বাংলায় মধ্যযুগের অবসান ঘটে পলাশি যুদ্ধে সিরাজউদ্দৌলার পতনের মধ্য দিয়ে।
সরফরাজকে পরাজিত করে আলিবর্দি খান (১৭৪০-৫৬ খ্রি.) বাংলায় শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে সমর্থ হন। এ সময় বর্গি নামে পরিচিত মারাঠি দস্যুরা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে আক্রমণ করে জনজীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছিল। আলিবর্দি খান দশ বছর প্রতিরোধ করে বর্গিদের দেশ ছাড়া করতে সক্ষম হয়েছিলেন। আফগান সৈন্যরা বিদ্রোহ করলে তিনি শক্তহাতে তা দমন করেন। এসময় ইউরোপীয় বণিকদের বাণিজ্যিক তৎপরতা বাংলার বিভিন্ন অংশে ছড়িয়ে পড়ে এবং সামরিক শক্তি সঞ্চয় করতে থাকে। আলিবর্দি খান তাদের অপতৎপরতা রোধ করে দেশে শান্তি প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
উদ্দীপকের জাফর সুলতান রুকনউদ্দিন বরবক শাহের একটি কৃতিত্ব হিসেবে রাজ্য বিস্তারের কথা উল্লেখ করে।
১৪৫৯ খ্রিষ্টাব্দে নাসিরউদ্দিন মাহমুদ শাহ মৃত্যুবরণ করেন। এরপর তার পুত্র রুকনউদ্দিন বরবক শাহ বাংলার সিংহাসনে বসেন। পিতার রাজত্বকাল থেকেই বরবক শাহ শাসক হিসেবে দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলেন। তখন তিনি হলেন সাতগাঁওয়ের শাসনকর্তা। তার রাজত্বকালে বাংলার রাজ্যসীমা অনেক বৃদ্ধি পায়। বরবক শাহের সাথে কামরূপ রাজ্যের সংঘর্ষের কথা জানা যায়। কিন্তু ফলাফল কী হয়েছিল তা সঠিক জানা যায় না। গঙ্গা নদীর উত্তরাংশ তার সাম্রাজ্যভুক্ত ছিল। ভাগলপুর তার শাসনকালে মুসলমান সাম্রাজ্যের অধীনে আসে। কিন্তু মুঙ্গেরের পশ্চিমে অবস্থিত জেলাগুলো জৌনপুরের শাসনকর্তা মাহমুদ শর্কির অধীনে ছিল। তার সময়ে এ অঞ্চল জয় করা হয় বলে মনে করা হয়। চট্টগ্রামের কর্তৃত্ব নিয়ে গোলযোগ ছিল। বরবক শাহের রাজত্বকালের প্রথম দিকে এটি আরাকান সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল। কিন্তু শেষ দিকে বরবক শাহ এটি পুনরুদ্ধার করেন। যশোর ও খুলনা তার অধিকারে ছিল। তিনি দক্ষিণ দিকেও তাঁর রাজ্য বিস্তৃত করেছিলেন।
উদ্দীপকের জাফরের উল্লিখিত সুলতান রুকনউদ্দিন বরবক শাহের কৃতিত্বের মাঝে শিক্ষা ও সংস্কৃতির পৃষ্ঠপোষকতা এবং স্থাপত্য নির্মাণ স্থান পেয়েছে।
সুলতান রুকনউদ্দিন বরবক শাহ একজন মহাপণ্ডিত ছিলেন। তাঁর বিভিন্ন শিলালিপিতে নিজ নামে এবং বিভিন্ন রাজকীয় উপাধির সঙ্গে 'আল- ফাজিল' ও 'আল-কামিল'- এ দুটি উপাধির উল্লেখ দেখতে পাওয়া যায়। এ থেকে প্রমাণিত হয় যে, বরবক শাহ শিক্ষাক্ষেত্রে সর্বোচ্চ উপাধি লাভ করেছিলেন। তিনি শুধু পণ্ডিতই ছিলেন না, তিনি বিদ্যা ও সাহিত্যেরও পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। হিন্দু ও মুসলমান উভয় ধর্মেরই বিদ্বান ও পণ্ডিত ব্যক্তি তাঁর পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেছিলেন। বৃহস্পতি মিশ্র ছিলেন গীতগোবিন্দটীকা, কুমারসম্ভবটীকা, রঘুবংশটীকা প্রভৃতি গ্রন্থের লেখক। 'শ্রীকৃষ্ণ বিজয়' নামক বিখ্যাত বাংলা কাব্যের রচয়িতা মালাধর বসু এ সময়ের একজন শ্রেষ্ঠ পণ্ডিত ছিলেন। বাংলা রামায়ণের রচয়িতা কৃত্তিবাস বরবক শাহের অনুগ্রহ লাভ করেছিলেন। বাসুদেবও সম্ভবত বরবক শাহের পৃষ্ঠপোষকতা লাভ করেন। সেই সময়ের মুসলমান কবি-সাহিত্যিকদের মধ্যে ইব্রাহিম কাইয়ুম ফারুকী, আমীর জয়েনউদ্দীন হারাভী, আমীর শিহাবউদ্দীন কিরমানী ও মনসুর শিরাজীর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। বরবক শাহ বিভিন্নভাবে কবি ও সাহিত্যিকদের সাহায্য করেছিলেন। এ দিক দিয়ে বরবক শাহের ন্যায় উদার মনোভাবাপন্ন শাসক শুধু বাংলার ইতিহাসে নয়, ভারতবর্ষের ইতিহাসেও দুর্লভ।
Related Question
View Allরাজা গণেশ দিনাজপুরের ভাতুলিয়া অঞ্চলের রাজা ছিলেন।
ইলিয়াস শাহ সমগ্র বাংলাকে একত্রিত করে এর প্রকৃত স্বাধীনতা সূচনা করেন। তাই তাকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রথম প্রবক্তা বলা হয়।
ইলিয়াস শাহ ফিরোজাবাদের সিংহাসনে আরোহণের মাধ্যমে উত্তর ও উত্তর পশ্চিম বাংলার অধিপতি হন। তারপর তিনি সোনারগাঁও, সাতগাঁও, বিহার, উড়িষ্যা, আসাম ইত্যাদি জয় করে বৃহত্তর বাংলার সৃষ্টি করেছিলেন। এ সময় থেকেই বাংলার সকল অঞ্চলের অধিবাসী 'বাঙালি' বলে পরিচিত হয়। আর এ কারণেই ইলিয়াস শাহকে বাঙালি জাতীয়তাবাদের প্রবক্তা বলা হয়।
উদ্দীপকে বিজয়ী সেনাপতির যুদ্ধ কৌশলের প্রতিফলন পাঠ্যবইয়ের ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজির কর্মে প্রতিফলিত হয়েছে।
বখতিয়ার খলজি বিহার বিজয় করার পর নদীয়া আক্রমণ করার মনোস্থির করেন। রাজা লক্ষণ সেন তখন নদীয়ায় অবস্থান করছিলেন। বিহার হতে বাংলায় প্রবেশ করতে হলে তেলিয়াগড় ও শিকড়িগড় এই দুই গিরিপথ দিয়ে আসতে হতো। কিন্তু এ গিরিপথ দুটি সুরক্ষিত থাকায় বখতিয়ার খলজি এ পথে না এসে ঝাড়খণ্ডের অরণ্যময় অঞ্চলের মধ্য দিয়ে অগ্রসর হওয়াতে তার সৈন্যদল খণ্ড খণ্ড ভাবে অগ্রসর হয়। মাত্র ১৭/১৮ জন সৈনিক নিয়ে বখতিয়ার খলজি মধ্যাহ্নভোজে ব্যস্ত রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া বিজয় করেন।
উদ্দীপকেও দেখা যায়, রোমান যোদ্ধারা একইভাবে উপদলে বিভক্ত হয়ে জঙ্গল পথে বিপক্ষদলের প্রাসাদ আক্রমণের পরিকল্পনা করে। তাই বলা যায়, উদ্দীপকের বিজয়ী সেনাপতির কৌশলের প্রতিফলন পাঠ্যবইয়ের বখতিয়ার খলজির যুদ্ধকৌশলে প্রতিফলিত হয়েছে।
উদ্দীপকে বখতিয়ার খলজির যুদ্ধকৌশল প্রতিফলিত হয়েছে। ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি প্রথম জীবনে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যর্থ হলেও ভাগ্য ও কর্মশক্তির সংমিশ্রণ তাকে সফলতা এনে দেয় বলে আমি মনে করি।
ইখতিয়ার উদ্দিন মুহম্মদ বিন বখতিয়ার খলজি আফগানিস্তানের গরমশির বা আধুনিক দশত-ই-মার্গের অধিবাসী ছিলেন। তিনি ১১৯৫ খ্রিষ্টাব্দে নিজ জন্মভূমির মায়া ত্যাগ করে জীবিকার অন্বেষণে গজনিতে আসেন। এখানে তিনি শিহাবউদ্দিন ঘোরীর সৈন্য বিভাগে চাকরিপ্রার্থী হয়ে ব্যর্থ হন। গজনিতে ব্যর্থ হয়ে তিনি দিল্লির সুলতান কুতুবউদ্দিন আইবেকের দরবারে গিয়েও চাকরি পেতে ব্যর্থ হন। এরপর বদাউনের শাসনকর্তা মালিক হিজবরউদ্দিন তাকে মাসিক বেতনে সৈন্য বিভাগে নিযুক্ত করেন। কিন্তু উচ্চাভিলাষী বখতিয়ার এ ধরনের সামান্য বেতনে সন্তুষ্ট না হয়ে বদাউন ত্যাগ করে অযোধ্যায় যান। সেখানকার শাসনকর্তা তার সাহস ও বুদ্ধিমত্তায় সন্তুষ্ট হয়ে তাকে ভাগবত ও ভিউলি নামক দুটি পরগনার জায়গীর দান করেন। বিহার জয় করে বখতিয়ার খলজি অনেক ধনরত্নের মালিক হন। এরপর তিনি রাজা লক্ষণ সেনকে পরাজিত করে নদীয়া দখল করেন। তারপর তিনি লক্ষ্মণাবতী অধিকার করে সেখানে রাজধানী স্থাপন করেন।
তাই বলা যায়, প্রাথমিক জীবনে ব্যর্থ হলেও বখতিয়ার খলজি ভাগ্য ও কর্মের সমন্বয়ে পরবর্তীতে সফলতা লাভ করেন।
বাংলায় মুসলমান শাসকদের মধ্যে গিয়াসউদ্দিন ইওজ খলজি নৌবাহিনীর গোড়াপত্তন করেন।
বিশৃঙ্খলাপূর্ণ পরিবেশ তৈরি হওয়াতে বাংলাকে 'বুলগাকপুর' বলা হয়েছিল।
বাংলায় মুসলমান শাসনের সূচনা থেকে অর্থাৎ ১২০৪ সাল থেকে ১৩৩৮ সাল পর্যন্ত সময়কাল ছিল খুবই গোলযোগপূর্ণ। বাংলার শাসকগণ দিল্লির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে স্বাধীন হতে চাইলে দিল্লির আক্রমণের মুখে তা ব্যর্থ হয়। ফলে মুসলমান শাসনের এ সময় ছিল বিদ্রোহ-বিশৃঙ্খলাময়। তাই ঐতিহাসিক জিয়াউদ্দিন বারানী বাংলাকে 'বুলগাকপুর' অর্থাৎ বিদ্রোহের নগরী বলে আখ্যায়িত করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!