ইংরেজ শাসনামলে একটি ভাসমান শ্রেণি ছিল। যাদের ফকির-সন্ন্যাসী বলা হতো। ভিক্ষাবৃত্তি বা মুষ্টি সংগ্রহের মাধ্যমে ফকির-সন্ন্যাসীরা জীবিকা নির্বাহ করত। তীর্থস্থান দর্শনের জন্য তারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াত। তাদের স্থায়ী কোনো অবস্থান ছিল না।
ইংরেজ সরকার ফকির-সন্ন্যাসীদের অবাধ চলাফেরায় বাধা সৃষ্টি করে। বাংলার ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠার পূর্বপর্যন্ত তারা ছিল স্বাধীন। তীর্থস্থান দর্শনের ওপর করারোপ এবং ভিক্ষাবৃত্তি বা মুষ্টি সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে এবং তাদের দস্যু বলে আখ্যায়িত করে। এ কারণে তারা ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে।
ভিক্ষাবৃত্তি বা মুষ্টি সংগ্রহের মাধ্যমে ফকির-সন্ন্যাসীরা জীবিকা নির্বাহ করত। তীর্থস্থান দর্শনের জন্য তারা এক স্থান থেকে অন্য স্থানে ঘুরে বেড়াত। তবে ইংরেজ সরকার তাদের অবাধ চলাফেরায় বাঁধা সৃষ্টি করে। তীর্থস্থান দর্শনের ওপর করারোপ করে এবং ভিক্ষাবৃত্তি বা মুষ্টি সংগ্রহকে বেআইনি ঘোষণা করে।
বিদ্রোহী ফকির দলের নেতার নাম ছিল মজনু শাহ। ১৭৭১ সালে মজনু শাহ উত্তর বাংলায় ইংরেজবিরোধী তৎপরতা শুরু করেন। ১৭৭৭-১৭৮৬ সাল পর্যন্ত তিনি গেরিলা কৌশলে ইংরেজদের ওপর আক্রমণ করেন। ১৭৮৭ সালে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
বাংলায় ফরির-সন্ন্যাসী বিদ্রোহের প্রধান নেতা ছিলেন মজনু শাহ। তার মৃত্যুর পর মুসা শাহ, সোবান শাহ, চেরাগ আলী শাহ, করিম শাহ, মাদার বক্স প্রমুখ ফকির বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন। অপরদিকে, সন্ন্যাসী বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন ভবানী পাঠক।
বিদ্রোহী ফকির দলের নেতা ছিলেন মজনু শাহ। তিনি রংপুর, রাজশাহী, দিনাজপুর ও ময়মনসিংহ জেলায় ইংরেজদের সাথে বহু সংঘর্ষে লিপ্ত হন। তিনি গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করতেন। অতর্কিতে আক্রমণ করে নিরাপদে সরে যাওয়াই ছিল তার যুদ্ধ কৌশল। ইংরেজরা কখনোই মজনু শাহকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করতে পারে নি।
বিভিন্ন স্থানে সংঘর্ষের পর ১৮০০ সালে বিদ্রোহী ফকিররা পরাজিত হয়। সন্ন্যাসী আন্দোলনের প্রধান নেতা ভবানী পাঠক। ১৭৮৭ সালে দু সহকারীসহ লেফটেন্যান্ট ব্রেনানের নেতৃত্বে একদল 'ব্রিটিশ সৈন্যের আক্রমণে নিহত হন। তার মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গে সন্ন্যাসী আন্দোলনের অবসান ঘটে এবং আন্দেলন ব্যর্থ হয়।
মীর নিসার আলী ওরফে তিতুমির চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ছিলেন বিদেশি শাসনের বিরুদ্ধে স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দেওয়া প্রথম শহিদ। তার আত্মত্যাগ বাঙালিকে অন্যায়-অত্যাচারের বিরুদ্ধে সাহস জুগিয়েছে।
বাংলার স্বাধীনচেতা নেতা তিতুমির সশস্ত্র প্রতিরোধের পথ অবলম্বন করে ১৮৩১ সালে নারিকেলবাড়িয়া গ্রামে তার প্রধান ঘাঁটি স্থাপন করেন। এখানে নির্মাণ করেন শক্তিশালী এক বাঁশের কেল্লা। গোলাম মাসুমের নেতৃত্বে গড়ে তোলেন সুদক্ষ শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী।
ইংরেজ সরকার, জমিদার, নীলকরদের দ্বারা নির্যাতিত কৃষকরা দলে দলে তিতুমিরের আন্দোলনে যোগ দেয়। ফলে তার আন্দোলন একটি ব্যাপক কৃষক আন্দোলনে রূপ নেয়। মূলত তিতুমির ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলনের মধ্য দিয়ে একটি ব্যাপক কৃষক আন্দোলন গড়ে তোলেন।
তিতুমিরের সংস্কার আন্দোলনে চব্বিশ পরগনা ও নদীয়া জেলার বহু কৃষক, তাঁতি যোগ দেয়। এ কারণে জমিদাররা মুসলমান প্রজাদের ওপর নানা নিষেধাজ্ঞা জারি এবং নানা নির্যাতনমূলক আচরণ শুরু করে। তিতুমির কর্তৃপক্ষের কাছে এ অন্যায়ের শান্তিপূর্ণ সুবিচার চেয়ে ব্যর্থ হন। এ কারণে তিতুমিরের আন্দোলন সশস্ত্র আন্দোলনে পরিণত হয়।
ইংরেজ নীলকরদের অত্যাচার ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে বাংলার নীল চাষিরা যে বিদ্রোহ করে তাকে নীল বিদ্রোহ বলে। ১৮৫৯ সালে এ বিদ্রোহ তীব্র আকার ধারণ করে। অতঃপর ইংরেজ সরকার নীল কমিশনে সুপারিশে নীল চাষকে কৃষকদের ইচ্ছাধীন করতে বাধ্য হয়।
