জনবিজ্ঞানের ইংরেজি পরিভাষা Demography |
সমাজবিজ্ঞানের মাধ্যমে সমাজের বিজ্ঞানভিত্তিক বিশ্লেষণ ও অধ্যয়ন করা হয় বলে এটিকে সমাজের বিজ্ঞান বলা হয়।
সমাজবিজ্ঞান মানুষের সামাজিক কর্মকাণ্ডের বিজ্ঞান। এই শাস্ত্রের প্রধান প্রতিপাদ্য বিষয় হলো সমাজ। সমাজের বিকাশ, সমাজ কাঠামো, সামাজিক কার্যাবলি, স্তরবিন্যাস, প্রতিষ্ঠান-অনুষ্ঠান, সামাজিক সম্পর্ক ও আচরণ, সামাজিক আন্তঃক্রিয়া, মিথস্ক্রিয়া, সামাজিক পরিবর্তন প্রভৃতি সমাজবিজ্ঞানের আলোচ্য বিষয়। এককথায় বলা চলে সমাজবিজ্ঞান সমাজের বিজ্ঞানভিত্তিক অধ্যয়ন।
উদ্দীপকে রিজওয়ানের কার্যক্রম সামাজিক বিজ্ঞানের অন্যতম শাখা পৌরনীতি ও সুশাসনের আলোচ্য বিষয়।
প্রত্যেক নাগরিকের রাষ্ট্রের প্রতি কিছু দায়িত্ব-কর্তব্য থাকে। আবার রাষ্ট্রের দায়বদ্ধতা থাকে নাগরিকের অধিকার ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা সুনিশ্চিতকরণের। তাছাড়া শাসনব্যবস্থাকে সুশাসনের আওতায় নিয়ে আসাও রাষ্ট্রের দায়িত্ব। আর এ সকল বিষয় নিয়েই পৌরনীতি ও সুশাসন নামক জ্ঞানশাখার বিকাশ ঘটেছে।
উদ্দীপকে রিজওয়ান মানুষকে তাদের বিভিন্ন অধিকার সম্পর্কে ধারণা দেন। তিনি সবাইকে গণতান্ত্রিক আদর্শ বিকাশ এবং নাগরিকের দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে সচেতন করে তোলেন। তার এরূপ কার্যক্রমে তিনি পৌরনীতি ও সুশাসনের জ্ঞানের প্রয়োগ ঘটিয়েছেন। পৌরনীতি উক্ত বিষয়গুলো নিয়েই আলোচনা করে। এ প্রসঙ্গে ইএম হোয়াইট-এর সংজ্ঞাটি প্রণিধানযোগ্য। তার মতে মাগরিকতার সাথে জড়িত সকল প্রশ্ন সম্পর্কে যে শাস্ত্র আলোচনা করে তাই পৌরনীতি।' এই সংজ্ঞার আলোকে বলা যায়, পৌরনীতি এমন একটি বিষয় যা কোনো রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে কারও ত অধিকার ও দায়িত্বের ব্যাপারে সরকার কী কাজ করে বা ব্যবস্থা নেয় তা বিস্তারিত আলোচনা করে। আর পৌরনীতির সাথে সুশাসনও সম্পর্কিত। সুশাসন নিশ্চিত না হলে নাগরিকের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয় না। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের রিজওয়ানের কর্মকান্ডে পৌরনীতি ও সুশাসনের বিষয়বস্তুর প্রতিফলন ঘটেছে
জনগণের সমস্যা সমাধানে কার্যকর ভূমিকা রাখার জন্য নাসিরের উচিত সমাজকর্মের জ্ঞানের সাথে সামাজিক বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার জ্ঞানের সমন্বয় সাধন করা।
