রিক্তা বার্ষিক পরীক্ষার পর তার মামার সাথে ঢাকায় বেড়াতে যায়। ঢাকার বিভিন্ন স্থানে বেড়ানোর এক পর্যায়ে সে জাতীয় যাদুঘরে যায়। ২য় তলায় সে খাট-পালং, মাটির তৈরি তৈজসপত্র, গহনা, বিভিন্ন ধরনের নৌকা, সিন্দুক ইত্যাদি দেখতে পায়। মামা তাকে বলেন যে, এগুলো দিনাজপুরের মহারাজা গিরিজানাথ রায়ের সময়কার জিনিসপত্র। এরপর রিস্তা তৃতীয় তলায় গেলে সেখানে বিভিন্ন পুঁথিপত্র, পুরাতন আমলের কিছু মলিন বইপত্র দেখে। এগুলোর নিচে লেখা আছে ইবনে বতুতা, হিউয়েন সাং এর ভ্রমণবৃত্তান্ত। মামা তাকে বলেন যে, পুরাতন আমলের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং বিভিন্ন পর্যটকদের ভ্রমণ বৃত্তান্তের সাহায্যে ঐ সময়কার এ  পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস লেখা সম্ভব হয়েছে

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

"ইতিহাস হলো ঘটনার বৈজ্ঞানিক ও ধারাবাহিক বর্ণনা”- উক্তিটি ঐতিহাসিক ই.জে. র‍্যাপসনের।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

সঠিক ইতিহাস সবসময় সত্যকে নির্ভর করে রচিত হয়। কেননা মানব সমাজে সত্যিকার অর্থে যা ঘটে, তার বিবরণই হলো ইতিহাস।

ইতিহাসের জনক হেরোডোটাস বিশ্বাস করতেন যে, ইতিহাস হলো যা সত্যিকার অর্থে ছিল বা সংঘটিত হয়েছিল তা অনুসন্ধান করা বা লেখা। আর আধুনিক ইতিহাসের জনক লিওপোল্ড ফন র‍্যাংকে মনে করেন যে, প্রকৃতপক্ষে যা ঘটেছিল তার অনুসন্ধান ও তার সত্য বিবরণই ইতিহাস। অর্থাৎ ইতিহাস হচ্ছে মানব সভ্যতার বিবর্তনের সঙ্গে সম্পর্কিত বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সত্যনিষ্ঠ বিবরণ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের রিক্তা জাদুঘরের ২য় তলায় ইতিহাসের অলিখিত বা প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদান দেখেছিল।

যেসব বস্তু বা উপাদান থেকে বিশেষ সময়, স্থান বা ব্যক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক তথ্য পাওয়া যায়, সেসব বস্তু বা উপাদান হচ্ছে ইতিহাসের প্রত্নতাত্ত্বিক বা অলিখিত উপাদান। প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনগুলো থেকে আমরা সে সময়ের শাসকদের রাজত্বকাল, শাসনব্যবস্থা, অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি, ধর্ম বিশ্বাস প্রভৃতি বিষয় সম্পর্কে জানতে পারি। এসব নিদর্শনের মধ্যে রয়েছে- মুদ্রা, লিপিমালা, স্থাপত্য-ভাস্কর্য, স্মৃতিসৌধ ইত্যাদি।

উদ্দীপকে বর্ণিত রিক্তা তার মামার সাথে জাতীয় যাদুঘর ঘুরতে যায়। যাদুঘরে ২য় তলায় সে খাট-পালং, মাটির তৈরি তৈজসপত্র, গহনা, বিভিন্ন ধরনের নৌকা, সিন্দুক ইত্যাদি দেখতে পায়। যা উপরে আলোচিত অলিখিত উপাদানের অন্তর্ভুক্ত। তাই বলা যায়, রিক্তা যাদুঘরের ২য় তলায় ইতিহাসের অলিখিত উপাদান দেখতে পেয়েছিল।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

"পুরাতন আমলের ব্যবহৃত বিভিন্ন জিনিসপত্র এবং বিভিন্ন পর্যটকদের ভ্রমণবৃত্তান্তের সাহায্যে ঐ সময়কার পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস লেখা সম্ভব হয়েছে"- রিক্তার মামার এই উক্তিটির সাথে আমি একমত।

ইতিহাস রচনায় লিখিত ও অলিখিত উভয় উপাদানই গুরুত্বপূর্ণ। শুধু লিখিত উপাদান বা অলিখিত উপাদান দ্বারা পূর্ণাঙ্গ ইতিহাস রচনা করা সম্ভব নয়। কেননা, একটি মাত্র উপাদান ইতিহাস সম্পর্কে পূর্ণ তথ্য-উপাত্ত দিতে পারে না। একজন ঐতিহাসিকের দায়িত্ব হলো সমস্ত উৎস থেকে প্রাপ্ত তথ্যের সমন্বয়ে সঠিক ইতিহাস রচনা করা। আর এক্ষেত্রে ইতিহাসের লিখিত উপাদানের সাথে অলিখিত উপাদানের সমন্বয় সাধন করা প্রয়োজন।

অলিখিত উপাদান যেমন- মুদ্রা, শিলালিপি, স্তম্ভলিপি, তাম্রলিপি, ইমারত, সমরাস্ত্র প্রভৃতির বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং বিশ্লেষণের মাধ্যমে সেই সময়ের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া যায়। অপরদিকে লিখিত উপাদানগুলোতে কোনো বিষয় সম্পর্কে সমকালীন বা পরবর্তী সময়ের ঐতিহাসিক, সাহিত্যিক, পর্যটকদের লিখিত বিবরণ পাওয়া যায়। এ সব লিখিত বিবরণ ইতিহাসের পূর্ণাঙ্গ জ্ঞান অর্জনে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। তাই বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ইতিহাস রচনার জন্য লিখিত ও অলিখিত উভয় ধরনের উপাদানের আবশ্যকতা রয়েছে।

উদ্দীপকে রিক্তার মামা তার শেষ উক্তিতে পুরাতন আমলের ব্যবহৃত জিনিসপত্র এবং বিভিন্ন পর্যটকদের ভ্রমণবৃত্তান্তের কথা বলেছেন যা যথাক্রমে লিখিত ও অলিখিত উপাদানকে নির্দেশ করে। প্রকৃত ইতিহাস জানার জন্য লিখিত ও অলিখিত উপাদানের সমন্বয় সাধন প্রয়োজন।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
149

১৯৭১ সালে বাংলাদেশে মহান মুক্তিযুদ্ধ সংঘটিত হয়। নয় মাস পাকিস্তান সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে প্রাণপণ লড়াই করে ১৬ ডিসেম্বর আমাদের দেশ শত্রুমুক্ত হয়। মুক্তিযুদ্ধ আমাদের গর্বের, গৌরবের কাহিনি। বাঙালি জাতির এমন অনেক গৌরবের কাহিনি আছে। সেসব জানতে হলে ইতিহাস পড়তে হবে, চর্চা করতে হবে। ইতিহাস সত্য ঘটনা উপস্থাপন করে। ইতিহাস সম্পর্কে গভীর অনুসন্ধান করতে হলে ইতিহাসের উপাদান, প্রকারভেদ সম্পর্কে অবহিত হতে হবে।

এজন্য আগে আমাদের নামতে হবে ইতিহাস কী? জানতে হবে কত ধরনের ইতিহাস লেখা যার যা ইতিহাস কত ধরনের হয়। ইতিহাস পাঠের প্রয়োজনীয়তাই বা কী? এই অধ্যায়ে এসব বিষয় নিয়েই আলোচনা করা হয়েছে। সুতরাং

 

এই অধ্যায় শেষে আমরা -

• ইতিহাস ও ঐতিহ্যের ধারণা, স্বরূপ ও পরিসর ব্যাখ্যা করতে পারব;

• ইতিহাসের উপাদান ও প্রকার বর্ণনা করতে পারব;

• ইতিহাস পাঠের প্রজোজনীয়তা আলোচনা করতে পারব;

• ইতিহাস ও ঐতিহ্যের প্রতি আগ্রহী হব ।

Related Question

View All
উত্তরঃ

সময়ের বিবর্তনে মানুষের কর্মকাণ্ডের পরিধি বৃদ্ধির ফলে ইতিহাসের পরিসর বিস্তৃত হচ্ছে।