দাদন হলো অগ্রিম ঋণ। কৃষকদের নীল চাষের জন্য অগ্রিম অর্থ গ্রহণে (দাদন) বাধ্য করা হতো। আর একবার এই দাদন গ্রহণ করলে সুদ-আসলে যতই কৃষকরা ঋণ পরিশোধ করুক না কেন, বংশপরস্পরায় কোনো দিনই ঋণ শোধ হতো না।
শিল্পের উন্নতির সাথে সাথে কাপড় রং করার জন্য ব্রিটেনে নীলের ব্যাপক চাহিদা বেড়ে যায়। তাছাড়া আমেরিকার স্বাধীনতা যুদ্ধের কারণে নীল চাষ বন্ধ হওয়ায় ইংরেজ বণিকরা বাংলায় নীল চাষ শুরু করে। ঐ সময়ে নীল চাষ খুব লাভজনক ছিল তাই তারা নীল চাষ শুরু করে।
বাংলার জমি খুবই উর্বর ছিল। যা নীল চাষের জন্য উপযুক্ত। বাংলা অঞ্চলের ফরিদপুর, যশোর, ঢাকা, পাবনা, রাজশাহী, নদীয়া, মুর্শিদাবাদে ব্যাপক নীল চাষ হতো। নীল চাষ করার জন্য নীলকররা কৃষকের সর্বোৎকৃষ্ট জমি বেছে নিত। বাংলাদেশে নীলের ব্যবসায় ছিল একচেটিয়া ইংরেজ বণিকদের।
ইংরেজ কোম্পানির মধ্যে যেসব ব্যবসায়ী চাষিদের জোরপূর্বক 'নীল চাষ করাত তাদেরকে নীলকর বলা হতো। নীলকররা ছিল ইংরেজ বণিক সম্প্রদায়। তারা কুটি স্থাপন করে নীল চাষ তদারকি করতেন এবং অবাধ্য নীল চাষিকে অত্যাচার করত।
বাংলার চাষিরা স্বেচ্ছায় নীলচাষ করত না। নীলকরদের অত্যাচারের হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য তাদেরকে নীলচাষ করতে হতো। অবাধ্য নীলচাষির ওপর নেমে আসত অকথ্য নির্যাতন। নীলকররা এতটাই নিষ্ঠুর হয়ে উঠেছিল যে অবাধ্য নীলচাষিকে হত্যা। করতেও তারা দ্বিধা করে নি। এ অন্যায়ের বিরুদ্ধে সুবিচার পাওয়ার। উপায় কৃষকদের ছিল না। এ কারণেই নীল বিদ্রোহ সংঘটিত হয়।
নীল বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেয় নীলচাষিরাই। যশোরের নীল বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব নামে দুই ভাই। হুগলিতে নেতৃত্ব দেন বৈদ্যনাথ ও বিশ্বনাথ সর্দার। নদীয়ায় ছিলেন মেঘনা সর্দার এবং নদীয়ার চৌগাছায় বিদ্রোহের নেতৃত্ব দেন বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস ও দিগম্বর বিশ্বাস নামে দুই ভাই।
নীল বিদ্রোহের অবসানের জন্য ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার ইন্ডিগো কমিশন বা নীল কমিশন গঠন করে। নীল চাষিদের তীব্র আন্দোলনে ব্রিটিশ সরকার নীল কমিশন গঠন করতে বাধ্য হয়। এ কমিশনের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে নীল চাষকে কৃষকদের ইচ্ছাধীন বলে ঘোষণা করা হয়। তাছাড়া ইন্ডিগো কন্ট্রাক্ট বাতিল হয়।
নীল চাষিরা ১৮৫৯ সালে প্রচন্ড বিদ্রোহে ফেটে পড়লে ১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার নীল কমিশন গঠন করে। এ কমিশনের 1 সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে নীল বিদ্রোহের অবসান ঘটে। অতঃপর কৃত্রিম নীল আবিষ্কৃত হলে নীল চাষ চিরতরে বন্ধ হয়ে
হাজী শরীয়তউল্লাহ ইসলাম ধর্মকে অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, অনাচার থেকে মুক্ত করতে উনিশ শতকের প্রথমার্ধে বাংলার মুসলমানদের নিয়ে এক ধর্মীয় সামাজিক সংস্কার আন্দোলনের সূত্রপাত করেন। তার এ আন্দোলনের নামই ফরায়েজি আন্দোলন।
ফরায়েজি' শব্দটি আরবি 'ফরজ' (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। ইসলাম ধর্মের অনুসারীদের অবশ্যই ফরজ পালন করতে হয়। যারা ফরজ পালন করেন তারাই ফরায়েজি। আর বাংলায় যারা হাজী শরীয়তউল্লাহর অনুসারী ছিলেন, ইতিহাসে শুধু তাদেরকেই ফরায়েজি বলা হয়ে থাকে।
ফরায়েজি' শব্দটি আরবি 'ফরজ' (অবশ্য কর্তব্য) শব্দ থেকে এসেছে। যারা ফরজ পালন করেন তারাই ফরায়েজি। আর বাংলায় যারা হাজী শরীয়তউল্লাহর অনুসারী ছিলেন, ইতিহাসে শুধু তাদেরকেই -ফরায়েজি বলা হয়ে থাকে।
ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার ও অনৈতিক আচরণ মুক্ত করাই ফরায়েজি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য ছিল। ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহ উপলব্ধি করেন যে, মুসলমানেরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে দূরে সরে গেছে। তাই তিনি মুসলমানদের মধ্যে ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা পৌঁছে দেওয়ার জন্য ফরায়েজি আন্দোলন করেছিলেন।
মুহম্মদ মুহসিন উদ্দিন আহমদ ওরফে দুদু মিয়া ছিলেন ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতিষ্ঠাতা হাজী শরীয়তউল্লাহর ছেলে। তিনি ১৮১৯ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি অসাধারণ সাংগঠনিক ক্ষমতার অধিকারী ছিলেন। দুদু মিয়া পিতার মৃত্যুর পর শান্তিপ্রিয় নীতি ত্যাগ করে ফরায়েজি আন্দোলনকে সশস্ত্র আন্দোলনে রূপ দেন।
দুদু মিয়া জমিদারদের অবৈধ করারোপ এবং নীলকরদের অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন। এ কারণে তিনি নিজে লাঠি চালনা শিক্ষালাভ করেন এবং পিতার আমলের লাঠিয়াল জালালউদ্দিন মোল্লাকে সেনাপতি নিয়োগ করে একটি সুদক্ষ লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তোলেন।
১৮৫৭ সালে সিপাহি বিদ্রোহ শুরু হলে ভীত ইংরেজ সরকার দুদু মিয়াকে রাজনৈতিক বন্দি হিসেবে কোলকাতার কারাগারে আটকে রাখে। ১৮৬০ সালে তিনি মুক্তি পান এবং ১৮৬২ সালে এই দেশপ্রেমী বিপ্লবীর মৃত্যু ঘটে। তার মৃত্যুর পর যোগ্য নেতৃত্বের অভাবে ফরায়েজি আন্দোলন দুর্বল হয়ে পড়ে
নবজাগরণ শব্দের ইংরেজি প্রতিশব্দ হলো রেনেসাঁ। রেনেসাঁ অর্থ পুনর্জন্ম বা পুনর্জাগরণ। সাধারণত চতুর্দশ শতকে ইউরোপে যে ব্যাপক সামাজিক পরিবর্তনের সূচনা হয় তাকে নবজাগরণ বা রেনেসাঁ বলা হয়। এর প্রভাবে কিছু সংখ্যক ব্যক্তি এ বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সংস্পর্শে, আসেন। তারাই বাংলায় রেনেসাঁ বা নবজাগরণের সূচনা করেন।
অষ্টাদশ শতকের শেষার্ধে ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব এবং ফরাসি বিপ্লবের প্রভাব এ অঞ্চলের রাজনীতি ও অর্থনীতিতে এসে পড়ে। এ সময় বাংলার কিছু সংখ্যক ব্যক্তি এ বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সংস্পর্শে আসেন। তারাই বাংলায় রেনেসাঁ বা নবজাগরণের সূচনা করেন। আর 1 এভাবেই বাংলায় রেনেসাঁর জন্ম হয়।
ইংরেজ শাসনামলে বাংলায় প্রচলিত ধর্ম, শিক্ষা-সংস্কৃতি, সাহিত্য, সামাজিক রীতিনীতি ও ঐতিহ্যের পরিবর্তে নতুন ধর্মমত, নতুন শিক্ষা, নতুন সাহিত্য, নতুন সামাজিক রীতিনীতির উদ্ভব ঘটে। উপমহাদেশে বাংলায় প্রথম রেনেসাঁ বা নবজাগরণের জন্ম হওয়ায় বাংলা হয়ে ওঠে আধুনিক চিন্তাচেতনার কেন্দ্রস্থল।
বাংলার নবজাগরণের স্রষ্টা ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। - ১৭৭৪ সালে হুগলী জেলার রাধানগর গ্রামে তার জন্ম। অসাধারণ পান্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন রাজা রামমোহন রায়। তিনি বিখ্যাত | সমাজ সংস্কারক ছিলেন। তিনি হিন্দুধর্মের সংস্কার করেন এবং শিক্ষাবিস্তারে ভূমিকা পালন করেন।
হিন্দু সমাজ সংস্কারে রাজা রামমোহন রায়ের ভূমিকা অপরিসীম। তিনি হিন্দু সমাজের সতীদাহ, বাল্যবিবাহ, কৌলীন্য প্রথা ও অন্যান্য কুসংস্কার দূর করতে প্রচেষ্টা চালান। তাছাড়া তিনি সব কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন
রাজা রামমোহন রায় সব কুসংস্কার দূর করে আদি একেশ্বরবাদের পুনঃপ্রতিষ্ঠা করতে সচেষ্ট হন। হিন্দুধর্মের সংস্কার তথ। নিজ ধর্মীয় মতবাদ প্রচারের উদ্দেশ্যে আত্মীয় সভা নামে একটি সমিতি গঠন করেন। ১৮২৮ সালের ২২ আগস্ট তিনি ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন। এর পরে ব্রাহ্মসমাজের উপাসনালয় স্থাপন করেন।
রাজা রামমোহন রায় বিশ্বাস করতেন, দেশের মানুষের জন্য প্রয়োজন ইংরেজি শিক্ষার। তিনি ১৮২২ সালে কোলকাতায় 'অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন। ভারতীয়দের শিক্ষার জন্য গভর্নর জেনারেলকে চিটি লেখেন এবং ইংরেজ সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ১ লক্ষ টাকা সংস্কৃত ও মাদ্রাসা শিক্ষায় ব্যয় না করে আধুনিক শিক্ষায় ব্যয় করার জন্যও আবেদন করেন।
রাজা রামমোহন রায়ের লিখিত গ্রন্থগুলো হলো তুহফাতুল মুজাহহিদ্দীন (একেশ্বরবাদ সৌরভ), মনজারাতুল আদিয়ান (বিভিন্ন ধর্মের ওপর আলোচনা), ভট্টাচার্যের সহিত বিচার ও হিন্দুদিগের পৌত্তলিক ধর্মপ্রণালি ইত্যাদি।
রাজা রামমোহন রায় ছিলেন অসাধারণ পাণ্ডিত্যের অধিকারী। তিনি নবজাগরের জন্য কয়েকটি পত্রিকা প্রকাশ করেন। তার প্রকাশিত পত্রিকাগুলো হলো সম্বাদ কৌমুদী, মিরাতুল আখবার ও ব্রাহ্মণিকাল ম্যাগাজিন।
পূর্বে হিন্দু সমাজব্যবস্থায় সতীদাহ প্রথা বিদ্যমান ছিল। স্ত্রী মারা যাওয়ার পূর্বে যদি স্বামী মারা যেত তাহলে স্বামীর সাথে স্ত্রীকে জীবন্ত পুড়িয়ে ফেলা হতো। এ ব্যবস্থা সতীদাহ প্রথা বা সহমরণ প্রথা নামে পরিচিত। হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা এটাকে খুবই মহত্ত্বের কাজ মনে করত। কিন্তু আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত রাজা রামমোহন রায় এ কুপ্রথার ক্ষতি উপলব্ধি করেন এবং এটা যে ধর্মের অংশ নয়া
বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ডিরোজিও। তিনি ১৮০৯ সালের ১৮ই এপ্রিল কোলকাতা শহরে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন পর্তুগিজ এবং মা ছিলেন বাঙালি। তিনি ইতিহাস, ইংরেজি, সাহিত্য, দর্শনশাস্ত্রে গভীর পান্ডিত্যের অধিকারী ছিলেন।
১৮৩০ সালে ডিরোজিও-এর প্রেরণায় হিন্দু কলেজের ছাত্ররা 'পার্থেনন' নামে একটি ইংরেজি সাপ্তাহিক পত্রিকা প্রকাশ করেন। তিনি ১৯৩১ সালে 'হিসপবাস' নামক একটি পত্রিকা সম্পাদনা করেন এবং 'ইস্ট ইন্ডিয়া' নামে আরেকটি দৈনিক পত্রিকা প্রকাশ করেন।
১৮৩০ সালে ডিরোজিও'র অনুপ্রেরণায় হিন্দু কলেজের ছাত্ররা 'পার্থেনন' নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করে। এতে সমাজ, ধর্ম, বিভিন্ন কুসংস্কারের বিরুদ্ধে নিন্দাসূচক সমালোচনা প্রকাশিত হয়। এ কারণে কলেজ কর্তৃপক্ষ 'পার্থেনন' পত্রিকা প্রকাশ বন্ধ করে দেয়।
ভারতীয় বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আধুনিক ভাবধারায় প্রতিষ্ঠার আন্দোলন হলো ইয়াং বেঙ্গল মুভমেন্ট। বাঙালি যুব সমাজের মধ্যে আলোড়ন সৃষ্টিকারী 'ইয়াং বেঙ্গল' আন্দোলনের প্রবক্তা ছিলেন হেনরি লুই ডিরোজিও। এ আন্দোলনের বক্তব্য ছিল যুক্তিহীন বিশ্বাস মৃত্যুর সমান।
হেনরি লুই ডিরোজিওর অনুসারীদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিলেন রামতনু লাহিড়ী, রাধানাথ সিকদার, প্যারিচাঁদ মিত্র, কৃষ্ণমোহন ব্যানার্জি প্রমুখ। মাইকেল মধুসূদন দত্ত তার ছাত্র না হলেও তার আদর্শ দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন। ডিরোজিওর অনুসারীদের আন্দোলন ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকেও প্রভাবিত করেছিল।
মহাপুরুষ ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালে মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তার তেজস্বিতা, সত্যনিষ্ঠা অর্জন করেছিলেন তার দরিদ্র ব্রাহ্মণ পিতা ঠাকুরদাস বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছ থেকে। তিনি সংস্কৃত কলেজ কর্তৃক বিদ্যাসাগর উপাধি লাভ করেন।
সংস্কৃত শিক্ষার সংস্কার, বাংলা শিক্ষার ভিত্তি স্থাপন এবং নারীশিক্ষা প্রসারে অগ্রণী ভূমিকা বিদ্যাসাগরের অক্ষয় কীর্তি। তাছাড়া স্কুল পরিদর্শক থাকাকালে গ্রামে-গঞ্জে ২০টি মডেল স্কুল, ৩৫টি বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। তার প্রতিষ্ঠিত বিদ্যালয়গুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো মেট্রোপলিটান ইনস্টিটিউশন। এখন এটি বিদ্যাসাগর কলেজ নামে খ্যাত।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সমাজ সংস্কারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি কন্যাশিশু হত্যা, বহুবিবাহ প্রথার বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেন। তিনি হিন্দু সমাজে বিধবা বিবাহের পক্ষে কঠোর অবস্থান নেন। তার নিরলস প্রচেষ্টার কারণে ১৮৫৬ সালে গভর্নর জেনারেলের সম্মতিক্রমে বিধবা বিবাহ আইন পাস হয়।
হাজী মুহম্মদ মহসীন ১৯৩২ সালে পশ্চিমবঙ্গের হুগলীতে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম ছিল মুহম্মদ ফয়জুল্লাহ। মায়ের নাম ছিল জয়নাব খানম। তাদের আদি নিবাস ছিল পারস্যে। হাজী মুহম্মদ মহসীনের পূর্বপুরুষ ভাগ্য অন্বেষণে হুগলী শহরে এসে বসবাস শুরু করেন। দানশীলতার জন্য তাকে দানবীর বলা হয়।
