মাদকাসক্তি বলতে এমন এক দ্রব্যসমগ্রী ব্যবহারকে বোঝায়, যা সেবনকারী ব্যক্তির মানসিক ও ব্যবহারিক আচরণকে প্রভাবিত করে এবং দ্রব্যসামগ্রীর ওপর ব্যক্তি আসক্ত হয়ে পড়ে।
সামাজিক উন্নয়ন একটি অবিচ্ছিন্ন সামাজিক অগ্রগতির প্রক্রিয়া।
পরিভাষায় সামাজিক উন্নয়ন বলতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, জীবনযাত্রার মানের অবস্থান, মানব সম্পদের বিকাশ, জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার হ্রাস, আয়ুষ্কাল বৃদ্ধি, পরিবেশ প্রভৃতির পূর্ববস্থা থেকে অপেক্ষাকৃত উন্নততর অবস্থায় উন্নীত হওয়াকে বোঝায়। এ প্রসঙ্গে 'Encyclopedia of Social Work in India'-তে বলা হয়েছে- "সামাজিক উন্নয়ন একটি ব্যাপক ধারণা যা রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ কাঠামোগত পরিবর্তন নির্দেশ করে এবং সমাজ পরিবর্তনের ভূমিকা পালনের অংশ হিসেবে সুচিন্তিত পদক্ষেপ গ্রহণ করে।” বস্তুত সামাজিক উন্নয়ন বলতে সমাজজীবনের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নকে বোঝায়।
উদ্দীপকের শিক্ষার্থীদের শীত অনুভূত না হওয়ার কারণটি জলবায়ু পরিবর্তনকে নির্দেশ করে।
মানব সভ্যতার সূচনালগ্নে আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো স্বাভাবিক স্থিতি অবস্থায় ছিল। কিন্তু সভ্যতার অগ্রগতি, জনসংখ্যা বৃদ্ধি, যান্ত্রিক সভ্যতার অগ্রগতি ইত্যাদি কারণে এই ভারসাম্যপূর্ণ জলবায়ু পরিবর্তিত হয়ে যাচ্ছে। বিশেষ করে ব্যাপক শিল্পায়ন ও নগরায়ণের ন্যায় প্রযুক্তিনির্ভর কর্মকাণ্ড জলবায়ুর স্বাভাবিক আচরণকে অস্বাভাবিকভাবে প্রভাবান্বিত করেছে। জলবায়ুর স্বাভাবিক আচরণের এই যে পরিবর্তন সাধিত হচ্ছে এটাই 'জলবায়ু পরিবর্তন' হিসেবে বিবেচিত হয়। আরো নির্দিষ্ট করে বললে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে। আবহাওয়ার যে পরিবর্তন হচ্ছে তাকে জলবায়ু পরিবর্তন বলে। পরিবেশ বিজ্ঞানীদের মতে, মানুষের বিভিন্ন ধরনের কর্মকাণ্ড যেমন- গাছ কেটে ফেলা, কলকারখানা ও যানবাহনের কালো ধোয়া প্রভৃতি কারণে কার্বন ডাই-অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। এর ফলে বিশ্ব আগের তুলনায় বেশি উষ্ণ হচ্ছে এবং জলবায়ু পরিবর্তিত হচ্ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করা যায়- সময়ে- অসময়ে অনাবৃষ্টি-অতিবৃষ্টি, ঋতুগুলোর দীর্ঘকালীন বা স্বল্পকালীন স্থায়িত্ব, ঘন ঘন প্রাকৃতিক দুর্যোগ (বন্যা, খরা, ভূমিকম্প প্রভৃতি) সংঘটন ইত্যাদি।
উদ্দীপকে লক্ষণীয় যে, শিক্ষার্থীরা শীতকালে শিক্ষা সফরে গেলেও সাথে গরম পোশাক নেয়নি। কারণ হিসেবে এক ছাত্র বলে যে, এ বছর শীত একেবারেই পড়ে নি বলে তারা গরম পোশাক আনেনি। উক্ত বক্তব্য সমর্থন করে শ্রদ্ধেয় শফিক স্যার এরূপ অবস্থার জন্য বৈশ্বিক উষ্ণতাকে দায়ী করেন, যা জলবায়ু পরিবর্তনকে নির্দেশ করে। কেননা জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেই ঋতুগুলো তার নিজস্ব বৈশিষ্ট্য হারিয়ে ফেলছে।
বৈশ্বিক উষ্ণায়ন প্রাকৃতিক দুর্যোগের অন্যতম কারণ- উক্তিটি যথার্থ।
জলবায়ু পরিবর্তন হলো বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফলে আবহাওয়ার পরিবর্তিত রূপ। অর্থাৎ- জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে যে সব প্রাকৃতিক দুর্যোগ সংঘটিত হচ্ছে তার মূলে রয়েছে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধি। বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে হিমবাহ গলে যাবার হার দ্রুত হারে বেড়ে গেছে। পরিসংখ্যানুযায়ী, বরফগলার এই হার ১৯৮০-১৯৯০ সালের তুলনায় ২০০০-২০১০ সালে ৩ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। যার ফলে সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধি পেয়ে জলোচ্ছ্বাস ও বন্যার মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে, যা সমুদ্র উপকূলবর্তী দেশগুলোর জন্য ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আবার বৈশ্বিক উষ্ণায়নের কারণে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে তাপমাত্রার ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। যার ফলে অনাবৃষ্টি বা অতিবৃষ্টি কিংবা এসিড বৃষ্টির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ দেখা দিচ্ছে। দাবানলের মতো ভয়াবহ দুর্যোগের কারণও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন। যদিও অমনকে মনে করেন, দাবানল পুরোপুরি অনিশ্চিত ঘটনা, তবুও এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, তাপমাত্রা বৃদ্ধি, খরাভাব, কার্বন ডাই- অক্সাইডের পরিমাণ বৃদ্ধি ইত্যাদি হচ্ছে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের ফল। আর এসবের ফলে জলবায়ু পরিবর্তিত হয়ে দাবানল সৃষ্টি করে।
উপরের আলোচনার প্রেক্ষিতে বলা যায় যে, পরিবেশ তার ভারসাম্য হারিয়ে যে বিপর্যয়ের মুখে পতিত হয়েছে, তার ফলে সৃষ্ট প্রাকৃতিক দুর্যোগের জন্য বৈশ্বিক উষ্ণায়নই মূলত দায়ী।
Related Question
View Allজ্ঞাতিসম্পর্ককে সামাজিক সংগঠনের মূল বিষয় বলা হয়।
নগর সমাজের মানুষেরা ধর্মকে একটি আনুষ্ঠানিক বিষয় বলে গণ্য করে।
বাংলাদেশ সমাজবিজ্ঞানী ও নৃবিজ্ঞানীদের স্বর্ণস্বরূপ মন্তব্যটি করেছিলেন প্রখ্যাত ফরাসি নৃবিজ্ঞানী ক্লদ লেভি স্ট্রস।
পঞ্চাশের দশকে ক্লদ লেডি স্ট্রসের নেতৃত্বে ইউনেস্কো বিশেষজ্ঞ মিশন বাংলাদেশে সমাজবিজ্ঞান ও সামাজিক নৃবিজ্ঞান পঠন- পাঠনের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের উদ্দেশ্যে পার্বত্য চট্টগ্রাম পরিদর্শন করেন। লেভি স্ট্রস সেখানকার বিভিন্ন উপজাতির আদিম স্বতন্ত্র জীবনধারা দেখে এতই বিস্মিত হন যে, তিনি বাংলাদেশকে সমাজবিজ্ঞানী ও নৃবিজ্ঞানীদের স্বর্ণস্বরূপ বলে মন্তব্য করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!