সূচনা : ইংরেজিতে একটি প্রবাদ আছে, 'Industry is the mother of good luck.' অর্থাৎ পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি। মানবজীবনের সমস্ত অগ্রগতির মূলে রয়েছে শ্রমের অবদান। আদিম যুগের হাতিয়ার থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের বিস্ময় কম্পিউটার পর্যন্ত যেসব অবদান, তার মূলে রয়েছে মানুষের নিরন্তর সাধনা ও শ্রম। মানুষ সূক্ষ্ম যন্ত্র ও কারুকার্যময় শিল্পকর্ম তৈরির ক্ষমতা পেয়েছে শ্রমের মাধ্যমে। জীবন রক্ষার্থে ও সুন্দর পরিবেশ রচনার জন্যও মানুষকে পরিশ্রম করতে হয়। এককথায়, মানুষের জীবন, পরিবেশ ও সভ্যতা হচ্ছে শ্রমেরই ফসল।
শ্রম কী : মানুষের সমস্ত সম্পদ এবং মানরসভ্যতার ভিত্তি রচনাকারী শক্তির নামই শ্রম। মানুষ তার দৈহিক ও মানসিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে যা কিছু করে তাতেই শ্রম নিহিত থাকে। সকল মানুষই নিজ নিজ যোগ্যতা অনুযায়ী সমাজের অগ্রগতিতে অবদান রাখে; কেউ দৈহিক বা কায়িক শ্রমের মাধ্যমে আর কেউ'মানসিক বা বুদ্ধিবৃত্তিক শ্রমের মাধ্যমে। মানুষের জীবন ও সভ্যতা এ দুই ধরনের শ্রমের সমন্বয়েই রচিত।
শ্রমের প্রয়োজনীয়তা : বাঁচতে হলে খাদ্য, পোশাক, বাসস্থানসহ আরও অনেক উপকরণ প্রয়োজন। জীবনের এসব উপকরণ তৈরি ও সংগ্রহের জন্য মানুষকে পরিশ্রম করতে হয়। জীবনযুদ্ধে তাই প্রতিটি মানুষই শ্রমসৈনিক। শ্রম ছাড়া এ যুদ্ধে জয়লাভ অসম্ভব। এ পৃথিবীতে শ্রমই হলো অস্তিত্ব রক্ষার ক্ষেত্রে মানুষের প্রধান হাতিয়ার। কিন্তু একশ্রেণির ভোগবিলাসী ও পরনির্ভরশীল মানুষ শ্রমের এ গুরুত্বকে অনুধাবন করতে পারে না। অথচ শ্রমের গুরুত্বকে অকুণ্ঠভাবে স্বীকৃতি দিয়েছেন বিশ্বনন্দিত বিজ্ঞানী আইনস্টাইন। তিনি বলেছেন, 'রাস্তা সাফ করে যে পরিশ্রমী, ঝাড়ুদার- অলস ও অকর্মণ্য বিদ্বানের চেয়ে মানুষ হিসেবে তাঁর মর্যাদাই বেশি।
পরিশ্রম সৌভাগ্যের প্রসূতি : প্রতিটি মানুষের মাঝেই লুকিয়ে রয়েছে অমিত সম্ভাবনা। নিজের উন্নতি এবং সমাজের অগ্রগতিতে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে সেই সম্ভাবনাগুলোকে খুঁজে বের করে জাগ্রত করা প্রয়োজন। শ্রমের স্পর্শেই সেগুলো পরিপূর্ণরূপে বিকাশ লাভ করে। পৃথিবীর ইতিহাসে সবচেয়ে সফল ব্যক্তিগণ পরিশ্রমের কল্যাণেই নিজেদের অমর করতে সক্ষম হয়েছেন। সৌভাগ্যের আশায় অলসভাবে বসে না থেকে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে পরিশ্রম করলে সৌভাগ্য আপনা হতেই এসে ধরা দেয়।
