বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি ইসলাম ধর্মাবলম্বীর মানুষ।
সংস্কৃতি মানুষের জন্য, অন্যকোনো প্রাণীর জন্য নয়। কেননা মানুষের সংস্কৃতি পালন করার মতো সামর্থ্য রয়েছে। অন্যদিকে, সমাজবিজ্ঞানী ওয়াল্টার রর্ডনি বলেছেন, "A Culture is a total. way of life." মানুষের প্রতিটি কর্মকাণ্ডের মধ্যেই সংস্কৃতি ফুটে ওঠে। যেমন- মানুষের হাঁটাচলা, পোশাক-পরিচ্ছদ, লেনদেন, খাওয়া-দাওয়া, চিন্তাভাবনা ও ধর্ম পালন, বিভিন্ন পেশায় নিয়োজিত থাকাসহ সবক্ষেত্রেই সংস্কৃতি ফুটে ওঠে। এজন্য মানুষকে সংস্কৃতিবান প্রাণী বলা হয়।
উদ্দীপকে রিপা মন্দিরের পূজা উদযাপনের ধরনগত পার্থক্য দেখে অবাক হয়েছিল।
উদ্দীপকে আমরা দেখতে পাই, রিপা ঈদের কেনাকাটার জন্য তার মায়ের সাথে বের হলে পথিমধ্যে একটি মন্দিরে আরাধনার দৃশ্য তার দৃষ্টিগোচর হলো। এতে সে অবাক হয়ে গেল। কারণ তার ইবাদতের ধরনের সাথে হিন্দুদের আরাধনার ধরনে বৈসাদৃশ্য রয়েছে। কিন্তু ধরন আলাদা হলেও সকলেরই উদ্দেশ্য হলো স্রষ্টার অনুগ্রহ লাভ করা। যেভারে মুসলমানরা মসজিদে গিয়ে আল্লাহর ইবাদত করে, তদুপ তারাও মন্দিরে গিয়ে উপাসনা করে। কিন্তু ধরনগত পার্থক্য থাকার কারণেই রিপা মন্দিরের পূজা উদযাপন দেখে অবাক হয়েছিল।
একজন মুসলমান হিসেবে রিপাকে নির্দিষ্ট কতকগুলো মুসলিম ধর্মীয় সংস্কৃতি পালন করতে হয়। মুসলিম ধর্মের একটি লোক জন্ম থেকে মৃত্যু পর্যন্ত কীভাবে তার জীবনপদ্ধতি, পরিচালনা করবে, সবকিছুই তার ধর্মের বিধিবিধানে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মুসলমানদের রয়েছে নিজস্ব সংস্কৃতি। মুসলমানরা মসজিদে গিয়ে তাদের ধর্মীয় বিধিবিধান পালন করে। মুসলিম সংস্কৃতির মধ্যে দুটি ঈদ রয়েছে- ক. ঈদুল ফিতর ও খ. ঈদুল আযহা। মুসলমানরা রমযান মাসে দীর্ঘ এক মাস রোযা পালন করে পবিত্র উৎসব ঈদুল ফিতর উদযাপন করে। এদিনে লোকেরা সকলে ঈদগাহে মিলিত হয়ে দুই রাকাত নামায আদায় করে। একে অপরের সাথে কোলাকুলি ও হাত মিলিয়ে ভ্রাতৃত্বের বন্ধনে আবদ্ধ হয়। একইভাবে আরবি মাসের জিলকদের ১০ তারিখে ঈদুল আযহার উৎসব পালন করে। এদিনে মুসলমানরা পশু কুরবানি করে আল্লাহর হুকুম পালন করে। ঈদ উৎসবে আত্মীয়স্বজন একে অপরের বাড়িতে আসা-যাওয়া করে। এভাবে মুসলমানরা তাদের ধর্মীয় সংস্কৃতিগুলো পালন করে থাকে। উদ্দীপকের রিপা যেহেতু মুসলিম সম্প্রদায়ভুক্ত, সেহেতু সে উপরিউক্ত মুসলিম সাংস্কৃতিক উৎসব পালন করে। সুতরাং প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ও সার্থক।
Related Question
View Allবাংলা প্রথম মাসের নাম বৈশাখ।
বাংলাদেশ কৃষিপ্রধান দেশ হলেও এদেশের কৃষি সম্পূর্ণ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল। কৃষক তার কৃষিকাজের জন্য বিশেষভাবে মাটি, মেঘ, বৃষ্টি, রোদ এসবের ওপর নির্ভর করে। প্রকৃতি যদি অনুর্বর হয় তাহলে কৃষি উৎপাদনেও তেমন ফল পাওয়া যাবে না। আবার প্রকৃতির আলো, বাতাস, আবহাওয়া সবকিছু অনুকূলে হলে কৃষি উৎপাদন অনেকাংশে বেড়ে যাবে। তাই বাংলাদেশের কৃষি প্রধানত প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল।
উদ্দীপকে বাংলার পহেলা বৈশাখের মেলা তথা বৈশাখী মেলার কথা বলা হয়েছে। এ মাসে বাঙালিরা তাদের অতীত ঐতিহ্যকে ধরে রাখার জন্য দীর্ঘ এক মাস মেলা উদ্যাপন করে। এ মেলায় গ্রাম-শহর সকল স্থানে লোক সমাগম হয়। মেয়েরা সকলে লাল-সাদা রঙের শাড়ি পরিধান করে মেলার দৃশ্যকে রঙিন করে দেয়। শহরের মেলাগুলোতে বিভিন্ন ব্যান্ড পার্টির আয়োজন থাকে। এ মেলার আকর্ষণীয় দৃশ্য হচ্ছে- প্রভাতে সকল শ্রেণির মানুষের রমনা বটমূলে পান্তা-ইলিশের আয়োজনে একত্রিত হওয়া। যা মূলত গ্রামবাংলার অতীত ঐতিহ্যকে স্মরণ করিয়ে দেয়। দুপুরের পর থেকে দোয়েল চত্বর, টিএসসি, শাহবাগ সকল স্থান খুব সরগরম হয়ে ওঠে। চতুর্দিকে গানবাজনার আওয়াজে প্রকৃতি যেন ভারী হয়ে ওঠে। বিভিন্ন স্থানে নাগরদোলা থাকে। এতে শিশুরা তাদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এভাবে হাসি-আনন্দের মাঝেই দিনটি শেষ হয়। সুতরাং উদ্দীপকের মেলাটি নিঃসন্দেহে পহেলা বৈশাখের মেলা।
উদ্দীপকে উল্লিখিত বাঙালি জাতির একটি উৎসব বৈশাখী মেলার কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিকাশে বৈশাখী মেলার ভূমিকা অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বৈশাখী মেলায় জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি লক্ষ করা যায়। এ মেলায় বাংলার ঐতিহ্য জীবন্ত হয়ে ওঠে। মেয়েরা রং-বেরঙের শাড়ি পরিধান করে মেলা উদ্যাপন করে। বিভিন্ন স্থানে দোকানপাট ও নাগরদোলা বসে। দোকানিরা সেখানে নানা রকমের জিনিস বিক্রি করে এবং মেলায় আগত দর্শনার্থীরা ঘোরাঘুরি করে আনন্দের মাধ্যমে মেলা উদ্যাপন করে। মেলার দিন সকাল বেলা সকলে মিলে রমনা বটমূলে একত্রিত হয় এবং সমবেতভাবে পান্তা-ইলিশে অংশ নেয়। এ ধরনের সাংস্কৃতিক উৎসবের আয়োজন বছরে একবার হলেও তা আমাদের সংস্কৃতিকে এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। সেই সাথে সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যকে বিকশিত করেছে। নিজস্ব বৈশিষ্ট্যে মানুষ তার ধর্মকে সযত্নে লালন করলেও পহেলা বৈশাখের দিন সকলে কাঁধে কাঁধ মিলে এ মেলা উদ্যাপন করে। হাজার হাজার বছরের পুরনো এ সংস্কৃতি উদ্যাপনের মাধ্যমে মানুষের মাঝে ভেদাভেদ দূর হয়ে যায়। তাই বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিকাশে বৈশাখী মেলার ভূমিকা অপরিসীম।
'গোপী নাচ' মণিপুরি নৃগোষ্ঠীর উৎসব।
'বৈসাবি' বলতে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমা, তঞ্চঙ্গা, মারমা ও ত্রিপুরা নৃগোষ্ঠীর যৌথভাবে বাংলা বর্ষবরণ উৎসব উদযাপনকে বোঝায়। বাংলাদেশের প্রায় সকল নৃগোষ্ঠীর মানুষ নাচ-গানের মধ্য দিয়ে আনন্দ-উৎসব পালন করে থাকে। পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন নৃগোষ্ঠীর বৈশাখী, সাংগ্রাই ও বিজু এ তিনটিকে সমন্বয় করে বর্তমানে সবাই একত্রে পালন করে 'বৈসাবি।'
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!