নিষেক হলো পরিণত শুক্রাণু ও পরিণত ডিম্বানুর নিউক্লিয়াসে একীভবনের মাধ্যমে জাইগোট সৃষ্টির প্রক্রিয়া।
শিশু মাতৃগর্ভে থাকাকালীন শারীরিক ও মানসিক উভয় পারিপার্শ্বিক প্রভাবই শিশুকে প্রভাবিত করে।
মায়ের অপুষ্টি, বয়স, স্বাস্থ্য ও অসুস্থতা, ঔষধ, রক্তের Rh উপাদান, বিকিরণ, পরিবেশ ইত্যাদি যদি অনুকূল হয় তবে শিশু সুস্থভাবে জন্মলাভ করে। আবার মায়ের মানসিক অবস্থা যদি প্রতিকূল হয় তবে ক্ষতিকর রাসায়নিক উপাদানের নিঃসরণ ভ্রূণের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে।
ভ্রান্ত সিদ্ধান্ত বা যুক্তিহীনভাবে উৎপন্ন বিশ্বাসকে কুসংস্কার বা ভ্রান্ত ধারণা বলা যায়।
আমাদের দেশের মহিলারা গর্ভকালীন সময়ে নানা রকম ভ্রান্ত ধারণার শিকার হন। যার ফলশ্রুতিতে মা ও শিশু উভয়ই ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
রেহানা বেগমের গর্ভধারণের খবর শুনে তার মা ও শাশুড়ি তার চলাফেরা, খাওয়া-দাওয়া ইত্যাদির উপর কড়াকড়ি আরোপ করেন। যা এক ধরনের ভ্রান্ত ধারণা বা কুসংস্কার। রেহানার মা ও শাশুড়ি এসময় তাকে কম খেতে দেন। কারণ তারা মনে করেন এতে গর্ভস্থ শিশুর ওজন বেশি হবে। ফলে প্রসবে সমস্যা হবে। তারা বিভিন্ন খাবার গ্রহণের ক্ষেত্রে বিধি-নিষেধ আরোপ করেন। যেমন- হাঁসের ডিম খেলে শিশুর গলার স্বর হাঁসের মতো হবে, চাল কুমড়া খেলে শিশুর গায়ে লোম হবে, ডাব খেলে চোখ ঘোলা হবে, মৃগেল মাছ খেলে শিশুর মৃগীরোগ হয়, খিরা খেলে হাত পা ফেটে যায় ইত্যাদি। আবার বাইরে চলাচল করলে ভূত-প্রেতের আছর লাগতে পারে, হাঁটাহাটি করলে সন্তানের ক্ষতি হতে পারে ইত্যাদি। এসব কুসংস্কারের কারণে রেহানার ওপর তার মা ও শাশুড়ি নানারূপ নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। তাই বলা যায় রেহানার মা ও শাশুড়ির আচরণ ভ্রান্ত ধারণার পরিচায়ক।
শিশুর বিকাশে মায়ের উপযুক্ত পুষ্টির যথেষ্ট প্রয়োজন রয়েছে। গর্ভকালীন সময়ে মায়ের থেকেই শিশু এই পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করে। মায়ের সুষম খাদ্য ও পুষ্টির ফলে শিশুর শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ সুষ্ঠুৰূপে বিকশিত হয়।
শিশু যদি মায়ের থেকে পর্যাপ্ত পুষ্টি না পায় তবে সে ক্ষীণকায়, রুগ্ন, অপুষ্ট অথবা অপরিণতভাবে জন্মগ্রহণ করে। তাই শিশুর সুষ্ঠু বিকাশে মায়ের পর্যাপ্ত পুষ্টিকর খাবার খাওয়া প্রয়োজন। উদ্দীপক হতে দেখা যায় ডাক্তারও রেহানা বেগমকে স্বাভাবিকের চেয়ে একটু বাড়িয়ে খাওয়া ও ঘরে হালকা কাজকর্ম ও চলাফেরা করার পরামর্শ দেন। যেতেই গর্ভস্থ শিশু মায়ের থেকে পুষ্টি গ্রহণ করে তাই মায়ের কিছুটা বাড়তি খাবার গ্রহণ করা উচিত। কেননা এ সময় মায়ের ক্যালরি ও প্রোটিনের চাহিদা অনেকাংশে বৃদ্ধি পায়। এতে করে পুষ্টির ঘাটতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকে না। আবার একটু হালকা কাজ ও ব্যায়াম মাংসপেশির শক্তি বৃদ্ধি করে প্রসবধারককে সহজ রাখে। ফলে সন্তান প্রসবজনিত জটিলতা কমে যায়। বাড়তি খাবার যেমন সন্তানকে সুস্থ রাখে তেমনি ব্যায়াম ও হালকা কাজ শিশুকে স্বাস্থ্যবান হয়ে জন্ম নিতে সাহায্য করে।
তাই বলা যায়, রেহানা বেগমের প্রতি ডাক্তারের পরামর্শটি যথার্থ ছিল।
Related Question
View Allমেলানিন তৈরি হয় টাইরোসিন হতে।
হাইড্রোসেফালি এক ধরনের জিনগত অস্বাভাবিকতা। হাইড্রোসেলফালি হলে মাথার মধ্যে তরল পদার্থ সেরেব্রো-স্পাইনাল রস নিঃসরণ না হয়ে জমা থাকে। ফলে মাথা অস্বাভাবিক বড় হয়। শিশু প্রতিবন্ধী হয়।
রহিম মিয়ার বড় সন্তানটির মধ্যে থাইরয়েড গ্রন্থি হতে নিঃসৃত থাইরক্সিন হরমোনের ঘাটতি রয়েছে।
থাইরয়েড হরমোনের অভাবে শিশু বামনত্ব লাভ করে। এ ধরনের জিনগত অস্বাভাবিকতাকে ক্রেটিনিজম বলে। এর অপর নাম হাইপোথাইরয়েডিজম।
বংশগত বা অন্য কোনো কারণে গর্ভাবস্থায় আয়োডিন এর অভাব হলে থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা কমে যায়। ফলে বামনত্ব দেখা দেয়। এছাড়া মাথায় চুল অল্প থাকে। কপাল ছোট, নাক চ্যাপ্টা হয়। এদের জিহবা বেশ মোটা থাকে। অনেকের গলগণ্ড হয় ও বিপাক ক্রিয়া হ্রাস পায়। এ রোগে হজমজনিত গোলযোগ থাকে এবং যৌনাঙ্গের বিকাশ ঠিকমতো হয় না।
রহিম মিয়ার ছোট সন্তানটির মধ্যে হিমোফিলিয়া নামক জিনগত অস্বাভাবিকতা রয়েছে।
হিমোফিলিয়া রোগে শরীরের কোথাও কেটে গেল তার রক্ত জমাট বাঁধতে চায় না। মায়ের রক্ত থেকে পুত্রসন্তানদের দেহে বিস্তার লাভ করে এই রোগ।
ছেলেদের এই রোগ দেখা যায়। মেয়েরা বাহক হিসেবে কাজ করে। এই রোগে কোনো স্থান কেটে গেলে রক্তক্ষরণ সহজে বন্ধ হয় না। আঘাত পেলে চামড়ার নিচে বা জোড়ার অভ্যন্তরে রক্তপাত হতে থাকে। একে রক্তক্ষরণীয় রোগ বলা হয়, মহিলাদের চেয়ে পুরুষের sex chromosome কে এর জন্য দায়ী করা হয়।
হিমোফিলিয়ায় কোনো cloting factor থাকে না। এই রোগে রোগীর রক্তে রক্ত বন্ধনকারী অ্যান্টি হিমোফিলিক ফ্যাক্টর VIII থাকে না। ফলে রক্ত জমাট হতে অনেক সময় লাগে। রহিম মিয়ার ছোট সন্তানের মধ্যে এ ধরনের জিনগত অস্বাভাবিকতাই পরিলক্ষিত হয়।
স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের প্রধান অঙ্গের নাম ডিম্বাশয়।
ভালভা স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের একটি অংশ বা অঙ্গাণু। ভালভা বলতে যোনি যে ছিদ্রপথে বাইরে উন্মুক্ত থাকে তাকে বোঝায়। লেবিয়া মেজরা, লেবিয়া মাইনরা, ক্লাইটোরিস এবং ভেন্টিবুলার গ্রন্থিকে একত্রে ভালভা বলে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!