শাফিন আহম্মেদ একজন জিন প্রকৌশলী। তিনি অল্প সময়ে একটি পদ্ধতির মাধ্যমে জুঁই সাস্পেনসান থেকে সুগন্ধি আতর তৈরি করেন যা পরবর্তীতে বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন করে অর্থনৈতিকভাবে অনেক লাভবান হন।

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

ছেদনকৃত DNA সংযুক্ত করতে ব্যবহৃত এনজাইমই হলো লাইগেজ এনজাইম বা DNA লাইগেজ।

উত্তরঃ

যে বিশেষ প্রযুক্তির মাধ্যমে জীবের যেকোনো কোষ, অণুজীব বা তার অংশবিশেষ ব্যবহার করে নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব তৈরি করা হয় তাকে জীবপ্রযুক্তি বলে। জীবপ্রযুক্তি দু'টি শব্দ Biology এবং Technology এর সমন্বয়ে গঠিত। Biology শব্দের অর্থ জীব সম্পর্কে বিশেষ জ্ঞান এবং Technology শব্দের অর্থ প্রযুক্তি। অর্থাৎ Biology এবং Technology- র আন্তঃসম্পর্কিত বিষয়ই হলো জীবপ্রযুক্তি। ১৯১৯ সালে হাঙ্গেরীয় প্রকৌশলী Karl Ereky সর্বপ্রথম Biotechnology (জীবপ্রযুক্তি) শব্দটি প্রবর্তন করেন। বিজ্ঞানের অগ্রযাত্রায় জীবপ্রযুক্তির গুরুত্ব অপরিসীম।

উত্তরঃ

উদ্দীপকে শাফিন আহম্মেদের প্রয়োগকৃত পদ্ধতিটি হলো টিস্যু কালচার। নিচে এর ধাপসমূহ ব্যাখ্যা করা হলো-

উত্তরঃ

উদ্দীপকে শাফিন আহম্মেদ টিস্যু কালচারের মাধ্যমে সাফল্য লাভ করেন। বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নে তার এই সাফল্য অর্থাৎ টিস্যু কালচার প্রযুক্তির গুরুত্ব অত্যধিক। নিচে তা বিশ্লেষণ করা হলো-
টিস্যু কালচার প্রযুক্তির কৌশলকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভিদের প্রজননের ক্ষেত্রে এবং উন্নত জাত উদ্ভাবনে ব্যাপক সাফল্য পাওয়া গেছে। টিস্যু কালচারের মাধ্যমে উদ্ভিদাংশ থেকে কম সময়ের মধ্যে একই বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন অসংখ্য চারা সৃষ্টি করা যায়। এতে বীজ থেকে চারা উৎপাদনের ফলে অনেক ক্ষেত্রে অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে হয়। টিস্যু কালচার প্রযুক্তি ব্যবহার করে ঋতুভিত্তিক চারা উৎপাদনের সমস্যা এড়ানো যায় বলে অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হওয়া যায়। প্রাকৃতিকভাবেও টিস্যু কালচার প্রযুক্তির মাধ্যমে লাভবান হওয়া যায়। অনেক উদ্ভিদ আছে যাদের প্রাকৃতিকভাবে জননের হার কম, টিস্যু কালচার পদ্ধতি প্রয়োগ করে দ্রুত তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করা যায়। এভাবে যে সকল উদ্ভিদ বিলুপ্তির হুমকিতে রয়েছে তাদের সংখ্যা বৃদ্ধি করে প্রাকৃতিক জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা যায়।
আবার বাণিজ্যিক ক্ষেত্রে টিস্যু কালচার পদ্ধতির প্রয়োগ অনেক সাফল্য বয়ে আনতে পারে। যে সকল উদ্ভিদ বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সেসবের দ্রুত সংখ্যাবৃদ্ধি ও তার থেকে আহরিত দ্রব্য সমূহ রপ্তানী করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা সম্ভব। বাণিজ্যিক উদ্ভিদ যেমন- ডালজাতীয় শস্য, বাদাম, পাট ইত্যাদির দ্রুত উৎপাদনেও টিস্যু কালচার পদ্ধতির প্রয়োগ করা যেতে পারে। উপরোক্ত আলাচনা প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, টিস্যু কালচার প্রযুক্তিকে কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়ন করা সম্ভব।

98
বাংলাদেশের জুট জিনোম প্রকল্প পাটের জীবন রহস্য উন্মোচন করে উদ্ভাবন করেছে পাটের নতুন জাত রবি-১

জীবপ্রযুক্তি বা বায়োটেকনোলজি (Biotechnology) জীববিজ্ঞানের একটি ফলিত (Applied) শাখা। বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকেই বংশপতিবিদ্যা নানাভাবে বিকাশ লাভ করতে থাকে। নানা তথ্যে সমৃদ্ধ হতে থাকে এর ভান্ডার। বংশগতির একক বা জিনের উপাদানের প্রকৃতি, রাসায়নিক এবং অণুর পঠন ও জৈবনিক প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের পদ্মতিগুলো আবিষ্কৃত হওয়ার পর একটা জীবকোষ থেকে জিন আরেকটা জীবকোষে প্রতিস্থাপন করা যায়, সেটি নিয়ে জীববিজ্ঞানীরা গবেষণা শুরু করলেন। স্থাপিত হলো জীবপ্রযুক্তি (Biotechnology) নামে জীববিজ্ঞানের নতুন এক শাখা।
বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখার বাস্তব সমস্যা সমাধানে এবং মানুষের স্বাস্থ্য উন্নয়নে, উন্নততর ফসল সৃষ্টিতে, ফসলের মান এবং পরিমাণ বৃদ্ধিতে, পরিবেশ সংরক্ষণে এই প্রযুক্তি ব্যাপক সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছে। এই অধ্যায়ে আমরা এই প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার চেষ্টা করব।

এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা-
• জীবপ্রযুক্তির ধারণা ও গুরুত্ব ব্যাখ্যা করতে পারব।
• টিস্যু কালচার ব্যাখ্যা করতে পারব।
• শস্য উৎপাদনে টিস্যু কালচারের ব্যবহার বর্ণনা করতে পারব।
•জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে পারব।
• শস্য উৎপাদনে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবহার বর্ণনা করতে পারব।
• ইনসুলিন এবং হরমোন উৎপাদনে জেনিটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবহার বর্ণনা করতে পারব।
• জীবপ্রযুক্তির উপযোগিতা মূল্যায়ন করতে পারব।
• পশুর রোগ নিরাময়ে জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবহার বর্ণনা করতে পারব।
• জীবপ্রযুক্তি ও জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ব্যবহারের বিষয়ে পোস্টার অঙ্কন করতে পারব।
• আমাদের প্রতিদিনের জীবনে জীবপ্রযুক্তির অবদান উপলব্ধি করতে পারব।

Related Question

View All
উত্তরঃ

যে প্রযুক্তি প্রয়োগে কোনো জীবকোষ, অণুজীব বা তার অংশবিশেষ ব্যবহার করে নতুন কোনো বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন জীব এর উদ্ভাবন বা উক্ত জীব থেকে প্রক্রিয়াজাত বা উপজাত দ্রব্য প্রস্তুত করা হয় তাকে জীব প্রযুক্তি বলে।

436
উত্তরঃ

GMO এর পূর্ণ রূপ হলো Genetically Modified Organism. জিন প্রকৌশলের মাধ্যমে রিকম্বিনেন্ট DNA প্রস্তুত করা হয়। এর মাধ্যমে DNA-এর কাঙ্ক্ষিত অংশ ব্যাকটেরিয়া থেকে মানুষে, উদ্ভিদ থেকে প্রাণীতে, প্রাণী থেকে উদ্ভিদে স্থানান্তর করা সম্ভব হয়েছে। জিনগত পরিবর্তিত নতুন বৈশিষ্ট্যসম্পন্ন এই জীবকে বলা হয় GMO.

565
উত্তরঃ

ড. হায়দার নিজের গবেষণার সাহায্য নিয়ে জঙ্গলের গাছটির রোগ প্রতিরোধী জিন তার বাগানের গাছের মধ্যে প্রবেশ কবিয়ে নতুন রোগ প্রতিরোধী উন্নত ফলনশীল জাতের লেবু গাছ পেতে সক্ষম হলেন।
ড. হায়দার সাহেবকে লেবু গাছের জাত উন্নয়নের জন্য নিম্নলিখিত ল্যাবরেটরি কৌশল অবলম্বন করতে হবে:
i. কাঙ্খিত DNA (রোগ প্রতিরোধী জিন) নির্বাচন।
ii. একটি বাহক নির্বাচন, যার মাধ্যমে কাঙ্খিত DNA খণ্ডটি স্থানান্তর সম্ভব।
iii. নির্দিষ্ট স্থানে DNA অণুকে ছেদন করার জন্য প্রয়োজনীয় রেস্ট্রিকশন এনজাইম নির্বাচন।
iv. ছেদনকৃত DNA খণ্ডসমূহ সংযুক্ত করার জন্য DNA লাইগেজ এনজাইম নির্বাচন।
v. কাঙ্খিত DNA সহ বাহক DNA এর অনুলিপনের জন্য একটি পোষক নির্বাচন।
vi. কাঙ্খিত DNA খণ্ড সমন্বয়ে প্রস্তুতকৃত রিকম্বিনেন্ট DNA এর বহিঃপ্রকাশ মূল্যায়ন।
অতঃপর টিস্যু কালচারের মাধ্যমে নতুন উন্নত জাতের উদ্ভিদের সংখ্যা বৃদ্ধি করতে হবে এবং বাইরের পরিবেশে স্থানান্তর করতে হবে।

304
উত্তরঃ

টিস্যু কালচার প্রযুক্তির কৌশলকে কাজে লাগিয়ে বর্তমানে উদ্ভিদ প্রজননের ক্ষেত্রে এবং উন্নত জাত উদ্ভাবনে ব্যাপক সাফল্য পাওয়া গেছে। জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং এর মাধ্যমে যে নতুন বৈশিষ্ট্যের উদ্ভিদ জাতের উদ্ভাবন করা হয় তার সংখ্যাবৃদ্ধির জন্য ল্যাবরেটরিতে এই পদ্ধতি প্রয়োগ করতে হয়। তাই ড. হায়দারও তার উদ্ভাবিত উন্নত ফলনশীল লেবুগাছটির সংখ্যাবৃদ্ধির জন্য টিস্যু কালচার পদ্ধতি অবলম্বন করলেন। ড. হায়দার এই প্রক্রিয়ায় চারা তৈরির মাধ্যমে নিম্নলিখিত সুবিধাদি নিশ্চিত করতে পারবেন:
i. এর মাধ্যমে উদ্ভিদাংশ থেকে কম সময়ের মধ্যে একই বৈশিষ্ট্য সম্পন্ন অসংখ্য চারা সৃষ্টি করা যাবে।
ii. সহজেই রোগমুক্ত বিশেষ করে ভাইরাসমুক্ত চারা উৎপাদন করা যাবে।
iii. ঋতুভিত্তিক চারা উৎপাদনের সীমাবদ্ধতা থেকে মুক্ত হওয়া যাবে।
iv. স্বল্প সময়ে কম জায়গার মধ্যে যথেষ্ট সংখ্যক চারা উৎপাদনের সুবিধা থাকায় চারা মজুদের সমস্যা এড়ানো যাবে।
V. উৎপাদিত নতুন বৈশিষ্ট্যের চারা নতুন পরিবেশের সাথে খাপ খাওয়ানোর ব্যবস্থা করা যাবে।
কাজেই সঙ্গত কারণেই ড. হায়দার টিস্যু কালচারের মাধ্যমে তার নতুন উদ্ভাবিত জাতের চারা তৈরি করবেন।

242
উত্তরঃ

Tobacco Mild Green Mozaic Virus কে সংক্ষেপে TMGMV বলে।

359
উত্তরঃ

আবাদ মাধ্যম হলো টিস্যু কালচার প্রযুক্তির একটি অংশ। উদ্ভিদের বৃদ্ধির অত্যাবশ্যকীয় খনিজ পুষ্টি, ভিটামিন, ফাইটোহরমোন গ্লুকোজ এবং প্রায় কঠিন মাধ্যম তৈরির জন্য জমাট বাধার উপাদান যেমন-অ্যাগার, প্রভৃতি সঠিক মাত্রায় মিশিয়ে যে মাধ্যম তৈরি করা হয় তাই হলো আবাদ মাধ্যম।

597
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews