হ্যাঁ, শুধু স্বপ্নার ক্ষেত্রে নয় বরং ব্র্যাকের সার্বিক কর্মসূচিতে সমাজকর্মের পদ্ধতি অনুশীলন করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের দুস্থ, অসহায় মানুষের সুপ্ত ক্ষমতার বিকাশ এবং তাদের আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তোলার লক্ষ্যে ১৯৭২ সালে ব্র্যাক প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে এর কর্মপরিধি ঋণ প্রদান ও আদায়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। কিন্তু বর্তমানে সংস্থাটি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, মানব সম্পদ উন্নয়ন, ঋণদান, আইনি সহায়তা সর্বোপরি পল্লি উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। যেহেতু এটি একটি স্বেচ্ছাসেবী মানবসেবামূলক প্রতিষ্ঠান সেহেতু সমাজকর্মের দর্শন, মূল্যবোধ ও পদ্ধতি এখানে ব্যবহৃত হয়।
ব্র্যাকের ঋণদান কর্মসূচি দলীয় ভিত্তিতে পরিচালিত হয়। এখানে দল সমাজকর্মের প্রক্রিয়া ও কৌশল প্রয়োগ দেখা যায়। এছাড়া এর আওতায় গ্রামীণ নিরক্ষর, অজ্ঞ ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন ব্যক্তিদের স্বাস্থ্য বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে সমষ্টি সমাজকর্মের পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়। ব্র্যাকের অন্যতম সফল কর্মসূচি হলো স্যালাইন তৈরি। পাশাপাশি আইনগত সহায়তা প্রদানেও ব্র্যাকের কর্মসূচি পরিচালিত হয়। সর্বোপরি সমষ্টি জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ব্র্যাকের কার্যক্রম আজ বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত। কেননা সমাজকর্ম যেমন সমস্যাগ্রস্ত দল ও সমষ্টি নিয়ে কাজ করে থাকে তেমনিভাবে ব্র্যাকও সমাজের দরিদ্র, ভূমিহীন ও দুস্থদের উন্নয়নের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করে। আর এসব কর্মসূচিতে সমাজকর্মের মৌলিক ও সহায়ক পদ্ধতি ব্যবহৃত হয়।
পরিশেষে বলা যায়, ব্র্যাকের কর্মসূচি বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সমাজকর্মের পদ্ধতির অনুশীলন লক্ষ করা যায়।
Related Question
View Allগ্রামীণ সমাজসেবা কার্যক্রম সমাজসেবা অধিদপ্তর কর্তৃক পরিচালিত হয়।
বিবাহ সমাজে বংশের ধারা বজায় রাখে।
বিবাহিত পিতা-মাতার সন্তান বংশ সুরক্ষায় সক্ষম হয়। সন্তান পিতা-মাতার সম্পত্তির উত্তরাধিকার হয়। বিবাহই সন্তানকে অবৈধ সন্তানের পরিচয়ের গ্লানি থেকে রক্ষা করে এবং পিতৃ পরিচয় দান করে। সন্তানের সামাজিক পরিচিতির নিয়ামক হলো বিবাহ। বিবাহ সমাজে সন্তানের পিতৃত্ব তথা অভিভাবকত্ব নির্ধারণ করে।
রঞ্জ মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত।
বর্তমান যুগে মানুষকে সভ্য সমাজে সমাজে টিকে থাকতে হয় সমাজে ভালোভাবে টিকে থাকার জন্য যা যা প্রয়োজন তা পূরণ করাই হলো মৌলিক মানবিক চাহিদা। অন্যভাবে বলা যায়, একজন মানুষের শারীরিক, মানসিক ও সামাজিক বিকাশ এবং সভ্য সমাজে বেঁচে থাকার জন্য যে সকল চাহিদা পূরণ করতে হয় সেসব চাহিদাকে বলা হয় মৌলিক মানবিক চাহিদা। এ চাহিদাগুলো পূরণ ব্যতীত পৃথিবীর বুকে বেঁচে থাকা সম্ভব নয়। যেমন- খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও চিকিৎসা। প্রতিটি মানুষের এ চাহিদাগুলো পূরণ করা আবশ্যক। যদি কেউ এগুলোর বেশিরভাগ পূরণ করতে না পারে তাহলে নানা ধরনের সমস্যা দেখা দেয়।
রঞ্জুর ক্ষেত্রেও দেখা যায়, সে প্রায়ই খাদ্যের অভাবে না খেয়ে থাকে এবং স্কুলে যাওয়ার সুযোগ পায় না। এগুলো সবই মৌলিক মানবিক চাহিদার অন্তর্ভুক্ত। তাই বলা যায়, রঞ্জু মৌলিক মানবিক চাহিদা থেকে বঞ্চিত।
উদ্দীপকে উল্লেখিত এনজিওটি হচ্ছে ইউসেপ। ইউসেপের সকল কার্যক্রমে সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ করে এর সফলতা আরো বৃদ্ধি করা হয়।
সমাজকর্ম একটি স্বীকৃত পেশা। এ পেশায় একজন সমাজকর্মী তার কর্মক্ষেত্রে সমাজকর্মের বিষয়ে অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগ করে সাহায্যার্থীর সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টা চালায়। এক্ষেত্রে সমাজকর্মী সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতি প্রয়োগ করে থাকে। ইউসেপ বাংলাদেশে একটি বেসরকারি এনজিও সংস্থা। এটি দরিদ্র ও দুস্থ ছেলে-মেয়েদের ভাগ্য উন্নয়নে কাজ করে থাকে। এজন্য নানা ধরনের কর্মসূচি এখানে পরিচালিত হয়ে থাকে। ইউসেপে এর কার্যক্ষেত্রে সমাজকর্মের প্রায় সব কয়টি পদ্ধতি প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। প্রথমত এখানে দল সমাজকর্মের পদ্ধতি প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। কেননা সাধারণ স্কুল ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও দলগতভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়ে থাকে। দলীয় গতিশীলতা এখানে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে থাকে। এছাড়া সাধারণ শিক্ষার পর শিক্ষার্থীদের মূল্যায়ন করে তাদের কারিগরি শিক্ষা ক্ষেত্রে স্থানান্তর করা হয়।
ব্যক্তি সমাজকর্মের মনো-সামাজিক অনুধ্যানের প্রক্রিয়ায় এটি করাহয়ে থাকে। সমষ্টি উন্নয়ন পদ্ধতি ইউসেপে এর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। কেননা শহরের বিশেষ একটি গোষ্ঠী বা সমষ্টির ভাগ্য উন্নয়নে ইউসেপে কাজ করে থাকে। এছাড়া ইউসেপের লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীর ভাগ্য উন্নয়নে নানা ধরনের গবেষণামূলক কাজ করা হয়ে থাকে। সমাজকর্মের বিভিন্ন কৌশলও ইউসেপে প্রয়োগ করা হয়ে থাকে। মূলত সমাজকর্ম একটি সাহায্যকারী পেশা। এ পেশার প্রতিটি পদ্ধতি প্রণীত হয়েছে সাহায্যার্থীর কল্যাণে। এ জন্য মানবকল্যাণধর্মী সব প্রতিষ্ঠানেই কোনো না কোনোভাবে সমাজকর্ম পদ্ধতির প্রয়োগ হয়ে থাকে। ইউসেপের কার্যক্রমেও তাই সমাজকর্মের বিভিন্ন পদ্ধতির ব্যবহার করা যেতে পারে।
The History of Human Marriage' গ্রন্থের লেখক ফিনল্যান্ডের সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক এডভার্ড ওয়েস্টারমার্ক (Edvard Westermarck) |
পুলিশ সমাজকর্ম সমাজকর্মের একটি বিশেষায়িত শাখা।
সমাজকর্মের এ শাখা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিশেষ করে পুলিশদের বিভিন্ন মনো-সামাজিক সমস্যা এবং প্রশাসনিক সমস্যার সমাধান ও মৌলিক চাহিদা পূরণে সাহায্য করে থাকে। বাংলাদেশে পুলিশ সমাজকর্ম বিভিন্ন সেবামূলক কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি পুলিশ বিভাগের সদস্যদের জীবনমান উন্নয়নের ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা পালন করে।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!