লতাগুল্ম, বাঁশঝাড়, বাবুই পাখির বাস আর 

মধুমতি নদীটির বুক থেকে বেদনাবিহ্বল 

ধ্বনি উঠে মেঘমালা ছুঁয়ে 

ব্যাপক ছড়িয়ে পড়ে সারা বাংলায়।

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

আহসান হাবিবের প্রথম কাব্যগ্রন্থের নাম- 'রাত্রিশেষ'।

উত্তরঃ

'আমার অস্তিত্বে গাঁথা' বলতে কবির স্বদেশের গ্রামীণ প্রকৃতিতে বেড়ে ওঠার বিষয়টি বুঝিয়েছেন। 

'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি নিজের দেশের প্রতি তাঁর গভীর অনুরাগ প্রকাশ করেছেন। জন্মভূমির মধ্যে শিকড় গেড়েই কবি সমগ্র দেশকে আপন করে পেয়েছেন। তাঁর কাছে দেশ মানে শুধু চারপাশের প্রকৃতি নয়, তাকে আপন সত্তায় অনুভব করা। কবি গ্রামীণ জীবনেই বেড়ে উঠেছেন। গ্রামের মাঠ-ঘাট, পথ-প্রান্তরের মতো খেতের সরু পথ, তার পাশে ধানখেত, নদীর কিনার, জনপদের মানুষজন- এই সবকিছুই কবির অতি পরিচিত। এদের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক নিবিড় ও গভীর। কবি নিজেও তাদের কাছে চিরচেনা একজন।

উত্তরঃ

উদ্দীপক ও 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার সাদৃশ্যপূর্ণ দিকগুলো হলো এদেশের মাটির সঙ্গে উভয় কবির নিবিড় সম্পর্ক। 

প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের বন্ধন গভীর ও নিবিড়। প্রকৃতির ঋণকে অস্বীকার করে মানব অস্তিত্বের কল্পনা করা যায় না। মানুষ জন্মভূমির দান স্বীকার করেই তার অস্তিত্বের বিকাশ ঘটায়। জন্মভূমির রূপ-বৈচিত্র্যের প্রতি শ্রদ্ধাবোধই স্বদেশপ্রেমের প্রধান শর্ত। তাই দেশপ্রেমিকরা স্বদেশের কল্যাণেই আত্মনিয়োগ করে তৃপ্ত হন।

উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি জন্মভূমির বিভিন্ন অনুষঙ্গের মাধ্যমে স্বদেশ প্রকৃতির সঙ্গে তাঁর নিবিড় বন্ধনের দিকটি তুলে ধরেছেন। এই বিষয়টি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবির স্বদেশের প্রকৃতির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কবিতায় কবি তাঁর চেনা পরিবেশের যে বর্ণনা দিয়েছেন তার সঙ্গেই এর মিল দেখা যায়। উদ্দীপকের কবিতাংশে কবির অনুভূতি সমস্ত বাংলায় ছড়িয়ে যাওয়ার বিষয়টি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় প্রতিফলিত কবির নিজের গ্রামে থাকা মানে পুরো দেশ জুড়ে থাকার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উভয় ক্ষেত্রেই কবিদের চিরচেনা পরিবেশের অনুষঙ্গ চিরন্তন হয়ে উঠেছে। তবে তা পরস্পরের সঙ্গে পুরোপুরি এক নয়। কারণ উদ্দীপকের লতাগুল্ম, বাঁশঝাড়, বাবুই পাখির বাসা, মধুমতি নদী, নদী থেকে উঠে আসা বেদনা-বিহ্বল ধ্বনি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার সঙ্গে পুরোপুরি মেলে না।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের সাথে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার চেতনাগত বৈসাদৃশ্যই বেশি। মন্তব্যটি যথার্থ। 

জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক অচ্ছেদ্য। নিজের দেশকে আপন সত্তায় অনুভব করে মানুষ আনন্দ লাভ করে। জন্মভূমির পরিচয় ছাড়া মানুষ শেকড়শূন্য, অস্তিত্বহীন। জন্মভূমি বা স্বদেশের প্রকৃতি ও পরিবেশের প্রতি গভীর অনুরাগই ধীরে ধীরে স্বদেশপ্রেমের রূপ লাভ করে।

উদ্দীপকে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় প্রতিফলিত প্রকৃতির কয়েকটি অনুষঙ্গের পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তাতে যে বিষয় প্রকাশ পেয়েছে তা 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার পুরো বিষয়কে নির্দেশ করেনি। কবিতায় কবি স্বদেশপ্রেমের যে চেতনা এবং মাতৃভূমির সঙ্গে তাঁর যে সম্পর্কের কথা ব্যক্ত করেছেন তার সঙ্গে উদ্দীপকের চেতনার পার্থক্য রয়েছে। উদ্দীপকে কেবল স্বদেশের প্রকৃতির প্রতি অনুরাগ ব্যক্ত হয়েছে। 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার মতো স্বদেশপ্রেমের চেতনার তীব্র কোনো প্রকাশ সেখানে নেই।

'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি স্বদেশপ্রকৃতির উপাদানকে নিজের হৃদয়ের মাঝে স্থান দিয়েছেন। স্বদেশের আকাশের তারা, মাঠের ঘাসফুল, বাঁশবাগান, রাতের অন্ধকারে জোনাকির আলো, জারুল, জামরুল গাছ, পূর্ব ধারের পুকুর, পুকুরের উপর ঝুলে থাকা ডুমুর গাছ, মাছরাঙা প্রভৃতি তাঁর চিরচেনা। এসব উপাদানের অল্পই উদ্দীপকে প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকে বাবুই পাখির বাসা এবং মেঘমালার প্রসঙ্গটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার খররৌদ্র জলজ বাতাসের বিপরীত। কবিতায় টলমল শিশিরের এবং কার্তিকের ধানের মঞ্জরির প্রসঙ্গও বৈসাদৃশ্যপূর্ণ। এসব দিক বিচারে তাই বলা যায় যে, প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

215

আসমানের তারা সাক্ষী

সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই

নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী

সাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী

পুবের পুকুর, তার ঝাকড়া ডুমুরের ডালে স্থির দৃষ্টি

মাছরাঙা আমাকে চেনে

আমি কোনো অভ্যাগত নই

খোদার কসম আমি ভিনদেশি পথিক নই

আমি কোনো আগন্তুক নই ।

আমি কোনো আগন্তুক নই, আমি

ছিলাম এখানে, আমি স্বাপ্নিক নিয়মে

এখানেই থাকি আর

এখানে থাকার নাম সর্বত্রই থাকা

সারা দেশে।

আমি কোনো আগন্তুক নই ৷

এই খর রৌদ্র জলজ বাতাস মেঘ ক্লান্ত বিকেলের

পাখিরা আমাকে চেনে

তারা জানে আমি কোনো অনাত্মীয় নই ।

কার্তিকের ধানের মঞ্জরী সাক্ষী

সাক্ষী তার চিরোল পাতার

টলমল শিশির – সাক্ষী জ্যোৎস্নার চাদরে ঢাকা

        নিশিন্দার ছায়া

অকাল বার্ধক্যে নত কদম আলী

তার ক্লান্ত চোখের আঁধার –

আমি চিনি, আমি তার চিরচেনা স্বজন একজন । আমি

জমিলার মা'র

শূন্য খা খা রান্নাঘর শুকনো থালা সব চিনি

সে আমাকে চেনে।

হাত রাখো বৈঠায় লাঙলে, দেখো

আমার হাতের স্পর্শ লেগে আছে কেমন গভীর । দেখো

মাটিতে আমার গন্ধ, আমার শরীরে

লেগে আছে এই স্নিগ্ধ মাটির সুবাস।

আমাকে বিশ্বাস করো, আমি কোনো আগন্তুক নই ।

দু'পাশে ধানের খেত

       সরু পথ

সামনে ধু ধু নদীর কিনার

আমার অস্তিত্বে গাঁথা । আমি এই উধাও নদীর

মুগ্ধ এক অবোধ বালক ৷
 

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews