মহানবি (স.) যুবক বয়সে মক্কার শান্তিকামী যুবকদের নিয়ে একটি শান্তি সংঘ গঠন করেছিলেন, যা 'হিলফুল ফুযুল' নামে পরিচিত।
রাশেদ লক্ষ করে যে, তার মহল্লায় চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই, মারামারি, গন্ডগোল ইত্যাদি ঘটনা অহরহ ঘটছে। বিষয়টি রাশেদকে নাড়া দেয়। এলাকার এ অবস্থাকে স্বাভাবিক পর্যায়ে নিয়ে আসার জন্য এলাকার তরুণরা মিলে রাসুল (স.)-এর হিলফুল ফুযুল সংগঠনের অনুকরণে একটি-শান্তি সংঘ প্রতিষ্ঠা করে। অর্থাৎ এলাকায় বা মহল্লায় শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে রাশেদ ও তরুণরা মিলে সংগঠন গড়ে তুলেছিল।
রাশেদদের মহল্লায় যে সংগঠনটি গড়ে তোলা হয়েছে তা একটি সামাজিক সংগঠন। সংগঠনটির উদ্দেশ্য এলাকায় শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করা। রাশেদ সংগঠনের একজন কর্মী। সংগঠনের কর্মী হওয়ার ফলে রাশেদ সামাজিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছে। রাশেদ নিয়মিত সংগঠনের মিটিংগুলোতে অংশগ্রহণ করে সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে নিজের মতামত প্রকাশ করার সুযোগ পাচ্ছে। শান্তিশৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠাকল্পে যেসব পদক্ষেপ নেওয়া বা ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে রাশেদ সেসব ক্ষেত্রে অন্যান্যদের সাথে অংশগ্রহণ করে সামাজিক দায়িত্ব পালনের সুযোগ পাচ্ছে। রাশেদ ও অন্যান্যরা এভাবে সামাজিক দায়িত্ব পালন করছে।
হযরত মুহাম্মদ (স.) তখন যুবক। ওকায মেলায় জুয়া খেলাকে কেন্দ্র করে ফিজার যুদ্ধ শুরু হয়ে গেল। চলল একটানা পাঁচ বছর। অনেক মানুষ আহত নিহত হয়। মুহাম্মদ (স.) এ হিংসা হানাহানি, রক্তারক্তি দেখে ব্যথিত হলেন। কীভাবে শান্তি স্থাপন করা যায় তিনি ভাবতে লাগলেন।
অবশেষে শান্তিকামী কতিপয় যুবক নিয়ে তিনি 'হিলফুল ফুযুল' নামে একটি শান্তি সংঘ গঠন করলেন। এর দ্বারা তিনি গোত্রে গোত্রে শান্তি, সম্প্রীতি স্থাপন করলেন এবং মারামারি-হানাহানি বন্ধ করার চেষ্টা করলেন।
হিলফুল ফুযুলের প্রচেষ্টায় আরব সমাজে তখন শান্তিশৃঙ্খলা ফিরে এসেছিল। বর্তমান সমাজে তৎকালীন আরব সমাজের ন্যায় বিশৃঙ্খলা না থাকলেও নানাবিধ সামাজিক সমস্যা দেখা যায়। এসব সমস্যা সমাধানের উল্লেখযোগ্য কর্তৃপক্ষ নেই। তাই সমাজের বিদ্যমান খুঁটিনাটি সমস্যার সমাধান করে সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি স্থাপনের ক্ষেত্রে একটি সংগঠনের অভাব স্বভাবতই পরিলক্ষিত হয়। আর এক্ষেত্রে হিলফুল ফুযুল-এর ন্যায় শান্তিকামী সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা স্বাভাবিকভাবেই উচ্চারিত হতে পারে।
পরিশেষে বলা যায়, হিলফুল ফুযুল ছিল একটি শান্তিকামী সংগঠন। যা আরব সমাজে শান্তিশৃঙ্খলা স্থাপনে সক্ষম হয়েছিল। অতএব, আমাদের সমাজে শান্তি ও সম্প্রীতি স্থাপনের ক্ষেত্রে হিলফুল ফুযুল-এর মতো সংগঠনের প্রয়োজন রয়েছে।
Related Question
View Allহযরত মুহাম্মদ (স.)-এর দাদার নাম আব্দুল মুতালিব।
সত্যবাদী, পরোপকারী, শান্তিকামী যুবক হিসেবে হযরত মুহাম্মদ (স.)-এর সুনাম চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর সত্যবাদিতা, বিশ্বস্ততায় মুগ্ধ হয়ে আপনপর সকলে তাঁকে আল-আমিন (বিশ্বাসী) উপাধিতে ভূষিত করল।
বিশ্বের শ্রেষ্ঠ 'মহামানব মুহাম্মদ (স.)-এর আদর্শের সাথে উদ্দীপকের সাঈদের কাজের আংশিক মিল রয়েছে। মহানবি (স.) শুধু একজন দীন প্রচারকই ছিলেন না বরং তিনি ছিলেন সর্বোত্তম মানবীয় গুণের অধিকারী। মানবতার মুক্তি ও কল্যাণ কামনাই ছিল রাসুল (স.)-এর সাধনা। তিনি আরববাসীকে মুক্তি দেওয়ার জন্য কুরাইশ গোত্রের সমমনা কয়েকজনকে সাথে নিয়ে 'হিলফুল ফুযুল' নামের একটি মানব কল্যাণমূলক সংগঠন গড়ে তোলেন।
উদ্দীপকের সাঈদ সাহেব মহানবি (স.)-এর আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে কুরআনের শিক্ষা প্রসারের উদ্দেশ্যে এলাকায় মক্তব প্রতিষ্ঠা করেন। গরিব-দুঃখীদের অবস্থা চিন্তা চিন্তা করে করে একটি দাতব্য চিকিৎসালয় প্রতিষ্ঠা করেন।
উদ্দীপকে বর্ণিত আফরোজা বেগমের কার্যক্রম মহানবি (স.)-এর সহধর্মিণী হযরত খাদিজা (রা.)-এর সাথে মিল রয়েছে।
হযরত খাদিজা (রা.) ছিলেন আরবের একজন বিখ্যাত ধনাঢ্য ব্যবসায়ী। তিনি মহানবির সুন্দর চরিত্র, সততা দেখে তাঁর সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হন।
হযরত মুহাম্মদ (স.) হেরা গুহায় ধ্যানমগ্ন অবস্থায় নবুয়তপ্রাপ্ত হয়ে বাড়িতে এসে খাদিজা (রা.)-এর নিকট উক্ত ঘটনা বর্ণনা করেন। সব শুনে তিনি মহানবিকে সান্ত্বনা দিলেন এবং ইসলাম গ্রহণ করেন। তিনি ইসলাম প্রচারে মুহাম্মদ (স.)-কে সাহস ও উৎসাহ প্রদান করতেন।
'কুতুবে হানাফিয়্যা' তে তিরাশি হাজার মাসআলা নিয়ে রচিত হয়েছিল।
আইনের শাসন বলতে আইনের যথাযথ প্রয়োগকে বোঝায়। অর্থাৎ যেখানে দোষী বা অপরাধীকে আইন মোতাবেক শাস্তি দেওয়া হয় এবং এক্ষেত্রে ন্যায়পরায়ণতা অবলম্বন করা হয় তাই আইনের শাসন। এক কথায় আইনের শাসনের মাধ্যমে দুষ্টের দমন ও শিষ্টের লালন করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!