শ্রমের প্রকারভেদঃ পেশা, বৃত্তি বা কাজের ধরন অনুসারে মানুষের শ্রম নানা রকম হয়ে থাকে। এদিক থেকে সব ধরনের শ্রমকে দুটি প্রধান ভাগে ভাগ করা হয়- দৈহিক শ্রম ও মানসিক শ্রম। কৃষক রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে মাঠে কৃষিকাজ করে। শ্রমিক কলকারখানায় কাজ করে নানা পণ্যসামগ্রী উৎপাদন করে। ব্যবসায়ী ব্যবসায়-বাণিজ্যের কাজে সময় দেন। কর্মচারী-কর্মকর্তা অফিস-আদালতে প্রাতিষ্ঠানিক কাজে নিয়োজিত থাকেন। শিক্ষক, প্রকৌশলী, ডাক্তার ও সাংবাদিক নিজ নিজ পেশাগত কাজে ব্যস্ত থাকেন। এককথায়, একেক পেশার মানুষের কাজের ধরন একেক রকম। কেউ দৈহিক শ্রম বেশি করে; কেউ বেশি করে মানসিক শ্রম। শ্রমের প্রকৃতি যা-ই হোক না কেন সমাজে সবার শ্রমেরই গুরুত্ব রয়েছে।
শ্রমের মর্যাদা: সমাজ, জাতি ও বিশ্ববাসীর অগ্রগতির জন্য শ্রমের ভূমিকা অপরিহার্য। দৈহিক শ্রম, মানসিক শ্রম সব ধরনের শ্রমের রয়েছে সামাজিক উপযোগিতা। কারো শ্রমের মর্যাদা কোনো অংশে কম নয়। কারণ সমাজে আমরা একে অন্যের শ্রমে উপকৃত হই। বাঁচার জন্য চাই অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসা। এর সবগুলোই কেবল নিজের শ্রমে পাওয়া সম্ভব নয়। শ্রমের কল্যাণেই আমরা এসব পাই। সমাজে এখন যেকোনো মানুষের শ্রমকে মর্যাদা দেওয়া হচ্ছে। সবাই বুঝতে পেরেছে শ্রমই উন্নতির একমাত্র চাবিকাঠি।
উন্নত বিশ্বে শ্রমের মর্যাদা: উন্নত বিশ্বে শ্রমের মর্যাদা যথেষ্ট। আমাদের দেশে কায়িক শ্রমকে ততটা মর্যাদা দেওয়া হয় না। উন্নত জাতিগোষ্ঠী কোনো কাজকেই তুচ্ছ বা ছোটো মনে করে না। সমাজের প্রতিটি স্তরের প্রতিটি মানুষ নিজের নিজের কাজ গুরুত্ব দিয়ে করে। তাই তারা আজ উন্নতির শিখরে উঠতে পেরেছে। রাশিয়া, আমেরিকা, ব্রিটেন, জাপান, ফ্রান্স, জার্মানির মতো দেশ শ্রমকে মর্যাদা দিয়েই উন্নতির শিখরে উঠেছে। এক্ষেত্রে একটা উদাহরণ দেওয়া চলে। বিশিষ্ট মার্কিন গবেষক জোসেফ বোরলগ অধিক উৎপাদনশীল উন্নত জাতের গম উৎপাদন করে নোবেল পুরস্কার পান। এ খবর যখন তাঁর কাছে পৌঁছায়, তিনি তখন গমের খেতে শ্রমিকের সঙ্গে কাজ করছিলেন। বস্তুত, শ্রমই তাঁকে দিয়েছে সত্যিকারের মর্যাদা ও মহিমা।
উপসংহার: সমাজে মর্যাদা নিয়ে বাঁচতে হলে পরিশ্রম করতে হবে। পরিশ্রম ছাড়া কোনো জাতি উন্নতি করতে পারে না। যারা শ্রমবিমুখ তাদের জীবনে সাফল্য আসে না, মর্যাদাও তারা পায় না। যে দেশ শ্রমের মর্যাদায় যত আস্থাশীল হবে, ততই সে দেশের মঙ্গল হবে। সাফল্য অর্জন করতে হলে এবং সৌভাগ্য তৈরি করতে হলে পরিশ্রমের কোনো বিকল্প নেই।
Contribute high-quality content, help learners grow, and earn for your efforts! 💡💰'
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!