রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের মূল কারণসমূহঃ
১. ন্যাটো (NATO) সম্প্রসারণঃ রাশিয়া বহুদিন ধরে আশঙ্কা করে আসছে যে পশ্চিমা সামরিক জোট ন্যাটো ইউক্রেনসহ তার আশেপাশের রাষ্ট্রগুলোকে সদস্যপদ দিয়ে ঘিরে ফেলছে। ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগদানের সম্ভাবনা রাশিয়ার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি মনে করা হয়।
২. ক্রিমিয়া দখল ও ডনবাস অঞ্চলঃ ২০১৪ সালে রাশিয়া ইউক্রেনের ক্রিমিয়া অঞ্চল দখল করে নেয়। এরপর ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় ডনবাস অঞ্চলে (ডোনেৎস্ক ও লুহানস্ক) রুশপন্থী বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সক্রিয়তা বাড়ে, যাকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ সময় ধরে সংঘর্ষ চলে আসছে।
৩. জাতিগত ও ভাষাগত রাজনীতিঃ ইউক্রেনের পূর্ব অংশে রুশভাষী জনগণের বসবাস বেশি। রাশিয়া দাবি করে, তারা রুশভাষী নাগরিকদের "রক্ষা” করার জন্যই সামরিক পদক্ষেপ নেয়।
৪. ইউরোপীয় ইউনিয়নে (EU) ইউক্রেনের আগ্রহঃ ইউক্রেন পশ্চিমা বিশ্বের দিকে ঝুঁকছে, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়নে যোগদানে আগ্রহী। এটা রাশিয়ার জন্য রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব হারানোর শঙ্কা তৈরি করে।
৫. সাম্রাজ্যবাদী মনোভাব ও ঐতিহাসিক দাবিদাওয়াঃ রাশিয়া ইউক্রেনকে 'ঐতিহাসিকভাবে' নিজের অংশ হিসেবে মনে করে থাকে। প্রেসিডেন্ট পুতিন ইউক্রেনকে একটি স্বাধীন জাতি হিসেবে পুরোপুরি স্বীকৃতি দিতে চান না।
৬. ভূ-রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্যঃ পশ্চিমা দেশগুলোর নেতৃত্বে রাশিয়ার ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা এবং সামরিক চাপ রাশিয়াকে আক্রমণাত্মক পথে যেতে উদ্বুদ্ধ করে।
Related Question
View Allইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেয়ার বিষয়টিকে কেন্দ্র করে ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের পর ইউরোপের অনেক দেশই অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে এ যুদ্ধের ফলে। যদিও বিশ্ব অর্থনীতিতে রাশিয়ার অবদান মাত্র ৬ শতাংশ, চলমান সংকট বিশ্ব অর্থনীতিতে অবশ্যই বিরূপ প্রভাব ফেলবে। ১৯৭৩ সালে যখন বিশ্বজুড়ে ‘তেল সংকট’ দেখা দেয় তখন বৈশ্বিক অর্থনীতিতে মধ্যপ্রাচ্যের অবদান আজকের রাশিয়ার অবদানের চেয়েও কম ছিল। তবুও তেল সংকটে এক নাজুক অবস্থা তৈরি হয়েছিল বিশ্বজুড়ে। কারণ জ্বালানির জন্য অল্প কিছু তেল, গ্যাস রফতানিকারক দেশের ওপর বিশ্ব নির্ভরশীল। আর এটাই বৈশ্বিক রাজনীতিতে রাশিয়ার প্রধান দাবার গুটি। দেশটির গ্যাস ও জ্বালানি তেলের মজুদ এবং ইউরোপের বিভিন্ন দেশে তাদের সরবরাহ রাশিয়ার একটি প্রধান হাতিয়ার। ইউরোপের মোট প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার ৪০ শতাংশ এবং জ্বালানি তেলের এক-তৃতীয়াংশ রাশিয়া একাই সরবরাহ করে। রাশিয়া ছাড়াও নরওয়ে, আলজেরিয়া ও আজারবাইজান ইউরোপে গ্যাস সরবরাহ করে। ইউরোপের সবচেয়ে বড় অর্থনীতি জার্মানি তার প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার ৬৫ শতাংশ রাশিয়া থেকে আমদানি করে। এছাড়া ইতালি তার মোট গ্যাসের চাহিদার ৪৩ শতাংশ এবং ফ্রান্স ১৬ শতাংশ রাশিয়া থেকে আমদানি করে। ইউরোপের অন্য ছোট দেশ, যেমনঃ চেক প্রজাতন্ত্র, হাঙ্গেরি, পোল্যান্ড ও স্লোভাকিয়ার প্রাকৃতিক গ্যাসের চাহিদার সিংহভাগই জোগান দেয় রাশিয়া। বলা যায়, রাশিয়ার জ্বালানি শক্তিই ইউরোপের বাড়িগুলোকে উষ্ণ রাখে, কারখানাগুলো সচল রাখে আর যানবাহনগুলোকে দেয় প্রয়োজনীয় জ্বালানি। তাই রাশিয়া যদি গ্যাস ও জ্বালানি তেল সরবরাহে হস্তক্ষেপ করে, ইউরোপের অর্থনীতি যে চরম জ্বালানি সংকটে পড়বে, সে কথা বলার অপেক্ষা রাখে না।
সম্প্রতি রাশিয়া ইউক্রেনে নিষিদ্ধ ঘোষিত ভ্যাকুয়াম বোমা ব্যবহার করে ।
ইউক্রেনে চলমান লড়াইয়ে রাশিয়া নিষিদ্ধ ঘোষিত ভ্যাকুয়াম বোমা ব্যবহার করেছে বলে দাবি করেছে ইউক্রেন।
ভ্যাকুয়াম বোমা প্রচলিত বোমা থেকে একেবারেই ভিন্ন। এতে গোলাবারুদ ব্যবহার না করে ভিন্ন এক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। যা পরিবেশ উচ্চচাপ তৈরি করে আশপাশের এলাকার অক্সিজেন টেনে নিয়ে শক্তিশালী বিস্ফোরণ ঘটায়।
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২
২৪ ফেব্রুয়ারি ২০২২
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!