যে ব্যবসায় মুনাফা অর্জন নয় বরং সামাজিক কল্যাণের উদ্দেশ্যে 'গঠিত ও পরিচালিত হয় তাকে সামাজিক ব্যবসায় বলে।
বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষা, গবেষণা, উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহার, প্রযুক্তি আমদানির সুযোগ ও সামর্থ্য ইত্যাদি মিলিয়ে একটি দেশে যে পরিবেশ গড়ে ওঠে তাকে প্রযুক্তিগত পরিবেশ বলে।
ব্যবসায়-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতার বাজারে ভালো করতে হলে স্বল্পমূল্যে উন্নতমানের পণ্য ও সেবা দ্রুত সরবরাহের ব্যবস্থা করা -আবশ্যক। যার সবকিছুই উন্নত ও কার্যকর মানের প্রযুক্তি ব্যবহারের ওপর বিশেষভাবে নির্ভরশীল। কৃষি, শিক্ষা, শিল্প, চিকিৎসা, যোগাযোগসহ সর্বত্র এখন প্রযুক্তির ব্যবহার চলছে। তাই দেখা যায়, পৃথিবীর যে দেশ প্রযুক্তির ব্যবহারে এগিয়ে রয়েছে সে দেশ অর্থনৈতিক দিক দিয়েও অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি অগ্রগামী।
রাসেল প্রজনন শিল্পের সাথে জড়িত।
যে শিল্পে উৎপাদিত সামগ্রী পুনরায় সৃষ্টিকার্যে ব্যবহৃত হয় বা পরবর্তীতে ভোগের উপযুক্ত পণ্য সৃষ্টি করে তাকে প্রজনন শিল্প বলে। নার্সারিতে সৃষ্ট চারা পরবর্তীতে গাছ বা ফলমূল উৎপাদন করে, পোলট্রি ফার্মে ডিম বা বাচ্চা উৎপাদিত হয়, হ্যাচারিতে মাছের পোনা উৎপাদিত হয় যার সব কিছুই পরবর্তী উৎপাদনের মাধ্যমে মানুষের ভোগের উপযোগী পণ্যের সৃষ্টি করে থাকে।
উদ্দীপকে রাসেল নিজের পুকুরে সংগৃহীত উন্নত জাতের তেলাপিয়ার পোনা মাছের চাষ শুরু করেন। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই বিক্রয়যোগ্য হয়ে ওঠে এবং স্থানীয় বাজারে বিক্রয় করে। রাসেল পোনা মাছ থেকে পরবর্তীতে উৎপাদনের মাধ্যমে মানুষের ভোগের উপযোগী পণ্যের সৃষ্টি করেন। এ ধরনের কার্যক্রমকে প্রজনন শিল্প বলে। তাই বলা যায়, রাসেল প্রজনন শিল্পের সাথে জড়িত।
ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদা পূরণের জন্য রাসেলের উচিত নতুন পুঁজির সরবরাহ নিশ্চিত করা।
যেকোনো ধরনের ব্যবসায় বা উৎপাদনের কাজে মূলধন গুরুত্বপূর্ণ। ব্যবসায়িগণ ব্যবসায়ের প্রয়োজনে বিভিন্ন উৎস; যেমন- ব্যাংক, বিমা, বিভিন্ন ঋণদানকারী প্রতিষ্ঠান, এনজিও হতে মূলধন সংগ্রহ করে। থাকে। এ মূলধন উপযুক্ত ব্যবহারের মাধ্যমে উৎপাদন বৃদ্ধি করে ব্যক্তিক উন্নয়ন নিশ্চিত করা হয়।
উদ্দীপকে রাসেল ৩০,০০০ টাকা পুঁজি নিয়ে নিজের পুকুরে সংগৃহীত উন্নত জাতের তেলাপিয়া মাছের পোনার চাষ শুরু করেন। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই বিক্রয়যোগ্য হয়ে ওঠে এবং স্থানীয় বাজারে বিক্রয় করে। বাজারের ক্রেতারা যাতে নিজেদের পছন্দমতো মাছ ক্রয় করতে পারে এজন্য রাসেল দীর্ঘ সময় জীবন্ত রাখার জন্য কৃত্রিম উপায়ে মাছ সংরক্ষণ করেন। এতে তার মাছের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে থাকে। অর্থস্বল্পতার কারণে এ বাড়তি চাহিদা মেটানো তার পক্ষে সবসময় সম্ভবপর হয়ে ওঠে না। এজন্য রাসেলের প্রয়োজন বিভিন্ন ঋণদানকারী সংস্থা বা এনজিও অথবা বন্ধুবান্ধব, আত্মীয়স্বজন হতে মূলধন সংগ্রহ করে ব্যবসায়ের পুঁজি বৃদ্ধি করা। তাহলেই রাসেল ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবেন।
তাই বলা যায়, উদ্দীপকে ক্রেতাদের বাড়তি চাহিদা পূরণের জন্য রাসেলের উচিত নতুন পুঁজির সরবরাহ নিশ্চিত করা।
Related Question
View Allমুনাফা অর্জনের লক্ষ্যে পরিচালিত বিভিন্ন ধরনের উৎপাদন ও বন্টন সহ সকল, ঝুঁকিবহুল, ধারাবাহিক এবং বৈধ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে ব্যবসা বলে।
মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে পেশাজীবী গ্রাহকদের প্রয়োজন পূরণের সামর্থ্য কোন কাজ বা সুবিধা প্রদানকে প্রত্যক্ষ সেবা বলে।
সামাজিক ব্যবসায় হল নোবেল পুরস্কার বিজয়ী বাংলাদেশী অর্থনীতিবিদ মুহাম্মদ ইউনূস প্রবর্তিত একশ্রেণীর অর্থনৈতিক প্রকল্প যার মূল লক্ষ্য মুনাফার পরিবর্তে মানবকল্যাণ। যে কোন সাধারণ ব্যাবসায় প্রতিষ্ঠানের মতোই এই সকল প্রকল্প পরিচালিত হয় ; কেবল লক্ষ্য থাকে মানুষের কল্যাণ—বিশেষ করে দারিদ্র ও আয়বৈষম্য দূর করা। মুহাম্মদ ইউনূস ১৯৭০ দশক থেকে শুরু করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যাংকিং, টেলিকম, সৌরশক্তি, তথ্যপ্রযুক্তি, টেক্সটাইল, তাঁত, বিপণন প্রভৃতি খাতে অনেকগুলো কোম্পানী স্থাপন করেছেন যেগুলোর মৌলিক উদ্দেশ্য মুনাফা ম্যাক্সিমাইজ করা নয় ; অন্যদিকে এগুলোর কোনটিই ব্যক্তিগত মালিকানায় প্রতিষ্ঠিত হয় নি। এই উদ্যোগগুলো কার্যত সামাজিক সমস্যা সমাধানের জন্য স্থাপিত ব্যবসায়িক প্রকল্প। এ ধরনের ব্যবসায়িক পুজিঁলগ্নির কথা ঐতিহ্যগত অর্থশাস্ত্রে নেই। এই পরিপ্রেক্ষিতে ড. মুহাম্মদ ইউনূস ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের শেষভাগে "সামাজিক ব্যবসায়" ধারনাটি প্রবর্তন করেন।সামাজিক ব্যবসায়ের সঙ্গে সনাতন ব্যবসায়ের পার্থক্য কেবল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের মধ্যে: সনাতন ব্যবসায় মুনাফামুখী এবং সামাজিক ব্যবসায় কোম্পানি মুনাফা করবে নিশ্চয়ই, কিন্তু মালিক মুনাফা নেবে না, মালিক কেবল মূলধন ফেরত নিতে পারবে।
যে ব্যবসায় গঠন করতে উদ্যোক্তা বা বিনিয়োগকারী মূলধন সরবরাহ করেন কিন্তু তার প্রধান উদ্দেশ্য মুনাফা অর্জন নয় বরং সমাজের কল্যাণ সাধন করা তাকে সামাজিক ব্যবসায় বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!