আখলাকে হামিদাহ অর্থ প্রশংসনীয় চরিত্র বা উত্তম চরিত্র।
প্রতিবেশীর অধিকার বলতে প্রতিবেশীর প্রতি আমাদের করণীয় দায়িত্ব-কর্তব্যকে বোঝায়। যেমন- প্রতিবেশীর প্রতি আমরা সদাচার করব, বিপদে সাহায্য করব, সালাম দিব, খানাপিনায় শরিক করব। তাদেরকে জুলুম করব না, ঘৃণা করব না, হীন ও নগণ্য মনে করব না। প্রতিবেশী মারা গেলে তার দাফন-কাফনে শরিক হব।
আসাদের আচরণে আত্মীয়ের অধিকার পালন হয়নি। কারণ রায়হানের মা আসাদের আপন খালা। তার খালা অসুস্থ হয়ে ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে ভর্তি হলেও আসাদ তাকে দেখতে যায়নি। অথচ আত্মীয়ের অধিকারের মধ্যে অন্যতম হলো কোনো আত্মীয় অসুস্থ হলে তার চিকিৎসা দেওয়া, সেবা দেওয়া, বিপদে সাহায্য করা। কিন্তু আসাদ তা করেনি। সে স্বার্থপরের মতো নিজের কাজে ব্যস্ত ছিল। তাই বলা যায়, আসাদের কাজে আত্মীয়তার অধিকার পালিত হয়নি।
আসাদের কাজের পরিণতি অত্যন্ত জঘন্য। কারণ আত্মীয়ের হক বা অধিকার আদায় না করলে আত্মীয়তার সুসম্পর্ক বজায় থাকে না। কখনো কখনো এ সম্পর্ক বিনষ্ট হয়। আর আত্মীয়তার সম্পর্ক বিনষ্টকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না। এ মর্মে মহানবি (স.) বলেছেন, "আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে না।" (বুখারী) তিনি আরও বলেছেন, “নিশ্চয় আদম সন্তানের আমলসমূহ প্রত্যেক বৃহস্পতিবার জুমুআর রাতে আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয়। তখন আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারীর আমল কবুল হয় না।"
রাসুলুল্লাহ (স.) আরও বলেছেন, “কোনো মুসলিম ব্যক্তির পক্ষে তার ভাইকে তিনদিনের বেশি পরিত্যাগ করা বৈধ নয়।” (বুখারি) রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন করতে আল্লাহ নিষেধ করেছেন। তিনি বলেছেন, "তোমরা আল্লাহকে ভয় কর, যার দোহাই দিয়ে তোমরা পরস্পর নিজেদের অধিকার দাবি কর। আর রক্তের সম্পর্ক ছিন্ন কর না।” (সূরা নিসা : ১) আসাদ তার অসুস্থ খালাকে দেখতে না গিয়ে আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখেনি। সে আল্লাহর ও রাসুলের উক্ত বাণীর প্রতি অবজ্ঞা পোষণ করেছে। তাই তার পরিণতি অত্যন্ত মন্দ হবে।
Related Question
View Allসিদক-এর অর্থ হলো- সত্যবাদিতা, সততা, সত্য কথা বলা, সত্য সাক্ষ্য দেওয়া ইত্যাদি।
মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের মাধ্যমে যেসব উত্তম আচার-ব্যবহার, চালচলন এবং স্বভাবের প্রকাশ পায় সেসবের সমষ্টিকে আখলাকে হামিদা বা উত্তম চরিত্র বলা হয়।
ফারজানার কর্মকাণ্ডে গিবত প্রকাশ পেয়েছে। কারণ সে তার বন্ধবী কাকলির বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু দোষত্রুটি অন্য সহকর্মীদের নিকট বলে বেড়ায়।
গিবত একটি সামাজিক অনাচার। কারও অগোচরে তার দোষত্রুটি অন্যের কাছে প্রকাশকে গিবত বলে। একে পরনিন্দাও বলা যায়। গিবত একটি ঘৃণিত ও জঘন্য কাজ। এটি কবিরা গুনাহ। এ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। রাসুল (স.) বলে, 'গিবত কী তা কি তোমরা জান?' লোকেরা উত্তরে বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। রাসুল (স.) বললেন, গিবত হলো তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে তোমার এমন কথা বলা যা সে অপছন্দ করে। জিজ্ঞাসা করা হলো, আমি যা বলি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে, এটাও কি গিবত হবে? রাসুলুল্লাহ (স.) বললেন, 'তুমি যা বলো তা যদি তার মধ্যে থাকে তাহলেই গিবত হবে। আর তুমি যা বলো তা যদি তার মধ্যে না থাকে, তবে তা হবে 'বুহতান' বা অপবাদ।' (মুসলিম)
গিবত একটি নিন্দনীয় কাজ। গিবতের মাধ্যমে মানুষে মানুষে ঘৃণা ও শত্রুতা সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে সমাজজীবনে ঝগড়া-ফাসাদসহ নানা অশান্তি সৃষ্টি হয়।
পবিত্র কুরআনুল করিমে গিবত করাকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে।
আল্লাহর বাণী : "তোমরা একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে, নিশ্চয়ই তা তোমরা অপছন্দ করবে।" (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১২)
তাই ফারাজানার উচিত গিবত পরিহার করা এবং স্বাভাবিকভাবে কাকলির পদোন্নতিকে মেনে নেওয়া।
ফারজানা কাকলির দোষত্রুটি প্রকাশ করলে, হামিদা বেগম বলেন, "আপা, কোনো অবস্থাতেই কাকলি আপার অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে সমালোচনা করা ঠিক নয়।" হামিদা বেগমের এ বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষত্রুটি প্রকাশ করার নাম গিবত। গিবত করা ইসলামে নিষিদ্ধ। এটি কবিরাহ গুনাহ। এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “তোমরা একে অপরের গিবত করো না।" (সূরা আল 'হুজুরাত : ১২) গিবত একটি নিন্দনীয় কাজ। এর মাধ্যমে মানুষে মানুষে ঘৃণা ও শত্রুতা সৃষ্টি হয় এবং সমাজজীবনে ঝগড়া ফাসাদসহ নানা অশান্তি সৃষ্টি হয়। গিবত শোনাও পাপ, কেউ গিবত করলে 'তাকে এ জঘন্য কাজ হতে বিরত রাখা উচিত। আর এ কাজটিই হামিদা বেগম করেছেন। গিবত থেকে বিরত থাকলে কবিরাহ গুনাহ হতে বেঁচে থাকা যায়, অন্যের শত্রুতা হতে রক্ষা পাওয়া যায়। সর্বোপরি আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়।
সুতরাং সবার উচিত গিবত হতে নিজেকে রক্ষা করা এবং গিবত চর্চা প্রতিরোধে এগিয়ে আসা।
গিবত একটি সামাজিক অনাচার। কারও অগোচরে তার দোষত্রুটি অন্যের কাছে প্রকাশকে গিবত বলে।
আখলাকে হামিদাহ্ বা সচ্চরিত্র আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ নিয়ামত। দুনিয়ায় আগত সকল নবি-রাসুলই উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। এছাড়াও পৃথিবীর স্মরণীয় ও বরণীয় মনীষিগণও উত্তম নৈতিক আদর্শ অনুশীলন করতেন। সচ্চরিত্রের মাধ্যমেই ইসলামের যাবতীয় সৌন্দর্য ফুটে ওে ওঠে। এছাড়া এর মাধ্যমে ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবন সুন্দর ও কল্যাণময় করা যায়। এজন্য আখলাকে হামিদাত্র বিশেষ প্রয়োজন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!