গুপ্ত যুগ থেকে আমাদের দেশের বিস্তারিত ইতিহাস জানা যায়।
ভারতের দাক্ষিণাত্যের কর্ণাটক থেকে পালদের সেনাবাহিনীতে চাকরি করার জন্য বাংলায় এসেছিল সেনরা। দুর্বল পাল রাজা মদনপালকে পরাজিত করে বিজয় সেন ক্ষমতা দখল করেন। তারপর রাজা ছিলেন বল্লাল সেন ও লক্ষণ সেন।
উদ্দীপকে শাকিলের দেখা এলাকা বা নগরটি নরসিংদী জেলা উয়ারী-বটেশ্বরে অবস্থিত।
ইতিহাস পাঠে জানা যায়, নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বরে তাম্র-প্রস্তর যুগের গর্ত-বসতির চিহ্ন আবিষ্কৃত হয়েছে। এখানে খননকার্যের মাধ্যমে প্রাগৈতিহাসিক যুগের হাতিয়ার যেমন- পাথর ও কাঠের হাতকুঠার, বাটালি, তীরের ফলক প্রভৃতি আবিষ্কৃত হয়েছে।
ঐতিহাসিকরা উয়ারী-বটেশ্বরের এ নগরীটিকে ভারত উপমহাদেশের দ্বিতীয় নগর সভ্যতার নিদর্শন বলে উল্লেখ করেছেন।
উদ্দীপকে শাকিল যে এলাকায় বেড়াতে গিয়েছিল সেখানে তাম্র-প্রস্তর যুগের গর্ত-বসতির চিহ্ন আবিষ্কৃত হয়েছে। এটি ভারত উপমহাদেশের দ্বিতীয় নগর সভ্যতার নিদর্শন এবং এটি আড়াই হাজার বছরের পুরানো। এসব বৈশিষ্ট্যই নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বরের নিদর্শনের বৈশিষ্ট্য। অতএব বলা যায়, শাকিলের দেখা এলাকা বা নগরী নরসিংদীর উয়ারী-বটেশ্বর।
শাকিলের দেখা নগরটির অনুরূপ বাংলাদেশের আরেকটি নগর হলো পুন্ড্রনগর।
পুণ্ড্রনগর খ্রিষ্টপূর্ব চতুর্থ শতকে গড়ে উঠেছিল। এটি বগুড়ার বরেন্দ্রভূমি মহাস্থানগড়ে অবস্থিত। মহাস্থানগড়ের ধ্বংসাবশেষ বাংলাদেশের সমাজ ও সভ্যতার ইতিহাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎস। এখান থেকে আবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনসমূহের মাধ্যমে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় তথা সামগ্রিক জীবনধারা সম্পর্কে একটি ধারণা পাওয়া যায়। মহাস্থানগড়ের প্রধান প্রত্নতাত্ত্বিক ধ্বংসাবশেষের মধ্যে রয়েছে বৈরাগী ভিটা, গোবিন্দ ভিটা, খোদাই পাথর ভিটা, পরশুরামের প্রাসাদ, মানকালীর কুণ্ডু, জীয়ৎ কুণ্ডু, শীলাদেবীর ঘাট, লক্ষ্মীন্দরের মেধ প্রভৃতি।
উদ্দীপকে শাকিলের দেখা নগর সভ্যতাটি উয়ারী-বটেশ্বরে অবস্থিত, যা ভারত উপমহাদেশের দ্বিতীয় নগর সভ্যতার নিদর্শন। তেমনি তার দেখা নগরটির অনুরূপ বাংলাদেশের আরেকটি নগর হলো- বগুড়ার মহাস্থানগড়ে অবস্থিত পুন্ড্রনগর।
Related Question
View Allপাল বংশের সম্রাট ধর্মপাল ৫০টি বৌদ্ধবিহার নির্মাণ করেন।
সাধারণ অর্থে টোল বলতে বোঝায় চতুষ্পাঠী, সংস্কৃত ব্যাকরণ ও শাস্ত্রাদি অধ্যয়নের পাঠশালা। প্রাচীন বাংলাদেশে হিন্দুদের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানকে বলা হতো টোল। টোলের প্রধান পাঠ্য বিষয় ছিল হিন্দু ধর্মগ্রন্থ পাঠদান করা।
তথ্য-১ এর মতো প্রাচীন বাংলাদেশের গৌরবময় ক্ষেত্রটি কৃষি।
প্রাচীন যুগে বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল কৃষিনির্ভর। এ সময় কৃষিতে উদ্বৃত্ত ছিল। ধান ছিল প্রধান ফসল। প্রচুর আখও উৎপাদন হতো। আখ থেকে উৎপাদিত গুড় ও চিনির খ্যাতি ছিল। এই গুড় ও চিনি বিদেশে রপ্তানি হতো। তুলা, সরিষা ও পান চাষের জন্যও বাংলাদেশের খ্যাতি ছিল। নারিকেল, সুপারি, আম, কাঁঠাল, কলা, ডুমুর প্রভৃতি ফলের কথাও জানা যায়।
উদ্দীপকের তথ্য-১ এ প্রধান ফসল হিসেবে প্রচুর পরিমাণে ধান উৎপাদনের কথা বলা হয়েছে এবং রপ্তানিকৃত দ্রব্য হিসেবে চিংড়ি ও ব্যাঙের কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকের এসব তথ্যে বাংলাদেশের আধুনিক যুগের কৃষি খাতের তথ্য ফুটে উঠেছে; যা প্রাচীন বাংলাদেশের গৌরবময় কৃষি ক্ষেত্রের সাথে সংগতিপূর্ণ।
তথ্য-২ এ উল্লিখিত বিষয়গুলো প্রাচীন বাংলাদেশের গৌরবের সাথে সাদৃশ্যপূণ- উক্তিটির সাথে আমি একমত।
প্রাচীন বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল সমৃদ্ধ ও গৌরবময়। সে সময় বাংলাদেশের অর্থনীতি ছিল কৃষিনির্ভর। তখন কৃষিতে উদ্বৃত্ত ছিল। আখ থেকে উৎপাদিত চিনি ও গুড়ের বেশ খ্যাতি ছিল এবং এসব দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি হতো। প্রাচীন যুগ থেকেই তাঁতিরা মিহি সুতি ও রেশমি কাপড় বুননে পারদর্শী ছিল। তাঁতিদের উৎপাদিত মসলিন কাপড় পৃথিবী বিখ্যাত ছিল এবং এসব কাপড় বিদেশে রপ্তানি হতো। কৃষিতে উদ্বৃত্ত হওয়ায় এবং শিল্পক্ষেত্রে উৎপাদন বাড়ায় ব্যবসা-বাণিজ্যে বিকাশ লাড় করে। ভারতবর্ষের বিভিন্ন বন্দর ছাড়াও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া ও ভূমধ্যসাগর অঞ্চলে যেত তৎকালীন বাংলাদেশের পণ্য।
উদ্দীপকের তথ্য-২ এ আকাশপথে আমেরিকায় তৈরি পোশাক রপ্তানির কথা বলা হয়েছে এবং পাটজাত দ্রব্যের বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হওয়ার কথা বলা হয়েছে। উদ্দীপকে উল্লিখিত এসব বিষয় প্রাচীন বাংলাদেশের বিভিন্ন দ্রব্য বিদেশে রপ্তানি ও তখনকার ব্যবসা-বাণিজ্য বিকাশের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। সুতরাং বলা যায়, প্রশ্নে উল্লিখিত উক্তিটি যথার্থ।
মাৎস্যন্যায় হলো এমন এক রাজনৈতিক পরিস্থিতি, যেখানে শক্তিশালী দুর্বলকে শোষণ করে এবং আইনশৃঙ্খলা ভেঙে পড়ে।
সমতট অঞ্চল হলো বাংলাদেশে দক্ষিণ-পূর্ব অঞ্চলের একটি প্রাচীন জনপদ। এই অঞ্চলটি বর্তমানে কুমিল্লা এবং বিক্রমপুরের অন্তর্ভুক্ত ছিল। খড়গ, দেব, চন্দ্র এবং বর্ম রাজবংশ এই অঞ্চলে শাসন করতেন। এটি বৌদ্ধ ধর্ম ও সংস্কৃতির গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল। চীনা পরিব্রাজক হিউয়েন সাঙ এখানে ৩০টির মতো বৌদ্ধবিহারের কথা উল্লেখ করেছেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!