কখনো পাথরে কখনো গাছের বাকলে বিভিন্ন প্রকার চিহ্ন দিয়ে মানুষ হিসাব রাখার চেষ্টা করত। এ চেষ্টা থেকেই মানুষ আবিষ্কার করে অ্যাবাকাস। এখন থেকে ৫০ বছর আগে মানুষের কাছে কাগজ-কলমই ছিল হিসাব করা ও সংরক্ষণের প্রধান উপায়। প্রযুক্তিগত বিকাশে ক্যালকুলেটরের আবিষ্কার মানুষকে হিসাবের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি দেয়। তবুও জটিল ও দীর্ঘ হিসাবের সমস্যা থেকেই যায়। এ সকল সমস্যা নিরসন হয় কম্পিউটার আবিষ্কারের পর।
"ক্যালকুলেটরের চেয়ে স্প্রেডশিট প্রোগ্রামে কাজ করা সুবিধাজনক" নিচে তা আলোচনা করা হলো-
১. স্প্রেডশিটে দৈনন্দিন হিসাব সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা যায় যা ক্যালকুলেটরে করা সম্ভব নয়।
২. স্প্রেডশিটে প্রতিবেদন তৈরি করা যায়। ক্যালকুলেটরে প্রতিবেদন তৈরি করা যায় না। স্প্রেডশিটে বিপুল পরিমাণ তথ্য নিয়ে কাজ করা যায়।
৩. স্প্রেডশিটে তথ্য সংরক্ষণ করা যায়।
৪. তথ্যকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায় যা ক্যালকুলেটরে সম্ভব নয়।
স্প্রেডশিটের আভিধানিক অর্থ হলো ছড়ানো বড়ো মাপের কাগজ। বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বিশাল বিশাল হিসাব সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যারটি হলো স্প্রেডশিট। এটি। একটি ইলেকট্রনিক টেবিল যা তথ্য সংগঠিত করতে, বিশ্লেষণ করতে এবং হিসাব করতে ব্যবহৃত হয়। এটি রো এবং কলামে বিভক্ত থাকে এবং প্রতিটি সেল একটি নির্দিষ্ট ডেটা ধারণ করে। কয়েকটি স্প্রেডশিট সফটওয়্যার হলো মাইক্রোসফট এক্সেল, ওপেন অফিস ক্যালক, কেস্প্রেড ইত্যাদি।
প্রথম স্প্রেডশিট সফটওয়্যার হলো VisiCalc, যা সত্তর দশকের শেষের দিকে অ্যাপল কোম্পানি তৈরি করেছিল। এটি। ব্যবসায়িক উপাত্ত ব্যবস্থাপনা সহজ করার জন্য উদ্ভাবিত হয়। পরবর্তীতে মাইক্রোসফট এক্সেল, ওপেন অফিস ক্যালক ও কেম্প্রেডের মতো উন্নত স্প্রেডশিট সফটওয়্যার বাজারে আসে।
স্প্রেডশিটের ব্যবহার করে তথ্য খুব সহজে সংগঠিত করা যায়, তথ্য বিশ্লেষণ করা সহজ হয় এবং হিসাবের কাজ দ্রুত ও -- নির্ভুলভাবে করা যায়। এ সফটওয়্যারে সূত্র ব্যবহারের সুযোগ থাকায় - হিসাবের কাজ সয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়। এছাড়াও, স্প্রেডশিটে বিভিন্ন ধরনের চার্ট ও গ্রাফ তৈরি করা যায় যা তথ্য উপস্থাপনকে আরও সহজ করে। এ সকল কারণে স্প্রেডশিটের ব্যবহার বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
মাইক্রোসফট এক্সেল হলো একটি স্প্রেডশিট প্রোগ্রাম। এটি মাইক্রোসফট কোম্পানি কর্তৃক উদ্ভাবিত এক্সেল প্রোগ্রাম। এর সাহায্যে গাণিতিক হিসাব-নিকাশের কাজ সহজ করা যায়। মাইক্রোসফট এক্সেলের বিভিন্ন ব্যবহারিক ক্ষেত্র রয়েছে। এর মধ্যে
-দুইটি ব্যবহারিক ক্ষেত্র নিম্নরূপ:
(i) দৈনন্দিন হিসাব সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ,
(ii) বেতনের হিসাব তৈরিকরণ।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্প্রেডশিটের ব্যবহার বিস্তৃত। ছাত্রদের মার্কশিট তৈরি, পরীক্ষার ফলাফল বিশ্লেষণ, উপস্থিতি রেকর্ড রাখা, বাজেট তৈরি এবং বিভিন্ন ধরনের পরিসংখ্যানগত তথ্য বিশ্লেষণে স্প্রেডশিট ব্যবহার করা হয়।
স্প্রেডশিট প্রোগ্রাম হলো একধরনের অ্যাপ্লিকেশন কম্পিউটার প্রোগ্রাম। স্প্রেডশিট ব্যবহার করে তথ্য প্রক্রিয়াকরণ কাজটি সহজ ও সুন্দরভাবে করা যায়।
মাইক্রোসফট এক্সেলের ব্যবহারিক ক্ষেত্রগুলো নিম্নরূপ-
১. দৈনন্দিন হিসাব সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ।
২. বার্ষিক হিসাবের ক্যালেন্ডার তৈরি করা।
৩. ডেটা সংরক্ষণ ও ব্যবস্থাপনার যাবতীয় কাজ সম্পন্ন করা।
৪. বার্ষিক প্রতিবেদন প্রণয়ন ও বাজেট প্রণয়ন।
৫. ব্যাংকিং ব্যবস্থাপনায় যাবতীয় হিসাব বিষয়ক বিশ্লেষণ।
৬. আয়কর ও অন্যান্য হিসাব তৈরিকরণ।
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে স্প্রেডশিটের ব্যবহার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বেতনভোগীদের বেতন তালিকা তৈরি, বাজেট তৈরি, বিক্রয় বিশ্লেষণ, স্টক ম্যানেজমেন্ট, আর্থিক প্রতিবেদন তৈরি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে স্প্রেডশিট ব্যবহার করা হয়। এছাড়াও, ব্যবসায়িক পরিকল্পনা তৈরি, ডেটাবেজ তৈরি এবং বিভিন্ন ধরনের প্রতিবেদন তৈরিতে স্প্রেডশিট ব্যবহার করা হয়।
স্প্রেডশিট সফটওয়্যারের সুবিধা অনেক। এটি ব্যবহার করে বিশাল পরিমাণ উপাত্ত দ্রুত ও নির্ভুলভাবে প্রক্রিয়া করা যায়। এটি স্বয়ংক্রিয় সূত্র ব্যবহারের সুবিধা দেয়, ফলে বারবার হিসাব করতে হয় না। এছাড়া গ্রাফ বা চার্ট তৈরি করে উপাত্ত চিত্ররূপে উপস্থাপন করা যায় এবং ঠিকানা বা ই-মেইল ব্যবস্থাপনাও সহজে করা সম্ভব হয়।
মাইক্রোসফট এক্সেল হলো একটি শক্তিশালী স্প্রেডশিট প্রোগ্রাম যা তথ্য সংগঠিত করতে, বিশ্লেষণ করতে এবং হিসাব করতে ব্যবহৃত হয়। এর মূল বৈশিষ্ট্যের মধ্যে রয়েছে: তথ্য সারণিতে সাজানো, বিভিন্ন ধরনের সূত্র ব্যবহার করে হিসাব করা, চার্ট ও গ্রাফ তৈরি করা, ডেটা ফিল্টার করা এবং সাজানো, টেবিল ব্যবহার করে জটিল ডেটা বিশ্লেষণ করা ইত্যাদি।
মাইক্রোসফট এক্সেল এ নতুন ওয়ার্কশিট খোলার একাধিক উপায় আছে। প্রথমত অফিস বাটনে ক্লিক করে নিউ অপশনটি ক্লিক করলে নতুন ওয়ার্কশিট তৈরি হবে। এছাড়াও শর্টকাট কী কম্বিনেশন Ctrl+N টিপেও নতুন ওয়ার্কশিট খোলা সম্ভব।
মাইক্রোসফট এক্সেলের অফিস বাটন হলো এই অ্যাপ্লিকেশনের কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ প্যানেল। এই বাটনটি ক্লিক করে নতুন ওয়ার্কশিট খোলা, বিদ্যমান ওয়ার্কশিট খোলা, ওয়ার্কবুক সেভ করা, প্রিন্ট করাসহ আরও অনেক কাজ করা সম্ভব। অফিস বাটনে ক্লিক করলে একটি ড্রপডাউন মেনু আসে, যেখান থেকে উপরে উল্লেখিত কাজগুলোর মধ্যে যেকোনো একটি কাজ নির্বাচন করা যায়।
স্প্রেডশিট ও ওয়ার্কশিটের মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ-
| স্প্রেডশিট | স্প্রেডশিট |
| ১. এক্সেল প্রোগ্রাম চালু করলে প্রথমে যে স্ক্রিনটি পাওয়া যায় সেটি হলো স্প্রেডশিট। | ১. এক্সেল প্রোগ্রামের সুবিশাল পাতার যে অংশে কাজ করা হয় সেটিই হলো ওয়ার্কশিট |
| ২. একটি স্প্রেডশিটে একাধিক ২. ওয়ার্কশিট থাকে। | ২. ওয়ার্কশিট হলো স্প্রেডশিটের অংশ। |
| ৩. সাধারণত একটি স্প্রেডশিটে ৩. ৩টি ওয়ার্কশিট ডিফল্ট হিসেবে থাকে। | ৩. প্রয়োজন অনুসারে ওয়ার্কশিটের সংখ্যা বাড়ানো যায়। |
স্প্রেডশিট মাইক্রোসফট এক্সেল ২০০৭ উইন্ডোর পরিচিতি নিচে আলোচনা করা হলো-
টাইটেল বার: এক্সেল উইন্ডোর একেবারে উপরে ওয়ার্কবুকের শিরোনাম লেখা থাকে। এটাকে টাইটেল বার বলা হয়।
অফিস বাটন: এক্সেল উইন্ডোর উপরের বাম দিকে কোণার দিকের বাটনটি হলো অফিস বাটন।
রিবন: মাইক্রোসফট এক্সেলে বিভিন্ন কমান্ডকে গুচ্ছাকারে সাজানো হয়েছে। এগুলোকে একত্রে রিবন বলা হয়।
ফর্মুলা বার: রিবনের ঠিক নিচেই এর অবস্থান। এখানে সেলের অবস্থান বা সেল রেফারেন্স প্রদর্শন করা হয়।
শিট ট্যাব: একটা ওয়ার্কবুকে যতগুলো ওয়ার্কশিট থাকে শিট ট্যাবে সেগুলো দেখানো হয়।
নতুন একটি ওয়ার্কশিট খোলার পদ্ধতি নিম্নরূপ:
১. মাইক্রোসফট এক্সেল ওপেন করার পর Office button-এ মাউস Click করতে হবে।
২. সেখানে একাধিক Option এর মধ্য থেকে New option-টি তে Click করতে হবে।
৩. এতে একটি নতুন ওয়ার্কশিট Open হবে। এছাড়া কি-বোর্ডের মাধ্যমে Ctrl + n চেপে নতুন ওয়ার্কশিট খোলা যায়।
এ প্রক্রিয়ায় একটি নতুন ওয়ার্কশিট খোলা সম্ভব। একই সাথে একাধিক ওয়ার্কশিটও খোলা যেতে পারে।
মাইক্রোসফট এক্সেলে বিভিন্ন কমান্ডকে গুচ্ছাকারে সাজানো থাকে। এগুলোকে একত্রে রিবন বলা হয়। এটি ব্যবহারকারীদের জন্য সহজেই বিভিন্ন কাজ খুঁজে বের করে কাজ করার সুবিধা দেয়। প্রতিটি ট্যাবে, বিভিন্ন কাজের জন্য নির্দিষ্ট টুলস থাকে, যেমন হোম ট্যাবে ফন্ট, বর্ণনা এবং সেল ফর্ম্যাটিং টুলস থাকে, ইনসার্ট ট্যাবে চার্ট, টেবিল ইত্যাদি যোগ করার টুলস থাকে। রিবনের সাহায্যে ব্যবহারকারীরা কম সময়ে কাজ সম্পন্ন করতে পারে।
স্প্রেডশিটে ওয়ার্কশিটের গ্রিড কলাম ও সারি আকারে থাকে। প্রতিটি কলামের শিরোনাম একটি ইংরেজি বর্ণ দিয়ে এবং প্রতিটি সারি একটি সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করা থাকে। এর দ্বারা গ্রিডের প্রতিটি সেলের ঠিকানা বা রেফারেন্স সুনির্দিষ্ট থাকে। যেমন- E10 দিয়ে E কলাম এবং 10 নম্বর রো-এর ছেদবিন্দুতে অবস্থানকারী সেলকে নির্দেশ করা হয়।
কী-বোর্ডের অ্যারো কী ব্যবহার করে আমরা কারসরকে ওয়ার্কশিটের যেকোনো সেলে নিতে পারি। এছাড়া ট্যাব বা এন্টার কী চেপে কারসরকে ডানের বা নিচের সেলে নেওয়া যায়। মাউস ক্লিকের মাধ্যমেও কারসরকে যেকোনো সেলে নেওয়া যায়।
স্প্রেডশিটে ব্যবহৃত ফর্মুলা ও ফাংশনের মধ্যে পার্থক্য নিম্নরূপ:
| ফর্মুলা | ফাংশন |
| ১. ওয়ার্কশিটের বিভিন্ন সেলের অ্যাড্রেসবারে গাণিতিক সমস্যা সমাধানের জন্য যে সূত্র ব্যবহার হয় তাই ফর্মুলা। | ১. ফর্মুলার সংক্ষিপ্ত রূপ বা শব্দ সংক্ষেপে বলা হয় ফাংশন। |
| ২. ফর্মুলাকে সংক্ষিপ্ত আকারে লেখা যায় না। | ২. ফাংশনকে সংক্ষিপ্ত আকারে লেখা যায়। |
| ৩. নির্দিষ্ট একই সেলে যোগ ও ৩. বিয়োগের কাজ ফর্মুলার সাহায্যে করা যায়। | ৩. একই সেলে যোগ ও বিয়োগের কাজ ফাংশনের সাহায্যে করা। যায় না। |
স্প্রেডশিট হলো একটি শক্তিশালী টুল যা মৌলিক গাণিতিক কাজকে সহজ করে দেয়। এতে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ, শতকরা হিসাব, গড় নির্ণয় এবং আরও অনেক কিছু করা যায়। স্প্রেডশিটে সূত্র ব্যবহার করে যেকোনো ধরনের গাণিতিক সমস্যার সমাধান করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, এক্সেল ব্যবহার করে দুটি সংখ্যার যোগফল, কোনো তালিকার সংখ্যাগুলোর গড় বা কোনো বিনিয়োগের উপর সুদ নির্ণয় করা সম্ভব।
স্প্রেডশিটের মাধ্যমে করা যায় এমন দুটি কাজ হলো যোগ করা ও বিয়োগ করা। নিম্নে তা বর্ণনা করা হলো-
যোগ করা: এক্সেলে দুইভাবে যোগ করা যায়- স্বয়ংক্রিয়ভাবে এবং ম্যানুয়ালি। স্বয়ংক্রিয়ভাবে যোগ করতে হলে ফলাফল সেলে কার্সর নিয়ে ∑Autosum এ ক্লিক করতে হয়। ম্যানুয়ালি যোগ করা হলে ফলাফল সেলে '=' চিহ্ন দিয়ে সূত্র লিখতে হয়।
বিয়োগ করা: এক্সেলের ওয়ার্কশিটে বিয়োগ করার পদ্ধতিও যোগ করার পদ্ধতির মতো। তবে স্বয়ংক্রিয় বিয়োগ করার কোনো ব্যবস্থা নেই। ফলাফল সেলে সূত্র বসিয়ে বিয়োগের কাজটি করতে হয়। এজন্য ফলাফল সেলে প্রথমেই '=' টাইপ করতে হবে।
স্প্রেডশিটে দুটি ভিন্ন সেলের কনটেন্ট যোগ করার জন্য যে সেলে ফলাফল প্রদর্শিত করতে হবে সেই সেলে গিয়ে' চিহ্ন দিয়ে শুরু করতে হবে। তারপর যোগ করতে চাওয়া সেল দুটির নাম লিখতে হবে এবং এর মাঝে '+' চিহ্ন দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি A1 এবং B1 সেলের মান যোগ করে C1 সেলে দেখতে চাওয়া হয়, তাহলে C1 সেলে '-A1+BI' লিখে এন্টার চাপতে হবে।
স্প্রেডশিটে অনেকগুলো সেলের মান একবারে যোগ করার জন্য SUM ফাংশন ব্যবহার করতে হয়। উদাহরণস্বরূপ, A1 থেকে A10 পর্যন্ত সবগুলো সেলের মান যোগ করতে চাইলে যে সেলে ফলাফল দেখতে চাই সেই সেলে 'SUM(A1:A10)' লিখে এন্টার চাপতে হবে। এখানে A1:A10 বলতে A1 থেকে A10 পর্যন্ত সবগুলো সেলকে বুঝায়।
স্প্রেডশিটে দুটি ভিন্ন সেলের কনটেন্ট বিয়োগ করার জন্য যে সেলে ফলাফল প্রদর্শিত করতে হবে সেই সেলে গিয়ে চিহ্ন দিয়ে শুরু করতে হবে। তারপর বিয়োগ করতে চাওয়া সেল দুটির নাম লিখতে হবে এবং এর মাঝে' চিহ্ন দিতে হবে। উদাহরণস্বরূপ, যদি AI থেকে B1 সেলের মান বিয়োগ করে CI সেলে দেখতে চাওয়া হয়, তাহলে CI সেলে '-A1 BI' লিখে এন্টার চাপতে হবে।
স্প্রেডশিটে উপাত্ত বা ডেটা থেকে বিভিন্ন ধরনের ডায়াগ্রাম তৈরি করা যায়। প্রথমে যে ডেটা থেকে ডায়াগ্রাম তৈরি করা হবে সেই ডেটাগুলো সিলেক্ট করতে হবে। এরপর ইনসার্ট ট্যাবে গিয়ে চার্ট গ্রুপে ক্লিক করলে বিভিন্ন ধরনের চার্টের অপশন থেকে একটি নির্বাচন করা হলে ডায়াগ্রাম তৈরি হয়ে যাবে। উদাহরণস্বরূপ, কোনো তথ্যের পরিবর্তন দেখাতে চাইলে লাইন চার্ট ব্যবহার করা যায় অথবা বিভিন্ন ক্যাটাগরির তুলনা করতে বার চার্ট ব্যবহার করা যায়।
বার ডায়াগ্রাম অঙ্কনের জন্য প্রথমে ওয়ার্কশিটে উপাত্ত প্রবেশ করাতে হবে। যেমন, সাকিব ১ম ইনিংস-এ 70, ২য় ইনিংস-এ 50, ৩য় ইনিংস-এ 40 ও ৪র্থ ইনিংস-এ ৪০ রান করল। এ উপাত্তসমূহ নিচের মতো করে ওয়ার্কশিটে লিখতে হবে।
| 1st innings | 2n innings | 3rd innings | 4th innings |
| 70 | 50 | 40 | 80 |
এবার সম্পূর্ণ উপাত্ত রেঞ্জ করে insert ট্যাবে ক্লিক করতে হবে। এখন Charts মেনুর অধীনে Bar-এ ক্লিক করতে হবে। এরপর 2D Bar-এ ক্লিক করলে বার ডায়াগ্রামের চিত্র চলে আসবে।

পরীক্ষার ফলাফল সংরক্ষণ এবং প্রকাশে স্প্রেডশিট ব্যবহার করা সুবিধাজনক। স্প্রেডশিট হলো এক ধরনের সফটওয়্যার যা হিসাব নিকাশ করার জন্য ব্যবহার করা হয়। স্প্রেডশিট ব্যবহার করে যোগ, বিয়োগ, গুণ, ভাগ বিভিন্ন ধরনের ফর্মুলা এবং ফাংশনের ব্যবহার করে হিসাব নিকাশ করা যায়। পরীক্ষার ফলাফল তৈরিকরণে এসব সূত্র এবং ফাংশন ব্যবহার করা যায়। পরীক্ষার ফলাফল তৈরিতে ছাত্রছাত্রীদের নাম, রোল, শ্রেণি, বিষয়, নাম্বার, মোট নাম্বার, প্রাপ্ত গ্রেড এসবের হিসাব খুব সহজে সূত্র ও ফাংশনের ব্যবহারে করা যায় এবং তা সংরক্ষণ করা যায়। সংরক্ষণ করার পর কোনো প্রয়োজনে কোন data বা তথ্য পরিবর্তন করতে, মুছে ফেলে দিতে, নতুন তথ্য বা data যোগ করতে হলে সহজেই সংরক্ষিত স্প্রেডশিট ফাইলটি Open করে তা করা যায়। আবার যদি ফলাফলের পুরো অংশ কিংবা আংশিক অংশ প্রিন্ট করার প্রয়োজন হয় তবে অংশটি Select করে এর প্রিন্ট কপি তৈরি করা যায়। স্প্রেডশিট তথ্য এবং data কে রো এবং কলামের তৈরি cell এর মাধ্যমে প্রকাশ করা যায়। তৈরি করা ওয়ার্কশীট সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে ব্যবহার করা যায়। এর প্রিস্ট কপিও প্রকাশ করা যায়। উপাত্ত বিশ্লেষণ, ফলাফল প্রকাশ, সংরক্ষণে স্প্রেডশিট সফটওয়্যার ব্যবহার করাই উপযোগী এবং সুবিধাজনক
Spreadsheet মানে হলো ছড়ানো পাতা। এই ছড়ানো পাতায় কলম, রাবার এবং ক্যালকুলেটর এর সাহায্যে যেসব কাজ করা যায় তার চেয়েও অনেক বেশি এবং জটিল কাজ করা যায়। ওয়ার্কশীটে যোগ বিয়োগ করা সুবিধাজনক কারণ এতে যোগ বিয়োগের জন্য সূত্র এবং ফাংশন ব্যবহারের সুযোগ আছে। ফলে হিসাবের কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন করা যায়। একই সূত্র বারবার প্রয়োগ করা যায় বলে প্রক্রিয়াকরণে সময় কম লাগে। যোগ বিয়োগের জন্য আলাদা সূত্র রয়েছে, সেই সূত্র ব্যবহার করে অনেক উপাত্ত নিয়ে একবারে কাজ করা যায়। একবার সূত্র ব্যবহার করার পর উপাত্ত সংযোজন বা বিয়োজন করলে ফলাফল স্বয়ংক্রিয়ভাবে পরিবর্তিত হয়। ফলে ভুল হবার সম্ভাবনা থাকে না। কম সময়ে ফলাফল পাওয়া যায়। ফলাফল এবং data গুলো সংরক্ষণ করে পরবর্তীতে ঐ ওয়ার্কশীটের উপর কাজ করা যায়, পরিবর্তন আনা যায়। তাই spreadsheet-এ যোগ বিয়োগ করা সুবিধাজনক।
স্প্রেডশিট হলো একটি পূর্ণাঙ্গ প্রোগ্রাম, যার অর্থ ছড়ানো পাতা। এ প্রোগ্রামে গ্রাফ কাগজের ন্যায় X-অক্ষ ও Y-অক্ষ বরাবর খোপ খোপ অনেক ঘর থাকে। স্প্রেডশিট-এর ওয়ার্কশিটে গ্রিড থাকে যেখানে X অক্ষ বরাবর সারি এবং Y অক্ষ বরাবর কলাম আকারে থাকে। প্রতিটি কলামের শিরোনাম একটি ইংরেজি বর্ণ দিয়ে এবং প্রতিটি সারি সংখ্যা দিয়ে চিহ্নিত করা থাকে। এর দ্বারা গ্রিডের প্রতিটি সেলের ঠিকানা বা Reference সুনির্দিষ্ট থাকে। যেমন: A12 দিয়ে A মানে A Column এবং 12 দিয়ে বারো নাম্বার সারি বোঝায়। A12 দিয়ে A কলাম এবং 12 নাম্বার সারির ছেদবিন্দুতে অবস্থানকারী সেলকে নির্দেশ করা হয়। যেকোনো একটি সেলে যেমন A12 Cell-এ যদি কোনো লেখা বা উপাত্ত প্রবেশ করাতে চাই তবে ঐ সেলে কার্সর রেখে কি-বোর্ড চেপে প্রয়োজনমতো লেখা বা উপাত্ত প্রবেশ করানো যাবে। কি-বোর্ডের অ্যারো কি ব্যবহার করে কার্সরকে ওয়ার্কশিটের যেকোনো সেলে নেওয়া যায়। বাম-কি দিয়ে বামদিকে, ডান-কি দিয়ে ডানদিকে, Upper key দিয়ে উপরের দিকে এবং Lower key চেপে নিচের দিকে নেওয়া যায়। এছাড়া ট্যাব বা Enter key চেপেও কার্সরকে বিভিন্ন Cell-এ নেওয়া যায়। মাউস Click এর মাধ্যমে Cursor-কে বিভিন্ন Cell-এ নেওয়া যায়। মাউস দ্বারা একাধিক Cell-কে একসাথে Select করা যায়। Cell লেখা বা উপাত্ত Copy করে অন্য Cell-এ Paste করা যায়। এছাড়া Column এবং Row-এর Height এবং Width প্রয়োজনমতো বড় করা যায়। লেখার Size বা Space প্রয়োজনমতো বড় ছোট করা যায়।
এই অধ্যায় পাঠ শেষে আমরা –
• তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং প্রেডশিটের মধ্যে সম্পর্ক ব্যাখ্যা করতে পারব
• প্রেডশিট সফটওয়্যার ব্যবহারের ক্ষেত্র চিহ্নিত করতে পারব :
• স্প্রেডশিট সফটওয়্যার ব্যবহারের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করতে পারব :
• স্প্রেডশিট সফটওয়্যার ব্যবহারের কৌশল বর্ণনা করতে পারব।
Related Question
View Allকখনো পাথরে কখনো গাছের বাকলে বিভিন্ন প্রকার চিহ্ন দিয়ে মানুষ হিসাব রাখার চেষ্টা করত। এ চেষ্টা থেকেই মানুষ আবিষ্কার করে অ্যাবাকাস। এখন থেকে ৫০ বছর আগে মানুষের কাছে কাগজ-কলমই ছিল হিসাব করা ও সংরক্ষণের প্রধান উপায়। প্রযুক্তিগত বিকাশে ক্যালকুলেটরের আবিষ্কার মানুষকে হিসাবের ক্ষেত্রে কিছুটা স্বস্তি দেয়। তবুও জটিল ও দীর্ঘ হিসাবের সমস্যা থেকেই যায়। এ সকল সমস্যা নিরসন হয় কম্পিউটার আবিষ্কারের পর।
"ক্যালকুলেটরের চেয়ে স্প্রেডশিট প্রোগ্রামে কাজ করা সুবিধাজনক" নিচে তা আলোচনা করা হলো-
১. স্প্রেডশিটে দৈনন্দিন হিসাব সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ করা যায় যা ক্যালকুলেটরে করা সম্ভব নয়।
২. স্প্রেডশিটে প্রতিবেদন তৈরি করা যায়। ক্যালকুলেটরে প্রতিবেদন তৈরি করা যায় না। স্প্রেডশিটে বিপুল পরিমাণ তথ্য নিয়ে কাজ করা যায়।
৩. স্প্রেডশিটে তথ্য সংরক্ষণ করা যায়।
৪. তথ্যকে আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা যায় যা ক্যালকুলেটরে সম্ভব নয়।
স্প্রেডশিটের আভিধানিক অর্থ হলো ছড়ানো বড়ো মাপের কাগজ। বড় বড় প্রতিষ্ঠানের বিশাল বিশাল হিসাব সংরক্ষণ ও প্রক্রিয়াকরণের জন্য ব্যবহৃত সফটওয়্যারটি হলো স্প্রেডশিট। এটি। একটি ইলেকট্রনিক টেবিল যা তথ্য সংগঠিত করতে, বিশ্লেষণ করতে এবং হিসাব করতে ব্যবহৃত হয়। এটি রো এবং কলামে বিভক্ত থাকে এবং প্রতিটি সেল একটি নির্দিষ্ট ডেটা ধারণ করে। কয়েকটি স্প্রেডশিট সফটওয়্যার হলো মাইক্রোসফট এক্সেল, ওপেন অফিস ক্যালক, কেস্প্রেড ইত্যাদি।
প্রথম স্প্রেডশিট সফটওয়্যার হলো VisiCalc, যা সত্তর দশকের শেষের দিকে অ্যাপল কোম্পানি তৈরি করেছিল। এটি। ব্যবসায়িক উপাত্ত ব্যবস্থাপনা সহজ করার জন্য উদ্ভাবিত হয়। পরবর্তীতে মাইক্রোসফট এক্সেল, ওপেন অফিস ক্যালক ও কেম্প্রেডের মতো উন্নত স্প্রেডশিট সফটওয়্যার বাজারে আসে।
স্প্রেডশিটের ব্যবহার করে তথ্য খুব সহজে সংগঠিত করা যায়, তথ্য বিশ্লেষণ করা সহজ হয় এবং হিসাবের কাজ দ্রুত ও -- নির্ভুলভাবে করা যায়। এ সফটওয়্যারে সূত্র ব্যবহারের সুযোগ থাকায় - হিসাবের কাজ সয়ংক্রিয়ভাবে সম্পন্ন হয়। এছাড়াও, স্প্রেডশিটে বিভিন্ন ধরনের চার্ট ও গ্রাফ তৈরি করা যায় যা তথ্য উপস্থাপনকে আরও সহজ করে। এ সকল কারণে স্প্রেডশিটের ব্যবহার বর্তমানে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
মাইক্রোসফট এক্সেল হলো একটি স্প্রেডশিট প্রোগ্রাম। এটি মাইক্রোসফট কোম্পানি কর্তৃক উদ্ভাবিত এক্সেল প্রোগ্রাম। এর সাহায্যে গাণিতিক হিসাব-নিকাশের কাজ সহজ করা যায়। মাইক্রোসফট এক্সেলের বিভিন্ন ব্যবহারিক ক্ষেত্র রয়েছে। এর মধ্যে
-দুইটি ব্যবহারিক ক্ষেত্র নিম্নরূপ:
(i) দৈনন্দিন হিসাব সংরক্ষণ ও বিশ্লেষণ,
(ii) বেতনের হিসাব তৈরিকরণ।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!