শোঁ শোঁ শব্দে বাতাস বইছে। খরস্রোতা নদী ফুলে ফেঁপে ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে অমাবস্যার জোয়ারে। নির্ঘাত বাঁধ ভেঙে মানুষ, গরু, ফসল সব ভাসিয়ে নিয়ে যাবে। গ্রামের মাতবর চেয়ারম্যান সাহেবের কাছে ছুটে যান। চেয়ারম্যান বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। বাজেট আসলে বাঁধের ফাটল মেরামত করাবেন। ওদিকে মরিয়া হয়ে কোদাল চালাচ্ছে মতি মিয়ার দল। এ বাঁধ ভাঙতে দেবে না তারা। কিছুতেই ফসল ডুবতে দেবে না। চালাও কোদাল! আরো জোরে! এক সময় মতি মিয়ার গলার আওয়াজ শোনা গেল, আর ভয় নাই চাঁদু। আর ভয় নাই। এতক্ষণে সবার মুখে হাসি ফুটল। এমন সময় চেয়ারম্যান এসে বললেন, 'আমিও এরকম চিন্তাই করেছিলাম।'

Updated: 9 months ago
উত্তরঃ

'ভিস্তি' শব্দের অর্থ পানি বহনের জন্য চামড়ার তৈরি এক প্রকার থলি।

উত্তরঃ

'পাত্রদের নিদ্রা নাহি রাত্রে'- কথাটি দিয়ে রাজার আদেশ শুনে রাজকর্মচারীদের রাতের ঘুম নষ্ট হওয়াকে বোঝানো হয়েছে।

'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় রাজা তাঁর পায়ে ধুলা লাগার বিষয়টি নিয়ে চিন্তাভাবনা করেন। অবশেষে তিনি তাঁর মন্ত্রী ও সভাসদদের ডেকে তাঁর পায়ে ধুলা লাগার প্রতিকারের ব্যবস্থা করতে বলেন। তারা যদি তা করতে না পারে, তাহলে তিনি তাদের কঠিন শাস্তির ব্যবস্থা করবেন। রাজার এই হুকুম শুনে মন্ত্রী ও সভাসদদের মনে অস্থিরতা দেখা দেয়। রাজ্যের ধুলা দূর করতে গভীর চিন্তায় এবং তা না করতে পারলে রাজার কঠিন শাস্তির আশঙ্কায় তাদের রাতে ঘুম হয় না। প্রশ্নোক্ত কথাটির মাধ্যমে এ বিষয়টিই প্রকাশ পেয়েছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকের চেয়ারম্যান চরিত্রের সাথে 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার মন্ত্রী গোবুরায়ের সাদৃশ্য রয়েছে। 

মানুষের চলার পথে নানা সমস্যা বা জটিলতা দেখা দেয়। তাই সমস্যাকে পাশ কাটিয়ে চলার চেষ্টা না করে তা মোকাবিলার জন্য উপযুক্ত পন্থা অবলম্বন করতে হয়। আর যদি তা না করা হয় তাহলে সমস্যা আরও বেড়ে যায়।

উদ্দীপকের চেয়ারম্যান সমস্যা সমাধান করতে যে ধরনের কর্মপদ্ধতির কথা বলেছেন তা মোটেই গ্রহণযোগ্য নয়। খরস্রোতা নদী ফুলে-ফেঁপে যে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে তা যেকোনো সময় বাঁধ ভেঙে কৃষকের স্বপ্নের সোনার ফসল নষ্ট করে দেবে। গ্রামের মাতবর এর প্রতিকার করতে বললে চেয়ারম্যান তাকে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো এবং বাজেট আসার পর বাঁধ মেরামতের কথা বলেছেন। এ ধরনের ভাবনা 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার গোবুরায়ের চিন্তাভাবনার সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। কারণ সেও রাজার পা দুটি ধুলা থেকে রক্ষা করতে রাজ্যের জ্ঞানী-গুণী-মন্ত্রীদের সঙ্গে পরামর্শ করেছেন এবং ঝাঁটা দিয়ে রাজ্যের সব ধুলা দূর করার নির্দেশ দেন। উদ্দীপকের চেয়ারম্যান এবং কবিতার মন্ত্রী গোবুরায় উভয়ের সিদ্ধান্তই অদূরদর্শী ও বোকামিপূর্ণ।

উত্তরঃ

"উদ্দীপকের মতি মিয়ার দল চামার কুলপতির সার্থক প্রতিনিধি”- মন্তব্যটি যথার্থ। 

পৃথিবীর সভ্যতার প্রকৃত কারিগররা নানাভাবে অবহেলিত। তাদের কর্মদক্ষতায় জগৎ-সংসার সচল থাকলেও সমাজে তাদের মর্যাদা নেই। অথচ তারাই তাদের ব্যবহারিক জ্ঞান দ্বারা অনেক বড় বড় সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান দিতে সিদ্ধহস্ত।

উদ্দীপকে খরস্রোতা নদী ফুলে-ফেঁপে ওঠার এবং জোয়ারে নির্ঘাত বাঁধ ভেঙে মানুষ, গরু, ফসল সব ভাসিয়ে নেওয়ার আশঙ্কার কথা বলা হয়েছে। সেখানে এই সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধানের জন্য চেয়ারম্যানের দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ ও বাজেট আসার কথা বলেছেন। কিন্তু ঐ গ্রামের মতি মিয়ার দল চেয়ারম্যানের কথায় ভরসা করে অপেক্ষা করেনি। তারা কোদাল চালিয়ে বাঁধকে ভেঙে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করে। এই বিষয়টি 'জুতা-আবিষ্কার' কবিতার চামার কুলপতির রাজার পায়ে ধুলা লাগার তাৎক্ষণিক প্রতিকারের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। তিনি তার বাস্তব জ্ঞানের মাধ্যমে চামড়া দিয়ে রাজার পায়ের মাপে জুতা তৈরি করে রাজার পা ধুলামুক্ত রাখার ব্যবস্থা করেছেন।

'জুতা-আবিষ্কার' কবিতায় রাজাকে ধুলা থেকে বাঁচাতে গিয়ে রাজ্যের জ্ঞানী-গুণী, মন্ত্রী, পাত্র-মিত্ররা আরও নানা সমস্যা সৃষ্টি করেন। তারা কেউ এর উপযুক্ত সমাধান দিতে পারেননি। উদ্দীপকেও চেয়ারম্যান নদীর বাঁধ রক্ষার সমাধান দিতে পারেননি। কিন্তু মতি মিয়ার দল তা করেছে। কবিতায় চামার কুলপতিও রাজার পায়ে ধুলা লাগার মতো সমস্যার সমাধান করেছেন সহজেই। এদিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

294

কহিলা হবু, ‘শুন গো গোবুরায়,

           কালিকে আমি ভেবেছি সারা রাত্র-

মলিন ধুলা লাগিবে কেন পায়

          ধরণী -মাঝে চরণ-ফেলা মাত্র !

তোমরা শুধু বেতন লহ বাঁটি,

          রাজার কাজে কিছুই নাহি দৃষ্টি ।

আমার মাটি লাগায় মোরে মাটি,

           রাজ্যে মোর একি এ অনাসৃষ্টি!

                 শীঘ্র এর করিবে প্রতিকার,

                নহিলে কারো রক্ষা নাহি আর ।'


শুনিয়া গোবু ভাবিয়া হলো খুন,

          দারুণ ত্রাসে ঘর্ম বহে গাত্রে ।

পণ্ডিতের হইল মুখ চুন, 

         পাত্রদের নিদ্রা নাহি রাত্রে।

রান্নাঘরে নাহিকো চড়ে হাঁড়ি,

           কান্নাকাটি পড়িল বাড়ি—মধ্যে,

অশ্রুজলে ভাসায়ে পাকা দাড়ি

          কহিলা গোবু হবুর পাদপদ্মে,

             'যদি না ধুলা লাগিবে তব পায়ে,

             পায়ের ধুলা পাইব কী উপায়ে!'


শুনিয়া রাজা ভাবিল দুলি দুলি,

           কহিল শেষে, ‘কথাটা বটে সত্য-

কিন্তু আগে বিদায় করো ধূলি,

           ভাবিয়ো পরে পদধুলির তত্ত্ব।

ধুলা-অভাবে না পেলে পদধুলা

          তোমরা সবে মাহিনা খাও মিথ্যে,

কেন-বা তবে পুষিনু এতগুলা

          উপাধি-ধরা বৈজ্ঞানিক ভৃত্যে?

