রিতা ও তার স্বামীর আরো এক বছর পরে সন্তান নেওয়ার যৌক্তিকতা হলো যথাযথ মানসিক প্রস্তুতি গ্রহণ। বাড়িতে একটি নবজাতকের আগমনে পরিবারের সামগ্রিক কাজকর্মের বেশ পরিবর্তন করতে হয়। সেজন্য বুদ্ধিমান বাবা-মা সন্তান নেওয়ার আগে মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে থাকেন। এর ফলে জন্ম পরবর্তী শিশুর বিকাশ সুষ্ঠু ও স্বাভাবিক হয়।
পরিবারের আনন্দময়, সুন্দর ও সুস্থ সম্পর্ক নির্ভর করে মায়ের উপর। সেজন্য তার প্রস্তুতিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এ প্রস্তুতি প্রথম সন্তানের জন্য আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ। রিতা যেহেতু প্রথম বার মা হবেন, তাই সেক্ষেত্রে তার মানসিক প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা আবশ্যক। কারণ যথাযথ প্রস্তুতির অভাবে তিনি হতাশায় ভুগতে পারেন। এর ফলে তার সন্তানের বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। তার সঠিক পরিচর্যার অভাবে শিশুটি অসুস্থ অথবা অস্বাভাবিক হতে পারে। আবার রিতার মানসিক প্রস্তুতির পাশাপাশি তার স্বামীরও মানসিক প্রস্তুতির বিশেষ প্রয়োজন। কারণ রিতার গর্ভাবস্থায় তার স্বামীকে তার শারীরিক ও মানসিক যত্ন নিতে হবে। তাকে সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা করতে হবে। রিতার গর্ভাবস্থায় তার স্বামীর সহানুভূতি, সহযোগিতা এবং নিরাপত্তার আশ্বাস তাকে দায়িত্ব নিতে সাহস জোগাবে। সন্তান যেহেতু তাদের দুজনের, সেক্ষেত্রে রিতা তার স্বামীর সহযোগিতা চাইবে। তাই রিতার পাশাপাশি তার স্বামীর সন্তানের দায়িত্ব নেয়ার জন্য মানসিক প্রস্তুতি প্রয়োজন। রিতা ও তার স্বামী এখনও সন্তান নেয়ার জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত নয়। তাই তারা আরও এক বছর পরে সন্তান নিতে চায়।
পরিশেষে বলা যায়, বাবা-মার যথাযথ মানসিক প্রস্তুতির অভাবে শিশুর সুষ্ঠু বিকাশ ব্যাহত হতে পারে। তাই সন্তান জন্ম দেয়ার আগে বাবা- মাকে অবশ্যই মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। সুতরাং, রিতা ও তার স্বামীর সিদ্ধান্ত যৌক্তিক।
Related Question
View Allফিটাসের সুস্থতা, সংখ্যা, ওজন, বয়স, পজিশন এবং অ্যামনিউটিক ফ্লুইডের পরিমাণ পরীক্ষা করার পদ্ধতি হলো আলট্রাসনোগ্রাম।
২০ বছরের নিচে গর্ভধারণকারী মা-কে ঝুঁকিপূর্ণ মা বলার কারণ হলো এদের মা হওয়ার মতো মানসিক পরিপক্কতা ও শারীরিক পূর্ণতা থাকে না।
অপরিণত বয়সে যেসব মেয়ে মা হয়, তারা নানা রকম শারীরিক ও মানসিক জটিলতায় ভোগে। এছাড়াও এ বয়সে একটি মেয়ের সন্তান ধারণ করা, জন্ম দেওয়া ও পালন সম্পর্কে সঠিক ধারণা থাকে না। ফলে সে নিজে ও তার গর্ভের সন্তান ঝুঁকির মধ্যে পড়ে।
রহিমা ৩ মাসের গর্ভবর্তী। গর্ভবতীর ১ম তিন মাস হলো গর্ভসঞ্চারের পর থেকে ১২ সপ্তাহ।
গর্ভাবস্থায় ভূণের বৃদ্ধি-সামান্য হয় বলে পুষ্টির চাহিদা খুব একটা বৃদ্ধি পায় না। তাই রহিমার দেহকে সুস্থ রাখার জন্য, দেহের প্রয়োজনীয় গঠন ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সুষম খাদ্যের পাশাপাশি স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়গুলো প্রাধান্য দিতে হবে। এ সময় তার স্বাস্থ্য পরীক্ষায় যে বিষয়গুলো জরুরি সেগুলো হলো-
১. মূত্র পরীক্ষা: গর্ভসঞ্চার নির্ধারণের জন্য করা হয়।
২. রক্তের নিয়মিত পরীক্ষা: রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা, হিমোগ্লোবিন, হেপাটাইটিস ভাইরাস, যৌনবাহিত রোগ সংক্রান্ত পরীক্ষা এবং ডায়াবেটিস পরীক্ষা।
৩. আলট্রাসনোগ্রাম: ফিটাসের সুস্থতা, সংখ্যা, ওজন ইত্যাদি নির্ণয় করা।
রহিমার মানসিক বিপর্যয় তার গর্ভের শিশুর উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
রহিমার আশেপাশের পরিবেশে ও তার পরিবারের সদস্যদের মধ্যে কলহ ও অশান্তি লেগেই রয়েছে। ফলে সে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছে।
রহিমা গর্ভবতী, এই অবস্থায় শারীরিক যত্নের সাথে সাথে মানসিক যত্ন নেওয়া আবশ্যক। কারণ শরীর ও মন পরস্পর সম্পর্কযুক্ত। জন্মের পূর্বে মায়ের অনুভূতি, আবেগ, ক্রোধের সাথে ভ্রূণ শিশুর কোনো রকম যোগাযোগ থাকে না। তবুও মায়ের মনের তীব্র ক্ষোভ, উত্তেজনা, মায়ের দেহে রাসায়নিক পরিবর্তন সৃষ্টি করে, যার প্রভাবে ভ্রূণ শিশুর ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। মায়ের হৃৎপিণ্ডের ক্রিয়াসহ দেহের বিপাকক্রিয়া বৃদ্ধি পায়। এতে ভ্রূণ শিশুর অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়। রহিমার পারিবারিক ক্লেশ, ক্লান্তি ও অতিরিক্ত উদ্বেগ ভূণের গঠনে অস্বাভাবিকতা আনতে পারে এবং গর্ভাবস্থার শেষের দিকে এ ধরনের মানসিক ক্লান্তি ও ক্লেশ শিশুর মধ্যে অস্থিরতা বৃদ্ধি করে। মায়ের মনের মানসিক অশান্তির কারণে সন্তানেরা পরিবেশের সাথে সহজে খাপ খাওয়াতে পারে না।
তাই রহিমার উচিত গর্ভাবস্থায় পরিবারের সকলের সাথে আন্তরিক সম্পর্ক রাখা। সবসময় ইতিবাচক পরিবেশে অবস্থান করা। রহিমা যাতে আনন্দ ও প্রফুল্লচিত্তে থাকেন, সেদিকে সকলের সচেষ্ট থাকা উচিত।
গর্ভবতী মায়ের দৈনিক ৮ ঘণ্টা ঘুমানো দরকার।
গর্ভাবস্থায় বিভিন্ন রোগের সংক্রমণ দেখা যায়। গর্ভাবস্থায় রুবেলা (German measels), সিফিলিস, ম্যালেরিয়া এবং ধনুষ্টংকার প্রভৃতি রোগ হতে পারে। এ জাতীয় রোগ ভূণের ক্ষতিসাধন করে। তাই নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা উচিত।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!