আমাদের মৌলিক চাহিদার মধ্যে বাসস্থান অন্যতম। গৃহকে বাসোপযোগী করার জন্য প্রয়োজন হয় আসবাবপত্র। আর গৃহকে মেনোরম ও' আকর্ষণীয় করার জন্য প্রয়োজনীয় হয় গৃহের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা। নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কমদামি জিনিস দিয়েও গৃহসজ্জা করে বুচি ও শিল্পী মনের পরিচয় দেওয়া যায়। পরিবার গৃহসজ্জার মাধ্যমে জীবনযাপনের মান উন্নত করে তৃপ্তি লাভ করে।
আসবাবপত্র বলতে টেবিল, চেয়ার, সোফা, খাট, আলমারি ইত্যাদি ভারী অথচ বহনযোগ্য গৃহসজ্জা সামগ্রীকে বোঝায়। গৃহের বিভিন্ন কাজ সম্পাদন সহজতর করার জন্য আসবাবের ভূমিকা অনেক। তাছাড়া আরাম ও সৌন্দর্য বাড়াতেও এগুলোর জুড়ি নেই।
আসবাব নির্বাচনের বিবেচ্য বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা করা হলো-আসবাব ক্রয়ের প্রথমেই বিবেচনা করতে হবে আসবাবটির প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা। প্রয়োজন না থাকলে হুজুগের বশে ক্রয় করলে তা অপচয়ের শামিল। এছাড়া পুরোনো আসবাব যদি রং বা বার্নিশ করে ব্যবহার করা যায়, তাহলে নতুন আসবাবপত্র ক্রয় করে অর্থের অপচয় করা ঠিক নয়।
আসবাবের উপযোগিতা হচ্ছে তার চাহিদা মেটানোর ক্ষমতা। ছোট শিশুর ব্যবহারের আসবাব তার বয়সের উপযোগী হবে। খাট, চৌকি আমাদের শয়ন কাজে, আবার টুল, মোড়া, সোফা, চেয়ার এগুলো আমাদের বসার কাজের চাহিদা মেটায়। কাঠের আসবাবের, চেয়ে গদিওয়ালা আসবাবের আরাম বেশি, ফলে এর উপযোগিতা বেশি।
পরিবারের আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আসবাব নির্বাচন করতে হবে। আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আসবাব নির্বাচন করলে তা সমাজেও বেশি গ্রহণযোগ্যতা পায়। তা না হলে সমাজের চোখেও তা দৃষ্টিকটু মনে হয়।
আসবাব নির্বাচনে আরাম একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আসবাবের আয়তন, উচ্চতা, গভীরতা, আরামদায়ক না হলে ব্যবহারে অসুবিধা হয়। যেমন- টেবিলের উচ্চতা যদি বেশি হয়, তবে কাজের সমস্যা হয়। আবার বেত ও প্লাস্টিকের বা রডের আসবাবপত্রের চেয়ে চেয়ারে বসে যদি আরাম না পাওয়া যায়, তবে কাজ করা কষ্টকর হয়ে যায়
আসবার নির্বাচনে পরিবারের সদস্যদের রুচি ও পছন্দ সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পরিবারের আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কক্ষের আকার, আয়তন, মেঝে ও দেয়ালের সাথে সামঞ্জস্য রেখে রুচিসম্মত আসবাব দিয়ে গৃহসজ্জা করলে ঘরের 'সৌন্দর্য অনেক বেড়ে যায়।
আসবাবের স্থায়িত্ব নির্ভর করে উপকরণ ও নির্মাণ কাজের 'ওপর। কাঁচা কাঠ দিয়ে আসবাব নির্মাণ করলে সহজেই ঘুণে ধরে নষ্ট। হয়ে যায়। আবার পাকা কাঠ, মজবুত নির্মাণ কৌশল আসবাবের স্থায়িত্ব বাড়ায় ।
পদমর্যাদা ও বিত্তের ওপর জীবনযাত্রার মান নির্ভর করে। উচ্চপদস্থ ও উচ্চবিত্তের পরিবারের আসবাব বেশ দামি হয়। এসব পরিবারের ড্রইংরুম প্রশস্ত হয়। ফলে একটু জাঁকজমকভাবে সাজানো থাকে। আবার নিম্নবিত্তের পরিবারে শয়নকক্ষের একপাশেই বসার ব্যবস্থা থাকে।
একটি আসবাব বহুবিধভাবে ব্যবহার করা যায়। যেমন ডিভান বসা ও শোয়া দুই কাজে ব্যবহৃত হয়। ডাইনিং টেবিল খাওয়া, পড়াশোনা, আলাপ-আলোচনা করার কাজে ব্যবহৃত হয়। আধুনিক যুগে গৃহের আয়তন কম থাকে, তাই আসবাবের বহুবিধ ব্যবহারের কথা বিশেষভাবে চিন্তা করতে হবে।
আসবাব নির্বাচনের পরবর্তী কাজ হলো সঠিকভাবে তা বিন্যাস করা। আসবাবপত্র বিন্যাস যে শুধু ঘর সাজানোর উদ্দেশ্যে করা যায়, তা নয়। সঠিকভাবে আসবাব বিন্যাসের মাধ্যমে গৃহের অভ্যন্তরীণ সজ্জাকে আকর্ষণীয়, আরামদায়ক ও সুবিধাজনক করে রাখা হয় এর ফলে পরিবারের সদস্যদের আরাম ও মানসিক তৃপ্তি বাড়ে। গ্রাম কিংবা শহর সর্বত্রই অভ্যন্তরীণ গৃহসজ্জার আসবাব বিন্যাসের কতিপয় 1 নিয়ম মেনে চলতে হয়।
আসবাব বিন্যাসের প্রথমেই মনে রাখা প্রয়োজন, যেকোনো ঘরেই অতিরিক্ত আসবাব রাখতে নেই। কক্ষের ব্যবহার অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আসবাব রাখতে হবে যেমন-
(ক) শয়নকক্ষ খাট, ওয়ারড্রোব, আলমারি ইত্যাদি।
(খ) বসার কক্ষ- সোফা, বেতের চেয়ার, টেবিল, বুকসেলফ ইত্যাদি।
(গ) খাবার কক্ষ- ডাইনিং টেবিল, চেয়ার, ফ্রিজ ইত্যাদি।
আসবাবপত্র বিন্যাসের সময় আসবাবের ব্যবহারিক দিকটি বিবেচনা করতে হবে। অর্থাৎ প্রতিটি কক্ষের কাজ অনুযায়ী আসবাব সাজাতে হবে। গৃহের মধ্যে চলাচল, কাজ কার্যসম্পাদনের জন্য ব্যবহারিক দিকটি বিবেচনা করতে হবে। ঘরের মধ্যে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে চলাচল যেন অসুবিধা না হয় ও কার্যসম্পাদনে যেন অতিরিক্ত চলাচল প্রয়োজন না হয় আসবাব বিন্যাসের সময় সে দিকে লক্ষ্য রাখতে হবে।
আসবাবপত্র বিন্যাস কখনো স্থায়িভাবে একই জায়গায় করা উচিক নয়। এতে গৃহসজ্জায় একঘেয়ে ভাব চলে আসে। মাঝে মাঝে আসবাবপত্রের বিন্যাস রুচির রদবদল করলে গৃহসজ্জায় নতুনত্ব আসে।
আসবাব বিন্যাসে ঘরের আকৃতির সাথে আসবাবপত্রের আকার নির্ধারণ করা দরকার। বড় ঘরে বড় আসবাব ও ছোট ঘরে ছোট আসবাব মানানসই। আবার যেখানে বড় ও ছোট আসবাবের সংমিশ্রণ প্রয়োজন, সেখানে বড় আসবাবের সঙ্গে সমতা রক্ষা করে দুই-তিনটি আসবাব একত্রে সাজানো যায়। পরস্পরের আকৃতি অনুপাত ঠিক হলে সমগ্র গৃহসজ্জায় আসবাব বিন্যাসে পারস্পরিক মিল হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যায়।
আসবাবপত্র বিন্যাসে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজন আছে। কক্ষের একদিকের সঙ্গে অন্যদিকের আসবাবপত্র, মাঝখানের ও কর্নারের আসবাবপত্রের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। ঘরের একদিকে বেশি, অন্যদিকে কম আসবাব স্থাপন করলে ভারসাম্য রক্ষা হয় না।
আসবাব বিন্যাসে ছন্দ বজায় রাখার গুরুত্ব রয়েছে। এতে দৃষ্টি কক্ষের একটা আসবাবে আবদ্ধ না থেকে সহজ ও সাবলীল ভঙ্গিতে অন্য আসবাবে গিয়ে পৌঁছায়। কক্ষের একপ্রান্ত থেকে অপরপ্রান্তে দৃষ্টি ওঠানামা করে। দৃষ্টির এই ওঠানামাই ছন্দ। ছন্দের গতি আসবাব বিন্যাসের আকর্ষণ সৃষ্টি করে।
আসবাব বিন্যাসের অন্যতম নীতি হলো প্রাধান্য। প্রাধান্য বলতে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুকে বোঝায়। বসার ঘরে সুদৃশ্য সেন্টার টেবিলে ফুলদানিতে তাজা ফুলের সমারোহ, খাবার ঘরে টেবিলে বিভিন্ন ফলের সমারোহ, শোবার ঘরে সুদৃশ্য আসবাব বা কার্পেট ইত্যাদি দিয়ে ঘর সাজিয়ে প্রাধান্য সৃষ্টি করা যায়।
সারাদিন কর্মব্যস্ততার পর মানুষ গৃহে ফিরে আসে। গৃহের শান্তিময় পরিবেশ আমাদের আরাম দেয়। তাই শয়নকক্ষে আসবাব বিন্যাসে যত্নবান হতে হবে। শয়নকক্ষে খাট বা চৌকি, ড্রেসিং টেবিল, আলনা, আলমারি, ওয়ারড্রোব ইত্যাদি আসবাব থাকে।
বসার ঘরে পরিচিত লোকজন বা আত্মীয়স্বজন এসে বসে। সামাজিকতা রক্ষার কেন্দ্রস্থল হলো বসার ঘর। এই কক্ষের বিন্যাস বাড়ির লোকদের রুচিবোধ বাইরের লোকের কাছে প্রকাশ করে। বসার ঘরে সোফাসেট, ডিভান, মোড়া, বুকসেলফ ও শোকেস থাকে।
খাবার ঘর পরিবারের সদস্যদের একত্রে হওয়ার স্থল। বাড়ির সবাই একত্রে খেতে বসলে একটা আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। খাবার ঘরে খাবার টেবিল, চেয়ার, সোকেস, মিটসেফ, ফ্রিজ, ট্রলি। ইত্যাদি থাকে। টেবিল গোল, ডিম্বাকৃতির বা চার কোণাকার' হতে পারে। টেবিলের উপরিভাগ ফর্মিকা, কাচ বা কাঠের হয়।
খাবার ঘরের লক্ষণীয় দুটি বিষয় হলো-
১. খাবার টেবিলে যাতে পর্যাপ্ত আলো পড়ে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
২. টেবিলের মাঝখানে ফুলদানি, ফলের ঝুড়ি রাখতে হবে।
অতিথির ঘর বসার ঘরের পাশে হলে ভালো হয়। এই কক্ষে খুব বেশি আসবাবপত্র প্রয়োজন হয় না। খাট, ড্রেসিং টেবিল, দেয়াল আলমারি হলেই চলে।
বর্তমানে আধুনিক বাড়িতে খেলার ঘর ও লিভিং রুম থাকে। এই রুমে পরিবারের সদস্যরা অবসর সময় কাটায়। এই রুমে টেলিভিশন দেখা, বসা ও শোয়ার ব্যবস্থা থাকে। গিটার, হারমোনিয়াম ইত্যাদি বিনোদনের জিনিসপত্র থাকে।
পড়ার ঘর এমন জায়গায় হবে যেখানে কোনো শব্দ বা কথাবার্তা পড়াশোনার ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে। পড়ার রুমে টেবিল, চেয়ার, বুকসেলফ, কম্পিউটার ইত্যাদি থাকে। পড়ার টেবিলে যাতে পর্যাপ্ত আলো পড়ে সেদিকে লক্ষ রাখতে হবে।
রান্নাঘর খাবার ঘরের পাশে হয়ে থাকে। এতে খাদ্য পরিবেশন করতে সুবিধা হয়। চুলার স্থান জানালার পাশে হলে সহজেই ধোঁয়া বের হয়ে যায়। চুলা গ্যাস, কেরোসিন বা মাটির হতে পারে। শহর এলাকায় গ্যাস, গ্রামাথালে লাকড়ি বা কেরোসিনের চুলা দেখা যায়। আবার অনেকে হিটারেও রান্না করে। রান্নাঘরের ওয়ালে সিলিং পর্যন্ত ক্যাবিনেট করে দিলে অনেক জিনিস রাখা যায়।
আসবাবপত্র নির্বাচন, বিন্যাসের পরই মানুষ চায় গৃহের মেঝে, দেয়াল, পর্দা ও পুষ্পবিন্যাসের মাধ্যমে গৃহের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করতে। সবকিছুর সামঞ্জস্য বিন্যাসই একটি গৃহকে অপরূপ করে তোলে। সুরুচির প্রকাশ ঘটায়। মেঝের আচ্ছাদন, দেয়ালসজ্জা, পর্দা, প্রভৃতি গৃহের নান্দনিকতা বৃদ্ধি করে।
আমাদের দেশে গ্রামাঞ্চলে ঘরের মেঝে সিমেন্ট বা সিমেন্টের সাথে রং মিশিয়ে তৈরি করা হয়। গ্রামাঞ্চলে মাটির মেঝেও থাকে। তবে আধুনিক বাড়িতে টাইলাস বা মোজাইকের মেঝে দেখা যায়। শহরাঞ্চলে অনেক বাড়িতে মেঝেতে কার্পেট ব্যবহার করা হয়। আমাদের দেশে ধুলাবালি বেশি তাই ছোট আকারের কার্পেট ব্যবহার করা হয়। এতে যত্ন নিতে সহজ হয়।
প্রতিটি গৃহেরই বিভিন্ন কক্ষে ছবি বা চিত্রকর্ম দেখা যায়। গৃহের অভ্যন্তরীণ সজ্জায় চিত্রকর্মের ভূমিকা অপরিসীম। খ্যাতনামা ব্যক্তির ছবি গৌরবের প্রতীক। মাতৃভূমির ছবি, প্রাকৃতির দৃশ্য মনে প্রশান্তি আনে। দেয়ালসজ্জা বলতে আমরা এটিকে বুঝি
দেয়ালে ছবি টানানোর কিছু নিয়ম আছে। দুটি নিয়ম হলো-
(১) ছবি টানানোর জন্য স্থান নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বড় দেয়ালে বড় ছবি বা ছোট ছোট কয়েকটি ছবি একত্রে টানানো।
(২) ছবি দৃষ্টি বরাবর টানাতে হবে। বেশি উপরে বা নিচে ছবি টানালে সৌন্দর্য ফুটে ওঠে না এবং দৃষ্টিনন্দন হয় না।
পর্দার প্রয়োজনীয়তা:
(i) ঘরে আবু রক্ষা করে।
(ii) ঘরে শীতলতার ভাব আনে।
(iii) ধুলাবালি থেকে কক্ষকে রক্ষা করে।
(iv) ঘরের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
পুষ্পবিন্যাস গৃহসজ্জার অন্যতম প্রধান অংশ। ফুল সাজানোর জন্য প্রয়োজন নানা ধরনের ফুলদানি বা পাত্র। এই পাত্রগুলো চীনামাটি, প্লাস্টিক, কাচ, বাঁশ বিভিন্ন ধাতুর তৈরি হতে পারে। ফুলদানি বা পাত্র গোলাকার, চ্যাপ্টা, ডিম্বাকৃতি বা চারকোণা হতে পারে।
পুষ্পবিন্যাসের তিনটি নিয়ম হলো-
(১) পুষ্প বিন্যাসের সময় খেয়াল রাখতে হবে ফুলের রংটি যেন সবাইকে আকর্ষণ করে।
