উত্তরঃ
পদাশ্রিত নির্দেশক: যে সকল অব্যয়বাচক শব্দাংশ পদের পরে যুক্ত হয়ে পদটিকে নির্দিষ্টতা দান করে, সেগুলোকে পদাশ্রিত নির্দেশক বলে। যেমন: -টি, -টা, -খানা, -খানি, -গাছি।
বচনের চিহ্ন: যে সকল শব্দাংশ বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সংখ্যাগত ধারণা (একবচন বা বহুবচন) প্রকাশ করে, সেগুলোকে বচনের চিহ্ন বলে। যেমন: -গুলি, -গুলো, -বৃন্দ, -গণ, -দল।
বিভক্তি: যে সকল বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি নামপদ বা ক্রিয়াপদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে কারকভেদে পদগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক স্থাপন করে, সেগুলোকে বিভক্তি বলে। যেমন: -কে, -রে, -এ, -য়, -তে, -দ্বারা, -দিয়ে।
বলক: বাংলা ব্যাকরণের প্রমিত পরিভাষাগুলোতে 'অর্থহীন শব্দাংশ' হিসেবে 'বলক' নামক কোনো সুনির্দিষ্ট বা বহুল প্রচলিত ব্যাকরণিক উপাদান নেই, যা পদাশ্রিত নির্দেশক, বচনের চিহ্ন বা বিভক্তির মতো পদ বা বাক্যে নির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করে।
বাংলা ব্যাকরণে শব্দের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ধরনের অর্থহীন শব্দাংশ রয়েছে যা শব্দের অর্থ পরিবর্তন না করে তার ব্যাকরণিক রূপ বা পদগত কার্যকারিতা পরিবর্তন করে। এগুলোকে সাধারণত রূপমূল (Morpheme) বা ব্যাকরণিক প্রত্যয় (Grammatical Affixes) হিসেবে গণ্য করা হয়। প্রশ্নে উল্লিখিত এই শব্দাংশগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
-
পদাশ্রিত নির্দেশক (Definite Articles/Post-positional Particles):
পদাশ্রিত নির্দেশক হলো এক প্রকার অব্যয়বাচক শব্দাংশ যা বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের পরে বসে সেই পদটিকে নির্দিষ্টতা দান করে। এর নিজস্ব কোনো শাব্দিক অর্থ নেই, তবে এটি শব্দের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বস্তু বা ব্যক্তির সংখ্যা, প্রকার বা নির্দিষ্টতা প্রকাশে সহায়তা করে। এগুলো বাংলা ভাষার অন্যতম বৈশিষ্ট্য।
উদাহরণ:
- একবচনে: -টি, -টা, -খানা, -খানি, -গাছি, -গাছা, -টুকু, -টুকুন। (যেমন: বইটি, লোকটা, একখানা কাপড়, ছাগলটি)
- বহুবচনে: -গুলো, -গুলি। (যেমন: বইগুলো, লোকগুলি)
পদাশ্রিত নির্দেশক অনেক সময় সংখ্যাবাচক বিশেষণের সঙ্গে যুক্ত হয়ে পরিমাণও নির্দেশ করে। যেমন: দুটি, তিনটে, পাঁচজন।
-
বচনের চিহ্ন (Number Markers):
বচনের চিহ্ন হলো সে সকল শব্দাংশ যা বিশেষ্য বা সর্বনাম পদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে তার সংখ্যাগত ধারণা প্রকাশ করে। অর্থাৎ, একটি বস্তুকে নির্দেশ করছে (একবচন) নাকি একাধিক বস্তুকে নির্দেশ করছে (বহুবচন), তা বোঝায়। বাংলা ভাষায় প্রাণীবাচক ও অপ্রাণীবাচক বিশেষ্যের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন বচনের চিহ্ন ব্যবহৃত হতে পারে।
উদাহরণ:
- প্রাণীবাচক বহুবচনে: -গণ, -বৃন্দ, -দল, -মণ্ডলী। (যেমন: ছাত্রগণ, শিক্ষকবৃন্দ, পক্ষিদল, দেবমণ্ডলী)
- অপ্রাণীবাচক বহুবচনে: -সমূহ, -সব, -কুল, -রাজি, -মালা, -পুঞ্জ, -দাম, -নিকর। (যেমন: পর্বতসমূহ, তারকারাজি, মেঘমালা, কুসুমপুঞ্জ)
উল্লেখ্য, বাংলা ভাষায় অনেক সময় পদাশ্রিত নির্দেশক (-গুলো, -গুলি) বচনের চিহ্ন হিসেবেও কাজ করে। যেমন: বইগুলো, মানুষগুলি।
-
বিভক্তি (Case Endings):
বিভক্তি হলো সে সকল বর্ণ বা বর্ণসমষ্টি যা নামপদ (বিশেষ্য, বিশেষণ, সর্বনাম) এবং ক্রিয়াপদের সঙ্গে যুক্ত হয়ে বাক্যের অন্য পদের সঙ্গে তার সম্পর্ক স্থাপন করে। বিভক্তি সাধারণত পদের কারক এবং ক্রিয়ার কাল, পুরুষ ও বচন নির্দেশ করে। বিভক্তি না থাকলে বাক্যের পদগুলোর মধ্যে অর্থপূর্ণ সম্পর্ক স্থাপিত হয় না।
উদাহরণ:
- নামপদের বিভক্তি (কারক বিভক্তি): প্রথমা (০/অ), দ্বিতীয়া (-কে, -রে), তৃতীয়া (-দ্বারা, -দিয়ে, -কর্তৃক), চতুর্থী (-কে, -রে), পঞ্চমী (-হতে, -থেকে, -চেয়ে), ষষ্ঠী (-র, -এর), সপ্তমী (-এ, -য়, -তে)। (যেমন: ছেলকে দাও, লাঠি দিয়ে মারো, বাড়ি থেকে এলে)
- ক্রিয়াপদের বিভক্তি (ক্রিয়া বিভক্তি): -ই, -ছ, -ব, -লাম, -ছেন ইত্যাদি। (যেমন: করি, করছ, করবো, করেছিলাম, করছেন)।
বিভক্তি পদের অর্থ পরিবর্তন না করে শুধুমাত্র তার ব্যাকরণিক ভূমিকা নির্ধারণ করে।
-
বলক (Bolok):
বাংলা ব্যাকরণের প্রমিত পরিভাষাগুলোতে 'অর্থহীন শব্দাংশ' হিসেবে 'বলক' নামক কোনো সুনির্দিষ্ট বা বহুল প্রচলিত ব্যাকরণিক উপাদান নেই, যা পদাশ্রিত নির্দেশক, বচনের চিহ্ন বা বিভক্তির মতো পদ বা বাক্যে সুনির্দিষ্ট কার্য সম্পাদন করে। বিভিন্ন ব্যাকরণবিদদের প্রচলিত গ্রন্থেও এই পদের ব্যবহার অত্যন্ত বিরল। যদি এটি কোনো বিশেষ প্রামাণ্য গ্রন্থ বা গবেষণাপত্রের অংশ হয়, তবে সেক্ষেত্রে এর সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা ও প্রয়োগ থাকতে পারে। তবে সাধারণ বা একাডেমিক বাংলা ব্যাকরণে এটি স্বীকৃত পরিভাষা নয়। প্রশ্নটিতে উল্লিখিত এই পদটি হয়তো কোনো বিশেষ প্রেক্ষাপট, আঞ্চলিক ব্যবহার, বা অপ্রচলিত পরিভাষাকে নির্দেশ করছে অথবা এটি একটি ভুল প্রয়োগ।