শিক্ষানুরাগী আলী হায়দার একজন আলোকিত মানুষ। অবসর গ্রহণের পর তিনি গড়ে তোলেন 'আলোক বর্তিকা' নামক সেবা সংগঠন। যার মাধ্যমে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক। কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন। বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিজের জমানো টাকায় 'আলী হায়দার টেকনিক্যাল কলেজ' স্থাপন করেন। সেখান থেকে বেকার যুবক-যুবতীরা প্রশিক্ষিত হয়ে দেশ-বিদেশে চাকরি করে এলাকাতে সাজনতা। নিয়ে এসেছে।

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

"তুমি অধম, তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?"-উক্তিটি বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের 'কপালকুণ্ডলা' উপন্যাসের নবকুমারকে উদ্দেশ্য করে মতিবিবির।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

"বিভক্তিকরণের মনোভাব নিয়ে কারো কল্যাণ করা যায় না" উক্তিটি দ্বারা বোঝানো হয়েছে যে, মানুষকে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, অর্থনৈতিক অবস্থা বা অন্য কোনো ভিত্তিতে ভাগ করে দেখলে তাদের প্রতি প্রকৃত অর্থে কোনো ভালো কাজ করা সম্ভব নয়। মানুষের প্রতি নিঃস্বার্থভাবে ও একাত্ম হয়ে কাজ করার মাধ্যমেই কেবল সত্যিকারের কল্যাণ নিশ্চিত করা যায়।

যখন কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী বিভেদমূলক চিন্তাভাবনা পোষণ করে অপরের উপকার করতে যায়, তখন সেই কাজের মধ্যে সংকীর্ণতা ও ব্যক্তিগত স্বার্থ জড়িত থাকে। এতে সেবার মূল উদ্দেশ্য ব্যাহত হয় এবং প্রাপকও পরিপূর্ণভাবে উপকৃত হতে পারে না। মানবতাবোধ ও সামগ্রিক কল্যাণের চিন্তা থেকেই নিঃশর্ত সেবা সম্ভব, যা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে মানবকল্যাণকে শুধুমাত্র দান বা সাহায্য হিসেবে না দেখে মানুষের আত্মনির্ভরশীলতা অর্জনের মাধ্যমে তার সার্বিক উন্নতির ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, মানুষকে কর্মক্ষম ও স্বাবলম্বী করে তোলার মাধ্যমেই প্রকৃত মানবকল্যাণ সাধিত হয়, যা তাকে নিজের ও সমাজের জন্য অবদান রাখতে সক্ষম করে তোলে।

উদ্দীপকের শিক্ষানুরাগী আলী হায়দার অবসর গ্রহণের পর 'আলোক বর্তিকা' নামক সেবা সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন। এছাড়াও, তিনি বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মক্ষম করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে নিজের জমানো টাকায় 'আলী হায়দার টেকনিক্যাল কলেজ' স্থাপন করেন। সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে অসংখ্য যুবক-যুবতী প্রশিক্ষিত হয়ে দেশ-বিদেশে চাকরি পেয়ে আত্মনির্ভরশীল হয়েছেন, যা তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নের পাশাপাশি এলাকার অর্থনৈতিক উন্নয়নেও ভূমিকা রেখেছে।

আলী হায়দারের এই উদ্যোগ 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধে বর্ণিত মানবকল্যাণের ধারণার সাথে অত্যন্ত সাদৃশ্যপূর্ণ। প্রবন্ধের মূল কথা হলো, কেবল দান-খয়রাত করে মানুষের সাময়িক উপকার করা নয়, বরং তাদের এমনভাবে গড়ে তোলা যেন তারা নিজেদের মেধা ও শ্রম দিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারে। আলী হায়দারও ঠিক এই কাজটিই করেছেন; তিনি বেকার যুবকদের কর্মক্ষম করে তুলে তাদের জন্য স্থায়ী উপার্জনের পথ তৈরি করেছেন, যা তাদেরকে সমাজের উৎপাদনশীল সদস্যে পরিণত করেছে এবং প্রবন্ধের 'মানুষকে স্বাবলম্বী করে তোলা'র ধারণাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
উত্তরঃ

উদ্দীপকে 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের সামগ্রিক বিষয়বস্তু অত্যন্ত সার্থকভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। মানব-কল্যাণ হলো মানুষের সামগ্রিক উন্নতি, আত্মনির্ভরশীলতা এবং সমাজের সার্বিক মঙ্গলের জন্য কাজ করা। এটি কেবল অর্থ সাহায্য বা দাতব্য কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং মানুষকে কর্মক্ষম করে তোলা এবং তাদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়তা করা এর প্রধান লক্ষ্য।

উদ্দীপকের শিক্ষানুরাগী আলী হায়দার একজন আলোকিত মানুষ, যিনি অবসরের পর নিজের জমানো টাকায় 'আলী হায়দার টেকনিক্যাল কলেজ' স্থাপন করে বেকার যুবক-যুবতীদের কর্মক্ষম করে তুলেছেন। তার এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুবক-যুবতীরা প্রশিক্ষিত হয়ে দেশ-বিদেশে চাকরি করে নিজেদের এবং এলাকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি এনেছে। এটি কেবল আর্থিক সাহায্য নয়, বরং মানুষকে স্থায়ীভাবে স্বাবলম্বী করার এক মহৎ উদ্যোগ, যা 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের মূল চেতনার সঙ্গে পুরোপুরি সামঞ্জস্যপূর্ণ।

মানব-কল্যাণ প্রবন্ধে মানুষকে ভিক্ষাবৃত্তি বা পরনির্ভরশীলতা থেকে মুক্তি দিয়ে আত্মমর্যাদাশীল ও কর্মঠ করার উপর জোর দেওয়া হয়েছে। আলী হায়দারের পদক্ষেপ ঠিক এই দর্শনকেই সমর্থন করে। তিনি 'আলোক বর্তিকা' নামক সেবা সংগঠনের মাধ্যমে বিভিন্ন সমাজকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করলেও, 'আলী হায়দার টেকনিক্যাল কলেজ' স্থাপন করে তিনি বেকারদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে জীবন ধারণের সুব্যবস্থা করে দিয়েছেন, যা দীর্ঘমেয়াদী এবং টেকসই মানব-কল্যাণের উদাহরণ। এর ফলস্বরূপ, সমাজে অর্থনৈতিক মুক্তি ও স্বাচ্ছন্দ্য এসেছে, যা মানব-কল্যাণের প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ করে।

অতএব, উদ্দীপকে আলী হায়দারের নিঃস্বার্থ আত্মত্যাগ, দূরদৃষ্টিসম্পন্ন উদ্যোগ এবং সমাজের অবহেলিত অংশের জন্য কর্মসংস্থান সৃষ্টির প্রয়াস 'মানব-কল্যাণ' প্রবন্ধের সামগ্রিক বিষয়বস্তুকে সুস্পষ্টভাবে এবং গভীরভাবে প্রতিফলিত করে। তাঁর কাজ প্রমাণ করে যে, প্রকৃত মানব-কল্যাণ নির্ভর করে মানুষকে কর্মক্ষম ও স্বাবলম্বী করে তোলার উপর, কেবল সাময়িক সাহায্য প্রদানের উপর নয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
63

মানব-কল্যাণ— এ শিরোনাম আমার দেওয়া নয়। আমাদের প্রচলিত ধারণা আর চলতি কথায় মানব-কল্যাণ
কথাটা অনেকখানি সস্তা আর মামুলি অর্থেই ব্যবহৃত হয়ে থাকে । একমুষ্টি ভিক্ষা দেওয়াকেও আমরা মানব-কল্যাণ মনে করে থাকি । মনুষ্যত্ববোধ আর মানব-মর্যাদাকে এতে যে ক্ষুণ্ণ করা হয় তা সাধারণত উপলব্ধি করা হয় না ।
ইসলামের নবি বলেছেন, ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ। নিচের হাত মানে যে মানুষ হাত পেতে গ্রহণ করে, ওপরের হাত মানে দাতা- যে হাত তুলে ওপর থেকে অনুগ্রহ বর্ষণ করে। দান বা ভিক্ষা গ্রহণকারীর দীনতা তার সর্ব অবয়বে কীভাবে প্রতিফলিত হয় তার বীভৎস দৃশ্য কার না নজরে পড়েছে? মনুষ্যত্ব আর মানব-মর্যাদার দিক থেকে অনুগ্রহকারী আর অনুগৃহীতের মধ্যে আকাশ-পাতাল তফাত। এ কথা
ব্যক্তির বেলায় যেমন সত্য, তেমনি দেশ আর রাষ্ট্রের বেলায় বরং অধিকতর সত্য। কারণ, রাষ্ট্র জাতির যৌথ
জীবন আর যৌথ চেতনারই প্রতীক।
রাষ্ট্রের দায়িত্ব শুধু প্রশাসন চালানোই নয়, জাতিকে আত্মমর্যাদাসম্পন্ন করে তোলাও রাষ্ট্রের এক বৃহত্তর দায়িত্ব । যে রাষ্ট্র হাতপাতা আর চাটুকারিতাকে দেয় প্রশ্রয়, সে রাষ্ট্র কিছুতেই আত্মমর্যাদাসম্পন্ন নাগরিক সৃষ্টি করতে পারে না ।
তাই মানব-কল্যাণ অর্থে আমি দয়া বা করুণার বশবর্তী হয়ে দান-খয়রাতকে মনে করি না। মনুষ্যত্বের অবমাননা যে ক্রিয়াকর্মের অবশ্যম্ভাবী পরিণতি তাকে কিছুতেই মানব-কল্যাণ নামে অভিহিত করা যায় না। মানব-কল্যাণের উৎস মানুষের মর্যাদাবোধ বৃদ্ধি আর মানবিক চেতনা বিকাশের মধ্যেই নিহিত। একদিন এক ব্যক্তি ইসলামের নবির কাছে ভিক্ষা চাইতে এসেছিল । নবি তাকে একখানা কুড়াল কিনে দিয়ে বলেছিলেন, এটি দিয়ে তুমি বন থেকে কাঠ সংগ্রহ করে বাজারে বিক্রি করে জীবিকা রোজগার করো গে। এভাবে তিনি লোকটিতে শুধু স্বাবলম্বনের পথ দেখাননি, সে সঙ্গে দেখিয়ে দিয়েছিলেন মর্যাদাবান হওয়ার, মর্যাদার সাথে জীবনযাপনের উপায়ও ।
মানুষকে মানুষ হিসেবে এবং মানবিক-বৃত্তির বিকাশের পথেই বেড়ে উঠতে হবে আর তার যথাযথ ক্ষেত্র রচনাই মানব-কল্যাণের প্রাথমিক সোপান। সে সোপান রচনাই সমাজ আর রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সমাজের ক্ষুদ্রতম অঙ্গ বা ইউনিট পরিবার— সে পরিবারকেও পালন করতে হয় এ দায়িত্ব। কারণ, মানুষের ভবিষ্যৎ জীবনের সূচনা সেখান থেকেই। ধীরে ধীরে ব্যাপকতর পরিধিতে যখন মানুষের বিচরণ হয় শুরু, তখন সে পরিধিতে যে সব প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তার সংযোগ ঘটে— তা শিক্ষা কিংবা জীবিকা সংক্রান্ত যা হোক না তখন সে দায়িত্ব ঐসব প্রতিষ্ঠানের ওপরও বর্তায়। তবে তা অনেকখানি নির্ভর করে অনুকূল পরিবেশ ও ক্ষেত্র গড়ে তোলার ওপর।
মানব-কল্যাণ স্বয়ম্ভূ, বিচ্ছিন্ন, সম্পর্ক-রহিত হতে পারে না । প্রতিটি মানুষ যেমন সমাজের সঙ্গে সম্পর্কিত, তেমনি তার কল্যাণও সামগ্রিকভাবে সমাজের ভালো-মন্দের সঙ্গে সংযুক্ত। উপলব্ধি ছাড়া মানব-কল্যাণ স্রেফ দান-খয়রাত আর কাঙালি ভোজনের মতো মানব-মর্যাদার অবমাননাকর এক পদ্ধতি না হয়ে যায় না, যা আমাদের দেশ আর সমাজে হয়েছে। এসবকে বাহবা দেওয়ার এবং এসব করে বাহবা কুড়োবার লোকেরও অভাব নেই দেশে ।
আসল কথা, মানুষের মনুষ্যত্বকে বাদ দিয়ে স্রেফ তার জৈব অস্তিত্বের প্রতি সহানুভূতিশীল এ ধরনের মানব-কল্যাণ কিছুমাত্র ফলপ্রসূ হতে পারে না। এ হেন মানব-কল্যাণের কুৎসিত ছবি দেখার জন্য দূরদূরান্তে যাওয়ার প্রয়োজন নেই, আমাদের আশে-পাশে, চারদিকে তাকিয়ে দেখলেই তা দেখা যায় ।
বর্তমানে মানব-কল্যাণ অর্থে আমরা যা বুঝি তার প্রধানতম অন্তরায় রাষ্ট্র, জাতি, সম্প্রদায় ও গোষ্ঠীগত চেতনা— যা মানুষকে মেলায় না, করে বিভক্ত। বিভক্তিকরণের মনোভাব নিয়ে কারো কল্যাণ করা যায় না । করা যায় একমাত্র সমতা আর সহযোগ-সহযোগিতার পথে।
সত্যিকার মানব-কল্যাণ মহৎ চিন্তা-ভাবনারই ফসল। বাংলাদেশের মহৎ প্রতিভারা সবাই মানবিক চিন্তা আর আদর্শের উত্তরাধিকার রেখে গেছেন। দুঃখের বিষয়, সে উত্তরাধিকারকে আমরা জীবনে প্রয়োগ করতে পারিনি। বিদ্যাপতি চীদাস থেকে লালন প্রমুখ কবি এবং অপেক্ষাকৃত আধুনিককালে রবীন্দ্রনাথ-নজরুল সবাইতো মানবিক চেতনার উদাত্ত কণ্ঠস্বর। বঙ্কিমচন্দ্রের অবিস্মরণীয় সাহিত্যিক উক্তি : “তুমি অধম তাই বলিয়া আমি উত্তম হইব না কেন?” এক গভীর মূল্যবোধেরই উৎসারণ।
এ প্রসঙ্গে রবীন্দ্রনাথের নিম্নলিখিত উক্তিটিও স্মরণীয় : “Relationship is the fundamental truth of the world of appearance.” কবি এ উক্তিটি করেছিলেন তাঁর হিবার্ট বক্তৃতামালায়। অন্তর-জগতের বাইরে যে জগৎকে আমরা অহরহ দেখতে পাই তার মৌলিক সত্য পারস্পরিক সংযোগ-সহযোগিতা, কবি যাকে Relationship বলেছেন। সে সংযোগ বা সম্পর্কের অভাব ঘটলে মানব-কল্যাণ কথাটা স্রেফ ভিক্ষা দেওয়া-নেওয়ার সম্পর্কে পরিণত হয়।
মানব-কল্যাণ অলৌকিক কিছু নয়— এ এক জাগতিক মানবধর্ম। তাই এর সাথে মানব-মর্যাদার তথা Human dignity-র সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। আজ পৃথিবীর দিকে তাকিয়ে দেখলে কী দেখতে পাই? দেখতে পাই দুস্থ, অবহেলিত, বাস্তুহারা, স্বদেশ-বিতাড়িত মানুষের সংখ্যা দিন দিনই বেড়ে চলেছে। সে সঙ্গে বৃদ্ধি পেয়েছে রিলিফ, রিহেবিলিটেশন ইত্যাদি শব্দের ব্যাপক প্রয়োগ। রেডক্রস ইত্যাদি সেবাধর্মী সংস্থার সংখ্যা বৃদ্ধিই কি প্রমাণ করে না মানব-কল্যাণ কথাটা স্রেফ মানব-অপমানে পরিণত হয়েছে? মানুষের স্বাভাবিক অধিকার আর মর্যাদার স্বীকৃতি আর প্রতিষ্ঠা ছাড়া মানব-কল্যাণ মানব-অপমানে পরিণত না হয়ে পারে না ।
