কবি তাঁর গ্রামের কদম আলীর চিরচেনা স্বজন।
'খর রৌদ্র, জলজ বাতাস, মেঘ ও ক্লান্ত বিকেলের পাখি' দ্বারা গ্রামবাংলার চিরকালের শ্যামল প্রকৃতিকে নির্দেশ করে নিজের অস্তিত্বকে বোঝানো হয়েছে।
বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। ঋতু পরিবর্তনে প্রকৃতিতে নতুন আবেশ সৃষ্টি হয়। নতুন আমেজে প্রকৃতি নেচে ওঠে। ছয় ঋতুতে প্রকৃতি ছয় ধরনের রূপ ধারণ করে। গ্রীষ্মে দারুণ দাবদাহ, বর্ষায় প্রবল বৃষ্টি, শরতে সাদা মেঘমালা, হেমন্তে ধানের উৎসব, শীতে রসের আমেজ আর বসন্তে প্রকৃতিরানির রূপ দেখা যায়। ঋতুভেদে বাংলায় প্রকৃতির অনেক পরিবর্তন দেখা যায়। বিশেষ করে গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শরতের এই রূপবৈচিত্র্যই প্রশ্নোক্ত লাইনে প্রকাশ পেয়েছে।
উদ্দীপকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার গ্রামীণ পরিবেশের বিভিন্ন অনুষঙ্গের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ।
জন্মভূমির প্রতি মানুষের ভালোবাসা চিরন্তন। জন্মভূমির মধ্যে শিকড় গেড়েই মানুষ সমগ্র বিশ্বকে জানতে চায়। জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন হলেও অনুভূতির জগতে তা অভিন্ন। স্বদেশের প্রকৃতি মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে থাকে।
উদ্দীপকের কবিতাংশে জন্মভূমির প্রতি কবির গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। এখানে কবি তাঁর জন্মভূমির শোভা ও রূপবৈচিত্র্যের ইঙ্গিত করেছেন। এ দিকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার গ্রামীণ প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে কবি তাঁর গাঁয়ের কাছে এলেই সব শান্তি খুঁজে পান। কারণ সেখানে তাঁর বাবার স্নেহ, মায়ের আদর মাখানো আছে। এই অনুভূতি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায়ও প্রকাশ পেয়েছে। কবি মনে করেন এদেশের প্রকৃতি তাঁর অস্তিত্বের সঙ্গে গাঁথা। এদেশের আসমান, জমিনের ফুল, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙা, ধানখেত এ সবকিছুই কবির অতি আপন এবং চিরচেনা। এভাবে জন্মভূমি ও জন্মভূমির প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সম্পর্কের দিক থেকে উদ্দীপক এবং 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।
সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার মূলভাবের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।- মন্তব্যটি যথার্থ।
জন্মভূমির প্রতি মানুষের গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসা থাকে। তাই মানুষ জীবন-জীবিকার তাগিদে যেখানেই যাক না কেন, নিজের জন্মভূমিকে ভুলে থাকতে পারে না। কারণ প্রিয় জন্মভূমির বিভিন্ন অনুষঙ্গ তার অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে থাকে।
উদ্দীপকে বাংলার গ্রামীণ প্রকৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি স্বদেশ প্রকৃতির প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে তাঁর জন্মভূমিকে স্বর্গপুরী হিসেবে অভিহিত করেছেন। কবির এই স্বদেশপ্রীতি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় প্রতিফলিত কবির দেশপ্রেমের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ দিকটি ছাড়াও 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় আরও কিছু বিষয় আছে যেগুলো উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি।
'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি দেশকে অনুভব করে স্বদেশের মানুষকে আপন করে নেওয়ার যে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। এ কবিতায় জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের এবং কবির নিজের সম্পর্ক দেখাতে গিয়ে তিনি প্রকৃতির প্রসঙ্গ এনেছেন। উদ্দীপকে গ্রামীণ প্রকৃতি শোভায় কবির যে মুগ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে তা কবির এসব প্রসঙ্গের পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন নয়। এ দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!