সমাজের নানা ধরনের সমস্যা সমাধান নির্ভর বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি বা সাহায্যকারী পেশা হিসেবে প্রধানত সমাজকর্মই ভূমিকা পালন করে। তবে মানুষের সমস্যা বহুমাত্রিক এবং তা সমাধানের জন্যও প্রয়োজন বহুমুখী প্রক্রিয়া। আর এজন্যই সামাজিক বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় সমন্বিত জ্ঞান প্রয়োজন। নাসিরের ক্ষেত্রেও এ বিষয়টি প্রযোজ্য। উদ্দীপকের নাসির মানুষের মৌল মানবিক চাহিদা পূরণে কাজ করেন। কিন্তু রাজনৈতিক বিষয় সম্পর্কে তার ধারণাগত দুর্বলতা থাকায় তিনি সবসময় জনগণের সমস্যা সমাধান করতে পারেন না। এ থেকে বোঝা যায়, নাসিরের অর্থনীতির জ্ঞান থাকলেও পৌরনীতি সম্পর্কে তা সুস্পষ্ট নয়। কিন্তু অর্থনীতির সমস্যা সমাধান কেবল অর্থনীতির জ্ঞান প্রয়োগ করে কার্যকরভাবে করা সম্ভব নয়। কারণ এ সকল সমস্যার সাথে আরও অনেক বিষয় সংশ্লিষ্ট থাকে; যেগুলো সামাজিক বিজ্ঞানের অন্যান্য শাখার সাথে সম্পর্কিত'। এজন্য সমাজকর্ম অনুশীলনে অর্থনীতি, পৌরনীতি ও সুশাসন, নৃ-বিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান, মনোবিজ্ঞান প্রভৃতি জ্ঞানশাস্ত্রের সমন্বয় ঘটাতে হবে। তাই নাসির যদি এ সকল বিষয়ে মৌলিক জ্ঞান অর্জন করেন তাহলে জনগণের মৌল মানবিক চাহিদা পূরণে কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবেন।
পরিশেষে বলা যায়, সমাজের নানামুখী সমস্যা সমাধানে নানামুখী জ্ঞানের সমন্বয় সাধনের মাধ্যমে সামাজিক কার্যক্রম পরিচালনার কোনো বিকল্প নেই।
Related Question
View All১৯৪২ সালের বিভারিজ রিপোর্টের ভিত্তিতে সমাজকর্মের সূচনা হয়।
সুশাসন বলতে অংশীদারিত্বমূলক, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, আইনের শাসন, দক্ষতা, ন্যায়পরায়ণতা প্রভৃতি বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন প্রশাসনকে বোঝায়।
সুশাসন একটি গতিশীল ও চলমান ধারণা। এটি শাসনব্যবস্থার রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং আন্তর্জাতিক অবস্থার কথা বিবেচনা করে। মূলত বলিষ্ঠ ও ন্যায়ানুগ উন্নয়নকে পৃষ্ঠপোষকতা দেয়ার জন্য একটি সুষ্ঠু নীতিমালার মাধ্যমে অনুকূল পরিবেশ তৈরি করা এবং তা বজায় রাখাই হলো সুশাসন।
উদ্দীপকে উল্লেখিত সমস্যাটির সমাধান কার্যক্রম অর্থাৎ কিশোর অপরাধ সংশোধন কার্যক্রম সমাজকর্মের আওতাভুক্ত।.
আধুনিক সমাজকর্ম যেসব কার্যক্রম পরিচালনা করে সংশোধনমূলক কার্যক্রম সেগুলোর অন্যতম। এক্ষেত্রে সমাজকর্ম মূলত সামাজিক শৃঙ্খলা ও শান্তি বিনষ্টকারী অপরাধী এবং কিশোর অপরাধীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার জন্য বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ ধরনের কার্যক্রমের মধ্যে কিশোর অপরাধ সংশোধন, কিশোর আদালত, প্রবেশন, প্যারোল, মুক্ত কয়েদি পুনর্বাসন প্রভৃতি উল্লেখযোগ্য। এতে অপরাধীরা স্বাভাবিক জীবনযাপনে ফিরে আসার সুযোগ পায়।
উদ্দীপকে বর্ণিত কিশোর আলিফের বন্ধুরা ঈগল গ্যাংয়ের সদস্য। তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে। একদিন ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে তাদের সাথে অন্য গ্যাংয়ের মারামারি হলে একজন কিশোর খুন হয়। এক্ষেত্রে দুই গ্যাংয়ের সদস্যরাই কিশোর এবং এরা সবাই কিশোর অপরাধী। এসব কিশোর অপরাধমূলক সমস্যা সমাধানে সমাজকর্ম কাজ করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকে উল্লেখিত সমস্যা সমাধান কার্যক্রম সমাজকর্মের অন্তর্ভুক্ত।
আলিফের চাচার পেশা তথা আইন পেশার সাথে উক্ত বিষয় অর্থাৎ সমাজকর্মের গভীর সম্পর্ক বিদ্যমান।
আইন পেশা একটি সেবা প্রদানকারী পেশা। এ পেশার প্রধান দিক হলো আইনজীবীরা সাহায্যার্থীর সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি তাদের স্বার্থ ও অধিকার সংরক্ষণে কাজ করেন। বর্তমানে সমাজকর্ম পেশায় সমাজকর্মীদের মানুষের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় আইনবিষয়ক জ্ঞান অর্জন করতে হয়। অনেক সময় সমাজকর্মীরা মানুষের স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় সরাসরি আইন পেশার সাহায্য নেন। তবে বৃহত্তর পরিসরে আইন পেশা সমাজকর্মের একটি অংশ। তাই অনেক সময় ব্যক্তি একাধারে সমাজকর্মী ও আইনজীবী উভয় পেশাই গ্রহণ করতে পারেন। এখানে সমাজকর্মের লক্ষ্য পূরণে তিনি আইন পেশাকে সহায়ক হিসেবে বিবেচনা করেন। আধুনিক সমাজকর্ম অপরাধ ও কিশোর অপরাধ নিরসনে শাস্তির পরিবর্তে সংশোধনমূলক ব্যবস্থাকে বেশি গুরুত্ব দেয়। এক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের সংশোধনমূলক কার্যক্রম যেমন- প্রবেশন, প্যাারোল, কিশোর আদালত প্রভৃতিতে সমাজকর্মীদের পাশাপাশি আইনজীবীরা বিশেষ ভূমিকা পালন করেন। এতে দেখা যায়, আইন পেশা ও সমাজকর্ম ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
উদ্দীপকে কিশোর আলিফের বন্ধুরা ঈগল গ্যাংয়ের সদস্য। তারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কাজ করে। ক্রিকেট খেলাকে কেন্দ্র করে অন্য গ্যাংয়ের সাথে মারামারি হলে একজন কিশোর মারা যায়। এরপর পুলিশ এসে আলিফ ও তার বন্ধুদের থানায় নিয়ে যায়। আলিফের আইনজীবী চাচা আলিফকে সহায়তার জন্য সবরকম ব্যবস্থা করেন। এক্ষেত্রে আলিফের মতো কিশোরদের সংশোধন ও মুক্তির জন্য সমাজকর্মী এবং আইনজীবী একসাথে কাজ করবে।
উপরের আলোচনা থেকে তাই বলা যায়, আলিফের চাচার পেশা অর্থাৎ আইন পেশার সাথে সমাজকর্মের খুবই ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে।
১৯৫৭ সালে সুইজারল্যান্ডে 'Study Group' সমাজকর্মীদের জন্যে পেশাগত নীতিমালা নির্ধারণ করে।
ইংল্যান্ডে সামাজিক বিমা পদ্ধতি মূলত সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভিত্তি হিসেবে স্বীকৃত।
সামাজিক বিমা কর্মসূচির মাধ্যমে জনগণ কিছু সুবিধা ও সেবা পায়। এই সেবার মধ্যে রয়েছে সাধারণত অবসরভোগীদের জন্য পেনশন ব্যবস্থা, অক্ষমতা বিমা, বেঁচে থাকার সুযোগ-সুবিধা, সাধারণ ভবিষ্যৎ তহবিল এবং বেকারত্ব বিমা। এ বিমায় সমহারে চাঁদার পরিবর্তে আয়ভিত্তিক চাঁদা ও সুবিধা প্রদানের ব্যবস্থা করা হয়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!