(২) ফুলদানিতে যথেষ্ট পানি থাকতে হবে।
(৩) পিনহোল্ডার ঢেকে পুষ্পবিন্যাস করতে হবে
পুষ্পবিন্যাসের তিনটি নিয়ম হলো-
(১) পুষ্প বিন্যাসের সময় খেয়াল রাখতে হবে ফুলের রংটি যেন সবাইকে আকর্ষণ করে।
(২) ফুলদানিতে যথেষ্ট পানি থাকতে হবে।
(৩) পিনহোল্ডার ঢেকে পুষ্পবিন্যাস করতে হবে
গৃহে প্রাকৃতিক আলো-বাতাস চলাচলের সুব্যবস্থা রাখতে হবে। আলো, উত্তাপ এবং জীবাণুনাশক শক্তির অফুরন্ত উৎস হলো সূর্য। সূর্যের আলো অন্ধকার দূর করে। উত্তাপ রোগজীবাণু ধধ্বংস করে। আমাদের স্বাস্থ্যরক্ষা করে। তাই ঘরের মধ্যে যেন পর্যাপ্ত সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আসবাব বিন্যাস করতে হবে।
গৃহে প্রাকৃতিক আলো-বাতাস চলাচলের সুব্যবস্থা রাখতে হবে। আলো, উত্তাপ এবং জীবাণুনাশক শক্তির অফুরন্ত উৎস হলো সূর্য। সূর্যের আলো অন্ধকার দূর করে। উত্তাপ রোগজীবাণু ধধ্বংস করে। আমাদের স্বাস্থ্যরক্ষা করে। তাই ঘরের মধ্যে যেন পর্যাপ্ত সূর্যের আলো প্রবেশ করতে পারে, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আসবাব বিন্যাস করতে হবে।
ময়লা ফেলার জন্য ঘরে বিন রাখা প্রয়োজন। সুস্বাস্থ্য রক্ষার জন্য গৃহের চারপাশে ময়লা, আবর্জনা, খোলা নর্দমা, ঝোপ-ঝাড় থাকলে পোকামাকড় ও মশার উপদ্রব হয়। মারাত্মক রোগ ছড়ায়। তাই ঘরের চারপাশ পরিষ্কার রাখতে হবে। ময়লা-আবর্জনা নির্দিস্ট স্থান বা ডাস্টবিনে ফেলতে হবে।
মানুষ সৌন্দর্যের পূজারি। তাই আরাম ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য আসবাবপত্রের পাশাপাশি নানা উপকরণ ব্যবহার করে থাকে। গৃহসজ্জায় শুধু মূল্যবান জিনিস ব্যবহার করা হয় তা নয় বরং নিজর সৃজনশীলতার মাধ্যমে গৃহের অব্যবহৃত জিনিস দিয়েও নানা ধরনের শিল্পসামগ্রী বানিয়ে ব্যবহার করা যায়। শিল্প সৃষ্টি মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। এভাবে মানুষ তার সৃজনশীলতা তুলে ধরে।
ডিমের খোসা দিয়েও আমরা শিল্প তৈরি করতে পারি। যেমন-ডিমটিকে একদিকে ছোট করে ছিদ্র করে ভেতরের অংশ বের করে নিয়ে আসতে হবে। তারপর রোদে ভিতরটা শুকাতে হবে। এরপর ডিমের খোসার গায়ে রং দিয়ে চমৎকার চিত্র অঙ্কন করে গৃহসজ্জায় ব্যবহার করা যায়। খোসা ছোট ছোট টুকরা করে আর্ট পেপারের উপর আঠা দিয়ে আটকিয়ে শুকিযে গেলে তার উপর রং দিযে এঁকে বিভিন্ন দৃশ্য ফুটিয়ে তোলা যায়।
Related Question
View Allআসবাবপত্র বিন্যাসের উপর গৃহসজ্জার সৌন্দর্য নির্ভর করে।
গৃহকে মনোরম ও আকর্ষণীয় করে নান্দনিকতা বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজন হয় গৃহের অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা।
