মহাকালের চিরন্তন স্রোতে সৃষ্ট সোনার ফসল টিকে থাকে।.
সোনার তরী' কবিতায় 'একখানি ছোটো খেত' বলতে মানুষের কর্মক্ষেত্র হিসেবে পৃথিবীকে বোঝানো হয়েছে।
আলোচ্য কবিতায় প্রতিটি অনুষঙ্গাই রূপক অর্থে ব্যবহৃত হয়েছে। সেখানে উল্লিখিত ছোটো খেতটি কৃষকের চাষাবাদের ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত হলেও এর গূঢ়ার্থ হলো পৃথিবী অর্থাৎ মানুষের কর্ম সম্পাদনের জায়গা। বস্তুত, প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে লড়াই করেই পৃথিবীতে মানুষতে কর্ম সম্পাদন করতে হয়। আলোচ্য কবিতাটিতে কবিগুরু মানুষের কর্মক্ষেত্র হিসেবে ঝঞ্ঝা-বিক্ষুদ্ধ এই সীমাবদ্ধ পৃথিবীকেই 'একখানি ছোটো খেত' বলে উপমিত করেছেন।
মৃত্যু অনিবার্য তার দিকটি তুলে ধরার সূত্রে 'সোনার তরী' কবিতা ও উদ্দীপকের মধ্যে সাদৃশ্য বিদ্যমান।
'সোনার তরী' কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবনদর্শন। মহাকালের স্রোতে ব্যক্তিমানুষ হারিয়ে যায়। কিন্তু বেঁচে থাকে মানুেেষরই সৃষ্ট সোনার ফসল। তাঁর ব্যক্তিসত্তা ও শারীরিক অস্তিত্বকে নিশ্চিতভাবে মহাকালের নিষ্ঠুর কালগ্রাসের শিকার হতে হয়।
উদ্দীপকে দেখা যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতায় ভারতীয় ভাববাদী দর্শন অবলীলায় জায়গা করে নিয়েছে। আধুনিক বিশ্বে বৈজ্ঞানিক চিন্তাতে কাজে লাগিয়ে মৃত্যুর সামনে বাঁধ দেওয়ার চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছেন। কারণ বিজ্ঞান মেনে নিয়েছে মৃত্যু অনিবার্য। তিনি তাঁর মৃত্যুচিন্তায় ডুবে যেতে যেতে কিছু একটা আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চান। আর এখানে তাঁর কর্মই তাঁকে বাঁচিয়ে রাখবে। 'সোনার তরী' কবিতায়ও কবি বলেছেন, মানুষের মৃত্যু অনিবার্য। আলোচ্য কবিতার এ দিকটির সঙ্গে উদ্দীপকের সাদৃশ্য রয়েছে।
মানুষের কর্মই পৃথিবীতে টিকে থাকে, ব্যক্তিমানুষ নয়'- 'সোনার তরী' কবিতা ও উদ্দীপকে এই অভিন্ন সত্যই প্রতিফলিত হয়েছে।
'সোনার তরী' কবিতায় বর্ষায় বৈরী পরিবেশে বিপদাপন্ন এক কৃষককে কেন্দ্র করে কবিতাটির ভাবসত্যকে ফুটিয়ে তুলেছেন কবি। সেখানে সোনার ধানরূপী কর্মফল নিয়ে অপেক্ষমান কৃষক মাঝিকে মিনতি করলে মাঝি তার সোনার ধান নিয়ে চলে যায়। কিন্তু কৃষককে নেয়নি। দেখা যাচ্ছে ব্যক্তির কর্মফল বড় কিন্তু ব্যক্তি নয়। উদ্দীপকে দেখা যায়, শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের কবিতায় ভারতীয় ভাববাদী দর্শম অবলীলায় জায়গা করে নিয়েছে। তিনি মৃত্যুচিন্তায় ডুবে যেতে যেতে কিছু একটা আঁকড়ে ধরে বাঁচতে চান। কিন্তু আধুনিক বিশ্বে মানুষ বৈজ্ঞানিক চিন্তাকে কাজে লাগিয়ে মৃত্যুর সামনে বাঁধ দেওয়ার শত চেষ্টা করেও ব্যর্থ হয়েছে। বিজ্ঞান মেনে নিয়েছে মৃত্যু অনিবার্য। তেমনি 'সোনার তরী' কবিতায়ও কবি বোঝাতে চেয়েছেন মৃত্যু এক নির্মম সত্য, যা অতিক্রম করা যায় না। 'সোনার তরী' কবিতায় নিবিড়ভাবে মিশে আছে কবির জীবনদর্শন। মহাকালের স্রোতে ব্যক্তিমানুষ হারিয়ে যায়। কিন্তু বেঁচে থাকে মানুষের কর্মফল। তাঁর ব্যক্তিসত্তা ও শারীরিক অস্তিত্বকে নিশ্চিতভাবে হতে হয় মহাকালের নিষ্ঠুর কালগ্রাসের শিকার। এখানে কর্মের মধ্য দিয়ে যে মানুষ বাঁচতে পারে তা ফুটিয়ে তুলেছেন। আর উদ্দীপকের কবিও কিছু, একটা আঁকড়ে বাঁচতে চান আর তা অসম্ভব। বস্তুত, ব্যক্তিমানুষকে কালের স্রোতে বিলীন হতেই হয়। মৃত্যুর অনিবার্যতার এ দিকটি তাই উদ্দীপকের ন্যায় 'সোনার তরী' কবিতায়ও তাৎপর্যপূর্ণভাবে ফুটে উঠেছে।
Related Question
View Allএকজন কৃষক দ্বীপসদৃশ ধানখেতে তার সােনার ফসল নিয়ে অপেক্ষা করছে। ঘন বর্ষা আর তীব্র সােতের কারণে তীরে যাওয়ারও কোনাে ভরসা নেই— এ কথা বােঝাতেই উক্তিটি করা হয়েছে। ‘সােনার তরী’ কবিতায় কবির জীবনদর্শন চিত্রায়িত হয়েছে।
কবিতায় একজন কৃষক তার ধান নিয়ে ক্ষুরের মতাে ধারালাে বর্ষার স্রোতে ঘেরা দ্বীপসদৃশ ধানখেতে নানা আশঙ্কা নিয়ে অপেক্ষা করছে। সে সেখানে নিঃসঙ্গ, কারও কোনাে দেখা নেই। আকাশে ঘন ঘন মেঘ গর্জন করছে। এমন বৈরী পরিবেশে কৃষকরূপী কবি নিজের নিঃসঙ্গতা ও ভরসাহীনতাকে বােঝাতে গিয়ে কূলে একা বসে আছি, নাহি ভরসা’ কথাটি বলেছেন। সারকথা : প্রশ্নোক্ত লাইনের মধ্য দিয়ে বৈরী পরিবেশে নিঃসঙ্গ এক কৃষকের ভরসাহীন অবস্থার কথা প্রকাশ পেয়েছে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!