শফিক তার বন্ধু সালামকে বলল, আমি মনে করি দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে। সালাম বলল, আমার মতে শক্তিশালী গোষ্ঠী দুর্বল গোষ্ঠীকে গ্রাস করে রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছে।

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

সামাজিক ব্যবস্থা হচ্ছে সমাজস্থ মানুষের এমন একটি সাংগঠনিক প্রক্রিয়া যা পরস্পরের সম্পর্ক, সহযোগিতা, প্রতিযোগিতা ও পরিবর্তনশীলতার মধ্য দিয়ে টিকে থাকে।।

উত্তরঃ

অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বলতে এমন একটি ব্যবস্থাকে বোঝায়, যার মধ্যে মানুষের সব অর্থনৈতিক কার্যাবলি অন্তর্ভুক্ত থাকে।

প্রত্যেকটি দেশের অর্থনৈতিক কার্যাবলি সে দেশের প্রতিষ্ঠানগত ও আইনগত কাঠামোর মধ্যে পরিচালিত হয়। এ প্রতিষ্ঠানগত ও আইনগত কাঠামোকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বলা হয়। অন্যভাবে বলা যায়, সমাজে মানুষের সম্পত্তির অধিকার, উৎপাদন, বিনিময়, বণ্টন, ভোগ প্রভৃতি বিষয়ে অর্থনৈতিক কার্যাবলি সম্পাদনে যে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে সে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোকে অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বলা হয়।

উত্তরঃ

শফিকের বক্তব্যে রাষ্ট্রের উৎপত্তিগত যে মতবাদের সমর্থন পাওয়া যায় তা হলো ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ।

ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদ অনুসারে রাষ্ট্র যুগ যুগ ধরে বিবর্তিত হতে হতে আজকের পর্যায়ে পৌঁছেছে। আর এ বিবর্তনের মূলে যেসব উপাদানগুলো কাজ করেছে তার মধ্যে বল প্রয়োগ, রাজনৈতিক চেতনা ইত্যাদি অন্যতম।

পরিবার থেকে গোষ্ঠী ও তা থেকে উপজাতির উদ্ভবের পর জনসংখ্যা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে প্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি সংগ্রহ ও অপরের ওপর প্রভাব বিস্তারের তাগিদে যুদ্ধ অবশ্যম্ভাবী ছিল। আর এ যুদ্ধের প্রয়োজনেই স্থায়ী ও শক্তিশালী নেতার উদ্ভব ঘটে। এ নেতা আবার যুদ্ধ জয়ের মাধ্যমে যখন নিজের অঞ্চলের বাইরে আরেকটি অঞ্চল তথা রক্ত সম্পর্কহীন বা ধর্মীয় সম্পর্কহীন জনগণের ওপর কর্তৃত্ব স্থাপন করে তখন ওই অঞ্চলে বসবাসকারী সবাই তার শাসনাধীন আসে। এভাবেই যুদ্ধ আর বিজয় আঞ্চলিকতার বন্ধনের ভিত্তিতে রক্ত ও ধর্মীয় বন্ধনের জায়গা দখল করে। আর এর মধ্য দিয়েই রাষ্ট্র ব্যবস্থার উৎপত্তি হয়েছে।

তাই বলা যায় যে, বিবর্তনের মাধ্যমেই রাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটেছে।

উত্তরঃ

শফিক মনে করে দীর্ঘ আন্দোলন ও সংগ্রামের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়েছে। আর সালাম মনে করে শক্তিশালী গোষ্ঠী দুর্বল গোষ্ঠীকে গ্রাস করে রাষ্ট্র সৃষ্টি করেছে।

রাষ্ট্রের উৎপত্তি মতবাদ সম্পর্কে শফিক ও সালামের এ মতামতের মধ্যে আমি শফিকের মতামতকে সমর্থন করি।

অতীতকালে মানুষ গোষ্ঠীহীন ও বিচ্ছিন্ন জীবনযাপন করতো। তখন তাদের মধ্যে গোষ্ঠীপ্রবণতা ছিল না। রক্তের বন্ধনের ওপর ভিত্তি করে মানুষ গোষ্ঠী গঠনে উজ্জীবিত হয়। গোষ্ঠী গঠনের ফলে মানুষের মাঝে জাগ্রত হয় ঐক্য ও সংহতিবোধ। প্রাচীনকালে মানুষ বর্বর ও অসভ্য ছিল। তখন মানুষ প্রকৃতির ওপর নির্ভরশীল ছিল। অস্তিত্ব রক্ষার প্রয়োজনে বর্বর ও অসভ্য মানুষের মধ্যে পরিবর্তন আসে। রাষ্ট্র সৃষ্টির পূর্বে মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতার কোনো বালাই ছিল না। পারস্পরিক সহযোগিতার মনোভাব গড়ে উঠতে থাকে। ফলে গড়ে ওঠে সমাজ ও রাষ্ট্র।

উপরিউক্ত আলোচনার মাধ্যমে আমরা বলতে পারি যে, ঐতিহাসিক বিবর্তনের ধারায় নানা উপাদানের কার্যকারিতার ফলে রাষ্ট্রের উৎপত্তি ঘটেছে। এজন্যে আমি রাষ্ট্রের উৎপত্তিতে ঐতিহাসিক বা বিবর্তনমূলক মতবাদকে সম্পূর্ণভাবে সমর্থন করি।

155

Related Question

View All
উত্তরঃ

সমাজস্থ কোনো ব্যক্তি, পরিবার বা গোষ্ঠীর মধ্যে সাম্যের অভাবই সামাজিক অসমতা।

অসমতা বলতে মূলত সমতার অভাবকে বোঝায়। মানুষের পদমর্যাদা, ক্ষমতা, সম্পদ, সুযোগ প্রভৃতির ভিত্তিতে সামাজিক ক্ষেত্রে সৃষ্ট অসম ও অনাকাঙ্ক্ষিত পার্থক্যই হলো সামাজিক অসমতা। মানবসমাজ বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে নানা বৈচিত্র্যময় বিষয়ের ভিত্তিতে বিভাজিত। মানবসমাজের এ বৈচিত্র্যপূর্ণ বিভাজন সমাজজীবনের প্রায় প্রতিটি ক্ষেত্রে লক্ষ করা যায়।

7.5k
উত্তরঃ

উদ্দীপকে ধর্ম নামক সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানকে ইঙ্গিত করা হয়েছে।

মানবসমাজে ধর্ম একটি গুরুত্বপূর্ণ ও সর্বজনীন প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচিত। এর ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো 'Religion' যার অর্থ বন্ধন বা সংহতি। ধর্মের ভিত্তি হচ্ছে বিশ্বাস। এ দৃষ্টিকোণ থেকে বলা যায়, ধর্ম হলো এমন একটি ধারণা যা কোনো একটি বিশেষ শক্তিধর সত্তায় বিশ্বাস স্থাপনের মাধ্যমে অভিন্ন ধারণা পোষণকারীদের ঐক্যবদ্ধ ও সংঘবদ্ধ করে রাখে। নৃবিজ্ঞানী জেমস ফ্রেজার বলেন, "ধর্ম হচ্ছে অলৌকিক শক্তিতে বিশ্বাস। আর এ শক্তি মানবজীবন ও প্রকৃতির ধারাকে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করে।" সমাজবিজ্ঞানী ম্যাকাইভার বলেন, "ধর্ম কেবল মানুষের মধ্যে সম্পর্ক সৃষ্টি করে তা নয়, ধর্ম মানুষ ও অন্য কোনো উর্ধ্ব শক্তির মধ্যে সম্পর্কের সৃষ্টি করে।" মানব সমাজের বিভিন্ন পাঠে বিভিন্ন স্থানে ধর্মের বিচিত্র রূপ লক্ষ করা যায়। প্রাচীনকাল হতেই মানুষ কোনো শক্তির ওপর ভয় ও বিশ্বাস স্থাপন করে মনস্তাত্ত্বিক পরিতৃপ্তির সাথে ধর্মীয় কর্মকাণ্ড সম্পাদন করে আসছে। বিপদ আপদ হতে মুক্তি পাবার আশায় মানুষ প্রার্থনা করছে। আর এ প্রার্থনাকে কেন্দ্র করে ইহজাগতিক মুক্তির লক্ষ্যে নির্মিত সংস্কৃতি থেকেই ধর্মের উৎপত্তি।

উপরের আলোচনা ও ধর্মের সংজ্ঞা থেকে প্রতীয়মান হয় যে, উদ্দীপকে ধর্ম নামক সর্বজনীন প্রতিষ্ঠানকেই ইঙ্গিত করা হয়েছে।

350
উত্তরঃ

মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই উক্ত প্রতিষ্ঠান তথা ধর্ম; সামাজিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে- আমি এ উক্তির সাথে একমত।

ধর্মের একটি সামাজিক দিক রয়েছে। সামাজিক সংহতি, সম্প্রীতি ও ভ্রাতৃত্বের মধ্য দিয়ে ধর্ম তার সামাজিক ভূমিকা পালন করে থাকে। ব্যক্তি মানুষের আচার-আচরণ এবং সমাজজীবনের ধারা ধর্মীয় অনুশাসনের দ্বারা বিশেষভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়। প্রকৃতপক্ষে, ধর্মীয় অনুশাসনের প্রত্যক্ষ ও প্রচ্ছন্ন প্রভাব সামাজিক ব্যক্তিবর্গের পারিবারিক ও গোষ্ঠীজীবনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে ছড়িয়ে আছে। বিশেষ করে মানুষের প্রাত্যহিক জীবনধারার ওপর ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব অপরিসীম। ধর্ম মানুষকে নীতিবান করে তুলে এবং সামাজিক বিধি-নিষেধ মেনে চলতে উৎসাহিত করে। ধর্মীয় শিক্ষার মাধ্যমে মানুষ তার অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌছাতে পারে। ধর্মীয় আচার- অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এক ভাবগম্ভীর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এর ফলে মানুষের আচার-ব্যবহার স্বভাবতই সংযত হয়ে পড়ে। ধর্ম বিশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে মানুষের মনে উদয় হয় ভয় মিশ্রিত এক শ্রদ্ধা-ভক্তির মনোভাব। এই মনোভাবের ভিত্তিতে ব্যক্তি মানুষ তার বাহ্যিক আচার-আচরণকে সংযত ও নিয়ন্ত্রণ করতে বাধ্য হয়। সমগ্র সমাজকে নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রেও ধর্মের ভূমিকা বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ধর্মীয় অনুশাসনের প্রভাব ও প্রতিক্রিয়া সমাজজীবনের প্রায় সকল ক্ষেত্রেই পরিলক্ষিত হয়। তাই বলা যায় যে, মানব সৃষ্টির শুরু থেকেই ধর্ম সামাজিক নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে। আর এ কারণেই আমি প্রশ্নোল্লিখিত উক্তির সাথে সহমত পোষণ করি।

303
উত্তরঃ

মানবসৃষ্ট সবকিছুর সমষ্টিই হলো সংস্কৃতি।

315
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews