স্থায়ী সম্পত্তি ক্রয়সংক্রান্ত সিদ্ধান্তকে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত বলা হয়। যেমন জমি, দালালকোঠা, আসবাবপত্র; যন্ত্রপাতি ইত্যাদি ক্রয়, এসব স্থায়ী সম্পত্তি প্রতিস্থাপন, উৎপাদন পদ্ধতির আধুনিকায়ন ইত্যাদি ক্ষেত্রে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে মূলধন বাজেটিং বলে। মূলধন বাজেটিং হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের সাথে জড়িত একটি প্রক্রিয়া। মূলধন বাজেটিংয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের আয়-ব্যয় প্রাক্কলন করে সম্ভাব্য লাভজনকতা বিশ্লেষণ করে সেই মোতাবেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
একটি প্রতিষ্ঠানের মোট বিক্রয় থেকে যে আয় অর্জিত হয়, তাকে নগদ আন্তঃপ্রবাহ বলে। প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি পণ্যের ভবিষ্যতে বিক্রয়মূল্য এবং প্রতিবছর কতগুলো পণ্য বিক্রি হবে তা হতে মোট বিক্রয় পূর্বানুমান করা যায়। এ বিক্রয় থেকে মোট অর্জিত আয় হলো নগদ আন্তঃপ্রবাহ।
একটি প্রতিষ্ঠানের চলতি খরচ এবং স্থায়ী খরচ মিলে যে মোট খরচ হয় তাকে নগদ বহিঃপ্রবাহ বলে। চলতি খরচ বলতে বোঝায় কাঁচামাল ক্রয় বাবদ খরচ, কর্মচারীদের বেতন এবং অন্যান্য পরিচালন খরচ। স্থায়ী খরচ বলতে অফিস ভাড়া, বিমা খরচ, অবচয়সহ অন্যান্য খরচকে বোঝানো হয়।
যে পদ্ধতির মাধ্যমে গড় বিনিয়োগের অর্থের ওপর গড় মুনাফার শতকরা হার নির্ণয় করা হয় তাকে গড় মুনাফার হার পদ্ধতি বলে। মূলধন বাজেটিংয়ের একটি সহজ পদ্ধতি হলো গড় মুনাফার হার পদ্ধতি। বিক্রয় থেকে করসহ সব খরচ বাদ দিলে নিট মুনাফা পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে প্রত্যাশিত বার্ষিক গড় নিট মুনাফাকে গড় বিনিয়োগ দিয়ে ভাগ করলে গড় মুনাফার হার পাওয়া যায়।
যে পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো প্রকল্পে বিনিয়োগকৃত অর্থ কত সময়ের মধ্যে ফেরত আসবে তা নির্ণয় করা যায়, তাকে পে-ব্যাক সময় পদ্ধতি বলে। প্রকল্পে বিনিয়োগকৃত অর্থ কত দিনে ফেরত আসবে তা পে-ব্যাক সময় পদ্ধতি নির্দেশ করে।
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে মূলধন বাজেটিং বলে। মূলধন বাজেটিং হচ্ছে প্রতিষ্ঠানের দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্তের সাথে জড়িত একটি প্রক্রিয়া। মূলধন বাজেটিংয়ের মাধ্যমে প্রকল্পের আয়-ব্যয় প্রাক্কলন করে সম্ভাব্য লাভজনকতা বিশ্লেষণ করে সেই মোতাবেক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।
মূলধন বাজেটিংয়ের দুটি উদ্দেশ্য হলো-
( i) দীর্ঘমেয়াদি ভবিষ্যৎ আর্থিক আন্তঃপ্রবাহ ও রহিঃপ্রবাহের দিকনির্দেশনা দেওয়া।
(ii) মূলধন বাজেটিংয়ের কৌশল ব্যবহার করে লাভজনক প্রকল্প বাছাই করা।
মূলধন বাজেটিংয়ের ক্ষেত্রে বিনিয়োগকৃত অর্থের পরিমাণ অনেক বেশি হয়। ফলে এখানে আয়ের সম্ভাবনা ও ঝুঁকির পরিমাণ অনেক বেশি। মূলধন বাজেটিং বাস্তবসম্মত ও সঠিক হলে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সফল হয়। তবে এটি ব্যর্থ হলে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানও ব্যর্থ হয়। তাই সঠিক মূলধন বাজেটিং সিদ্ধান্ত অর্থায়নের সাফল্য অর্জনের মূল চাবিকাঠি।
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে মূলধন বাজেটিং বলা হয়। মূলধন বাজেটিং পদ্ধতি প্রয়োগের মাধ্যমে কোনো প্রকল্প থেকে আগত ভবিষ্যৎ নগদ আন্তঃপ্রবাহের বর্তমান মূল্য নির্ণয়পূর্বক নগদ বহিঃপ্রবাহের সাথে তুলনা করে লাভজনক প্রকল্প নির্বাচন করা যায়। ফলে লাভজনক প্রকল্পে মূলধন বিনিয়োগ করে প্রতিষ্ঠান কাঙ্ক্ষিত মুনাফা অর্জন করতে পারে। সুতরাং লাভজনক প্রকল্প নির্বাচনের মাধ্যমে সঠিক বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে মূলধন বাজেটিং করা প্রয়োজন।
মূলধন বাজেটিং প্রয়োগের ক্ষেত্রগুলো হলো স্থায়ী সম্পত্তি ক্রয়, ব্যবসায়ের পণ্য উৎপাদন ক্ষমতা বৃদ্ধিকল্পে সম্প্রসারণ, পণ্য বৈচিত্র্যায়ন, প্রতিস্থাপন ও আধুনিকায়ন ইত্যাদি।
মূলধন বাজেটিং প্রক্রিয়া প্রয়োগে জড়িত ধাপগুলো হলো: নগদ প্রবাহ প্রাক্কলন, বাট্টা হার নির্ধারণ এবং মূলধন বাজেটিং পদ্ধতি নির্বাচন ও প্রয়োগ।
প্রকল্পের উৎপাদনজনিত কাজ সম্পাদনে প্রাথমিকভাবে যন্ত্রপাতি ব্যবহার উপযোগী বা স্থাপনের জন্য যে খরচ সংঘটিত হয়, তাকে সংস্থাপন ব্যয় বলে। উদাহরণস্বরূপ: কোনো কারখানার জন্য একটি মেশিন কেনা হলো। এখন এ মেশিনটি কারখানায় স্থাপন করতে হবে। এক্ষেত্রে মেশিন স্থাপন করতে যে ব্যয় হয়, অকেই সংস্থাপন ব্যয় বলা হয়।
ব্যবসায়ে চলতে চলতে বিভিন্ন সময় স্থায়ী সম্পত্তি (যেমন: যন্ত্রপাতি, আসবাবপত্র) অকেজো বা নষ্ট হয়ে যেতে পারে। এমতাবস্থায় এসব স্থায়ী সম্পত্তি বাতিল করে নতুনভাবে সংযোজন করাকে সম্পত্তির প্রতিস্থাপন বলে।
চলমান পণ্যের পাশাপাশি নতুন পণ্য বাজারে ছাড়াকে পণ্য বৈচিত্র্যায়ন বলে। পণ্য বৈচিত্র্যায়নের ক্ষেত্রে ব্যবসায় সম্প্রসারণের সাথে সাথে ব্যবসায়ের, ঝুঁকিও বষ্টিত হয়। এক্ষেত্রে ব্যবসায় সম্প্রসারণের ফলে ব্যবসায়ের আয় বৃদ্ধি পায় এবং একটি পণ্যে ক্ষতি সংঘটিত হলে অপর পণ্যের লাভ থেকে পুষিয়ে নেওয়া যায়।
নতুন পণ্য বাজারে ছাড়ার ক্ষেত্রে ঝুঁকি নিরসনে এবং প্রত্যাশিত মুনাফা অর্জনে কিছু বিষয় বিবেচনা করতে হয়। নতুন পণ্য বাজারে ছাড়ার ক্ষেত্রে বিবেচ্য বিষয়গুলো হলো- নতুন পণ্যের আয়ুষ্কাল, পণ্যের উৎপাদন খরচ, বাজার চাহিদা, পরিচালন খরচ এবং সম্ভাব্য আয় প্রাক্কলন।
দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়াকে মূলধন বাজেটিং প্রক্রিয়া বলে। দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রস্তাবিত প্রকল্পের লাভজনকতা নির্ণয় করতে হয়। এক্ষেত্রে প্রস্তাবিত প্রকল্পের সম্ভাব্য নগদ আন্তঃপ্রবাহের সাথে নগদ বহিঃপ্রবাহের বর্তমান মূল্যের সাথে তুলনা করা হয়। যদি আন্তঃপ্রবাহ বহিঃপ্রবাহ থেকে বেশি হয় তবে প্রকল্প লাভজনক প্রতীয়মান হয়। এ প্রক্রিয়াকে মূলধন বাজেটিং প্রক্রিয়া বলা
মূলধন বাজেটিং প্রক্রিয়ায় প্রতিটি বিনিয়োগের সম্ভাব্য আয়-ব্যয় ও ঝুঁকির পরিমাণ প্রাক্কলন করতে হয়। প্রাক্কলিত আয়-ব্যয়ের বিপরীতে ঝুঁকির গ্রহণযোগ্যতা নির্ণয় করতে হয়। ঝুঁকির পরিমাণ নিরূপণ ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করে প্রকল্পের লাভজনকতা নির্ণয় করতে হয়। অর্থাৎ লাভজনক বিনিয়োগের জন্যই ঝুঁকি নিরূপণ ও গ্রহণযোগ্যতা যাচাই করা প্রয়োজন।
নগদ প্রবাহ বলতে নগদ অর্থের আগমন ও নির্গমনকে বোঝায়। সাধারণত নিট মুনাফার সাথে অবচয় যোগ করলে নগদ আন্তঃপ্রবাহ পাওয়া যায় এবং চলতি খরচ ও স্থায়ী খরচের সমন্বয়ে নগদ বহিঃপ্রবাহ পাওয়া যায়। একটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানে পণ্য বিক্রয় থেকে নগদ অর্থের আগমন অর্থাৎ নগদ আন্তঃপ্রবাহ ঘটে এবং চলতি খরচ, মূলধন ব্যয় এবং অন্যান্য খরচ পূর্বানুমান থেকে নগদ অর্থের নির্গমন অর্থাৎ নগদ বহিঃপ্রবাহ ঘটে। এক্ষেত্রে নগদ আন্তঃপ্রবাহ ও নগদ বহিঃপ্রবাহকে একত্রে নগদ প্রবাহ বলে।
নগদ প্রবাহ প্রাক্কলন বলতে অনুমানের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানের নগদ আন্তঃপ্রবাহ ও বহিঃপ্রবাহ নির্ধারণ করাকে বোঝায়। নগদ প্রবাহ প্রাক্কলন হলো মূলধন বাজেটিং প্রক্রিয়ার প্রথম ধাপ। এক্ষেত্রে একটি প্রতিষ্ঠানে কী পরিমাণ নগদ অর্থের আগমন হবে ও ব্যয় হবে তা নির্ধারণ করা হয়। মূলত বিক্রয় অনুমান, চলতি বা স্থায়ী খরচ পূর্বানুমানের ওপর ভিত্তি করেই নগদ প্রবাহ প্রাক্কলন করা হয়।
