একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সমপরিমাণ নগদ প্রবাহের ধারাকে -বার্ষিক বৃত্তি বলে।
বার্ষিক বৃত্তি দুই ধরনের হয়ে থাকে। যথা: সাধারণ বার্ষিক বৃত্তি ও অগ্রিম বার্ষিক বৃত্তি। বার্ষিক বৃত্তির প্রধান দু'টি শর্ত হলো বার্ষিক বৃত্তি হতে হলে একাধিক বার অর্থ প্রবাহের মধ্যবর্তী সময় এবং অর্থ প্রবাহের পরিমাণ সমান হতে হবে।
৪ বছর পর লতিফ সাহেব ব্যাংক থেকে মোট কত টাকা পাবেন তা জানার জন্য ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ণয়।
এখানে
টাকা টাকা টাকা টাকা মেয়াদকাল (n) = ৪ বছর, সুদের হার
(i) = ১৫% বা ০.১৫।
আমরা জানি
অসমপরিমাণ নগদ প্রবাহের ক্ষেত্রে অর্থের প্রবাহ নির্দিষ্ট সময়ের
শুরুতে হলে,
ভবিষ্যৎ মূল্য,
= ২,৪৮,৪৩০.১৯ টাকা
সুতরাং ব্যাংকের চক্রবৃদ্ধি সুদের হার ১৫% হলে ৪ বছর পর লতিফ সাহেব ব্যাংক থেকে মোট ২,৪৮,৪৩০.১৯ টাকা পাবেন।
লতিফ সাহেবের কিস্তি প্রদানকে বৃত্তি বলা যাবে না।
যদি প্রতি বছর বা নির্দিষ্ট সময় অন্তর সমপরিমাণ টাকা জমা দেওয়া হয় বা গ্রহণ করা হয় তবে তাকে বৃত্তি বলে। তবে অসমপরিমাণ অর্থের নগদ আন্তঃপ্রবাহ বা বহিঃপ্রবাহ হলে তখন তাকে মিশ্র নগদ প্রবাহ বলে।
উদ্দীপকের লতিফ সাহেব বসত বাড়ি উন্নয়নের জন্য এখন থেকেই আগাম ৪ বছরের প্রত্যেক বছরের শুরুতে যথাক্রমে ৩০,০০০ টাকা; ৪০,০০০ টাকা ৫০,০০০ টাকা এবং ৬০,০০০ টাকা ব্যাংকে জমা দেওয়ার জন্য মনস্থির করলেন। অর্থাৎ এখানে সময় নির্দিষ্ট হলেও প্রত্যেক বার নগদ জমাকৃত অর্থের পরিমাণ অসমান। তাই এ ধারাটি হলো একটি মিশ্র নগদ প্রবাহ।
বৃত্তি হওয়ার প্রধান দুটি শর্ত হলো অর্থপ্রবাহের পরিমাণ অবশ্যই সমান হতে হবে এবং অন্যটি হলো অর্থের প্রবাহের সময়ের ব্যবধানও সমান হতে হবে। এই শর্তদ্বয় পূরণ না হলে কোনো অর্থ প্রবাহকে বৃত্তি বলা যাবে না। উদ্দীপকের লতিফ সাহেব অর্থের বহিঃপ্রবাহ নির্দিষ্ট সময় অন্তর সমান নয়। অর্থাৎ এটি বৃত্তির প্রথম শর্তটিকে পূরণ করেনি। তাই নিঃসন্দেহে বলা যায়, লতিফ সাহেবের কিস্তি প্রদানকে বৃত্তি বলা যাবে না।
Related Question
View Allএকটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সমপরিমাণ নগদ প্রবাহের ধারাকে বৃত্তি বলে।
'বিধি ৬৯' বলতে অর্ধবার্ষিক চক্রবৃদ্ধিকরণের ক্ষেত্রে যে কোনো পরিমাণ বিনিয়োগকৃত অর্থ কত বছরে বা কত সুদের হারে দ্বিগুণ হবে তা সংক্ষেপে নির্ণয় করার কৌশলকে বোঝায়।
বিধি ৬৯' প্রয়োগ করে দুটি বিষয় নির্ণয় করতে পারি।
১. বিনিয়োগকৃত অর্থ কত বছরে দ্বিগুণ হবে:
২. বিনিয়োগকৃত অর্থ শতকরা কত সুদের হারে দ্বিগুণ হবে:
কার্যকরী সুদের হার নির্ণয় :
এখানে
সুদের হার (i) = ১২% বা, ০.১২
বছরে চক্রবৃদ্ধির সংখ্যা (m) = ১২
কার্যকরী সুদের হার (EAR) = কত?
আমরা জানি,
কার্যকরী সুদের হার (EAR) =
=
=
=
সুতরাং কার্যকরী সুদের হার ১২.৬৮%।
মেয়াদ শেষে নাহিন মোটর সাইকেলটি কিনতে সক্ষম হবে কিনা
তা জানার জন্য সোনালী ব্যাংকের ক্ষেত্রে ভবিষ্যৎ মূল্য নির্ণয় :
এখানে
বর্তমান মূল্য (PV) = ৭০,০০০ টাকা
মেয়াদকাল (n) = ৫ বছর
সুদের হার (i) = ১২% বা, ০.১২
বছরে চক্রবৃদ্ধির সংখ্যা (m) = ১২
আমরা জানি,
ভবিষ্যৎ মূল্য (FV) = PV
= ৭০,০০০
টাকা
লক্ষণীয় যে, সোনালী ব্যাংক থেকে ৫ বছর শেষে পাওয়া যাবে ১,২৭,১৬৮.৭৯ টাকা কিন্তু ৫ বছর শেষে মটর সাইকেল কিনতে প্রয়োজন হবে ১,৫০,০০০ টাকা। অর্থাৎ (১,৫০,০০০ – ১,২৭,১৬৮.৭৯) = ২২,৮৩১.২১ টাকার ঘাটতি থাকে। এমতাবস্থায় বলা যায়, মেয়াদ শেষে নাহিন মোটর সাইকেলটি কিনতে সক্ষম হবে না।
বর্তমানের নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ ভবিষ্যতের কোনো নির্দিষ্ট সময়ে সুদসহ যে মূল্য হবে তাকে অর্থের ভবিষ্যৎ মূল্য বলে।
প্রকৃত সুদের হার বলতে ঋণগ্রহীতা প্রকৃতপক্ষে যে হারে সুদ প্রদান করে তাকে বোঝায়।
প্রকৃত সুদের হার মূলত চক্রবৃদ্ধিকরণের সাথে জড়িত। বছরে চক্রবৃদ্ধির সংখ্যা বৃদ্ধি পেলে প্রকৃত সুদের হার বৃদ্ধি পায়। চক্রবৃদ্ধির সংখ্যা কমলে প্রকৃত সুদের হারও কমে। প্রকৃত সুদের হার নির্ণয়ের
সূত্রটি হলো : EAR =
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!