প্রদত্ত রেখাচিত্রের 'R' নির্দেশক তারিখের ঘটনা তথা ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসের ঘটনার জন্য 'P' নির্দেশক ৭ই মার্চ অর্থাৎ ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ এবং' 'Q' নির্দেশক ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল অর্থাৎ মুজিবনগর সরকার গঠনের ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। প্রশ্নোক্ত এ উক্তিটির সাথে আমি একমত পোষণ করি।
কেননা শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে যদি বাঙালিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বের হওয়ার জন্য দিকনির্দেশনা না দেওয়া হতো তবে মুক্তিযুদ্ধও হতো না। আমরাও ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করতে পারতাম না। তদ্রুপ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যদি মুজিবনগর সরকার গঠিত না হতো তবে মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভারে পরিচালনা করে বিজয় নিশ্চিত করা সম্ভব হতো না। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ সারাদেশের মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। অপরদিকে, মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা, সুসংহত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনের লক্ষ্যে ১০ই এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় এ সরকার নানা ধরনের পরিকল্পনা হাতে নেয় এবং সফলতার সাথে তা বাস্তবায়ন করে। এ সরকারের নেতৃত্বেই বাঙালিরা পাকিস্তানি বাহিনীর নিকট থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করে। যার প্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর অর্জিত হয় কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।
পরিশেষে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।
Related Question
View All১৯৭০ সালের পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান বিজয়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র শুরু করে।
জুলফিকার আলী ভুট্টো বাঙালিদের ক্ষমতা গ্রহণে বাধা দেওয়ার জন্য ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেন। তিনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সংকট তৈরি করেন। এই পদক্ষেপ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
ইয়াহিয়া খান ১লা মার্চ ১৯৭১ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। এতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে ক্ষোভআরও বেড়ে যায়। আওয়ামী লীগ এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সর্বাত্মক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে।
২রা মার্চ ১৯৭১ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়। এটি স্বাধীন বাংলার প্রথম আনুষ্ঠানিক পতাকা ছিল।
৩রা মার্চ ১৯৭১-এ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ওই দিন পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে ছাত্রনেতা শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। এতে আন্দোলন আরও গতিশীল হয় এবং জনগণের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা বৃদ্ধি পায়।
শাজাহান সিরাজ ৩রা মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। এতে বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এটি মুক্তি আন্দোলনে নতুন উদ্দীপনা এনে দেয় এবং ছাত্র-জনতাকে আরও সংগঠিত করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