সভ্যতার অগ্রগতি ও সময়ের বিবর্তনে ইতিহাসচর্চায় বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসৃত হচ্ছে। ফলে ইতিহাস বিষয়ে শাখা-প্রশাখার সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। আর এভাবেই ইতিহাসের পরিসর বিস্তৃত হচ্ছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
2.4k
উত্তরঃ

সজল জাতীয় গণগ্রন্থাগারে ইতিহাসের লিখিত উপাদান দেখতে পায়।

ইতিহাস রচনার লিখিত উপাদানের মধ্যে সাহিত্য, নথিপত্র, জীবনী, রূপকথা, কিংবদন্তি, গল্পকাহিনি ইত্যাদি অন্তর্ভুক্ত। দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সাহিত্য কর্মেও তৎকালীন সময়ের অনেক তথ্য পাওয়া যায়। এসব সাহিত্য কর্মের মধ্যে রয়েছে অর্থশাস্ত্র, তবকাত-ই-নাসিরী, আইন-ই- আকবরী ইত্যাদি।

এছাড়াও ইতিহাস রচনার লিখিত উপাদানের মধ্যে বৈদেশিক বিবরণসমূহও অন্তর্ভুক্ত। এ লিখিত উপাদানগুলোর মাধ্যমে আমরা সমকালীন সময়ের অনেক তথ্য পেয়ে থাকি।

উদ্দীপকের সজল গণগ্রন্থাগারে বিভিন্ন বইপত্র পড়ে। সে বিজ্ঞানের ছাত্র হলেও বিভিন্ন উৎস থেকে ইতিহাসের বইপত্র সংগ্রহ করে। পূর্বোক্ত আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায়, সজলের পঠিত বিষয়গুলো ইতিহাসের লিখিত উপাদানের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.7k
উত্তরঃ

না, সজলের বন্ধুর মানসিকতার সাথে আমি একমত নই। কেননা নিজেকে বিকশিত করতে ইতিহাস পাঠের প্রয়োজন আছে।

ইতিহাস পাঠের তাৎপর্য অনেক। কেননা এটি মানুষকে অতীতের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান অবস্থা বুঝতে এবং ভবিষ্যৎ অনুমান করতে সাহায্য করে। ইতিহাস পাঠের ফলে মানুষের পক্ষে নিজ সম্পর্কে ও নিজ দেশ সম্পর্কে মঙ্গল-অমঙ্গলের পূর্বাভাস পাওয়া সম্ভব হয়। এছাড়াও ইতিহাস পাঠ মানুষের জ্ঞানের পরিধি বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। আর এ বিবরণ যদি হয় নিজ দেশ, জাতির সফল সংগ্রাম ও গৌরবময় ঐতিহ্যের, তাহলে তা মানুষকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করে। একই সঙ্গে আত্মপ্রত্যয়ী, আত্মবিশ্বাসী হতে সাহায্য করে। তাছাড়াও ইতিহাস পাঠ মানুষকে সচেতন করে তোলে। বিভিন্ন মানবগোষ্ঠীর উত্থান-পতন এবং সভ্যতার বিকাশ ও পতনের কারণগুলো জানতে পারলে মানুষ ভালো- মন্দের পার্থক্য সহজেই বুঝতে পারে। ফলে সে তার কর্মের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন থাকে। সর্বোপরি মানুষ ইতিহাস পাঠ করে অতীত ঘটনাবলির দৃষ্টান্ত থেকে শিক্ষা নিতে পারে।

পরিশেষে বলা যায় যে, ইতিহাস সম্পর্কে সজলের বন্ধুর নেতিবাচক মন্তব্যটি গ্রহণযোগ্য নয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1.6k
উত্তরঃ

যেসব বস্তু বা উপাদান থেকে আমরা বিশেষ সময়, স্থান বা ব্যক্তি সম্পর্কে বিভিন্ন ধরনের ঐতিহাসিক তথ্য পাই সে সব বস্তু বা উপাদানই ইতিহাসের অলিখিত উপাদান। ইতিহাসের অলিখিত উপাদানকে আবার প্রত্নতাত্ত্বিক উপাদানও বলে। মুদ্রা, শিলালিপি, স্তম্ভলিপি, তাম্রলিপি ইত্যাদি হলো ইতিহাসের অলিখিত উপাদানের উদাহরণ।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
1k
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews