় এবং গা ঘেমে যায়। এছাড়াও লজ্জা ও আশ্চর্যন্বিত হলে তাও ব্যক্তির মুখমন্ডলের অভিব্যক্তিতে ফুটে ওঠে। আবেগকালীন শারীরিক বহিঃপ্রকাশ তথা সুখ, দুঃখ, বিরাগ, বিস্ময়, ক্রোধ ও ভীতি প্রভৃতি মানুষের ভিন্ন ভিন্ন মুখভঙ্গির মাধ্যমে প্রকাশিত হয়।
দৃশ্যকল্প-১ এ বর্ণিত মাইশার মাঝে ক্ষুধা নামক জৈবিক প্রেষণা ক্রিয়াশীল।
মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর জীবনধারণের জন্য যেসব প্রেষণা অবশ্যই পূরণ করতে হয় তাকে জৈবিক প্রেষণা বলে। এ প্রেষণাটি জন্মগত এবং মূলত প্রাণীর শারীরিক তাগিদ বা প্রয়োজন থেকে সৃষ্টি হয়ে থাকে। ক্ষুধা, তৃষ্ণা, নিদ্রা, কাম, মাতৃত্ব প্রভৃতি জৈবিক প্রেষণার অন্যতম উদাহরণ। ক্ষুধা একটি মৌলিক জৈবিক প্রেষণা। এ প্রেষণা উপশম করার জন্য মানুষ খাদ্য গ্রহণ করে। যখন আমাদের পাকস্থলী শূন্য হয়ে পড়ে এবং এর পেশিগুলো সংকুচিত হতে থাকে, তখন আমরা ক্ষুধার তাড়না অনুভব করি। দীর্ঘক্ষণ খাবার গ্রহণ না করলে আমাদের শারীরবৃত্তীয় নানাবিধ কার্যক্রম ব্যাহত হয়।
প্রদত্ত দৃশ্যকল্প-১ এর দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই, মাইশা হঠাৎ করে স্কুলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। স্কুলের ডাক্তার পরীক্ষা করে দেখতে পায়, দীর্ঘক্ষণ খাবার না খাওয়ার কারণে সে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। দীর্ঘক্ষণ খাবার গ্রহণ না করা প্রাণীর হাইপোথ্যালামাসের একটি বিশেষ অঞ্চলকে উত্তেজিত করে। ফলে প্রাণীর মধ্যে খাদ্য গ্রহণের জন্য অভাববোধ সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় খাবার গ্রহণ না করলে প্রাণীর স্বাভাবিক জীবনযাপন ব্যাহত হয়। উদ্দীপকের মাইশার মধ্যেও দীর্ঘক্ষণ খাবার গ্রহণ না করার কারণে এরূপ সমস্যা দেখা যায়। তাই বলা যায়, দৃশ্যকল্প-১ এ মাইশার মাঝে ক্ষুধা নামক জৈবিক প্রেষণা ক্রীয়াশীল।
'আয়েশা ও মনিরার মাঝে সৃষ্ট প্রেষণা ভিন্ন হলেও তা মূলত সামাজিক প্রেষণার অন্তর্ভুক্ত'- প্রশ্নোক্ত বক্তব্যটি যথার্থ হয়েছে বলে আমি মনে করি।
সামাজিক প্রেষণা শিক্ষণের দ্বারা অর্জিত। এটি জীবনধারণের জন্য অপরিহার্য নয়। যেমন- নিরাপত্তা, সামাজিক স্বীকৃতি, ক্ষমতার লিঙ্গা, পদমর্যাদার চাহিদা, যুথচারিতা, খ্যাতি প্রভৃতি সামাজিক প্রেষণার অন্যতম উদাহরণ।
উদ্দীপকের আয়েশার দিকে লক্ষ করলে দেখতে পাই, তিনি জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার প্রত্যয় নিয়ে এলাকার জনগণের সুখে দুঃখে দু'বছর যাবৎ তাদের পাশে রয়েছেন। আয়েশার এ কাজের মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক প্রেষণা ক্ষমতার লিপ্সা প্রকাশিত হয়েছে। এই ক্ষমতা লাভের ইচ্ছা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পেতে থাকে। যেমন- একজন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর উপজেলা পরিষদের চেয়রম্যান নির্বাচিত হতে চায়; আবার উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর সংসদ সদস্য হতে চায়। এগুলো সবই ক্ষমতার লিপ্সার কারণে হতে থাকে।
প্রদত্ত দৃশ্যকল্প-২ এ বর্ণিত মনিরা সব সময়ে প্রতিবেশী ও আত্মীয়স্বজন নিয়ে দলবদ্ধভাবে বসবাস করেন। এভাবে দলবদ্ধ হয়ে থাকার ইচ্ছাকে বলা হয় যুথচারিতা। যুথচারিতা একটি অর্জিত প্রেষণা এবং সমাজে বাস করার ফলে আমরা এটা অর্জন করি। এ প্রেষণাটির জৈবিক ভিত্তি না থাকার কারণে একে সহজাত প্রকৃতি বলা যায় না। ছোট শিশু মা-বাবার কাছ থেকে আদর পায়, ধীরে ধীরে সে খেলার সাথী ও বন্ধুদের সাথে মিশতে শিখে। পরবর্তীতে সে তার আশপাশের লোকদের সঙ্গ কামনা করে। সেদিক থেকে বলা যায়, যুথচারিতা জন্মগত না হলেও একটি শক্তিশালী সামাজিক প্রেষণা।
পরিশেষে উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, আয়েশার মাঝে ক্ষমতার লিপ্সা এবং মনিরার মাঝে যুথচারিতা ভিন্ন প্রকৃতির হলেও উভয় প্রেষনাই সামাজিক প্রেষণার শ্রেণিভুক্ত।
প্রাণীর জৈবিক অস্তিত্ব থেকে যেসব প্রেষণার উদ্ভব হয় তাকে শারীরবৃত্তীয় প্রেষণা বা জৈবিক প্রেষণা বলে।
বিভিন্ন ধরনের আচরণ বা প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শরীরের অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য রক্ষা করা হয় বলে, প্রেষিত আচরণ ভারসাম্য সংস্থাপক। প্রতিটি প্রাণী দেহের অভ্যন্তরীণ যন্ত্রমণ্ডলীর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করা প্রয়োজন। এই ভারসাম্য নষ্ট হলে প্রাণী অসুস্থ হয়ে পড়ে এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়। শরীরে যখন খাদ্যের অভাব দেখা দেয়, তখন আমরা খাবার গ্রহণ করে ভারসাম্য বজায় রাখি। পিপাসা লাগলে আমরা পানি পান করি। স্বাভাবিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি পেলে আমাদের শরীর ঘেমে যায় এবং তাপমাত্রা কমে গেলে আমাদের শরীরে কম্পন সৃষ্টি হয়। তাই অভ্যন্তরীণ ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য শরীরের প্রত্যেকটি উপাদানই নির্দিষ্ট মাত্রায় থাকা প্রয়োজন। প্রেষিত আচরণের মাধ্যমেই মূলত এই ভারসাম্য রক্ষা করা হয় বলে একে ভারসাম্য সংস্থাপক বলা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!