মহসীনের শিক্ষাজীবন শুরু হুগলীতে। তিনি গৃহশিক্ষক আগা সিরাজির কাছে আরবি-ফারসি ভাষা শিক্ষা লাভ করেন। ভোলানাথ ওস্তাদ নামে একজন সঙ্গীতবিদের কাছে সংগীত ও সেতার বাজানো শেখেন। তার উচ্চশিক্ষা শুরু হয় মুর্শিদাবাদে। তিনি আরবি, ফারসি, উর্দু, ইংরেজি এবং ইতিহাস ও বীজগণিতে পান্ডিত্য অর্জন করেন।
প্রখ্যাত দানশীল ও জনহিতৈষী হাজী মুহম্মদ মহসীনকে তার দানশীলতার জন্য দানবীর বলা হয়। মহসীন তার বিপুল সম্পদ দান, সদকা ও শিক্ষার কাজে ব্যয় করেন। তিনি মহসীন ফান্ড নামক তহবিল প্রতিষ্ঠা করে বিভিন্ন খাতে দরিদ্রদের সহায়তার জন্য অর্থ ব্যয় করেন। দানশীলতার কারণে তিনি কিংবদন্তীতে পরিণত হন।
দানবীর হাজী মুহম্মদ মহসীন তার সমস্ত অর্থ শিক্ষা বিস্তার, চিকিৎসা এবং দরিদ্রমানুষের জন্য ব্যয় করেন। কারণ তিনি. অত্যন্ত সাধারণ জীবনযাপন করতে পছন্দ করতেন। তাছাড়া সেসময় বাংলার মুসলমানদের ছিল চরম দুর্দিন। অর্থ ব্যয় করে লেখাপড়া করার ক্ষমতা তাদের ছিল না। তাই তিনি তার সমস্ত অর্থ অন্যের কল্যাণে ব্যয় করেন।
জনহিতকর কার্যে হাজী মুহম্মদ মুহসীনের ফান্ডের অর্থ বিভিন্ন খাতে ব্যায় হয়। এ অর্থের মাধ্যমে হুগলি মহসীন, ফান্ড গঠন, হুগলি দাতব্য চিকিৎসালয় গঠন, হুগলিতে ইমামবাড়া প্রতিষ্ঠা এবং হুগলি, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে মাদ্রাসা ও ছাত্রাবাস প্রতিষ্ঠা করা হয়। এছাড়াও এ অর্থে হাজার হাজার মুসলমান তরুণ উচ্চ শিক্ষালাভের সুযোগ পায়।
বাঙালি মুসলমানদের আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করে তাদের কল্যাণের জন্য যিনি প্রচেষ্টা চালান তিনি হলেন নওয়াব আবদুল লতিফ। তিনি ১৮২৮ সালে ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৮৬৩ সালে কোলকাতায় মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি বা মুসলিম সাহিত্য সমাজ প্রতিষ্ঠা করেন।
নওয়াব আব্দুল লতিফ বাংলার পশ্চাৎপদ মানুষকে আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত করার জন্য মোহামেডান লিটারারি সোসাইটি গঠন করেন। তার প্রচেষ্টায় কোলকাতা মাদ্রাসায় অ্যাংলো-পার্সিয়ান বিভাগ খোলা হয়। তার প্রচেষ্টায় হিন্দু কলেজ প্রেসিডেন্সি কলেজে রূপান্তর করা হলে মুসলমান ছাত্ররা সেখানে পড়ালেখা করার সুযোগ পায়। তিনি ঢাকা, রাজশাহী, চট্টগ্রাম প্রভৃতি স্থানে মাদ্রাসা স্থাপন করেন।
নওয়াব আবদুল লতিফের সারা জীবনের কর্মের মূল উদ্দেশ্য ছিল তিনটি। যথা- ১. মুষলমান সম্প্রদায়ের প্রতি ইংরেজ সরকারের বিদ্বেষ ভাব দূর করা; ২. মুসলমান সমাজের উন্নতি ও অগ্রগতির জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা এবং ৩. হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের মধ্যে মৈত্রী প্রতিষ্ঠা করা।
সৈয়দ আমীর আলী ১৯৪৯ সালে হুগলীর এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। উনিশ শতকের শেষার্ধে বাংলার মুসলমান সমাজের নবজাগরণে যিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছিলেন তিনি হলেন সৈয়দ আমীর আলী।
সৈয়দ আমীর আলী মুসলমানদের অগ্রগতির জন্য ১৮৭৭ সালে কোল চাতায় 'সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' নামে একটি সমিতি প্রতিষ্ঠা। তৎকালীন সময় মুসলমানদের পিছিয়ে পড়ার কারণ ও এর প্রতিকার সম্পর্কিত লেখা বিভিন্ন পত্রিকাগুলোতে প্রকাশ করেন এবং ১৮৮২ সালে লর্ড রিপনের নিকট ভারতের মুসলমানদের-শিক্ষার বিষয়টি স্বতন্ত্রভাবে বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানান।
সৈয়দ আমীর আলী ১৮৭৭ সালে কোলকাতায় সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন নামে একটি সমিতি গঠন করেন। মুসলমানদের জন্য একটি পৃথক রাজনৈতিক সংগঠনের মাধ্যমে তাদের স্বার্থরক্ষা, দাবি-দাওয়ার প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য মুসলমানদের জন্য এ সংগঠন গড়ে তোলেন।
সৈয়দ আমীর আলী বিভিন্ন গ্রন্থ রচনা করেন তার দুইটি বিখ্যাত গ্রন্থ হলো- 'The Spirit of Islam' (দি স্পিরিট অব ইসলাম) এবং 'A Short History of the Saracens'. (এ শর্ট হিস্ট্রি অব সারাসিনস)।
সৈয়দ আমীর আলী বিশ্বাস করতেন যে, মুসলমানদের জন্য একটি স্বতন্ত্র রাজনৈতিক সংগঠন থাকা প্রয়োজন এবং তাদের স্বার্থরক্ষা ও দাবি-দাওয়ার প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠনের কোনো বিকল্প নেই। এজন্য তিনি কোলকাতায় 'সেন্ট্রাল মোহামেডান এসোসিয়েশন' নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী ছিলেন নারী শিক্ষার একজন প্রবর্তক, সমাজসেবক ও লেখক। তিনি কুমিল্লা জেলায় হোমনাবাদ পরগনা (বর্তমান লাকসামে) ১৮৩৪ সালে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতার নাম আহমদ আলী চৌধুরী। তিনি মহারানী ভিক্টোরিয়া কর্তৃক ১৮৮৯ সালে প্রথম ভারতীয় নারী হিসেবে নবাব উপাধি লাভ করেন।
নবাব ফয়জুন্নেছার সৃজনশীল প্রতিভার দিকটি নিহিত আছে তার সাহিতকর্মে। তিনি আত্মজীবনীমূলক উপন্যাস রূপজালাল রচনা করেন। রূপজালাল ছাড়াও তত্ত্ব ও জাতীয় সংগীত, সংগীত সার ও সংগীত লহরী নামক গ্রন্থ রচনা করেন। তিনি সমকালীন, বিভিন্ন | সংবাদ ও সাময়িকীর পৃষ্ঠপোষকতা করেন।
নারীশিক্ষার প্রসার ও জনহিতৈষী কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে মহারানী ভিক্টোরিয়া ১৮৮৯ সালে ফয়জুন্নেছাকে 'নবাব' উপাধিতে ভূষিত করেন। তিনিই ভারতবর্ষের প্রথম নারী যিনি এই সম্মানজনক উপাধি লাভ করেন।
বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালের ৯ ডিসেম্বর রংপুর জেলার মিঠাপুকুর উপজেলার পায়রাবন্দ গ্রামে জন্ম গ্রহণ করেন। তার পিতার নাম জহিরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলি সাবের। বেগম রোকেয়া নারী জাগরণের অগ্রদূত ছিলেন।
বেগম রোকেয়া প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা অর্জন করতে না পারলেও বড় ভাই ইব্রাহিম সাবের ও বড় বোন করিমুন্নেসার নিকট শিক্ষা লাভকরেন। তিনি গভীর রাতে পড়াশুনা করতেন, যাতে বাড়ির কেউ টের না পায়। তিনি বড় ভাইয়ের একান্ত উৎসাহে উর্দু, ফারসি, আরবি, বাংলা ও ইংরেজি ভাষা শিক্ষালাভ করেন।
নারীর প্রতি সমাজের নানা অত্যাচার ও অসহিষ্ণুতা অবলম্বন করে বেগম রোকেয়া নারীর করুণদশা হতে মুক্তির জন্য বিভিন্ন সাহিত্য রচনা করেছেন। নারীমুক্তির আন্দোলনের ক্ষেত্রে তিনি যেসব গ্রন্থ রচনা করেন তা হলো- ১. অবরোধবাসিনী, ২. পদ্মরাগ, '৩. মতিচুর, ৪. সুলতানার স্বপ্ন প্রভৃতি
বেগম রোকেয়া স্বামীর নামে ভাগলপুরে তিনি একটি প্রাথমিক বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেন। এছাড়াও ১৯১১ সালে কোলকাতায় সাখাওয়াত মেমোরিয়াল উর্দু প্রাইমারি স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন এবং ১৯৩১ সালে এটি উচ্চ ইংরেজি গার্লস স্কুলে উন্নীত হয়।
নারী উন্নয়নের অগ্রদূত বেগম রোকেয়া ১৯৩২ সালের ৯ ডিসেম্বর কোলকাতা মৃত্যুবরণ করেন। নারীর শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও আইনগত অধিকার প্রতিষ্ঠায় তার নেতৃত্বে সমিতি বলিষ্ঠ ভূমিকা রাখতে সক্ষম হয়
ফকির-সন্ন্যাসী ছিল একটি ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন।
ফকির-সন্ন্যাসী আন্দোলন ছিল ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন।
সন্ন্যাসীদের নেতার নাম ছিল ভবানী পাঠক।
১৭৬০ সালে সন্ন্যাসীরা ইংরেজদের বিরুদ্ধে প্রথম বিদ্রোহ শুরু করে।
ফকির-সন্ন্যাসীরা ভিক্ষাবৃত্তি ও মুষ্টি সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করত।
ফকির সন্যাসীদের আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল সরকারি কুঠি, জমিদারদের কাছারি ও নায়েব গোমস্তার বাড়ি।
তিতুমিরের প্রকৃত নাম মীর নিসার আলী।
ইংরেজদের পক্ষে মজনু শাহকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করা সম্ভব হয়নি।
তিতুমির চব্বিশ পরগনা জেলার বারাসাত মহকুমার চাঁদপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
তিতুমির ১৮৩১ সালে বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
তিতুমির নারিকেলবাড়িয়ায় শক্তিশালী বাঁশের কেল্লা নির্মাণ করেন।
গোলাম মাসুমের নেতৃত্বে তিতুমির শক্তিশালী লাঠিয়াল বাহিনী গড়ে তোলেন
মেজর স্কটের নেতৃত্বে ইংরেজ বাহিনী তিতুমিরের বাঁশের কেল্লা আক্রমণ করে'।
