সকল শ্রেণির সকল পাঠ্যপুস্তক NCTB-এর ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। এজন্য আমাকে যে কোনো ইন্টারনেট যুক্ত কম্পিউটারে ওয়েবব্রাউজারে গিয়ে NCTB নির্ধারিত ওয়েবসাইট ঠিকানা লিখে এন্টার দিতে হবে। তারপর ওয়েবসাইটে সকল শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক দেখা যাবে। সেখান থেকে নির্দিষ্ট বাংলা বই সিলেক্ট করে ডাউনলোড করতে হবে। এভাবে আমি ইন্টারনেট থেকে বই ডাউনলোড করে উপকৃত হতে পারি।
শিক্ষকবিহীন পরীক্ষার পূর্ব প্রস্তুতি মূল্যায়ন করার মাধ্যম হলো ইন্টারনেট। এটির মাধ্যমে যে কোনো শিক্ষার্থী অনলাইন পরীক্ষা দিয়ে তার প্রস্তুতি মূল্যায়ণ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী ঘরে বসেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে পরীক্ষা দিতে পারে। এজন্য শিক্ষার্থীকে অনলাইনে নির্দিষ্ট পরীক্ষা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করতে পারে। এভাবেই একজন শিক্ষার্থী ইন্টারনেট সহজেই তার পরীক্ষার পূর্ব প্রস্তুতি মূল্যায়ণ করতে পারে।
শিক্ষায় যেসব বিষয় সবচেয়ে সাহায্য করতে পারে তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ইন্টারনেট। ইন্টারনেট শুধু যে সরাসরি শিক্ষার ব্যাপারে সাহায্য করে তা নয়। এটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন ঠিকমতো কাজ করতে পারে সেখানেও পরোক্ষভাবে শিক্ষার কাজে সাহায্য করে। বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য ইন্টারনেট থেকে পেয়ে থাকে। অনলাইন পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেকে যাচাই করতে পারে। এভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে ইন্টারনেট অনন্য ভূমিকা রাখছে।
ভার্চুয়াল ক্লাসরুম হলো একটি অনলাইন লার্নিং শিক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে অডিও ভিজুয়াল সিস্টেমের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর নির্ভর ক্লাসের ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকে। ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত না থেকেও লেকচার শুনতে পারে।
শিক্ষার্থীরা ভার্চুয়াল ক্লাসরুমের মাধ্যমে ঘরে বসে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। সম্প্রতি শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নত করার লক্ষ্যে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম ভার্চুয়াল ক্লাসরুম তৈরি করে। ভার্চুয়াল ক্লাসরুমের সুবিধার ফলে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা অনেক দূর থেকে জটিল অপারেশন নিজের চোখে দেখতে পারে। আধুনিক কোনো ল্যাবরেটরির এক্সপেরিমেন্ট ঘরে বসে করতে পারে। এভাবেই ভার্চুয়াল ক্লাসরুম শিক্ষা গ্রহণে ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা হয়। ইন্টারনেট ব্যবহার করে ঘরে বসেই ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন ফরম পূরণ করে প্রবেশপত্র প্রিন্ট করে সংগ্রহ করা যায়। ফলে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পরীক্ষার দিন প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষা দিলেই হয়। বার বার ভর্তিচ্ছুক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দৌড়াদৌড়ি করতে হয় না। এমনকি পরীক্ষার ফলাফলও ইন্টারনেটে সহজে পাওয়া যায়। এ জন্য ভর্তি পরীক্ষায় ইন্টারনেটের ভূমিকা অপরিসীম।
ই-বুক হলো মুদ্রিত বইয়ের ডিজিটাল রূপ। ডিজিটাল মাধ্যমে প্রকাশিত হয় বলে শব্দ, অডিও ও এনিমেশন যুক্ত করা যায়। এ ধরনের বইগুলো কম্পিউটারের পর্দায় পড়া যায়, পাতা উল্টানো যায়, যেকোনো পাতায় চলে যাওয়া যায়। বাংলাদেশে এই রকম একটি ই-বুক সাইটের নাম হলো:
http://www.ebook.com.bd। এটি বাংলাদেশের ই-বুকের সমাহার।
শিক্ষা সংক্রান্ত কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সাইটের নাম নিম্নে লেখা হলো-
১. বাংলাদেশের ই-বুক সমাহার : www.ebook.com.bd
২. বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রণালয়ের সাইট: www.moedu.gov.bd
৩. স্যাট একাডেমী ডট কম : www.sattacademy.com
৪: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড এর সাইট : www.nctb.gov.bd
অনলাইনে তথ্য খোঁজার জন্য বিশেষ এক ধরনের অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের ব্যবহার করতে হয়। একেই সার্চ ইঞ্জিন বলা হয়। বিভিন্ন ধরনের সার্চ ইঞ্জিন যেমন- Google, Yahoo, bing ইত্যাদি ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় তথ্য বা ওয়েবসাইটের ঠিকানা খুব সহজেই বের করা যায়।
এটি ব্যবহার করে সহজেই উপকৃত হওয়া যায়।
ইন্টারনেটে কোর্সের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো যেকোনো স্থান থেকে, নিজের সুবিধামতো সময়ে শেখার সুযোগ পাওয়া যায়। ইন্টারনেটে কোর্স সাধারণত অফলাইন কোর্সের তুলনায় কম খরচে করা যায়। ইন্টারনেটে অসংখ্যা বিষয়ের ওপর কোর্স পাওয়া যায়। এছাড়া বিশ্বের খ্যাতনামা বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক ও বিশেষজ্ঞদের থেকে শেখার সুযোগ পাওয়া যায় ইন্টারনেটের মাধ্যমে। এতে শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে।
অনলাইনে তথ্য খোঁজার জন্য বিশেষ এক ধরনের অ্যাপ্লিকেশন সফটওয়্যারের ব্যবহার করতে হয়। একেই সার্চ ইঞ্জিন বলা হয়। শিক্ষাক্ষেত্রে এটি ব্যবহার করে সহজেই উপকৃত হওয়া যায়। একজন শিক্ষার্থী তার গণিত বা পদার্থবিজ্ঞানের সূত্র সংক্রান্ত যেকোনো তথ্য সার্চ ইঞ্জিনের মাধ্যমে সহজেই তার সমাধান পেয়ে যায়।
বাংলাদেশে প্রচলিত একটি শিক্ষা ওয়েবসাইট হলো www.nctb.gov.bd। এর সম্পর্কে নিম্নে বর্ণনা করা হলো-
www.nctb.gov.bd: জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি)-এর এই ওয়েবসাইটে বিভিন্ন শ্রেণির সকল পাঠ্যপুস্তকের ই-বুক সংস্করণ পাওয়া যায়। ই-বুকগুলোর মাধ্যমে কম্পিউটারে পড়া, পাতা উল্টানো, এবং যেকোনো পাতায় সরাসরি যাওয়া সম্ভব। শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাসের বই ছাড়াও ছোট বা বড় ভাইবোনের বইও এখান থেকে ডাউনলোড করতে পারে।
শিক্ষাক্ষেত্রে ভিডিও শেয়ারিং সাইট যেমন www.youtube.com-এর গুরুত্ব অনেক। ভিডিও শেয়ারিং সাইটে বিষয়বস্তু ভিডিও আকারে উপস্থাপন করা হয়। অনেক ভিডিওতে প্রশ্ন-উত্তর, কুইজ এবং শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে। ভিডিও শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তুলনামূলকভাবে কম খরচে উচ্চমানের শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। এছাড়াও, ভিডিও শেয়ারিং সাইটগুলোর মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পছন্দের বিষয়গুলো দ্রুত শিখতে পারে এবং নিজের উন্নতি মূল্যায়ন করতে পারে।
BBC Janala হলো একটি ইংরেজি ভাষা শেখার ওয়েবসাইট যা বিশেষভাবে বাংলাদেশের জন্য উপযোগী। এই সাইটে ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য বিভিন্ন কোর্স রয়েছে, যা দেশীয় উদাহরণ ও ব্যাখ্যা ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে। কোর্সগুলো বিনামূল্যে রেজিস্ট্রেশন করে অংশ নেওয়া যায় এবং কোর্স সম্পন্ন করার পর সার্টিফিকেট পাওয়া যায়। এটি ইংরেজি ভাষায় দক্ষতা অর্জনের জন্য একটি জনপ্রিয় এবং সুবিধাজনক মাধ্যম।
ইন্টারনেটের সবচেয়ে বড় মুক্ত বিশ্বকোষ হলো উইকিপিডিয়া। এটিকে তথ্যের বিশাল ভাণ্ডার বলা হয়। একে সারা বিশ্বের মানুষ স্বেচ্ছাশ্রমের মাধ্যমে তৈরি করেছে এবং ক্রমাগত সমৃদ্ধ করে চলছে। প্রায় দুইশরও বেশি ভাষায় এটি চালু রয়েছে। প্রত্যেক উইকিপিডিয়াতে অনুসন্ধান করার একটি বাক্স থাকে। যেখানে কাঙ্খিত শব্দ বা শব্দাবলী লিখলে এই সংক্রান্ত নিবন্ধ বা নিবন্ধাবলী দেখতে পাওয়া যায়।
খান একাডেমি হচ্ছে বর্তমানে বিশ্বের জনপ্রিয় শিক্ষা সাইট, যেখানে বিভিন্ন বিষয়ের ব্যাখ্যা ভিডিওর মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়। বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত শিক্ষাবিদ সালমান খান ২০০৬ সালে এ সাইটটি প্রতিষ্ঠান করেন। এ সাইটে শিক্ষণীয় বিভিন্ন বিষয়ে প্রায় ১০ হাজার ছোট ছোট ভিডিও আছে। এর মধ্যে গণিত, ইতিহাস, স্বাস্থ্যসেবা, পদার্থ বিজ্ঞান, রসায়ন, জীববিজ্ঞান, অর্থনীতি, মহাকাশ বিজ্ঞান, কম্পিউটার বিজ্ঞান ইত্যাদি রয়েছে। বাংলা ভাষাতেও সালমান খানের ভিডিও পাওয়া যায়।

এই অধ্যায় শেষে আমরা-
১. শিক্ষাক্ষেত্রে ইন্টারনেটের গুরুত্ব বিশ্লেষণ করতে পারব;
২. শিক্ষাক্ষেত্রে ইন্টারনেট ব্যবহার করতে পারব;
৩. ওয়েব ব্রাউজার ব্যবহার করে শিক্ষা সংশ্লিষ্ট (পাঠ্য বিষয়ের) তথ্য অনুসন্ধান করতে পারব।
Related Question
View Allসকল শ্রেণির সকল পাঠ্যপুস্তক NCTB-এর ওয়েবসাইটে দেওয়া আছে। এজন্য আমাকে যে কোনো ইন্টারনেট যুক্ত কম্পিউটারে ওয়েবব্রাউজারে গিয়ে NCTB নির্ধারিত ওয়েবসাইট ঠিকানা লিখে এন্টার দিতে হবে। তারপর ওয়েবসাইটে সকল শ্রেণির পাঠ্যপুস্তক দেখা যাবে। সেখান থেকে নির্দিষ্ট বাংলা বই সিলেক্ট করে ডাউনলোড করতে হবে। এভাবে আমি ইন্টারনেট থেকে বই ডাউনলোড করে উপকৃত হতে পারি।
শিক্ষকবিহীন পরীক্ষার পূর্ব প্রস্তুতি মূল্যায়ন করার মাধ্যম হলো ইন্টারনেট। এটির মাধ্যমে যে কোনো শিক্ষার্থী অনলাইন পরীক্ষা দিয়ে তার প্রস্তুতি মূল্যায়ণ করতে পারে। এ ক্ষেত্রে একজন শিক্ষার্থী ঘরে বসেই ইন্টারনেট ব্যবহার করে পরীক্ষা দিতে পারে। এজন্য শিক্ষার্থীকে অনলাইনে নির্দিষ্ট পরীক্ষা ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিজের প্রস্তুতি যাচাই করতে পারে। এভাবেই একজন শিক্ষার্থী ইন্টারনেট সহজেই তার পরীক্ষার পূর্ব প্রস্তুতি মূল্যায়ণ করতে পারে।
শিক্ষায় যেসব বিষয় সবচেয়ে সাহায্য করতে পারে তার মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে ইন্টারনেট। ইন্টারনেট শুধু যে সরাসরি শিক্ষার ব্যাপারে সাহায্য করে তা নয়। এটি স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো যেন ঠিকমতো কাজ করতে পারে সেখানেও পরোক্ষভাবে শিক্ষার কাজে সাহায্য করে। বর্তমানে ছাত্র-ছাত্রীরা শিক্ষাবিষয়ক বিভিন্ন তথ্য ইন্টারনেট থেকে পেয়ে থাকে। অনলাইন পরীক্ষার মাধ্যমে নিজেকে যাচাই করতে পারে। এভাবে শিক্ষাক্ষেত্রে ইন্টারনেট অনন্য ভূমিকা রাখছে।
ভার্চুয়াল ক্লাসরুম হলো একটি অনলাইন লার্নিং শিক্ষা ব্যবস্থা, যেখানে অডিও ভিজুয়াল সিস্টেমের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া প্রজেক্টর নির্ভর ক্লাসের ব্যবস্থা বিদ্যমান থাকে। ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত না থেকেও লেকচার শুনতে পারে।
শিক্ষার্থীরা ভার্চুয়াল ক্লাসরুমের মাধ্যমে ঘরে বসে শিক্ষা গ্রহণ করতে পারে। সম্প্রতি শিক্ষা ও গবেষণার মান উন্নত করার লক্ষ্যে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রথম ভার্চুয়াল ক্লাসরুম তৈরি করে। ভার্চুয়াল ক্লাসরুমের সুবিধার ফলে মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা অনেক দূর থেকে জটিল অপারেশন নিজের চোখে দেখতে পারে। আধুনিক কোনো ল্যাবরেটরির এক্সপেরিমেন্ট ঘরে বসে করতে পারে। এভাবেই ভার্চুয়াল ক্লাসরুম শিক্ষা গ্রহণে ভূমিকা রাখছে।
বর্তমানে স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি কার্যক্রম ইন্টারনেটের মাধ্যমে করা হয়। ইন্টারনেট ব্যবহার করে ঘরে বসেই ভর্তি পরীক্ষার জন্য আবেদন ফরম পূরণ করে প্রবেশপত্র প্রিন্ট করে সংগ্রহ করা যায়। ফলে শুধুমাত্র নির্দিষ্ট পরীক্ষার দিন প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষা দিলেই হয়। বার বার ভর্তিচ্ছুক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দৌড়াদৌড়ি করতে হয় না। এমনকি পরীক্ষার ফলাফলও ইন্টারনেটে সহজে পাওয়া যায়। এ জন্য ভর্তি পরীক্ষায় ইন্টারনেটের ভূমিকা অপরিসীম।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!