কালের বিবর্তনে আমরা এখন আর tribe বা গোষ্ঠীবদ্ধ জীব নই— বৃহত্তর মানবতার অংশ। তাই Go of humanity-কে বিচ্ছিন্ন, বিক্ষিপ্ত কিংবা খতিভাবে দেখা বা নেওয়া যায় না। তেমনি নেওয়া যায় না তার কল্যাণকর্মকেও খণ্ডিত করে। দেখতে মানুষও অন্য একটা প্রাণী মাত্র, কিন্তু ভেতরে মানুষের মধ্যে রয়েছে এক অসীম ও অনন্ত সম্ভাবনার বীজ। যে সম্ভাবনার স্ফুরণ-স্ফুটনের সুযোগ দেওয়া, ক্ষেত্র রচনা আর তাতে সাহায্য করাই শ্রেষ্ঠতম মানব-কল্যাণ। সেটা তুচ্ছ-তাচ্ছিল্য কিংবা কোনো রকম অপমান-অবমাননার পথে হতে পারে না। হালে যে দর্শনকে অস্তিত্ববাদ নামে অভিহিত করা হয়, ইংরেজিতে যাকে বলা হয় Existentialism তারও মূল কথা ব্যক্তি মানুষের অস্তিত্বকে স্বীকৃতি দান ।
বল প্রয়োগ কিংবা সামরিক শাসন দিয়ে মানুষকে তাঁবেদার কিংবা চাটুকার বানাতে পারা যায় কিন্তু প্রতিষ্ঠা করা যায় না মানব-মর্যাদার আসনে। সব কর্মের সাথে শুধু যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকে তা নয়, তার সামাজিক পরিণতি তথা Social consequence-ও অবিচ্ছিন্ন। যেহেতু সব মানুষই সমাজের অঙ্গ, তাই সব রকম কল্যাণ-কর্মেরও রয়েছে সামাজিক পরিণতি। এ সত্যটা অনেক সময় ভুলে থাকা হয়। বিশেষত যখন দৃষ্টি থাকে ঊর্ধ্ব দিকে তথা পরলোকের পানে ।
স্রেফ সদিচ্ছার দ্বারা মানব-কল্যাণ সাধিত হয় না। সব ধর্ম আর ধর্ম-প্রবর্তকেরা বারংবার নির্দেশ দিয়েছেন মানুষের ভালো করো, মানুষের কল্যাণ করো, সুখ-শান্তি দান করো মানুষকে । এমনকি সর্বজীবে হিতের কথাও বলা হয়েছে। অতএব আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টাতে হবে। সমস্যার মোকাবেলা করতে হবে নতুন দৃষ্টিকোণ থেকে। নতুন পদ্ধতিতে— যা হবে বৈজ্ঞানিক, র‍্যাশনাল ও সুবুদ্ধি-নিয়ন্ত্রিত। সমস্যা যত বড় আর যত ব্যাপকই হোক না তার মোকাবেলা করতে হবে সাহস আর বুদ্ধিমত্তার সাথে। এড়িয়ে গিয়ে কিংবা জোড়াতালি দিয়ে কোনো সমস্যারই সমাধান করা যায় না।
আমাদের বিশ্বাস মুক্তবুদ্ধির সহায়তায় সুপরিকল্পিত পথেই কল্যাণময় পৃথিবী রচনা সম্ভব। একমাত্র মুক্ত বিচারবুদ্ধির সাহায্যেই বিজ্ঞানের অভাবনীয় আবিষ্কারকে ধ্বংসের পরিবর্তে সৃজনশীল মানবিক কর্মে করা যায় নিয়োগ। তা করা হলেই মানব-কল্যাণ হয়ে উঠবে মানব-মর্যাদার সহায়ক।
[সংক্ষেপিত]
 

Related Question

View All
139
উত্তরঃ

আপনার উক্তিটি সঠিক, "ওপরের হাত সব সময় নিচের হাত থেকে শ্রেষ্ঠ।" কথাটি ইসলামের নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন।

বিস্তারিত:

  • উপরের হাত এবং নিচের হাত এই উক্তিতে ব্যবহৃত হয়েছে সাহায্যকারী এবং সহায়তাপ্রাপ্তকারীর দৃষ্টিকোণ থেকে। এখানে "উপরের হাত" বোঝায় সাহায্য প্রদানকারী এবং "নিচের হাত" বোঝায় সাহায্য গ্রহণকারী।
  • নবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) এই উক্তির মাধ্যমে মানুষের মধ্যে দান এবং সহায়তার গুরুত্ব ও মর্যাদা তুলে ধরেছেন। যারা সাহায্য করে তাদের মর্যাদা বেশি এবং তাদের সাহায্যের মানে বড় বলে উল্লেখ করেছেন।

এই উক্তিটি মানবিকতা ও দানের গুরুত্বকে নির্দেশ করে এবং সমাজে সাহায্য এবং সহানুভূতির মূল্য বৃদ্ধি করে।

127
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র

Related Question

মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews