উত্তরঃ
শব্দ দূষণ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর নিম্নোক্ত ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে-
প্রথমত, শব্দ দূষণ মানুষের শ্রবণশক্তির ওপর সরাসরি ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে। দীর্ঘদিন উচ্চমাত্রার শব্দের শব্দের সংস্পর্শে থাকলে কানের অভ্যন্তরীণ সংবেদনশীল কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, ফলে শ্রবণক্ষমতা হ্রাস পায় এবং স্থায়ী বধিরতাও দেখা দিতে পারে।
দ্বিতীয়ত, শব্দ দূষণ মানসিক স্বাস্থ্যকে মারাত্মক ভাবে প্রভাবিত করে। অতিরিক্ত শব্দ মানুষের মধ্যে বিরক্তি, উদ্বেগ, মানসিক চাপ, অস্থিরতা ও হতাশা সৃষ্টি করে। দীর্ঘমেয়াদে এটি বিষণ্ণতা, আচরণগত সমস্যা এবং মানসিক ভারসাম্যহীনতার কারণ হতে পারে। শব্দের কারণে মানুষের ধৈর্য ও সহনশীলতাও কমে যায়।
তৃতীয়ত, শব্দ দূষণ ঘুমের ব্যাঘাত ঘটায়, যা নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির জন্ম দেয়। পর্যাপ্ত ও নিরবচ্ছিন্ন ঘুমের অভাবে ক্লান্তি, অবসাদ, কর্মক্ষমতা হ্রাস, স্মৃতিশক্তির দুর্বলতা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। দীর্ঘমেয়াদি অনিদ্রা হৃদরোগ ও অন্যান্য জটিল রোগের ঝুঁকি বৃদ্ধি করে।
চতুর্থত, শব্দ দূষণ হৃদ্রোগ ও রক্তচাপজনিত সমস্যার অন্যতম কারণ। অতিরিক্ত শব্দের ফলে শরীরে স্ট্রেস হরমোনের নিঃসরণ বৃদ্ধি পায়, যা উচ্চ রক্তচাপ, হৃদস্পন্দনের অস্বাভাবিকতা, হৃদ্রোগ এবং স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।
পঞ্চমত, শব্দ দূষণ শিক্ষা ও কর্মক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। শিক্ষার্থীদের মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি কমে যায়, ফলে শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। কর্মক্ষেত্রে মনঃস মনঃসংযোগে ব্যাঘাত ঘটায়, ভুলের পরিমাণ বাড়ায় এবং উৎপাদনশীলতা হ্রাস করে।
ষষ্ঠত, শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের ওপর শব্দ দূষণের প্রভাব আরও বেশি। শিশুদের বুদ্ধিবৃত্তিক বিকাশ, ভাষা শিক্ষা ও শেখার ক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে বয়স্ক ব্যক্তিদের মানসিক ও শারীরিক সমস্যার তীব্রতা বৃদ্ধি পায়।
সর্বোপরি, শব্দ দূষণ একটি নীরব ঘাতক হিসেবে মানবস্বাস্থ্যের জন্য গুরুতর হুমকি সৃষ্টি করছে। তাই কঠোর আইন প্রয়োগ, সচেতনতা বৃদ্ধি, অপ্রয়োজনীয় হর্ন ব্যবহার বন্ধ, শিল্প ও আবাসিক এলাকার সুষ্ঠু পরিকল্পনা এবং পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণ করা অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং টেকসই নগর পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব।