কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলের নির্দিষ্ট দিন বা সময়ের বৃষ্টিপাত, বাতাসের আর্দ্রতা, বায়ু প্রবাহের গতি ও চাপ, উত্তাপের পরিমাণ প্রভৃতি সামগ্রিক অবস্থাকে ঐ অঞ্চলের নির্দিষ্ট দিনের বা সময়ের আবহাওয়া বলে।
জলবায়ুর পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীর তাপমাত্রা ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা বৈশ্বিক উষ্ণতা নামে পরিচিত।
নগরায়ন, যান্ত্রিক সভ্যতা, কলকারখানার প্রসার, জ্বালানি তেল ও কয়লার যথেচ্ছ ব্যবহার, বৃক্ষনিধন ইত্যাদির কারণে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ বাড়ছে। এর ফলে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে নানা প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটছে। যার ফলে জীবন ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বেড়ে যাচ্ছে।
উদ্দীপকের রিমনের বাড়ি উপকূলবর্তী এলাকায় হওয়ায় সেখানে লবণাক্ততা দেখা দেয়। এ সমস্যা মোকাবেলা করার জন্য সে পানির বাষ্পীভবন হ্রাস করার পদ্ধতি অবলম্বন করতে চায়। পানির অতিরিক্ত বাষ্পীভবনের জন্য মাটিস্থ লবণ মাটির উপর। উঠে এসে ঐ মাটিকে লবণাক্ত করে তোলে। মাটির উপরিভাগে কোদাল, নিড়ানির সাহায্যে মাটি আলগা করে দিলে ছিদ্র বন্ধ হয়ে যায় এবং লবণ মাটির নিচের স্তরেই থেকে যায়। সাধারণত সেচ প্রয়োগ বা বৃষ্টিপাতের পরপরই নিড়ানি দেওয়া প্রয়োজন। যদি জাবড়া প্রয়োগ, আচ্ছাদন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভিদ চাষ, লবণমুক্ত পানি সেচ এবং ছায়াতরু দ্বারা পানির বাষ্পীভবনের হার কমানো যায় তাহলে মাটির লবণাক্ততার পরিমাণ কিছুটা কমবে। এছাড়া অণুজীব সার যেমন- অ্যাজোলা সার প্রয়োগেও এ সমস্যা অনেকাংশে কমানো যায়। মূলত জমিতে সরাসরি সূর্যালোকের প্রবেশকে বাধাগ্রস্ত করলে বাষ্পীভবন কমে যায় এবং লবণাক্ততা হ্রাস পায়।
উল্লিখিত বিভিন্ন পদ্ধতি অবলম্বন করে রিমন তার জমির লবণাক্ততা হ্রাস করতে চায়।
উদ্দীপকের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রিমনকে বলেন লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসল চাষাবাদ করতে। রিমনের বাড়ি উপকূলীয় এলাকায় এবং এখানে লবণাক্ততা কোনো ক্রমেই পুরোপুরি এড়ানো সম্ভব নয় বলে বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার দেওয়া পরামর্শই তার এলাকায় বেশি গ্রহণযোগ্য।
লবণাক্ত এলাকায় চাষের জন্য বেশ কিছু স্থানীয় ও উন্নত জাতের ধান রয়েছে। এরা বিভিন্ন মাত্রায় লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। ধানের এ সমস্ত স্থানীয় জাতের মধ্যে রয়েছে বাতা, রাজাশাইল, বাজাইল, কালামানিক, গরচা, গাবুরা ইত্যাদি। লবণাক্ততা সহিষ্ণু উফশী ধানের জাত হলো আউশ (ব্রি ধান ৫৫), আমন (ব্রি ধান ৪০, ব্রি ধান ৪১, ব্রি ধান ৫৩, ব্রি ধান ৭৩) এবং বোরো (ব্রি ধান ৪৭, ব্রি ধান ৫৫)। উত্তম লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসলগুলো হলো নারিকেল, সুপারি, তুলা, পালংশাক ইত্যাদি। মধ্যম লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসলগুলো হলো আমড়া, মিষ্টি আলু, পেয়ারা, ভুট্টা, টমেটো ইত্যাদি। গম, কমলা, নাশপাতি, প্রভৃতি কম লবণাক্ততা সহিষ্ণু ফসল। এছাড়া অন্যান্য ফসলের মধ্যে বারি আলু ২২ (সৈকত) ও বারি মিষ্টি আলু ৬ ও ৭ বিভিন্ন মাত্রার লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে। এ সমস্ত ফসলের ফলন বেশি ও রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও ভালো।
অর্থাৎ, বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তার পরামর্শই রিমনের এলাকায় বেশি উপযোগী।
Related Question
View Allজিটিআই বা গ্রাজুয়েট ট্রেনিং ইনস্টিটিউট হলো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমকে কর্মমুখী করার লক্ষ্যে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি পাস করা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশিক্ষণের প্রতিষ্ঠান।
কৃষি ডাইরি কৃষি তথ্য সার্ভিস কর্তৃক প্রকাশিত ডাইরি যেখানে আধুনিক কৃষি সংশ্লিষ্ট তথ্য-উপাত্তের উল্লেখ থাকে।
বর্তমান গবেষণার ফলাফল ও আধুনিক কৃষির তথ্য উপাত্ত, যেমন- বিভিন্ন ফসলের উন্নত জাত, বীজ, সারের মাত্রা, সেচ, বালাইনাশক, সর্বশেষ প্রযুক্তি, বিভিন্ন পরিসংখ্যান ইত্যাদি তথ্য এ ডাইরিতে পাওয়া যায়। এ ডাইরিতে কৃষি সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তর, অধিদপ্তর, সংস্থা, ব্যক্তি, সমিতি, সংগঠন ইত্যাদির ফোন/ফ্যাক্স নম্বর, ই- মেইল, ওয়েবসাইটসহ প্রয়োজনীয় যোগাযোগের ঠিকানা থাকে।
উদ্দীপকের আয়োজনটি হলো উঠোন বৈঠক। সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে এলাকার কোনো একজন কৃষকের বাড়ির উঠোনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয় যাতে আশেপাশে বসবাসরত ৫০-৬০ জন কৃষক অংশগ্রহণ করেন। এখানে কৃষকেরা তাদের কৃষি সংক্রান্ত সমস্যা ও সমাধানের উপায় নিয়ে আলোচনা করেন। কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে মূলত এই বৈঠক আয়োজন করা হয়। একটি এলাকার কৃষকদের মধ্যে সম্প্রীতিপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রেখে বিভিন্ন কৃষি সমস্যা সমাধান করে থাকে উঠোন বৈঠক। উঠোন বৈঠকে কোনো কৃষক যদি তার কৃষি সংক্রান্ত সমস্যা উত্থাপন করেন তবে অন্যান্য কৃষক তাকে সেই সংক্রান্ত সমাধান দিয়ে থাকেন। মাঝেমাঝে কৃষি কর্মকর্তা কৃষকদের সরাসরি পরামর্শ দিয়ে থাকেন। অনেক সময় এমন সব সমস্যার উদ্ভব হয়, যা এলাকার সব কৃষক একসাথে মিলে সমাধান করেন। যেমন- খরাকালীন সময়ে সেচ সমস্যা, ফসলে রোগ বা পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ করা, মূল্যবান কৃষি যন্ত্রপাতি ক্রয়, নতুন কৃষি প্রযুক্তি গ্রহণ ও বর্জন সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ইত্যাদি। উঠোন বৈঠকের মাধ্যমে কৃষি কর্মকর্তা সহজেই কোনো এলাকার কৃষি সংক্রান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা পেয়ে থাকেন। যার মাধ্যমে অল্প সময়ে তিনি কৃষকদের কৃষি সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান ও নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারেন।
তাই বলা যায়, কৃষি সেবা প্রাপ্তিতে উঠোন বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
উদ্দীপকের কৃষি কর্মকর্তা বাংলাদেশের আবহাওয়া অনুযায়ী দিবা দৈর্ঘ্যের উপর ভিত্তি করে ফসল চাষ করতে পরামর্শ দেন। দিবা দৈর্ঘ্যের ভিত্তিতে ফসলকে ৩টি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
i. স্বল্প দিবস ফসল
ii. দীর্ঘ দিবস ফসল ও
iii. দিবস নিরপেক্ষ ফসল।
যেসব ফসলের পুষ্পায়নের জন্য স্বল্পকালীন সময়ব্যাপী দিবালোক প্রয়োজন হয়, সেসব ফসলকে স্বল্প দিবস ফসল বলে। যেমন- ফুলকপি, সরিষা, আমন ধান ইত্যাদি। সাধারণত এসব ফসলের ফুল উৎপাদনের জন্য ১২ ঘণ্টার কম অর্থাৎ, গড়ে ৯-১১ ঘণ্টা দিবালোকের প্রয়োজন হয়। যেসব ফসলের পুষ্পায়নের জন্য দীর্ঘ দিবালোকের প্রয়োজন হয় সেসব ফসলকে দীর্ঘ দিবস ফসল বলে। যেমন- মুলা, আলু ইত্যাদি। এসব ফসলের ফুল উৎপাদনের জন্য দৈনিক ১২ ঘণ্টার বেশি দিবা দৈর্ঘ্য ও অল্প সময়ের অন্ধকারের প্রয়োজন পড়ে। আবার, যেসব ফসলের পুষ্পায়নের উপর দিবা দৈর্ঘ্যের কোনো প্রভাব পড়ে না তাদের দিবস নিরপেক্ষ ফসল বলে। যেমন- আউশ ধান, আমন ধান, বেগুন, টমেটো ইত্যাদি। কারণ এগুলোর ফুল-ফল উৎপাদনে দিবা দৈর্ঘ্যের প্রভাব কম থাকায় এগুলো আলোক স্থিতিকাল দ্বারা প্রভাবিত হয় না।
অর্থাৎ, ফসলের ফুল ধারণের ওপর দিবালোকের প্রভাব বিবেচনা করে চাষ করলে সব ধরনের ফসল ফলানো সম্ভব। অতএব, কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শটি যথার্থ।
বসতবাড়ির আশেপাশে, রাস্তার পাশে, পতিত জমিতে, রেললাইনের পাশে, প্রতিষ্ঠানের আশেপাশেসহ বিভিন্ন সামাজিক এলাকায় যে বন গড়ে উঠেছে তাকে সামাজিক বন বলে।
মাটিতে হাইড্রোজেন আয়নের ঘনত্বের ঋণাত্মক লগারিদমকে মাটির অম্লমান বা মাটির pH বলে। এটি মাটির একটি রাসায়নিক ধর্ম। মাটির অম্লমান বা pH ১-১৪ সংখ্যা দ্বারা উল্লেখ করা হয়। কোনো মাটির pH ৭.০ হলে তাকে প্রশম মাটি ধরা হয় আবার মাটির pH ৭.০ এর নিচে গেলে উক্ত মাটিতে অম্লত্ব সৃষ্টি হয় এবং pH ৭.০ এর উপরে উঠে গেলে মাটিতে ক্ষারত্ব দেখা যায়।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!