বাঙালি সংস্কৃতির বৈচিত্র্যের মধ্যে প্রধান সূর হলো ধর্ম।
রাংলাদেশের সংস্কৃতির বস্তুগত ও অবস্তুগত উপাদানসমূহ কোনোভাবেই পরস্পর থেকে বিচ্ছিন্ন নয়। কেননা সংস্কৃতির বস্তুগত উপাদানসমূহের মধ্য দিয়ে সংস্কৃতির অবস্তুগত উপাদানসমূহের পরিচয় পাওয়া যায়। যেমন- নকশি কাঁথা বাংলাদেশের সংস্কৃতির একটি বস্তুগত উপাদান। এর মধ্যে যখন ফুল-পাতা, হাতি-ঘোড়া বা অনা কোনো দৃশ্য সেলাই করা হয়, তখন তা হয়ে ওঠে এদেশের নারী মনের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ।
উদ্দীপকে রিহানের মধ্যে সংস্কৃতির বৈশিষ্ট্যের দিকটি ফুটে উঠেছে। সমাজে বসবাস করতে গিয়ে মানুষ যে সামাজিক পরিবেশ সৃষ্টি করে, তাই সংস্কৃতি। সংস্কৃতি কোনো সহজাত বা জন্মগত বিষয় নয় বা এটি জৈবিকভাবে বিস্তার লাভ করে না। এটি হলো কতকগুলো - অভ্যাসের সমষ্টি। জন্মলগ্ন থেকেই মানুষ সংস্কৃতির অধিকারী হয়ে থাকে। সংস্কৃতি ব্যক্তির অর্পিত নয় বরং অর্জিত ব্যাপার। ব্যক্তি সমাজের অন্যান্য সদস্যদের সাথে মিথস্ক্রিয়ার মাধ্যমে সংস্কৃতি শিক্ষালাভ করে থাকে। যেমন- উদ্দীপকের রিহানের মোবাইল, কম্পিউটার ও যন্ত্রপাতি চালাতে পারা। আর সাংস্কৃতিক এ শিক্ষা একটি অসীম প্রক্রিয়া।
রিহানের নানার উদ্দীপকের বিষয়গুলোর সাথে খাপ খাওয়াতে না পারার কারণ হলো সাংস্কৃতিক ব্যবধান। সাংস্কৃতিক ব্যধানের মূলকথা হচ্ছে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির ব্যাপক উন্নতির ফলে বস্তুগত সংস্কৃতি দ্রুতগতিতে পরিবর্তন হচ্ছে যার সঙ্গে অবস্তুগত সংস্কৃতি খাপ খাইয়ে বা তাল মিলিয়ে ঐ একই গতিতে এগিয়ে চলতে পারছে না। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে সাংস্কৃতিক পিছিয়ে পড়া। উদ্দীপকের দিকে লক্ষ করলে আমরা দেখতে পাই, এতো অল্প বয়সেও রিহান কম্পিউটার, মোবাইল এবং বিভিন্ন যন্ত্রপাতি চালাতে পারে। অপরদিকে তার নানা এখনও ঠিকমতো মোবাইল অপারেট করতে পারে না। বর্তমান যুগ হলো আধুনিক যুগ। এ যুগে নানা ধরনের প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি আবিষ্কৃত হয়েছে এবং হচ্ছে।
তাই এ যুগের ছেলেমেয়েরা বস্তুগত এসব যন্ত্রপাতি চালনায় পারদর্শিতা অর্জন করছে অল্প বয়স থেকেই। অথচ রিহানের নানাদের সময় প্রযুক্তির অগ্রগতি এতটা ছিল না। এ কারণেই তিনি তার নাতির থেকে পিছিয়ে আছেন। আর এখানেই সাংস্কৃতিক ব্যবধান পরিলক্ষিত হয়।
Related Question
View Allমানুষ তার অস্তিত্ব রক্ষার জন্য, সমাজজীবনে কোনো উদ্দেশ্য সাধনের লক্ষ্যে যা কিছু চিন্তা ও কর্ম করে তাই সংস্কৃতি।
সংস্কৃতির উপাদানসমূহকে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। যথা- (১) বস্তুগত বা দৃশ্যমান উপাদান (বিভিন্ন ধরনের ঘরবাড়ি, আসবাবপত্র, পোশাক, যানবাহন, বইপত্র ইত্যাদি)। (২) অবস্তুগত বা অদৃশ্যমান উপাদান (সামগ্রিক জ্ঞান, মনোভাব ও দৃষ্টিভঙ্গি, ধর্মীয় বিশ্বাস ও নীতিবোধ, ভাষা, বর্ণমালা, সাহিত্য, সংগীত ইত্যাদি)।
জুলেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতি ফুটে উঠেছে। বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতি বেশ সমৃদ্ধ। বাংলাদেশের সংস্কৃতির প্রধান খাদ্য ভাত-মাছ এখনও গ্রামের মানুষের খাদ্যাভ্যাসের অবিচ্ছেদ্য অংশ। জারি, সারি, বাউল, ভাওয়াইয়া, ভাটিয়ালি, মুর্শিদি, বারমাস্যা, গম্ভীরা ইত্যাদি নানা আঞ্চলিক গানে ফুটে ওঠে গ্রামের মানুষের হাসি-কান্না। গ্রামের মেলায় ও বিভিন্ন অনুষ্ঠানে পালাগান, যাত্রাগান, কবিগান, কীর্তনগান, মুর্শিদি গান ইত্যাদির আয়োজন আধুনিককালেও গ্রামের অনন্যতা বজায় রেখেছে। উদ্দীপকের জুলেখা সকালের নাস্তায় পান্তাভাত ও মাছ খায় এবং ভাটিয়ালি গান শোনে, যা গ্রামীণ সংস্কৃতি প্রকাশ পায়। উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, জুলেখার মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্রামীণ সংস্কৃতিই ফুটে উঠেছে।
উদ্দীপকের হাজেরার সংস্কৃতিতে বিশ্বায়নের প্রভাব লক্ষ করা যায়।
শহরের পরিবেশ, খাদ্যাভ্যাস ও যান্ত্রিকতার জীবন বিশ্বায়ন ব্যবস্থার সাথে সংগতিপূর্ণ। শহরে গড়ে উঠেছে যন্ত্রনির্ভর সংস্কৃতি, যা মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ ও গতিময় করেছে। উন্নত যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থা মানুষের সময়ের সাশ্রয় করেছে। মানুষের দৈনন্দিন জীবনের চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সমস্ত প্রকার উৎপাদন প্রক্রিয়া শহর থেকেই পরিচালিত হয়। সুউচ্চ দালানকোঠা, কলের গাড়ি ইত্যাদি বিশ্বায়নের পথ পরিভ্রমণ করছে। আজকাল আফিস-আদালতের সব কর্মকান্ড কম্পিউটারভিত্তিক পরিচালিত হচ্ছে। উৎপাদন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে সব ব্যবসায়িক, শিক্ষা কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মকান্ড কম্পিউটার দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, যা বিশ্বায়নের নামান্তর। ইন্টারনেট সংযোগের মাধ্যমে এখন বহির্বিশ্বের সাথে খুব সহজেই যোগাযোগ স্থাপন করা যাচ্ছে। যেকোনো প্রকার সংবাদ, ব্যবসায়িক আলাপ-আলোচনা এখন কম্পিউটারাইজড পদ্ধতিতে পরিচালিত ও সম্পাদিত হচ্ছে।
উদ্দীপকে হাজেরাও তার পড়াশোনা শেষে ইন্টারনেট ব্যবহারের মাধ্যমে বহির্বিশ্বের সাথে নিজেকে পরিচিত করছে, যা বিশ্বায়ন ধারণার সাথে সংগতিপূর্ণ। উপরিউক্ত আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, হাজেরার খাদ্যাভ্যাস সংস্কৃতিতে বিশ্বায়নের প্রভাব লক্ষ করা যায়।
সংস্কৃতি' শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ Culture.
বাংলাদেশের গ্রামীণ ভৌগোলিক পরিবেশ, পুকুর, খালবিল, নদীনালা, বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ, পাহাড়-পর্বত গ্রামীণ সংস্কৃতিকে করেছে সমৃদ্ধ। এদেশের উর্বর মাটিতে কৃষক ফসল ফলায়, নদীনালা, খালবিল কৃষি উৎপাদনে সহায়তা করে। কৃষি, মৎস্য চাষ, নৌকা চালানো ইত্যাদি পেশা গ্রামের সংস্কৃতি নির্মাণে ভূমিকা রাখে। ভাত ও মাছ গ্রামের প্রধান খাবার। উৎসব-পার্বণে বিভিন্ন গান, মেলার আয়োজন গ্রামীণ সংস্কৃতির সমৃদ্ধ রূপ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
