মুক্তিযুদ্ধকালে মুক্তিযোদ্ধা নৌকমান্ডো বাহিনী কর্তৃক পরিচালিত একটি অভিযানের নাম অপারেশন জ্যাকপট।
পাকিস্তানি বাহিনীর ওপর সুদৃঢ় আক্রমণের জন্য মুক্তিবাহিনী ও মিত্রবাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত বাহিনীর নাম যৌথবাহিনী। যৌথবাহিনী গঠনের পর মুক্তিযুদ্ধ দারুণ গতি লাভ করে। যৌথবাহিনীর আক্রমণের ফলে অল্প সময়ের ব্যবধানে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল শত্রুমুক্ত হয়। ১৬ই ডিসেম্বর যৌথবাহিনীর প্রধানের নিকট পাকিস্তানি বাহিনী আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করে।
প্রদত্ত রেখাচিত্রের 'Q' নির্দেশক তারিখটি দ্বারা ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল ঐতিহাসিক মুজিবনগর সরকার গঠনের ঘটনাকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে মুজিবনগর সরকার গঠন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নামে মেহেরপুর জেলার বৈদ্যনাথতলার আম্রকাননকে নামকরণ করা হয় মুজিবনগর। মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা, সুসংহত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনের লক্ষ্যে ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল নির্বাচিত প্রতিনিধিদের নিয়ে 'মুজিবনগর সরকার' গঠন করা হয়। ঐ দিনই আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষিত হয় বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা আদেশ। মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল। শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশ সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। মুজিবনগর স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারের কাঠামোতে রাষ্ট্রপতি ও
মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক ছিলেন শেখ মুজিবুর রহমান। উপ-রাষ্ট্রপতি ছিলেন সৈয়দ নজরুল ইসলাম (বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি)। প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ। অর্থমন্ত্রী ছিলেন এম. মনসুর আলী।
স্বরাষ্ট্র, ত্রাণ ও পুনর্বাসনমন্ত্রী ছিলেন এ. এইচ. এম. কামারুজ্জামান ও পররাষ্ট্র ও আইনমন্ত্রী ছিলেন খন্দকার মোশতাক আহমেদ। স্বাধীন বাংলাদেশ সরকারকে উপদেশ ও পরামর্শ প্রদানের জন্য একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা এবং বাংলাদেশের পক্ষে বিশ্ব জনমত সৃষ্টি করা ছিল এ সরকারের প্রধান উদ্দেশ্য।
পরিশেষে বলা যায়, 'Q' দ্বারা মুজিবনগর সরকার গঠনের ঘটনাকেই নির্দেশ করা হয়েছে।
প্রদত্ত রেখাচিত্রের 'R' নির্দেশক তারিখের ঘটনা তথা ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় দিবসের ঘটনার জন্য 'P' নির্দেশক ৭ই মার্চ অর্থাৎ ১৯৭১ সালে বঙ্গবন্ধুর ঐতিহাসিক ভাষণ এবং' 'Q' নির্দেশক ১৯৭১ সালের ১০ই এপ্রিল অর্থাৎ মুজিবনগর সরকার গঠনের ঘটনা উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে। প্রশ্নোক্ত এ উক্তিটির সাথে আমি একমত পোষণ করি।
কেননা শেখ মুজিবুর রহমানের ঐতিহাসিক ভাষণের মাধ্যমে যদি বাঙালিকে পরাধীনতার শৃঙ্খল থেকে বের হওয়ার জন্য দিকনির্দেশনা না দেওয়া হতো তবে মুক্তিযুদ্ধও হতো না। আমরাও ১৬ই ডিসেম্বর বিজয় অর্জন করতে পারতাম না। তদ্রুপ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে যদি মুজিবনগর সরকার গঠিত না হতো তবে মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভারে পরিচালনা করে বিজয় নিশ্চিত করা সম্ভব হতো না। এক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধুর ৭ই মার্চের ভাষণ সারাদেশের মানুষকে স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। অপরদিকে, মুক্তিযুদ্ধকে সঠিকভাবে পরিচালনা, সুসংহত করা এবং মুক্তিযুদ্ধের পক্ষে বিশ্ব জনমত গঠনের লক্ষ্যে ১০ই এপ্রিল গঠিত মুজিবনগর সরকার শপথ গ্রহণ করে ১৯৭১ সালের ১৭ই এপ্রিল। মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনায় এ সরকার নানা ধরনের পরিকল্পনা হাতে নেয় এবং সফলতার সাথে তা বাস্তবায়ন করে। এ সরকারের নেতৃত্বেই বাঙালিরা পাকিস্তানি বাহিনীর নিকট থেকে বাংলাদেশকে মুক্ত করে। যার প্রেক্ষিতে ১৯৭১ সালের ১৬ই ডিসেম্বর অর্জিত হয় কাঙ্ক্ষিত স্বাধীনতা।
পরিশেষে বলা যায়, প্রশ্নোক্ত উক্তিটি যথার্থ ও সঠিক।
১৯৪৭ সালে দ্বিজাতি তত্ত্বের ভিত্তিতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুইটি রাষ্ট্রের জন্ম হয় । হাজার মাইলের ভৌগোলিক দূরত্ব, ভাষা ও সংস্কৃতিসহ সকল বিষয়ে অমিল থাকা সত্ত্বেও শুধু ধর্মীয় মিলের কারণে পূর্ব-বাংলাকে পাকিস্তানের একটি প্রদেশ করা হয়। এই নতুন রাষ্ট্র পূর্ব-বাংলার মানুষের জীবনে কোনো মুক্তির স্বাদ আনতে পারে নি। শাসকের হাত বদল হয়ে পূর্ব-বাংলার জনগণ নতুন আরেকটি ভিনদেশি শাসক দ্বারা শাসিত হতে থাকে। পরবর্তী কালে অনেক আন্দোলন, সংগ্রাম, ত্যাগ-তিতীক্ষা ও রক্তের বিনিময়ে ১৯৭১ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠিত হয়। আমরা পরিপূর্ণভাবে বিদেশি শাসন থেকে মুক্ত হয়ে স্বাধীনতা অর্জন করি । স্বাধীন রাষ্ট্র হিসাবে বাংলাদেশের জন্ম-ইতিহাসের পথ অনেক ঘটনাবহুল । সপ্তম শ্রেণিতে আমরা ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্ট গঠন, ছয়দফা আন্দোলন, ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও ৭০ এর নির্বাচন সম্পর্কে বিস্তারিত জেনেছি । এই অধ্যায়ে আমরা ১৯৭০ এর নির্বাচন পরবর্তী সময় ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানব ।
এ অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
• ১৯৭০ এর নির্বাচনোত্তর জনগণ এবং রাজনৈতিক নেতৃত্বের প্রতিক্রিয়া বর্ণনা করতে পারব; • ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণের মূলকথা জানব ও এর গুরুত্ব ও প্রতিক্রিয়া মূল্যায়ন করতে পারব;
• ২৫শে মার্চের নারকীয় হত্যাযজ্ঞের বিবরণ দিতে পারব ও এর ভয়াবহতা উপলব্ধি করতে পারব ;
• ২৬শে মার্চের স্বাধীনতার ঘোষণা উল্লেখ করতে পারব; মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতির বিবরণ দিতে পারব ও অস্থায়ী সরকারের গঠন ও ভূমিকা বর্ণনা করতে পারব;
•মুক্তিবাহিনীর গঠন বর্ণনা করতে ও তাদের ভূমিকা মূল্যায়ন করতে পারব; • সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের বিরোধী শক্তির তৎপরতা ও ভূমিকা বর্ণনা করতে পারব;
•মুক্তিযুদ্ধে বাঙালিদের সহযোগিতার স্বরূপ বর্ণনা ও মূল্যায়ন করতে পারব;
•মুক্তিযুদ্ধে বহির্বিশ্বের ভূমিকা মূল্যায়ন করতে পারব,
•মুক্তিযুদ্ধে যৌথবাহিনীর ভূমিকা বিশ্লেষণ করতে পারব;
•মুক্তিযুদ্ধকালীন পাকিস্তানি বাহিনীর গণহত্যা ও অত্যাচারের বিবরণ দিতে পারব;
• পাকিস্তানি বাহিনীর আত্মসমর্পণের ঘটনা বলতে পারব;
•মুক্তিযুদ্ধের তাৎপর্য বিশ্লেষণ করতে পারব; • দেশপ্রেম, জাতীয়তাবোধ ও গণতান্ত্রিক চেতনায় উজ্জীবিত হব।
Related Question
View All১৯৭০ সালের পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচন সার্বজনীন ভোটাধিকারের ভিত্তিতে অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। কিন্তু পাকিস্তানি সামরিক শাসক ইয়াহিয়া খান বিজয়ী আওয়ামী লীগকে ক্ষমতা হস্তান্তর না করে ষড়যন্ত্র শুরু করে।
জুলফিকার আলী ভুট্টো বাঙালিদের ক্ষমতা গ্রহণে বাধা দেওয়ার জন্য ইয়াহিয়া খানের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করেন। তিনি জাতীয় পরিষদের অধিবেশন বর্জনের ঘোষণা দিয়ে সংকট তৈরি করেন। এই পদক্ষেপ পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে।
ইয়াহিয়া খান ১লা মার্চ ১৯৭১ জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। এতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের মধ্যে ক্ষোভআরও বেড়ে যায়। আওয়ামী লীগ এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে সর্বাত্মক আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করে।
২রা মার্চ ১৯৭১ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে একটি বিশাল সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রনেতা আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বে স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র খচিত পতাকা উত্তোলন করা হয়। এটি স্বাধীন বাংলার প্রথম আনুষ্ঠানিক পতাকা ছিল।
৩রা মার্চ ১৯৭১-এ ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ গঠিত হয়। ওই দিন পল্টন ময়দানে অনুষ্ঠিত এক সমাবেশে ছাত্রনেতা শাজাহান সিরাজ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। এতে আন্দোলন আরও গতিশীল হয় এবং জনগণের মধ্যে স্বাধীনতার চেতনা বৃদ্ধি পায়।
শাজাহান সিরাজ ৩রা মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহার পাঠ করেন। এতে বাঙালির স্বাধীনতার আকাঙ্ক্ষা আরও স্পষ্টভাবে ফুটে ওঠে। এটি মুক্তি আন্দোলনে নতুন উদ্দীপনা এনে দেয় এবং ছাত্র-জনতাকে আরও সংগঠিত করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
