শোভা বলো, স্বাস্থ্য বলো- আছে বা না আছে, 

বুকটি তবু নেচে ওঠে এলে গাঁয়ের কাছে;

ঐখানেতে সকল শান্তি, আমার সকল সুখ- 

বাপের স্নেহ, মায়ের আদর, প্রিয়ার হাসিমুখ; 

তাই তো আমার জন্মভূমি স্বর্গপুরী, 

যেথায় আমার হৃদয়খানি গেছে চুরি!

Updated: 11 months ago
উত্তরঃ

কবি তাঁর গ্রামের কদম আলীর চিরচেনা স্বজন।

উত্তরঃ

'খর রৌদ্র, জলজ বাতাস, মেঘ ও ক্লান্ত বিকেলের পাখি' দ্বারা গ্রামবাংলার চিরকালের শ্যামল প্রকৃতিকে নির্দেশ করে নিজের অস্তিত্বকে বোঝানো হয়েছে।

বাংলাদেশ ষড়ঋতুর দেশ। ঋতু পরিবর্তনে প্রকৃতিতে নতুন আবেশ সৃষ্টি হয়। নতুন আমেজে প্রকৃতি নেচে ওঠে। ছয় ঋতুতে প্রকৃতি ছয় ধরনের রূপ ধারণ করে। গ্রীষ্মে দারুণ দাবদাহ, বর্ষায় প্রবল বৃষ্টি, শরতে সাদা মেঘমালা, হেমন্তে ধানের উৎসব, শীতে রসের আমেজ আর বসন্তে প্রকৃতিরানির রূপ দেখা যায়। ঋতুভেদে বাংলায় প্রকৃতির অনেক পরিবর্তন দেখা যায়। বিশেষ করে গ্রীষ্ম, বর্ষা ও শরতের এই রূপবৈচিত্র্যই প্রশ্নোক্ত লাইনে প্রকাশ পেয়েছে।

উত্তরঃ

উদ্দীপকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার গ্রামীণ পরিবেশের বিভিন্ন অনুষঙ্গের দিকটির সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। 

জন্মভূমির প্রতি মানুষের ভালোবাসা চিরন্তন। জন্মভূমির মধ্যে শিকড় গেড়েই মানুষ সমগ্র বিশ্বকে জানতে চায়। জন্মভূমির প্রতি ভালোবাসার প্রকাশ ভিন্ন ভিন্ন হলেও অনুভূতির জগতে তা অভিন্ন। স্বদেশের প্রকৃতি মানুষের অস্তিত্বের সঙ্গে গভীরভাবে মিশে থাকে।

উদ্দীপকের কবিতাংশে জন্মভূমির প্রতি কবির গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসা প্রকাশ পেয়েছে। এখানে কবি তাঁর জন্মভূমির শোভা ও রূপবৈচিত্র্যের ইঙ্গিত করেছেন। এ দিকটি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার গ্রামীণ প্রকৃতি ও পরিবেশের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। উদ্দীপকে কবি তাঁর গাঁয়ের কাছে এলেই সব শান্তি খুঁজে পান। কারণ সেখানে তাঁর বাবার স্নেহ, মায়ের আদর মাখানো আছে। এই অনুভূতি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায়ও প্রকাশ পেয়েছে। কবি মনে করেন এদেশের প্রকৃতি তাঁর অস্তিত্বের সঙ্গে গাঁথা। এদেশের আসমান, জমিনের ফুল, জোনাকি, পুকুর, মাছরাঙা, ধানখেত এ সবকিছুই কবির অতি আপন এবং চিরচেনা। এভাবে জন্মভূমি ও জন্মভূমির প্রকৃতির সঙ্গে গভীর সম্পর্কের দিক থেকে উদ্দীপক এবং 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতা পরস্পর সাদৃশ্যপূর্ণ।

উত্তরঃ

সাদৃশ্য থাকলেও উদ্দীপকে 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার মূলভাবের পূর্ণ প্রতিফলন ঘটেনি।- মন্তব্যটি যথার্থ। 

জন্মভূমির প্রতি মানুষের গভীর অনুরাগ ও ভালোবাসা থাকে। তাই মানুষ জীবন-জীবিকার তাগিদে যেখানেই যাক না কেন, নিজের জন্মভূমিকে ভুলে থাকতে পারে না। কারণ প্রিয় জন্মভূমির বিভিন্ন অনুষঙ্গ তার অস্তিত্বের সঙ্গে মিশে থাকে।

উদ্দীপকে বাংলার গ্রামীণ প্রকৃতির প্রতি গভীর অনুরাগ প্রকাশ পেয়েছে। উদ্দীপকের কবিতাংশে কবি স্বদেশ প্রকৃতির প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে তাঁর জন্মভূমিকে স্বর্গপুরী হিসেবে অভিহিত করেছেন। কবির এই স্বদেশপ্রীতি 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় প্রতিফলিত কবির দেশপ্রেমের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ। এ দিকটি ছাড়াও 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় আরও কিছু বিষয় আছে যেগুলো উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি।

'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি দেশকে অনুভব করে স্বদেশের মানুষকে আপন করে নেওয়ার যে অনুভূতি প্রকাশ করেছেন তা উদ্দীপকে প্রকাশ পায়নি। এ কবিতায় জন্মভূমির সঙ্গে মানুষের এবং কবির নিজের সম্পর্ক দেখাতে গিয়ে তিনি প্রকৃতির প্রসঙ্গ এনেছেন। উদ্দীপকে গ্রামীণ প্রকৃতি শোভায় কবির যে মুগ্ধতা প্রকাশ পেয়েছে তা কবির এসব প্রসঙ্গের পূর্ণাঙ্গ প্রতিফলন নয়। এ দিক থেকে প্রশ্নোক্ত মন্তব্যটি যথার্থ।

257

আসমানের তারা সাক্ষী

সাক্ষী এই জমিনের ফুল, এই

নিশিরাইত বাঁশবাগান বিস্তর জোনাকি সাক্ষী

সাক্ষী এই জারুল জামরুল, সাক্ষী

পুবের পুকুর, তার ঝাকড়া ডুমুরের ডালে স্থির দৃষ্টি

মাছরাঙা আমাকে চেনে

আমি কোনো অভ্যাগত নই

খোদার কসম আমি ভিনদেশি পথিক নই

আমি কোনো আগন্তুক নই ।

আমি কোনো আগন্তুক নই, আমি

ছিলাম এখানে, আমি স্বাপ্নিক নিয়মে

এখানেই থাকি আর

এখানে থাকার নাম সর্বত্রই থাকা

সারা দেশে।

আমি কোনো আগন্তুক নই ৷

এই খর রৌদ্র জলজ বাতাস মেঘ ক্লান্ত বিকেলের

পাখিরা আমাকে চেনে

তারা জানে আমি কোনো অনাত্মীয় নই ।

কার্তিকের ধানের মঞ্জরী সাক্ষী

সাক্ষী তার চিরোল পাতার

টলমল শিশির – সাক্ষী জ্যোৎস্নার চাদরে ঢাকা

        নিশিন্দার ছায়া

অকাল বার্ধক্যে নত কদম আলী

তার ক্লান্ত চোখের আঁধার –

আমি চিনি, আমি তার চিরচেনা স্বজন একজন । আমি

জমিলার মা'র

শূন্য খা খা রান্নাঘর শুকনো থালা সব চিনি

সে আমাকে চেনে।

হাত রাখো বৈঠায় লাঙলে, দেখো

আমার হাতের স্পর্শ লেগে আছে কেমন গভীর । দেখো

মাটিতে আমার গন্ধ, আমার শরীরে

লেগে আছে এই স্নিগ্ধ মাটির সুবাস।

আমাকে বিশ্বাস করো, আমি কোনো আগন্তুক নই ।

দু'পাশে ধানের খেত

       সরু পথ

সামনে ধু ধু নদীর কিনার

আমার অস্তিত্বে গাঁথা । আমি এই উধাও নদীর

মুগ্ধ এক অবোধ বালক ৷
 

Related Question

View All
উত্তরঃ

“জমিলার মা'র শূন্য খাঁ খাঁ রান্নাঘর শুকনো থালা সব চিনি”— এই উক্তিটি দ্বারা কবি চরম দারিদ্র্য, অভাব-অনটন এবং মানুষের মৌলিক চাহিদার অপ্রাপ্যতাকে বোঝাতে চেয়েছেন। এর মাধ্যমে একটি পরিবারের অসহায়ত্ব ও সমাজের বঞ্চনার করুণ চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে, যেখানে ক্ষুধা ও দরিদ্রতা মানুষের জীবনকে বিপন্ন করে তোলে।

এখানে 'শূন্য খাঁ খাঁ রান্নাঘর' ও 'শুকনো থালা' বলতে খাদ্যের অভাব এবং পরিবারের সদস্যদের অনাহারে থাকার চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। 'সব চিনি' শব্দগুচ্ছটি গভীর হতাশা ও মেনে নেওয়ার ভঙ্গিকে প্রকাশ করে, যেখানে ক্ষুধার্ত শিশুরা খাবারের আশায় থাকে কিন্তু তা কখনোই পূরণ হয় না। এই চিত্রটি তৎকালীন বা বর্তমান সমাজের অর্থনৈতিক বৈষম্য ও মানবিক সংকটের ইঙ্গিত দেয় এবং সমাজ থেকে দারিদ্র্য দূরীকরণের প্রয়োজনীয়তার বার্তা বহন করে।

Satt AI
Satt AI
4 days ago
958
উত্তরঃ কার্তিক

'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতায় কবি আহসান হাবীব কার্তিক মাসের উল্লেখ করেছেন। এই কবিতায় কবি জন্মভূমির সঙ্গে তাঁর নিবিড় ও আত্মিক সম্পর্ক তুলে ধরেছেন। কবি বোঝাতে চেয়েছেন যে জন্মভূমি তাঁর কাছে কখনো অচেনা বা আগন্তুক নয়, বরং তাঁর সত্তার অংশ। কার্তিক মাসকে তিনি তাঁর গ্রামের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও স্মৃতি জাগিয়ে তোলার জন্য ব্যবহার করেছেন, যা জন্মভূমির প্রতি তাঁর অবিচ্ছেদ্য ভালোবাসাকে প্রকাশ করে।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
635
উত্তরঃ

কদম আলী চরম দারিদ্র্য, অপুষ্টি এবং অতিরিক্ত কায়িক পরিশ্রমের কারণে অকাল বার্ধক্যে নত। তার জীবনজুড়ে ছিল অভাব-অনটন আর টিকে থাকার কঠিন সংগ্রাম, যা তাকে অল্প বয়সেই জরাগ্রস্ত করে তুলেছে।

অভাবের তাড়নায় সুষম খাদ্যের অভাব, রোগের চিকিৎসা না পাওয়া এবং দিনরাত শারীরিক শ্রমের ধকল মানুষের দেহ ও মনকে দ্রুত নিস্তেজ করে দেয়। এর ফলে স্বাভাবিক সময়ের আগেই শরীর দুর্বল, শীর্ণ ও রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ে, যা বাহ্যিকভাবে অকাল বার্ধক্য হিসেবে প্রতীয়মান হয় এবং একজন ব্যক্তিকে কর্মক্ষমতা হারানোর দিকে ঠেলে দেয়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
1.3k
উত্তরঃ

‘আমি কোনো আগন্তুক নই’ কবিতার মূল সুর হলো জন্মভূমির প্রতি কবির অবিচ্ছেদ্য টান ও আত্মিক সম্পর্ক। কবি তার জন্মভূমিকে শুধুমাত্র একটি স্থান হিসেবে দেখেন না, বরং এর প্রতিটি ধূলিকণা, গাছপালা, নদীনালা, আকাশ-বাতাস এবং মানুষের সাথে নিজেকে একাত্ম মনে করেন। এই ভূমি তার অস্তিত্বের অংশ, যেখানে তিনি কোনো আগন্তুক নন, বরং এর অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে পরিচিত।

উদ্দীপকের সুমন বহু বছর পর তার গ্রামের বাড়িতে ফিরে আসে এবং জন্মভূমির প্রতি তার গভীর টান ও ভালোবাসার প্রকাশ ঘটে। গ্রামের লোকজনের উৎসুক দৃষ্টি, স্কুল বন্ধু ফরিদকে জড়িয়ে ধরা, তার ক্লান্ত চোখের চাহনিতে মর্মাহত হওয়া এবং বাড়ির আমগাছে টিয়া-শালিক দেখে রোমাঞ্চিত হওয়া – এ সবকিছুই সুমনের তার শেকড়ের প্রতি প্রবল আকর্ষণ ও একাত্মতার পরিচয় বহন করে। সে তার জন্মভূমির স্মৃতি ও অস্তিত্বের সাথে পুনরায় মিশে গিয়ে আনন্দিত হয়, যা তাকে নিজের আপন ভূমিতে ফিরে আসার অনুভূতি দেয়।

এই দিক থেকে, সুমনের ভাবনা 'আমি কোনো আগন্তুক নই' কবিতার কবির ভাবনার সাথে সম্পূর্ণ সাদৃশ্যপূর্ণ। উভয় ক্ষেত্রেই জন্মভূমির প্রতি এক গভীর আত্মিক সম্পর্ক, মমত্ববোধ এবং নিজেকে জন্মস্থানের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে উপলব্ধি করার বিষয়টি ফুটে উঠেছে। সুমন যেমন বহু বছর পর নিজ ভিটেতে ফিরে এসে তার জন্মভূমির প্রতিটি উপাদানের সাথে নতুন করে সম্পর্ক স্থাপন করে, তেমনি কবিও তার জন্মভূমির সাথে নিজেকে অবিচ্ছিন্ন সত্তা হিসেবে ঘোষণা করেন। এই টানই তাদের উভয়কে জন্মভূমির সাথে যুক্ত করে আগন্তুক না হওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করায়।

Satt AI
Satt AI
2 weeks ago
515
শিক্ষকদের জন্য বিশেষভাবে তৈরি

১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!

শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!

প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
প্রশ্ন এডিট করা যাবে
জলছাপ দেয়া যাবে
ঠিকানা যুক্ত করা যাবে
Logo, Motto যুক্ত হবে
অটো প্রতিষ্ঠানের নাম
অটো সময়, পূর্ণমান
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
অটো নির্দেশনা (এডিটযোগ্য)
অটো বিষয় ও অধ্যায়
OMR সংযুক্ত করা যাবে
ফন্ট, কলাম, ডিভাইডার
প্রশ্ন/অপশন স্টাইল পরিবর্তন
সেট কোড, বিষয় কোড
এখনই শুরু করুন ডেমো দেখুন
৫০,০০০+
শিক্ষক
৩০ লক্ষ+
প্রশ্নপত্র
মাত্র ১৫ পয়সায় প্রশ্নপত্র
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন তৈরি করুন আজই

Complete Exam
Preparation

Learn, practice, analyse and improve

1M+ downloads
4.6 · 8k+ Reviews