ফলাফল অনিশ্চিত জেনেও যিনি দৃঢ় মনোবল ও সাহসিকতার সাথে ব্যবসায় স্থাপন ও সফলভাবে তা পরিচালনা করেন, তিনিই ব্যবসায় উদ্যোক্তা বা শিল্পোদ্যোক্তা ।
উদ্যোক্তা হলেন এমন একজন ব্যক্তি, যিনি নিজস্ব চিন্তা-ভাবনা ও সৃজনশীলতাকে কাজে লাগিয়ে নতুন কিছু করার উদ্যোগ নেন।
একজন মানুষ জন্মগ্রহণ করার পর ধীরে ধীরে বেড়ে ওঠে। বেড়ে ওঠার সময় থেকেই তার আত্মবিশ্বাস, উদ্যম, সৃজনশীলতা প্রকাশ পেতে থাকে। তেমনি ভবিষ্যৎ উদ্যোক্তার মাঝেও উদ্যোক্তা হওয়ার কিছু গুণাবলি জন্মসূত্রেই থাকে। এগুলো তিনি পরবর্তীতে কাজে লাগিয়ে বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে ব্যবসায় বা অন্যান্য ক্ষেত্রে সফলতা পান। এক্ষেত্রে উদ্যোক্তার ঝুঁকি নেওয়ার মানসিকতা তার মধ্যে অল্প বয়স থেকে লক্ষ করা যায়। তাই জন্মসূত্রে উদ্যোক্তার গুণাবলির অধিকারী এমন ব্যক্তিরাই হলেন জন্মগত উদ্যোক্তা।
উদ্দীপকের শোভনের মধ্যে উদ্যোক্তার 'উদ্ভাবনী শক্তি' গুণটি পরিলক্ষিত হয়েছে।
সফল উদ্যোক্তা চ্যালেঞ্জমূলক কাজ করতে বিশেষ আনন্দ পান। তিনি প্রচলিত প্রযুক্তির সাথে নতুন প্রযুক্তির সমন্বয়সাধন করেন। উদ্ভাবনী শক্তির বলে তিনি উৎপাদন প্রক্রিয়ার নতুন কৌশল উদ্ভাবন ও তা ব্যবহার করেন।
উদ্দীপকের শোভন তথ্য প্রযুক্তিতে পারদর্শী। এ বিষয়ে ছোটবেলা থেকেই তার বেশ ঝোঁক। তার ইচ্ছে হলো পরিবেশ দূষণ করে না এমনমোটর গাড়ি উদ্ভাবন করা। এতে শোভনের নতুন কিছু করার প্রতি আগ্রহ ফুটে ওঠে। সে তার মেধা ও দক্ষতা ব্যবহার করে মোটর গাড়িটি তৈরি করবে। আর পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে পারায় যন্ত্রটি ব্যবহারের উপযোগিতা থাকবে। এক্ষেত্রে সম্পূর্ণ নতুন কিছু তৈরি করতে পারার = সাথে উদ্ভাবনী শক্তির মিল আছে। সুতরাং, শোভন সফল উদ্যোক্তার উদ্ভাবনী শক্তি গুণটির অধিকারী।
শোভনের মতো সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে অনুপ্রাণিত করে ব্যবসায় উদ্যোগের আরও সম্প্রসারণ ও সমৃদ্ধি সম্ভব'- উক্তিটি যথার্থ বলে আমি মনে করি।
ব্যবসায় উদ্যোগ উন্নয়নে বিরাজমান পরিবেশ সব সময় অনুকূল হয় না। এতে উদ্যোক্তাকে বিভিন্ন বাধার (প্রয়োজনীয় অর্থসংস্থানের অভাব, অবকাঠামোগত উপাদানের অভাব, প্রশিক্ষণের অভাব প্রভৃতি) সম্মুখীন হতে হয়। এসব বাধা মোকাবিলায় প্রয়োজন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সহায়তা।
উদ্দীপকের শোভনের ইচ্ছে হলো ব্যতিক্রমধর্মী একটি মোটর গাড়ি ত উদ্ভাবন করা। এ গাড়িটি পরিবেশ দূষণমুক্ত রাখতে সহায়তা করবে। কিন্তু বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে সে এ কাজে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। তবে তার বিশ্বাস, সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বিভিন্ন সংস্থার সাহায্য পেলে সে নিশ্চয়ই সফলতার মুখ দেখবে। র য় ক্ষ মোটর গাড়ি উদ্ভাবনে যন্ত্রাংশ কেনার মতো অর্থ শোভনের নেই। এতে তাই তার প্রয়োজন স্বল্প বা বিনা সুদে মূলধন প্রাপ্তি ও যথাযথ পরামর্শ। এ ধরনের সহায়তা সে সরকারি বাণিজ্যিক ব্যাংক ও বিভিন্ন আর্থিক এটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে পেতে পারে। এছাড়া বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (ব্র্যাক, মাইডাস, প্রশিকা প্রভৃতি) এক্ষেত্রে ভূমিকা রাখতে শুনি পারে। তবে অনেকেরই সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এসব বনী সহায়তা সম্পর্কে ধারণা নেই। তাই ব্যবসায় উদ্যোগ উন্নয়নে এসব কর্মসূচির প্রচারণা বাড়াতে হবে। এতে আরও অনেকে ব্যবসায় উদ্যোগ নিতে এগিয়ে আসবে।
সুতরাং, এভাবে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বেসরকারি সংস্থার সহায়তায় সম্ভাবনাময় উদ্যোক্তাদের অনুপ্রাণিত করা সম্ভব।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!