নগদ প্রবাহ প্রাক্কলন বলতে নগদ আন্তঃপ্রবাহ ও নগদ বহিঃপ্রবাহ প্রাক্কলনকে বোঝায়। নগদ প্রবাহ প্রাক্কলন করতে প্রতিষ্ঠানকে বিক্রয় পূর্বানুমান, চলতি খরচ পূর্বানুমান, মূলধনি ব্যয় এবং অন্যান্য ব্যয় নির্ধারণ করতে হয়।
নগদ আন্তঃপ্রবাহ ও নগদ বহিঃপ্রবাহের মধ্যে দুটি পার্থক্য নিম্নরূপ:
নগদ আন্তঃপ্রবাহ | নগদ বহিঃপ্রবাহ |
১. নগদ আন্তঃপ্রবাহ বলতে প্রতিষ্ঠানে নগদ অর্থের আগমনকে বোঝায়। | ১. নগদ বহিঃপ্রবাহ বলতে প্রতিষ্ঠানে নগদ অর্থের বহির্গমনকে বোঝায়। |
২. বিক্রয় থেকে প্রতিষ্ঠানের নগদ আন্তঃপ্রবাহ ঘটে। | ২. মোট খরচের মাধ্যমে নগদ বহিঃপ্রবাহ ঘটে। |
চলতি খরচ এবং স্থায়ী খরচের সমন্টিকে মোট খরচ বলা হয়। চলতি খরচ বলতে কাঁচামাল ক্রয় বাবদ খরচ, কর্মচারীদের বেতন এবং অন্যান্য পরিচালনা খরচকে বোঝায়। আবার, স্থায়ী খরচ বলতে অফিস ভাড়া, বিমা খরচ, অবচয়সহ অন্যান্য খরচকে বোঝায়।
ভবিষ্যতের নগদ প্রবাহকে বর্তমান মূল্যে রূপান্তর করার জন্য যে হারের প্রয়োজন হয় তাকে বাট্টার হার বলে। মূলধন বাজেটিং প্রক্রিয়ার দ্বিতীয় ধাপ হলো বাট্টার হার নির্ধারণ। নগদ প্রবাহ নির্ধারণ করার পর সেগুলোকে নগদ মূল্যে রূপান্তর করার জন্য বাট্টার হার প্রয়োজন। মূলধন খরচকে মূলধন বাজেটিং প্রক্রিয়ার বাট্টার হার হিসেবে ব্যবহার করা হয়।
মূলধন বাজেটিং পদ্ধতি চারটি। যথা: গড় মুনাফার হার পদ্ধতি, পে-ব্যাক সময় পদ্ধতি, নিট বর্তমান মূল্য পদ্ধতি এবং অভ্যন্তরীণ মুনাফার হার পদ্ধতি।
যে পদ্ধতির মাধ্যমে গড় বিনিয়োগের অর্থের ওপর গড় মুনাফার শতকরা হার নির্ণয় করা হয় তাকে গড় মুনাফার হার পদ্ধতি বলে। মূলধন বাজেটিংয়ের একটি সহজ পদ্ধতি হলো গড় মুনাফার হার পদ্ধতি। বিক্রয় থেকে করসহ সব খরচ বাদ দিলে নিট মুনাফা পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে প্রত্যাশিত বার্ষিক গড় নিট মুনাফাকে গড় বিনিয়োগ দিয়ে ভাগ করলে গড় মুনাফার হার পাওয়া যায়।
যে পদ্ধতির মাধ্যমে কোনো প্রকল্পে বিনিয়োগকৃত অর্থ কত সময়ের মধ্যে ফেরত আসবে তা নির্ণয় করা যায়, তাকে পে-ব্যাক সময় পদ্ধতি বলে। প্রকল্পে বিনিয়োগকৃত অর্থ কত দিনে ফেরত আসবে তা পে-ব্যাক সময় পদ্ধতি নির্দেশ করে। এটি প্রকল্প মূল্যায়নের একটি সহজ ও জনপ্রিয় পদ্ধতি।
প্রকল্পের নগদ আন্তঃপ্রবাহের বর্তমান মূল্য থেকে নগদ বহিঃপ্রবাহের বর্তমান মূল্যের পার্থক্যকে নিট বর্তমান মূল্য বলে। নিট বর্তমান মূল্য নির্ণয়ের জন্য একটি নির্দিষ্ট বাট্টার হার থাকা প্রয়োজন। এক্ষেত্রে নিট বর্তমান মূল্য নির্ণয়ে প্রকল্পের প্রত্যেক বছরের 'নগদ প্রবাহকে বিবেচনা করা হয়।
যে বাট্টার হারে নগদ প্রবাহকে বাট্টা করলে নিট বর্তমান মূল্য * শূন্য হয় তাকে অভ্যন্তরীণ আয়ের হার বলে। এক্ষেত্রে উক্ত বাট্টার হার বা অভ্যন্তরীণ- আয়ের হার মূলধন ব্যয় অপেক্ষা বেশি হলে প্রকল্পটি গ্রহণযোগ্যতা পায়। তবে পরস্পর বর্জনশীল প্রকল্পের ক্ষেত্রে যে প্রকল্পের অভ্যন্তরীণ আয়ের হার (IRR) বড় সে প্রকল্পটি গ্রহণযোগ্য হয়।
গড় মুনাফার হার পদ্ধতির দুটি সুবিধা হলো: প্রথমত, গড় মুনাফার হার পরিমাপ করার সূত্রে তেমন জটিলতা না থাকার কারণে এটা বোঝা সহজ। দ্বিতীয়ত, প্রতিষ্ঠানের আর্থিক বিবরণী থেকে প্রয়োজনীয় তথ্যাদি পাওয়া যায় বলে এটি সহজে নির্ণয় করা যায়।
গড় মুনাফার হার যত বেশি হয় তত ভালো। তাই একাধিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে যে প্রকল্পের গড় মুনাফার হার বেশি সে প্রকল্পটি অধিক গ্রহণযোগ্য। আবার, একক প্রকল্পের ক্ষেত্রে কোম্পানির ব্যবস্থাপনা কর্তৃক নির্ধারিত হার থেকে কিংবা ব্যাংক ঋণের সুদের হার থেকে মুনাফার হার বেশি হলে প্রকল্পটি গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়।
পে-ব্যাক সময় পদ্ধতিতে, যে প্রকল্পের পে-ব্যাক সময় কম, সে প্রকল্পটি তত গ্রহণযোগ্য হিসেবে বিবেচিত হয়। একাধিক প্রকল্পের ক্ষেত্রে যে প্রকল্পের পে-ব্যাক সময় কম সে প্রকল্পটি অধিকতর গ্রহণযোগ্য হয়। আবার, একটি প্রকল্পের ক্ষেত্রে প্রকল্পের আয়ুষ্কাল অপেক্ষা পে-ব্যাক সময় কম হলে সেক্ষেত্রে সাধারণত প্রকল্পটি গ্রহণযোগ্য বিবেচিত হয়।
সম্পত্তির ব্যবহারজনিত মূল্য হ্রাসকে অবচয় বলা হয়। এর মাধ্যমে সম্পত্তির ক্রয়মূল্যের ব্যয়কে এর জীবনকালের ওপর বণ্টন করে দেওয়া হয়। যেমন- কোনো একটি মেশিনের ক্রয়মূল্য ৫০,০০০ টাকা এবং এর জীবনকাল ৫ বছর হলে, এর প্রতিবছরের অবচয় হবে = ১০,০০০ টাকা।
সম্পত্তির ক্রয়মূল্যের ব্যয়কে এর জীবনকালের ওপর বণ্টন করে দেওয়া হয় অবচয়ের মাধ্যমে। সরলরৈখিক, ক্রমহ্রাসমান জের ইত্যাদি পদ্ধতিতে অবচয় নির্ণয় করতে হয়। যেমন কোনো একটি মেশিনের ক্রয়মূল্য যদি ৫ ০,০০০ টাকা হয় এবং এর জীবনকাল বা আয়ুষ্কাল ৫ বছর হয় তাহলে সরলরৈখিক পদ্ধতিতে এর প্রতিবছর অবচয় হবে = ১০,০০০ টাকা।
Related Question
View All১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!