শিক্ষক মহোদয় যুক্তিবিদ্যার ক্লাস নিচ্ছেন। একপর্যায়ে কমল প্রশ্ন করল, "স্যার, দর্শনের পরিধি যদি যুক্তিবিদ্যার চেয়ে ব্যাপকই হয় তো আমরা যুক্তিবিদ্যা না পড়ে দর্শন পড়লেই পারতাম।" শিক্ষক মহোদয় বললেন, "দর্শনের পরিধি নিঃসন্দেহে বিশাল কিন্তু কমল, তোমার যুক্তিটা এরকম যে আমরা শাকসবজি না খেয়ে ভিটামিন ক্যাপসুল খেলেই পারতাম।"

Updated: 10 months ago
উত্তরঃ

গ্রিক শব্দ 'Ethica' থেকে ইংরেজি 'Ethics' শব্দের উদ্ভব।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

যুক্তিবিদ্যার প্রধান আলোচ্য বিষয় হচ্ছে যুক্তি। যুক্তিবিদ্যা সরাসরি আমাদের যুক্তিবিন্যাস শেখায় না তবে যুক্তিবিদ্যার সার্থক অধ্যয়নের ফলেই আমরা যুক্তিবিন্যাসের নীতিমালা সম্পর্কে জানতে পারি। এছাড়াও আমরা যখন যথার্থ যুক্তির দ্বারা বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যায় সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে পারি, তবে যুক্তির সঠিক মূল্য নির্ধারিত হয়। অর্থাৎ যুক্তির সঠিক ব্যবহারের উপর যুক্তির মূল্য নির্ভর করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকের কমলের কথায় যুক্তিবিদ্যার প্রতি অবহেলার আভাস রয়েছে। শিক্ষক মহোদয় দর্শনের পরিধির কথা বললেই কমল এটির পরিধির ব্যাপকতার দিক বিবেচনা করে যুক্তিবিদ্যাকে অবহেলা করেছে। কিন্তু সে হয়তো জানতো না যে, দর্শনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো 'যুক্তি'। আর এই যুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয় যুক্তিবিদ্যাতে। যুক্তিবিদ্যার পরিধি বাস্তব জগতে সীমাবদ্ধ। পক্ষান্তরে, দর্শনের পরিধি ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য অভিজ্ঞতা থেকে অতীন্দ্রিয় জগৎ পর্যন্ত। জড়, মন, স্রষ্টা সব বিষয়েই দর্শনের গতিপথ উন্মুক্ত। যুক্তিবিদ্যা সত্যের আলোচনায় সীমাবদ্ধ; সেখানে দর্শন সত্যের পাশাপাশি সুন্দরকে নিয়েও বিস্তারিত আলোচনা করে। বিজ্ঞান, সাহিত্য বা অন্য যেকোনো শিল্পমাধ্যমের যেকোনো সৃষ্টিকর্মের বিচার বিশ্লেষণ যুক্তিবিদ্যার পথে নয়, দর্শনের পথে সম্পন্ন হয়। দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার মধ্যে এসব দূরত্ব থাকা সত্ত্বেও যুক্তিবিদ্যা দর্শনের প্রধান অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। দর্শনের আলোচ্য বিষয়ের বিচার-বিশ্লেষণে এবং সত্যতা অর্জনের লক্ষ্যে যুক্তিবিদ্যা দর্শনকে সহায়তা করে। পাশাপাশি এটাও সত্য যে, দর্শন যুক্তিবিদ্যার মৌলিক নিয়মাবলির নিশ্চয়তা বিধান করে। তাই উদ্দীপকের কমল যে তাচ্ছিল্যভাবে যুক্তিবিদ্যার পরিবর্তে দর্শন পড়তে চেয়েছিল তা আদৌ ঠিক নয়। কারণ প্রধান অঙ্গ যুক্তিবিদ্যা বাদে দর্শনের প্রকৃতি বুঝা সম্ভব নয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে শিক্ষক মহোদয়ের বক্তব্যটি হলো- "দর্শনের পরিধি নিঃসন্দেহে বিশাল কিন্তু কমল, তোমার যুক্তিটা এরকম যে, আমরা শাকসবজি না খেয়ে ভিটামিন ক্যাপসুল খেলেই পারতাম।" এর দ্বারা শিক্ষক দর্শনের পাঠের ক্ষেত্রে যুক্তিবিদ্যার গুরুত্বকে বোঝাতে চেয়েছেন। কারণ, যুক্তিবিদ্যা হচ্ছে দর্শনের প্রধান অঙ্গ। দর্শনের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো যুক্তি। এই যুক্তি দ্বারা দর্শনের আলোচনা পরিপূর্ণতা লাভ করে। আর যুক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয় যুক্তিবিদ্যায়। যুক্তিবিদ্যার আলোচনা হলো সত্যতা নিয়ে। দর্শন এ সত্যতার পাশাপাশি সুন্দরকে নিয়েও আলোচনা করে। সৌন্দর্যবোধ যুক্তি নিরীক্ষণের বিষয় নয় বরং দর্শনের বিষয়। বিজ্ঞান, সাহিত্য বা অন্য যেকোনো শিল্প মাধ্যমে যেকোনো সৃষ্টি কার্যের বিচার বিশ্লেষণ যুক্তিবিদ্যায় হয় না। এটি দর্শনে সম্পন্ন হয়। দর্শন ও যুক্তিবিদ্যার মধ্যে কিছুটা বৈসাদৃশ্য থাকলেও যুক্তিবিদ্যা দর্শনের প্রধান অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। যুক্তিবিদ্যার নিরূপিত সত্যের সাথে বাস্তবতার সম্পৃক্ততা নির্ধারণ করা দার্শনিক আলোচনার অন্যতম লক্ষ। অধিবিদ্যা, জ্ঞানতত্ত্ব বা মূলবিদ্যা; এদের আলোচ্যসূচি যাই হোক যুক্তির কষ্টিপাথরে যথার্থ স্বরূপ যাচাই করতে হয়। প্রত্যেকজন দার্শনিক তাদের মতবাদের পিছনে প্রতিষ্ঠা করেছেন এক বা একাধিক যুক্তি। তাই যুক্তি ছাড়া বা যুক্তিবিদ্যা ছাড়া দর্শন অধ্যয়ন করা আর শাকসবজি না খেয়ে ভিটামিন ক্যাপসুল খাওয়া সমান। এজন্য উদ্দীপকের শিক্ষক মহোদয়ের উক্তিটি যথার্থ হয়েছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
213

Related Question

View All
উত্তরঃ

ভাষায় প্রকাশিত চিন্তা সম্পর্কিত বিজ্ঞানকে 'যুক্তিবিদ্যা' বলে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
364
উত্তরঃ

দর্শন হলো জ্ঞানের প্রতি অনুরাগ বা ভালোবাসা। জগৎ, জীবন সম্পর্কে সার্বিক আলোচনাই হলো দর্শন। দর্শন শুধু ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য জগতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি অতীন্দ্রিয় জগৎ, সত্তা, যেমন- প্রাণ, স্রষ্টা, আত্মা ইত্যাদি নিয়ে আলোচনা করে থাকে। বিশ্ব জগতে এমন কোনো বিষয় নেই যা দর্শনের আলোচ্য বিষয় নয়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
565
উত্তরঃ

উদ্দীপকে রিপন সাহেবের কর্মকাণ্ডে যুক্তিবিদ্যার বিষয়টি পরিলক্ষিত হয়। যুক্তিবিদ্যা হলো চিন্তা সম্পর্কিত বিজ্ঞান, যার মাধ্যমে অবৈধ যুক্তি থেকে বৈধ যুক্তি পৃথক করা যায়। যুক্তির সত্যতা বা বৈধতা যাচাই করার জন্য যুক্তিবিদ্যা নিয়ম প্রণয়ন করে। সত্যের আদর্শকে সামনে রেখেই যুক্তিবিদ্যা কতকগুলো সাধারণ নিয়ম প্রণয়ন করে।

উদ্দীপকের বর্ণনা অনুযায়ী এবং যুক্তিবিদ্যার সংজ্ঞা অনুযায়ী বলা যায় যে, রিপেরে কর্মকাণ্ডের সাথে যুক্তিবিদ্যার মিল রয়েছে। যুক্তিবিদ্যা যেমন বৈধ-অবৈধ যুক্তি পৃথক করে; তেমনি রিপন কোন কাজ দরকারী, কোনটি পরিহার্য তা পৃথক করতে পারে। বৈধ-অবৈধ যুক্তির পার্থক্য করার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। রিপন সাহেব জানে যে ভালো বক্তৃতা দিতে কীভাবে দোষ-ত্রুটি, পরিহার করতে হয় তার নিয়ম-কানুন। সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকে রিপনের কর্মকাণ্ডে ভালো বক্তব্য দেওয়ার কৌশলের কথা বলা হয়েছে এবং বক্তব্যের বিভিন্ন দোষ-ত্রুটি শনাক্ত করার পদ্ধতি সম্পর্কে অবগত যা যুক্তিবিদ্যার সাথে মিলে যায়।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
336
উত্তরঃ

উদ্দীপকে রিপন, স্বপনের মধ্যে যে ধরনের পার্থক্য আছে তা হলো নীতিবিদ্যা ও যুক্তিবিদ্যার মধ্যে পার্থক্যের মতো।

যুক্তিবিদ্যা হলো ভাষায় প্রকাশিত চিন্তা সম্পর্কিত বিজ্ঞান। চিন্তার নিয়মাবলি নির্ণয় করে। যুক্তির বৈধতা-অবৈধতা বিচার করে। যুক্তির সত্যতা বা বৈধতা নির্দেশের নিয়মাবলি প্রণয়ন করে। শুধু প্রণয়ন করে না, এর দ্বারা সঠিক সিদ্ধান্তে পৌঁছে জ্ঞান অর্জন করার জন্য নির্দেশ প্রদান করে।

নীতিবিদ্যা হলো আদর্শ নিষ্ঠ বিজ্ঞান। সমাজে বসবাসকারী মানুষের আচরণের ভালো-মন্দ, ন্যায়-অন্যায়, উচিত-অনুচিত বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করে। এখন আমরা বলতে পারি যে, উদ্দীপকে রিপন সাহেবের কার্যকলাপের সাথে যুক্তিবিদ্যার বিষয়গত মিল রয়েছে; স্বপন সাহেবের সাথে নীতিবিদ্যার কার্যাদির মিল পাওয়া যায়।

রিপন সাহেব বুঝতে পারে কোন কাজ দরকারি, কোন কাজটি পরিহারি; স্বপন তার কর্মকাণ্ডে সব সময় সৎ থাকার চেষ্টা করেছেন। রিপন ভালো বক্তব্য দেওয়ার কৌশল সম্পর্কে অবগত এবং বক্তৃতা করার সময় দূষণীয় বিষয়গুলো কীভাবে পরিহার করতে হয় তার কৌশল সম্পর্কে জানেন। যেমনভাবে যুক্তিবিদ্যায় বৈধ-অবৈধ যুক্তির মধ্যে পার্থক্যের কৌশল বর্ণিত আছে। অপর দিকে স্বপন পেশাগত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করেন ও সৎ জীবনযাপন করেন যা নীতিবিদ্যার সাথে সম্পৃক্ত।. সুতরাং আমরা বলতে পারি যে, রিপনের কর্মকান্ডে যুক্তিবিদ্যার ছাপ পরিলক্ষিত হয় আর স্বপনের কর্মকাণ্ডে নীতিবিদ্যার ছাপ পরিলক্ষিত হচ্ছে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
338
উত্তরঃ

শিক্ষা হলো এমন বিষয় যার দ্বারা অভ্যাস, মনোভাব, ও দক্ষতার বিকাশ হয় এবং যা মানুষকে সফল জীবনযাপনে সহায়তা করে।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
379
উত্তরঃ

জীবন ও জগৎ সম্পর্কে সার্বিক আলোচনা করে থাকে দর্শন। জগৎ ও জীবন সম্পর্কে একটি বাস্তব, সুসংবদ্ধ ও যৌক্তিক, প্রায়োগিক ও যুগোপযোগী জ্ঞান প্রদান করাই হলো দর্শনের মূল উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য। এটি জগৎ ও জীবন সম্পর্কে বিচার-বিশ্লেষণ করে থাকে। নন্দনতত্ত্ব, নীতিবিদ্যা, গণিত, শিক্ষা, জগতের উৎপত্তি-ক্রমবিকাশসহ এমন কোনো দিক নাই যা দর্শন আলোচনা করে না। আর এ কারণে দর্শন জীবন ও জগতের সাথে সম্পৃক্ত।

Md Zahid Hasan
Md Zahid Hasan
1 year ago
692
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews