'আখলাক' শব্দটি আরবি শব্দ। এটি 'খুলুকুন' শব্দের বহুবচন। এর অর্থ স্বভাব, চরিত্র ও ব্যবহার।
সোহেল ইসলামবিষয়ক শিক্ষা গ্রহণ করে নিজেকে একজন সচ্চরিত্রবান মানুষ হিসেবে গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছে। তার সচ্চরিত্রের কারণে সমাজের সকল মানুষ তাকে ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে। অর্থাৎ মানুষের জীবনে সচ্চরিত্রের তাৎপর্য অনেক। সচ্চরিত্র মানুষে মানুষে সম্পর্ক গড়ে তোলে ও সৌহার্দ বজায় রাখে। এটি আমাদের জীবনকে মধুর করে তোলে।
সোহেল একজন সচ্চরিত্রবান শিক্ষার্থী। আমরা সোহেলকে উদাহরণ হিসেবে গ্রহণ করে যা করব এবং যা বর্জন করব তার একটি তালিকা নিচে দেওয়া হলো-
| যা করব | যা করব না |
| তাকওয়া অর্জন করব | দাম্ভিকতা বর্জন করব |
| সদা সত্য কথা বলব | মিথ্যা পরিহার করব |
| ওয়াদা পালন করব | ওয়াদা ভঙ্গ করব না |
| আমানত রক্ষা করব | আমানতের খিয়ানত করব না |
| শালীনতা বজায় রাখব | অশ্লীলতা বর্জন করব |
| সৃষ্টির সেবা করব | সৃষ্টির প্রতি অসদাচরণ করব না |
| সৎ বন্ধু নির্বাচন করব | অসৎ সঙ্গ ত্যাগ করব |
| সকলের অধিকার আদায় করব | প্রতারণা, পরনিন্দা, হিংসা-বিদ্বেষ বর্জন করব |
| প্রতিবেশী, আত্মীয়স্বজন ও সহপাঠীদের সাথে ভালো ব্যবহার করব | কারও সাথে খারাপ ব্যবহার করব না এবং ধূমপান ও মাদকদ্রব্য গ্রহণ করব না |
উত্তম চরিত্র বা আখলাকে হামিদার গুরুত্ব ও তাৎপর্য অত্যধিক। আখলাকে হামিদা বা সচ্চরিত্র মানবজীবনের শ্রেষ্ঠ সম্পদ। সচ্চরিত্রের মাধ্যমে একদিকে পার্থিব জগতের সকল সমস্যা দূর করা যায়। অন্যদিকে, সচ্চরিত্রের ওপর নির্ভর করে আখিরাতে মুক্তির ফয়সালা। চরিত্রবান লোককে সবাই ভালোবাসে ও শ্রদ্ধা করে। পরকালে চরিত্রবান ব্যক্তি প্রিয় বান্দা হিসেবে শামিল হবে মহান আল্লাহর দরবারে।
আখলাকে হামিদা বা সচ্চরিত্র সম্পর্কে মহানবি (স.)-এর কয়েকটি হাদিস-
১. কিয়ামতের দিন মুমিনের পাল্লায় যে জিনিসটি সবচেয়ে বেশি ভারী হবে তা হলো উত্তম চরিত্র।
২. সত্যিকার মুমিন তারাই, যাদের চরিত্র সুন্দর।
৩. সুন্দর ব্যবহারই পুণ্য।
পরিশেষে বলা যায়, উত্তম চরিত্র মানুষের জীবনকে সুন্দর ও উন্নত করে। দুনিয়াতে শান্তি ও আখিরাতে মুক্তির ফয়সালা একমাত্র আখলাকে হামিদাহ বা সচ্চরিত্র ও আনুষঙ্গিক ইবাদতের মাধ্যমে সম্ভব। তাই আমাদের উচিত সচ্চরিত্রবান হওয়া।
Related Question
View Allসিদক-এর অর্থ হলো- সত্যবাদিতা, সততা, সত্য কথা বলা, সত্য সাক্ষ্য দেওয়া ইত্যাদি।
মানুষের দৈনন্দিন কাজকর্মের মাধ্যমে যেসব উত্তম আচার-ব্যবহার, চালচলন এবং স্বভাবের প্রকাশ পায় সেসবের সমষ্টিকে আখলাকে হামিদা বা উত্তম চরিত্র বলা হয়।
ফারজানার কর্মকাণ্ডে গিবত প্রকাশ পেয়েছে। কারণ সে তার বন্ধবী কাকলির বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু দোষত্রুটি অন্য সহকর্মীদের নিকট বলে বেড়ায়।
গিবত একটি সামাজিক অনাচার। কারও অগোচরে তার দোষত্রুটি অন্যের কাছে প্রকাশকে গিবত বলে। একে পরনিন্দাও বলা যায়। গিবত একটি ঘৃণিত ও জঘন্য কাজ। এটি কবিরা গুনাহ। এ থেকে বিরত থাকা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। রাসুল (স.) বলে, 'গিবত কী তা কি তোমরা জান?' লোকেরা উত্তরে বলল, আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই ভালো জানেন। রাসুল (স.) বললেন, গিবত হলো তোমার ভাইয়ের সম্পর্কে তোমার এমন কথা বলা যা সে অপছন্দ করে। জিজ্ঞাসা করা হলো, আমি যা বলি তা যদি আমার ভাইয়ের মধ্যে থাকে, এটাও কি গিবত হবে? রাসুলুল্লাহ (স.) বললেন, 'তুমি যা বলো তা যদি তার মধ্যে থাকে তাহলেই গিবত হবে। আর তুমি যা বলো তা যদি তার মধ্যে না থাকে, তবে তা হবে 'বুহতান' বা অপবাদ।' (মুসলিম)
গিবত একটি নিন্দনীয় কাজ। গিবতের মাধ্যমে মানুষে মানুষে ঘৃণা ও শত্রুতা সৃষ্টি হয়। এর মাধ্যমে সমাজজীবনে ঝগড়া-ফাসাদসহ নানা অশান্তি সৃষ্টি হয়।
পবিত্র কুরআনুল করিমে গিবত করাকে মৃত ভাইয়ের গোশত খাওয়ার সাথে তুলনা করা হয়েছে।
আল্লাহর বাণী : "তোমরা একে অপরের পশ্চাতে নিন্দা করো না। তোমাদের মধ্যে কি কেউ মৃত ভাইয়ের গোশত খেতে চাইবে, নিশ্চয়ই তা তোমরা অপছন্দ করবে।" (সূরা আল-হুজুরাত, আয়াত: ১২)
তাই ফারাজানার উচিত গিবত পরিহার করা এবং স্বাভাবিকভাবে কাকলির পদোন্নতিকে মেনে নেওয়া।
ফারজানা কাকলির দোষত্রুটি প্রকাশ করলে, হামিদা বেগম বলেন, "আপা, কোনো অবস্থাতেই কাকলি আপার অনুপস্থিতিতে তার সম্পর্কে সমালোচনা করা ঠিক নয়।" হামিদা বেগমের এ বক্তব্যটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
কারও অনুপস্থিতিতে তার দোষত্রুটি প্রকাশ করার নাম গিবত। গিবত করা ইসলামে নিষিদ্ধ। এটি কবিরাহ গুনাহ। এ মর্মে আল্লাহ তায়ালা বলেছেন, “তোমরা একে অপরের গিবত করো না।" (সূরা আল 'হুজুরাত : ১২) গিবত একটি নিন্দনীয় কাজ। এর মাধ্যমে মানুষে মানুষে ঘৃণা ও শত্রুতা সৃষ্টি হয় এবং সমাজজীবনে ঝগড়া ফাসাদসহ নানা অশান্তি সৃষ্টি হয়। গিবত শোনাও পাপ, কেউ গিবত করলে 'তাকে এ জঘন্য কাজ হতে বিরত রাখা উচিত। আর এ কাজটিই হামিদা বেগম করেছেন। গিবত থেকে বিরত থাকলে কবিরাহ গুনাহ হতে বেঁচে থাকা যায়, অন্যের শত্রুতা হতে রক্ষা পাওয়া যায়। সর্বোপরি আল্লাহর রহমত পাওয়া যায়।
সুতরাং সবার উচিত গিবত হতে নিজেকে রক্ষা করা এবং গিবত চর্চা প্রতিরোধে এগিয়ে আসা।
গিবত একটি সামাজিক অনাচার। কারও অগোচরে তার দোষত্রুটি অন্যের কাছে প্রকাশকে গিবত বলে।
আখলাকে হামিদাহ্ বা সচ্চরিত্র আল্লাহ তায়ালার এক বিশেষ নিয়ামত। দুনিয়ায় আগত সকল নবি-রাসুলই উত্তম চরিত্রের অধিকারী ছিলেন। এছাড়াও পৃথিবীর স্মরণীয় ও বরণীয় মনীষিগণও উত্তম নৈতিক আদর্শ অনুশীলন করতেন। সচ্চরিত্রের মাধ্যমেই ইসলামের যাবতীয় সৌন্দর্য ফুটে ওে ওঠে। এছাড়া এর মাধ্যমে ব্যক্তিজীবন ও সমাজজীবন সুন্দর ও কল্যাণময় করা যায়। এজন্য আখলাকে হামিদাত্র বিশেষ প্রয়োজন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!