নীলকরদের অত্যাচার ও জোরপূর্বক নীলচাষ করানোর বিরুদ্ধ বাংলার নীলচাষি কৃষকরা ১৮৫৯ সালে যে বিদ্রোহ করেন তা ইতিহাসে নীল বিদ্রোহ নামে পরিচিত।
নীলচাষের জন্য নীলকরগণ কৃষকদের সর্বোৎকৃষ্ট জমি বেছে নিত।
বাংলাদেশে নীলের ব্যবসায় ছিল একচেটিয়া ইংরেজ বণিকদের।
জিনিসপত্রের মূল্য বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে নীলচাষের খরচও বৃদ্ধি পায়
যশোরের নীল বিদ্রোহীদের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেনী মাধব।
নীল চাষিরা ১৮৫৯ সালে বিদ্রোহে ফেলে পড়েন
দাদন হলো মহাজন কর্তৃক কৃষকদের দেওয়া ফসলের অগ্রিম ঋণ
'নীলদর্পণ' নাটর্কের রচয়িতার নাম দীনবন্ধু মিত্র।
ইসলাম ধর্মে বিদ্যমান অনৈসলামিক রীতিনীতি, কুসংস্কার, অনাচার ইত্যাদি দূর করতে হাজী শরীয়তউল্লাহর নেতৃত্বে যে ধর্মীয় সংস্কার আন্দোলন হয় ইতিহাসের তা ফরায়েজি আন্দোলন নামে পরিচিত।
ফরায়েজি আন্দোলনের প্রতি, তা হলেন হাজী শরীয়তউল্লাহ।
হাজী শরীয়তউল্লাহ ১৭৮২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
ফরায়েজি শব্দ আরবি 'ফরয' শব্দ থেকে এসেছে।
হাজী শরীয়তউল্লাহ ভারতবর্ষকে 'দারুল হারব' অর্থাৎ 'যুদ্ধরত দেশ' বলে ঘোষণা করেন।
হাজী শরীয়তউল্লাহ ভারতবর্ষকে 'দারুল হারব' অর্থাৎ 'যুদ্ধরত দেশ' বলে ঘোষণা করেন।
হাজী শরীয়তউল্লাহ ১৮৪০ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
দুদুমিয়া ফরায়েজিদের গুরু বা ওস্তাদ ছিলেন।
পাশ্চাত্যের আধুনিক চিন্তার ঢেউ এসে আছড়ে পড়ে সমাজে। ফলে হিন্দু সমাজে সাহিত্য ও শিল্পে নবজাগরণের সূচনা হয়।
রাজা রামমোহন রায় ১৮২২ সালে 'অ্যাংলো হিন্দু স্কুল' প্রতিষ্ঠা করেন।
রাজা রামমোহন রায় অ্যাংলো-হিন্দু স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন।
ব্রাহ্মসমাজ প্রতিষ্ঠা করেন রাজা রামমোহন রায়।
ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ রাজা রামমোহন রায়।
ইয়াং বেঙ্গল আন্দোলনের প্রবক্তা হচ্ছেন হেনরি লুই ডিরোজিও।
ইস্ট ইন্ডিয়া' পত্রিকার প্রকাশক ছিলেন হেনরি লুই ডিরোজিও।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর মেদিনীপুর জেলার বীরসিংহ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা সাহিত্যের গদ্যের জনক বলা হয়।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ১৮২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
: ১৮৯১ সালে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর সংস্কৃত কলেজের অধ্যক্ষ হন।
ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে বাংলা গদ্য সাহিত্যের জনক বলা হয়।
কবি নবীনচন্দ্র সেন তরুণ বয়সে বিদ্যাসাগরের অর্থে লেখা করেছেন।
হাজী মুহম্মদ মহসীন ১৭৩২ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
হাজী মুহম্মদ মহসীন পশ্চিমবঙ্গের হুগলিতে জন্মগ্রহণ করেন।
হাজী মুহম্মদ মহসীনের আদি নিবাস ছিল পারস্যে।
নওয়াব আব্দুল লতিফ ১৮৪৯ সালে ডেপুটি ম্যাজিস্ট্রেটের পদে যোগদান করেন।
নওয়াব আব্দুল লতিফ ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন।
The Spirit of Islam' গ্রন্থের লেখক সৈয়দ আমীর আলী।
সৈয়দ আমীর আলীর গঠিত সমিতির নাম সেন্ট্রাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন।
'সেন্ট্রাল মোহামেডান এসোসিয়েশন' গঠন করেন সৈয়দ আমীর আলী।
ভারতের ফয়জুন্নেছা চৌধুরী প্রথম নবাব উপাধি লাভ করেন।
নবাব ফয়জুন্নেছা গৃহশিক্ষকের তত্ত্ববধানে শিক্ষা লাভ করেন।
নবাব ফয়জুন্নেছা কুমিল্লার হোমনাবাদ পরগনায়।
নবাব ফয়জুন্নেছা প্রতিষ্ঠিত হাসপাতালের নাম ফয়জুন্নেছা জেনানা হাসপাতাল।ছা
নবাব ফয়জুন্নেছা রচিত উপন্যাসের নাম রূপজালাল।
নবাব ফয়জুন্নেছার রূপজালাল আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ।
মহারানী ভিক্টোরিয়া ফয়জুন্নেছা 'নবাব' উপাধি দেয়।
নবাব ফয়জুন্নেছা ১৯০৩ সালে মৃত্যুবরণ করেন।
নবাব ফয়জুন্নেছা চৌধুরানী ২০০৪ সালে একুশে পদক (মরণোত্তর) লাভ করেন।
বেগম রোকেয়া ১৮৮০ সালে জন্মগ্রহণ করেন।
বেগম রোকেয়া রংপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন।
বেগম রোকেয়ার বাবার নাম ছিল জহিরুদ্দিন মোহাম্মদ আবু আলী সাবের।
অবরোধবাসিনী' গ্রন্থটির রচয়িতা বেগম রোকেয়া।
Related Question
View Allরাজা রামমোহন রায়কে ভারতের প্রথম আধুনিক পুরুষ বলা হয়।
ইসলাম ধর্মকে কুসংস্কার ও অনৈসলামিক রীতিনীতি থেকে মুক্ত করাই ছিল ফরায়েজি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।
মূলত মক্কা থেকে দেশে ফিরে হাজী শরীয়তউল্লাহ বুঝতে পারেন যে, বাংলার মুসলমানেরা ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছে। মুসলমানদের মধ্যে অনৈসলামিক আচার-আচরণ, অনুষ্ঠান, অনাচার প্রবেশ করেছে। ইসলাম ধর্মকে এসব অনাচারমুক্ত করাই ছিল ফরায়েজি আন্দোলনের মূল উদ্দেশ্য।
উদ্দীপক সংশ্লিষ্ট তথ্যগুলো আমার পাঠ্যপুস্তকের 'নীল বিদ্রোহের' কথা স্মরণ করিয়ে দেয়।
ব্রিটেনের নীলের চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় বাংলার ইংরেজ বণিকগণ এদেশের কৃষকদের নীলচাষে বাধ্য করে। তারা কৃষকদের নীলচাষের জন্য অগ্রীম অর্থ গ্রহণে (দাদন) বাধ্য করত। আর একবার এ দাদন গ্রহণ করলে সুদ- আসলে কৃষকরা যতই ঋণ পরিশোধ করুক না কেন, বংশ পরম্পরায় কোনো দিনই ঋণ শেষ হতো না। নীলকরদের কাছ থেকে নীলচাষিদের প্রাপ্ত মূল্য উৎপাদন খরচের তুলনায় কম হওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হতো। অবশেষে নীলচাষিরা নীলকরদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। যশোরে এই বিদ্রোহের নেতা ছিলেন নবীন মাধব ও বেণী মাধব। তাছাড়াও হুগলী এবং নদিয়ার নীলচাষিরাও বিদ্রোহী হয়ে ওঠে।
উদ্দীপকে আমরা দেখি যে, কৃষকদের প্রাপ্ত মূল্য উৎপাদন খরচের তুলনায় কম হওয়ায় তামাক চাষিরা কোম্পানির রাহুগ্রাস থেকে বের হতে না পেরে করিম ও জলিলের নেতৃত্বে প্রতিবাদী হয়ে ওঠে। এ বিষয়গুলোর সাথে বাংলার নীল বিদ্রোহের মিল রয়েছে।
উদ্দীপকে ইঙ্গিতকৃত ঘটনাটি অর্থাৎ নীল বিদ্রোহ কৃষকদের স্বার্থরক্ষার জন্য অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত ছিল বলে আমি মনে করি।
ব্রিটিশ কোম্পানির লোকজন এদেশের কৃষকদের নীলচাষে বাধ্য করত এবং নানা ধরনের নির্যাতন, শোষণ ও অত্যাচার করত। শেষ পর্যন্ত দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া চাষিরা ১৮৫৯ সালে প্রচন্ড ক্ষোভে ফেটে পড়ে। যশোর হুগলী, নদীয়াতে বিদ্রোহের দাবানল জ্বলে ওঠে। কৃষকরা নীলচাষ না করার পক্ষে দৃঢ় অবস্থান নেয়। অবশেষে বাংলার সংগ্রামী কৃষকদের জয় হয়।
১৮৬১ সালে ব্রিটিশ সরকার ইন্ডিগো কমিশন গঠন করে। এ কমিশনের সুপারিশের ওপর ভিত্তি করে নীলচাষকে কৃষকদের 'ইচ্ছাধীন' বলে ঘোষণা করা হয়। তাছাড়া নীলকর কর্তৃক আরোপিত 'ইন্ডিগো কন্ট্রাক্ট' বাতিল করা হয়। এর ফলে কৃষকরা তাদের স্বাধীনতা ফিরে পায়। তারা তাদের জমিতে বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করার সুযোগ পায়। ফলে তারা জমিতে লাভজনক ফসল উৎপাদন করে আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়।
উদ্দীপকের রূপপুর অঞ্চলের জনগণ তামাক চাষের কারণে কোম্পানির রাহুগ্রাস থেকে মুক্ত হতে পারে না। এ অবস্থায় তারা আন্দোলন গড়ে তোলে। আর এ আন্দোলনে নীল বিদ্রোহের প্রতিফলন দেখা যায়। বস্তুত ব্রিটিশদের কঠোর শাসনের যাতাকলে পিষ্ঠ হয়ে বাঙালি চাষিদের যখন নাভিশ্বাস বইছে তখন তারা তাদের স্বার্থ রক্ষায় নীল বিদ্রোহ করে। এ বিদ্রোহ ছিল তৎকালীন কৃষকদের স্বার্থরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ও শতভাগ যুক্তিযুক্ত।
তাই বলা যায়, নীল বিদ্রোহের মাধ্যমে বাংলার কৃষকদের স্বার্থরক্ষা হয়েছিল।
'The Spirit of Islam' বইটির লেখক হচ্ছেন সৈয়দ আমির আলি।
'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' গঠনের উদ্দেশ্য ছিল মুসলমানদের রাজনৈতিক স্বার্থরক্ষা।
সৈয়দ আমির আলি বিশ্বাস করতেন, মুসলমানদের স্বার্থরক্ষা এবং তাদের দাবি দাওয়ার প্রতি সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন থাকা প্রয়োজন। এ উদ্দেশ্যে তিনি ১৮৭৭ সালে কলকাতায় 'সেন্ট্রাল ন্যাশনাল মোহামেডান অ্যাসোসিয়েশন' নামে একটি সমিতি গঠন করেন।
১ ক্লিকে প্রশ্ন, শীট, সাজেশন ও
অনলাইন পরীক্ষা তৈরির সফটওয়্যার!
শুধু প্রশ্ন সিলেক্ট করুন — প্রশ্নপত্র অটোমেটিক তৈরি!