শ্রীরামচন্দ্রের পারিবারিক জীবন ছিল আদর্শ, স্নেহ ও ভালোবাসায় পরিপূর্ণ। তিনি অযোধ্যার রাজা দশরথ ও রানি কৌশল্যার পুত্র। তিনি ভাই ভর, লক্ষ্মণ ও শত্রুঘ্নের প্রতি ছিলেন গভীর মমতাশীল। রামের স্ত্রী সীতা ছিলেন তার জীবনের সহচরী ও অনন্ত প্রেমের প্রতীক। বনবাসে যাওয়ার সময় সীতা ও লক্ষ্মণ তাঁর সঙ্গে স্বেচ্ছায় গিয়েছিলেন, যা পারিবারিক ভালোবাসা ও একতার নিদর্শন। শ্রীরামচন্দ্র সবসময় পিতার আদেশ পালন ও ধর্মরক্ষায় অবিচল থেকেছেন। রাজা হয়ে তিনি যেমন- প্রজাদের সুখ-শান্তির দিকে খেয়াল রেখেছেন, তেমনি পরিবারের প্রতিও দায়িত্ব পালন করেছেন আন্তরিকভাবে। শ্রীরামচন্দ্রের পারিবারিক জীবন আমাদের শেখায় ভালোবাসা, ত্যাগ ও ন্যায়ের মধ্য দিয়েই সত্যিকারের সুখ ও শান্তি অর্জন করা যায়।
Related Question
View Allপরশুরাম ছিলেন ভগবান বিষ্ণুর ষষ্ঠ অবতার। তাঁর পিতার নাম জমদগ্নি এবং মাতার নাম রেণুকা। ভৃগুবংশে জন্ম নেওয়ায় তিনি ভার্গব ও ভৃগুরাম নামেও পরিচিত ছিলেন। তিনি ত্রেতা যুগে অত্যাচারী ক্ষত্রিয় রাজাদের দমন করার জন্য পৃথিবীতে অবতীর্ণ হন। নিচে তাঁর সম্পর্কে পাঁচটি বাক্য লেখা হলো-
১. পরশুরামের পিতার নাম জমদগ্নি এবং মাতার নাম রেণুকা।
২. ভৃগুবংশে জন্ম বলে তিনি ভার্গব ও ভৃগুরাম নামেও পরিচিত।
৩. তিনি মহাদেবের তপস্যা করেন। তপস্যায় সন্তুষ্ট হয়ে মহাদেব তাঁকে একটি পরশু (কুঠার) উপহার দেন, যা হাতে থাকলে তিনি অজেয় হন।
৪. তিনি অত্যাচারী ক্ষত্রিয়দের দমন করে একুশবার পৃথিবীকে ক্ষত্রিয়শূন্য করেন।
৫. পরশুরাম পরবর্তীতে মহেন্দ্রপর্বতে কঠোর তপস্যায় নিযুক্ত হয়ে পৃথিবীতে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন।
অবতার সম্পর্কে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতায় বর্ণিত ভগবান শ্রীকৃষ্ণের উক্তিটি নিচে সরলার্থসহ লেখা হলো-
যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত।
অভ্যুত্থানমধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্।।
পরিত্রাণায় সাধূনাং বিনাশায় চ দুষ্কৃতাম্।
ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।। (৪/৭-৮)
সরলার্থ: হে ভারত (অর্জুন), যখনই ধর্মের অবনতি হয় এবং অধর্ম বেড়ে যায়, তখনই আমি দেহধারণ করে আবির্ভূত হই। সাধুদের পরিত্রাণ, দুষ্কৃতিকারীদের বিনাশ এবং ধর্মসংস্থাপনের জন্য আমি যুগে যুগে অবতীর্ণ হই।
কৈকেয়ী ছিলেন রাজা দশরথের দ্বিতীয় রানি এবং ভরত-এর মাতা'। দাসী মন্থরায় কুপরামর্শে তিনি অন্যায়ভাবে দুটি বর প্রার্থনা করেন। তিনি দশরথের কাছে যে বর প্রার্থনা করেন তা হলো-
'এক বরে ভরতেরে দেহ সিংহাসন।
আর বরে শ্রীরামেরে পাঠাও কানন।।'
অর্থাৎ প্রথম বরে ভরতকে রাজা করতে হবে। দ্বিতীয় বরে রামকে চৌদ্ধ বছরের জন্য বনবাসে পাঠাতে হবে।
স্বামী বিবেকানন্দ ১৮৬৩ খ্রিষ্টাব্দে কলকাতার শিমলা পল্লিতে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর আসল নাম ছিল নরেন্দ্রনাথ দত্ত। ছোটোবেলা থেকেই নরেন্দ্রনাথ ছিলেন মেধাবী, সত্যবাদী ও নির্ভীক। পড়াশোনার পাশাপাশি তিনি সংগীত ও খেলাধুলায়ও পারদর্শী ছিলেন। ঈশ্বর সম্পর্কে জানার গভীর আগ্রহ থেকেই তিনি শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেবের শিষ্য হন এবং ত্যাগের মন্ত্রে দীক্ষা নেন। রাজপুতানার ক্ষেত্রী রাজা অজিত সিং নরেন্দ্রনাথ দত্তের নাম রাখেন স্বামী বিবেকানন্দ। ১৮৯৩ সালে শিকাগো ধর্মসভায় তাঁর বক্তৃতায় তিনি বিশ্ববাসীর হৃদয় জয় করেন। তিনি মানবসেবাকে ঈশ্বরসেবা হিসেবে মানতেন এবং "জীবে প্রেম করে যেই জন, সেই জন সেবিছে ঈশ্বর"- এই বাণী প্রচার করেন। অল্প বয়সেই ১৯০২ খ্রিষ্টাব্দের ৪ জুলাই, তিনি বেলুড় মঠে শেষ রিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
নিবেদিতা নারীদের কল্যাণে অসামান্য অবদান রেখেছেন।
তিনি মেয়েদের লেখাপড়ার জন্য উত্তর কলকাতার বাগবাজারে একটি বালিকা বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করেন। তিনি ঘুরে ঘুরে সব বয়সের মেয়েদের বিদ্যালয়ে নিয়ে আসতেন। গল্পের ছলে মেয়েদের শিক্ষা দিতেন। সীতা, সাবিত্রী, গান্ধারী প্রমুখ মহীয়সী নারীর জীবনী নিষ্ঠার সাথে শোনাতেন। এছাড়াও তিনি মেয়েদের বিভিন্ন হাতের কাজ, সেলাই, আলপনা ইত্যাদিও শেখাতেন। তাঁর লক্ষ্য ছিল মেয়েদের, ক্ষমতায়ন ও সমাজে তাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠা করা। নারীর উন্নয়ন ও শিক্ষার জন্য তাঁর ত্যাগ প্রশংসনীয়। তাঁর এই মহৎ উদ্যোগ ও লোকসানের জন্য রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর তাঁকে 'লোকমাতা' উপাধি দেন।
হরিচাঁদ ঠাকুর ছিলেন মতুয়া সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা। তিনি
হরিনামকেই ঈশ্বরপ্রাপ্তির একমাত্র পথ হিসেবে প্রচার করেছিলেন। তিনি সত্য, প্রেম ও পবিত্রতার ওপর ভিত্তি করে মতুয়াবাদের মূল দর্শন গড়ে তোলেন এবং মানুষকে ভক্তি ও. মানবসেবায় উৎসাহিত করেন। সমাজের নিপীড়িত ও দরিদ্র মানুষকে আত্মনির্ভর ও আত্মবিশ্বাসী করে তোলাই ছিল তাঁর জীবনের প্রধান লক্ষ্য। তিনি নীলকরদের অত্যাচারের প্রতিবাদে গোপালগঞ্জ মহকুমার জোনাসুর নীলকুঠি অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে শোষিত কৃষকের পাশে দাঁড়ান। নারী 'শিক্ষা ও নারীর মর্যাদা রক্ষায় তিনি বিশেষ গুরুত্ব দেন। সমাজ ও ধর্মীয় জীবনকে শৃঙ্খলিত করার জন্য তিনি 'দ্বাদশ আজ্ঞা' প্রবর্তন করেন। মানবপ্রেম, সত্য ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে তিনি জাতি, ধর্ম ও বর্ণভেদহীন এক সমতাভিত্তিক সমাজ গঠনের আহ্বান জানান।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!