পরিবার গৃহসজ্জার মাধ্যমে জীবনযাপনের মান উন্নত করে মানসিক তৃপ্তি লাভ করে। গৃহকে সুন্দর ও স্বাচ্ছন্দ্যপূর্ণ করে বসবাসের উপযোগী করে তোলার জন্য অভ্যন্তরীণ সাজসজ্জা একান্ত প্রয়োজন।
গৃহকে বাসোপযোগী করার জন্য প্রয়োজন আসবাবপত্র। পরিবারের জীবনযাত্রার মান, অবস্থানের মান, পারিবারিক জীবন চক্রের স্তর ইত্যাদির ভিন্নতায় আসবাবের চাহিদার ধন বদলায়।
আসবাব নির্বাচনে কালাম সাহেবকে কতগুলো বিষয় বিবেচনায় রাখতে হতো। যেহেতু কালাম সাহেবের নিজের কাছে অর্থ ছিল না, সেহেতু তার নতুন আসবাব প্রয়োজন কি না, বিষয়টি বিবেচনায় রাখা উচিত ছিল। কারণ পরিবারের আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আসবাব নির্বাচন করতে হয়। আয়ের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আসবাব নির্বাচন করলে সমাজেও তার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পায়। তাছাড়া কক্ষের আয়তন ও আকারের সাথে সামঞ্জস্য রেখে আসবাব নির্বাচন করলে কালাম সাহেবকে হয়তো এতো অসুবিধায় পড়তে হতো না। আসবাব ক্রয়ের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এর উপযোগিতা। আসবাবের উপযোগিতা হচ্ছে তার চাহিদা মেটানোর ক্ষমতার প্রতি লক্ষ রাখা।
উপরিউক্ত বিষয়গুলো বিবেচনায় রাখলে কালাম সাহেবকে এত সমস্যার সম্মুখীন হতে হতো না।
গৃহসজ্জার অন্যতম প্রধান অংশ পুষ্পবিন্যাস।
প্রাধান্য বলতে আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুকে বোঝায়।
বসার ঘরে সুদৃশ্য সেন্টার টেবিলে ফুলদানিতে তাজা ফুল, খাবার ঘরের টেবিলে বিভিন্ন ফল, শোবার ঘরে সুদৃশ্য আসবাব বা কার্পেট ইত্যাদি দিয়ে ঘর সাজিয়ে প্রাধান্য সৃষ্টি করা যায়। এসব কারণেই আসবাব বিন্যাসে প্রাধান্য গুরুত্বপূর্ণ।
মানুষ সারাদিন কর্মব্যস্ততার পর গৃহে ফিরে আসে এবং শয়নকক্ষে বিশ্রাম নেয়। তাই তাকে শয়নকক্ষের আসবাব বিন্যাসে যত্নবান হতে হবে। মিসেস জরিফা শয়নকক্ষের আসবাব যেভাবে বিন্যাস করতে পারেন তা হলো-
১. তিনি শয়নকক্ষে খাট, ড্রেসিং টেবিল, আলমারি ইত্যাদি আসবাব রাখতে পারেন। খাটের অবস্থান এমনভাবে হবে যাতে চোখে আলো না পড়ে।
২. শয়নকক্ষের দেয়ালের রং হালকা হলে ভালো হয়।
৩. তিনি খাটের পাশে বই বা খবরের কাগজ রাখার জন্য ছোট টেবিল রাখতে পারেন এবং একটি টেবিল ল্যাম্প রাখতে পারেন যাতে পড়ার সময় পর্যাপ্ত আলো পাওয়া যায়।
৪. তিনি দেয়াল সজ্জায় চিত্রকর্ম ব্যবহার করতে পারেন। ড্রেসিং টেবিল বা সাইড টেবিলের ওপর একগুচ্ছ ফুল রেখে ঘরের সৌন্দর্য অনেকখানি বাড়িয়ে তুলতে পারেন।
এভাবেই মিসেস জরিফা তার শয়নকক্ষের আসবাবের সঠিক বিন্যাস করতে পারেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!