             আগের কাজ আগে তো তুমি সারো,

             পরের কথা ভাবিয়ো পরে আরো।'


আঁধার দেখে রাজার কথা শুনি,

         যতনভরে আনিল তবে মন্ত্ৰী

যেখানে যত আছিল জ্ঞানী গুণী

         দেশে বিদেশে যতেক ছিল যন্ত্রী ।

বসিল সবে চশমা চোখে আঁটি,

         ফুরায়ে গেল উনিশ পিপে নস্য,

অনেক ভেবে কহিল, ‘গেলে মাটি

          ধরায় তবে কোথায় হবে শস্য?'

কহিল রাজা, ‘তাই যদি না হবে,

         পণ্ডিতেরা রয়েছ কেন তবে?'

 

সকলে মিলি যুক্তি করি শেষে

         কিনিল ঝাঁটা সাড়ে-সতেরো লক্ষ,

ঝাঁটের চোটে পথের ধুলা এসে

          ভরিয়া দিল রাজার মুখ বক্ষ ৷

ধুলায় কেহ মেলিতে নারে চোখ,

          ধুলার মেঘে পড়িল ঢাকা সূৰ্য,

ধুলার বেগে কাশিয়া মরে লোক,

           ধুলার মাঝে নগর হলো উহ্য।

              কহিল রাজা, “করিতে ধুলা দূর,

               জগৎ হলো ধুলায় ভরপুর!”


তখন বেগে ছুটিল ঝাঁকে-ঝাঁক

          মশক কাঁখে একুশ লাখ ভিস্তি ।

পুকুরে বিলে রহিল শুধু পাঁক,

           নদীর জলে নাহিকো চলে কিস্তি ।

জলের জীব মরিল জল বিনা,

            ডাঙার প্রাণী সাঁতার করে চেষ্টা।

পাঁকের তলে মজিল বেচা-কিনা,

            সর্দিজ্বরে উজাড় হলো দেশটা ।

                কহিল রাজা, ‘এমনি সব গাধা

                ধুলারে মারি করিয়া দিল কাদা!”

 

আবার সবে ডাকিল পরামর্শে,

         বসিল পুনঃ যতেক গুণবন্ত-

ঘুরিয়া মাথা হেরিল চোখে সর্ষে,

          ধুলার হায় নাহিক পায় অন্ত ।

কহিল, “মহী মাদুর দিয়ে ঢাকো,

          ফরাস পাতি করিব ধুলা বন্ধ ।

' কহিল কেহ, ‘রাজারে ঘরে রাখো,

          কোথাও যেন থাকে না কোনো রন্ধ্র !

          ধুলার মাঝে না যদি দেন পা

          তা হলে পায়ে ধুলা তো লাগে না ।’

কহিল রাজা, ‘সে কথা বড়ো খাঁটি -

           কিন্তু মোর হতেছে মনে সন্ধ,

মাটির ভয়ে রাজ্য হবে মাটি

          দিবস-রাতি রহিলে আমি বন্ধ।'

কহিল সবে, ‘চামারে তবে ডাকি

          চর্ম দিয়া মুড়িয়া দাও পৃথ্বী ।

ধূলির মহী ঝুলির মাঝে ঢাকি

          মহীপতির রহিবে মহাকীর্তি ।’

কহিল সবে, ‘হবে সে অবহেলে,

          যোগ্যমতো চামার যদি মেলে।'

 

রাজার চর ধাইল হেথা-হোথা,

        ছুটিল সবে ছাড়িয়া সব কর্ম ।

যোগ্যমতো চামার নাহি কোথা,

         না মিলে এত উচিত-মতো চর্ম ।

তখন ধীরে চামার-কুলপতি

          কহিল এসে ঈষৎ হেসে বৃদ্ধ,

“বলিতে পারি করিলে অনুমতি,

          সহজে যাহে মানস হবে সিদ্ধ ।

             নিজের দুটি চরণ ঢাকো, তবে

             ধরণী আর ঢাকিতে নাহি হবে।'

 


কহিল রাজা, ‘এত কি হবে সিধে !

            ভাবিয়া ম'ল সকল দেশসুদ্ধ !”

মন্ত্রী কহে,'বেটারে শূল বিঁধে

            কারার মাঝে করিয়া রাখো রুদ্ধ।'

রাজার পদ চরম- আবরণে

           ঢাকিল বুড়া বসিয়া পদোপান্তে।

মন্ত্রী কহে,'আমারো ছিল মনে 

           কেমনে বেটা পেরেছে সেটা জানতে।'

                 সেদিন হতে চলিল জুতা পরা-

                  বাঁচিল গোবু, রক্ষা পেল ধরা ।

 

Related Question

View All
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews