'ভিস্তি' শব্দের অর্থ পানি বহনের জন্য চামড়ার তৈরি এক প্রকার থলি।
'পাত্রদের নিদ্রা নাহি রাত্রে'- কথাটি দিয়ে রাজার আদেশ শুনে রাজকর্মচারীদের রাতের ঘুম নষ্ট হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।
'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় রাজা তাঁর পায়ে ধুলা লাগার বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন। অবশেষে তিনি তাঁর মন্ত্রী ও সভাসদদের ডেকে তাঁর পায়ে ধুলা লাগার প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে বলেন। তারা যদি তা করতে না পারে, তাহলে তিনি তাদের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করবেন। রাজার এই হুকুম শুনে মন্ত্রী ও সভাসদদের মনে অস্থিরতা দেখা দেয়। রাজ্যের ধুলা দূর করতে গভীর চিন্তায় এবং তা না করতে পারলে রাজার কঠিন শাস্তির আশঙ্কায় তাদের রাতে ঘুম হয় না। প্রশ্নোক্ত কথাটির মাধ্যমে এ বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকের চেয়ারম্যান চরিত্রের সাথে 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার মন্ত্রী গোবুরায়ের সাদৃশ্য রয়েছে।
মানুষের চলার পথে নানা সমস্যা বা জটিলতা দেখা দেয়। তাই সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে চলার চেষ্টা না করে তা মোকাবিলার জন্য উপযুক্ত পন্থা অবলম্বন করতে হয়। আর যদি তা না করা হয় তাহলে সমস্যা আরও বেড়ে যায়।
উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সমস্যা সমাধান করতে যে ধরনের কর্মপদ্ধতির কথা বলেছেন তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। খরস্রোতা নদী ফুলে-ফেঁপে যে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে তা যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে কৃষকের স্বপ্নের সোনার ফসল নষ্ট করে দেবে। গ্রামের মাতবর এর প্রতিকার করতে বললে চেয়ারম্যান তাকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং বাজেট আসার পর বাঁধ মেরামতের কথা বলেছেন। এ ধরনের ভাবনা 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার গোবুরায়ের চিন্তাভাবনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ সেও রাজার পা দুটি ধুলা থেকে রক্ষা করতে রাজ্যের জ্ঞানী-গুণী-মন্ত্রীদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন এবং ঝাঁটা দিয়ে রাজ্যের সব ধুলা দূর করার নির্দেশ দেন। উদ্দীপকের চেয়ারম্যান এবং কবিতার মন্ত্রী গোবুরায় উভয়ের সিদ্ধান্তই অদূরদর্শী ও বোকামিপূর্ণ।
"উদ্দীপকের মতি মিয়ার দল চামার কুলপতির সার্থক প্রতিনিধি”- মন্তব্যটি যথার্থ।
পৃথিবীর সভ্যতার প্রকৃত কারিগররা নানাভাবে অবহেলিত। তাদের কর্মদক্ষতায় জগৎ-সংসার সচল থাকলেও সমাজে তাদের মর্যাদা নেই। অথচ তারাই তাদের ব্যবহারিক জ্ঞান দ্বারা অনেক বড় বড় সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে সিদ্ধহস্ত।
উদ্দীপকে খরস্রোতা নদী ফুলে-ফেঁপে ওঠার এবং জোয়ারে নির্ঘাত বাঁধ ভেঙে মানুষ, গরু, ফসল সব ভাসিয়ে নেওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। সেখানে এই সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বাজেট আসার কথা বলেছেন। কিন্তু ঐ গ্রামের মতি মিয়ার দল চেয়ারম্যানের কথায় ভরসা করে অপেক্ষা করেনি। তারা কোদাল চালিয়ে বাঁধকে ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। এই বিষয়টি 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার চামার কুলপতির রাজার পায়ে ধুলা লাগার তাৎক্ষণিক প্রতিকারের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনি তার বাস্তব জ্ঞানের মাধ্যমে চামড়া দিয়ে রাজার পায়ের মাপে জুতা তৈরি করে রাজার পা ধুলামুক্ত রাখার ব্যবস্থা করেছেন।
'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় রাজাকে ধুলা থেকে বাঁচাতে গিয়ে রাজ্যের জ্ঞানী-গুণী, মন্ত্রী, পাত্র-মিত্ররা আরও নানা সমস্যা সৃষ্টি করেন। তারা কেউ এর উপযুক্ত সমাধান দিতে পারেননি। উদ্দীপকেও চেয়ারম্যান নদীর বাঁধ রক্ষার সমাধান দিতে পারেননি। কিন্তু মতি মিয়ার দল তা করেছে। কবিতায় চামার কুলপতিও রাজার পায়ে ধুলা লাগার মতো সমস্যার সমাধান করেছেন সহজেই। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!